somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আন্তঃনাক্ষত্রিক সংঘাত-

২৬ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীকেন্দ্রীক দর্শণের একটা সাধারণ অনুমাণ ছিলো পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্র, এই সমস্ত মহাবিশ্ব আদতে পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে। এই অনুমাণ ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে তাও অর্ধ সহস্রাব্দ পেরিয়ে গেলো, তবে এই দর্শণের উপজাত সমস্ত ভ্রান্তি থেকে মানুষ এখনও বাহির হয়ে আসতে পারে নি।

পৃথিবীকেন্দ্রীক দর্শণের উপজাত ধারণা হলো মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব, যেহেতু পারস্পরিক যোগাযোগ এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনজনিত কারণে মানুষের টিকে থাকবার সম্ভবনা অনেকাংশে বেড়েছে, ক্রমাগত পরিশীলনে এখন মোটামুটি নিশ্চিত প্রকৃতি যদি চুড়ান্ত প্রতিশোধ না নেয় তবে মানুষ নামক প্রজাতি আরও অনেক দিন ধরেই প্রকৃতিকে মৃদু এবং চরম আঘাত করতেই থাকবে।

মানুষ মানুষের তৈরি সংজ্ঞা অনুসারেই একটি প্রাণী। নিছক একটা প্রাণী এই সত্যটা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলো না মানুষ ,যখন ডারউইন বিবর্তনের ধারণাটা সামনে নিয়ে আসলো তখনও, এমন কি বিবর্তনতত্ত্ব অনেকভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরেও এখনও এই সত্য মেনে নিতে প্রস্তুত নয় মানুষ।

মানুষের অধিকার এবং মানুষের কর্তব্য বিষয়ে বিবেচক মানুষেরা এমন সব অলিখিত বিধি তৈরি করেছে যে মানুষের পশুবত আচরণের স্বাধীনতা অনেকাংশেই খর্ব হয়েছে।

পুঁথি পুরাণ ঐশী গ্রন্থ এবং সামাজিক সম্পর্কের বিশ্লেষণ, নানাবিধ উপায়ে সমাজের অগ্রসর মানুষেরা সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের প্রজাতি কতটা সফল ভাবে এবং আন্তরিকতার সাথে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বজায় রেখে পৃথিবীতে বসত করতে পারে এই নিয়ে বিভিন্ন বিধি বিধান কল্পনা করেছেন এবং এসবের প্রায়োগিক উপযোগিতাও প্রমাণ করেছেন।

প্রায়োগিক উপযোগিতা অস্বীকার করবার উপায় নেই, মানুষের অসহায় অবস্থায় অন্তত এখনও সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়, মানুষ যেকোনো দুর্বল মানুষের উপরে সবলের অত্যাচারজনিত বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনাকেও একটা নির্দিষ্ট বিচারিক কাঠামোর ভেতরে এনে অনেকাংশে রদ করেছে। একটা আইনী কাঠামো রয়েছে এবং সেই আইনী কাঠামোকে পরিচালনার জন্য যুথবদ্ধ মানুষ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহনের সাথে সাথে সেগুলোকে সুষ্ঠু রূপে পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্বসম্পন্ন মানুষের জোগান দিয়েছে।

রাষ্ট্র ব্যবস্থা এমনই একটা পরীক্ষিত কাঠামো, যেখানে মানুষের খাদ্য এবং নিরাপত্তা এবং অন্যসব চাহিদা একটা বিনিময় সূত্রে নির্ধারিত হয়। সেখানে অর্থনীতি নামক একটা বিষয় প্রচলিত, সেই অর্থনীতি এই বিনিময় প্রথা এবং ধরণটাকে যাচাই করে, বাছাই করে এবং পরিচালনা করে, কার কতটুকু প্রাপ্য, কার কতটুকু ভুমিকা হবে, এইসব নির্ধারণ করে অর্থনীতি।

অর্থনীতি নিয়েই আসলে ভাবনাটা পরিচালিত হচ্ছে বর্তমানে।

মানুষ শ্রেষ্ঠত্বের মদে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। এমন কি অনেকে মানুষের চেয়ে উন্নত জীব মহাবিশ্বে থাকা সম্ভব এমন ধারণাটাকেও নাকচ করে দিয়েছেন। মানুষ বর্তমানে উপগ্রহ- গ্রহ-নক্ষত্র সবই বিপনন করছে।

চাঁদের জমি বিক্রী হচ্ছে, সে জমির কাঠা ২০ টাকা। চাঁদে যাওয়ার একটা সমূহ সম্ভবনা ফালাও করে প্রচারিত হচ্ছে, সে জমির ইজারা নিয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান। তারা তাদের অধিকার অর্জন করেছে এমন কতগুলো দেশের কাছ থেকে যারা মহাশূণ্য অভিযানের সাথে যুক্ত। কিন্ত বাংলাদেশ কিংবা মায়ানমার কিংবা ভিয়েতনাম কিংবা কেনিয়ার কাছে তারা চাঁদের জমির অধিকার নেয় নি। আশ্চর্য অর্থনীতির খেলা। যারা অর্থনৈতিক ভাবে সবল তারা পৃথিবীর সম্পদের অধিকার নিয়ে নিচ্ছে এবং মহাজাগতিক সমস্ত সম্পদও তারা করায়ত্ব করছে।

একটা তারা নিজের নামে করতে ১৫ ডলার লাগে। সব কিছুই বিক্রী হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। তবে একটা সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে ভালো লাগে, মানুষের মতো যোগ্যতা সম্পন্ন প্রাণী মহাবিশ্বের অন্তত ১ লাখ স্থানে পাওয়া সম্ভব, সৈরজগতে গ্রহ ৯টি, সেখানে ১টি সুজলাসুফলা, এমন কি মঙ্গলেও ক্ষুদ্রাকৃতীর জীব জন্মানোর সম্ভবনা নাকচ করা যাচ্ছে না। অর্থ্যাৎ প্রাণী শুধুমাত্র আমাদের পৃথিবীর অনন্য বৈশিষ্ঠ্য নয়। এমন সৈরজগতসম্পন্ন নক্ষত্র, সেখানে প্রাণের উন্মেষের সম্ভবনা এবং প্রায় অকল্পনীয় নক্ষত্রপূঞ্জের সংখ্যা বিবেচনা করে অন্তত ১ লক্ষ আসলে অনেক ন্যুনতম হিসেব।

সেইখানেও যদি একই পর্যায়ে চলে যায় সভ্যতা- অন্তত আমরা যেভাবে সভ্যতাকে চিহ্নিত করি আমাদের অভিজ্ঞতায়, তবে সেখানেও একই রকম প্রবনতা বিদ্যমান-

আন্তঃনাক্ষত্রিক লড়াই কি তবে নক্ষত্রের দখল নেওয়া এবং সেটাকে প্রতিহত করতে গিয়ে শুরু হবে?
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×