র্যাব যেকোনো উপায়ে মানুষ হত্যা করবেই, এবং বিশেষত নিষিদ্ধ ঘোষিত বামপন্থী দলগুলোর নেতাদের। র্যাবের ক্রস ফায়ারে নিহত বামপন্থীদের তালিকা লম্বা হতেই থাকবে।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা বিপ্লবী নয়, প্রতিবিপ্লবী কিংবা সন্ত্রাসী। তারা পুলিশ থানা লুট করে, তারা বোমাবাজি করে, তারা কোনো ভাবেই দেশটাকে একটা বিপ্লবের মাধ্যমে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।
তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, অধিকাংশ সদস্যদের কয়েকটা নাম আছে, তারা ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। তারা আত্মগোপন করে নেই, বরং তাদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে তারা লোকালয়েই বসবাস করছে।
তাদের সবগুলো মানুষই অপরাধী এটা মেনে নিলাম তর্কের খাতিরে, তবে অপরাধীর বিচার প্রচলিত আইনে না করে তাদের খুন করে ফেলতে হবে, এই রাষ্ট্রীয় বিধান কেনো?
দুঃখ লাগে এটাই যে নিষিদ্ধঘোষিত বামপন্থী দলগুলোর নেতা এবং কর্মীরা সন্ত্রাসী এবং তাদের ধরে ধরে হত্যা করা হচ্ছে, একই ভাবে জঙ্গীভাবাপন্ন ইসলামী দলগুলোর কার্যক্রমও নিষিদ্ধ, অন্তত বর্তমানের আইনে এমনটাই বিধান। তবে তাদের সদস্যদের কাউকেই র্যাব হত্যা করে নি অস্ত্র উদ্ধারের নামে আড়ালে গিয়ে খুন করে নি।
র্যাব কি ইসলামীভাবাপন্ন কোনো এলিট রাষ্ট্রীয় খুনীর দল?
ইসলামী জঙ্গীদের ধরে থানায় আটক করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে হত্যা বোমাবাজী, সন্ত্রাসের অভিযোগ থাকে, তবে এই মানুষগুলো র্যাবের হাতে নিহত হয় না, তাদের পরম আদরে বিশেষ কারাগারে আটক করে রাখা হয়। পক্ষান্তরে এই বিভাজন দেখে মনে হয় বাংলাদেশ রাষ্ট্র এই মানুষগুলোর প্রতি সহানুভুতিশীল।
আরও আশ্চর্য লাগে এটা দেখে, যখন ক্যামেরার সামনে তারা উপস্থিত হয়, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই, দাড়ির জঙ্গল ঝাকিয়ে তারা হাসিমুখে ক্যামেরার দিকে তাকায়, হাত নাড়ে জনতার উদ্দেশ্যে।
তারা কেউ হত্যাকারী নয়, তারা জনতার মহানায়ক।
আজ নিহত হওয়া মানুষটির জন্য সমবেদনা জানানোর কিছু নেই, কষ্ট লাগলো সেই বৃদ্ধার জন্য যিনি গতকাল সারাদিন ছেলেকে হত্যা করা হবে এই সন্দেহে বিভিন্ন সরকারী সংস্থার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেখানে অভিযোগ করেছে র্যাব তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে।
তিনি অনুনয় করেছেন অন্তত তার ছেলেকে বেআইনী হত্যা না করে প্রচলিত আইনে তার বিচার করা হোক, যদি সে অপরাধী হয় তবে প্রচলিত আইনে তার শাস্তি হোক।
আমাদের বর্বর খুনী রাষ্ট্র এইসব মানবিকতা বুঝে না, তারা মানবাধিকার সনদে সই করেছে ২ যুগ হলো, তবে রাষ্ট্রীয় মদতে মানুষ খুন করে ফেলবার বদাভ্যাস ত্যাগ করতে পারে নি। তারা এজন্য উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়মিত খুনী বাহিনী তৈরি করেছে।
আমরা কবে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবো, যেখানে এইসব হত্যাকারীদের আমরা বিচারের আওতায় আনতে পারবো এবং অন্তত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আইনের প্রতিপালন দেখতে পারবো। কবে সভ্য রাষ্ট্র হওয়ার অন্তত একটা সামান্য সূচক অতিক্রম করবো আমরা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

