ব্যর্থ রাষ্ট্র
২৮ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ২:২৫
বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থ হচ্ছে কিংবা ব্যর্থতার সাক্ষর রাখছে কারণ এখানে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাদের উপরে অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করছেন না। তাদের দায়িত্বে গাফিলতির কারণে নানা রকম অনাচার সৃষ্টি হচ্ছে এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে অর্পিত দায়িত্ব পালনে অসামর্থ্য অনেক সময় বীররস প্রদান করে বলে কোনো কোনো সংস্থার সদস্যরা এই দায়িত্ব বরখেলাপে উৎসাহী হয়ে উঠেছে।
রাষ্ট্র কাঠামো পরিক্ষীত একটা পদ্ধতি মেনেই বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন পেশাদার রাষ্ট্রীয় বেতনভুক কর্মী রেখেছে, প্রত্যেকের উপরে অর্পিত দায়িত্ব ভিন্ন।
প্রত্যেকের উপরে অর্পিত দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী সঠিক ভাবে পালন করবে এটাই নিয়মনিষ্ঠতা। সার্বিক রাষ্ট্র পরিচালনা কাঠামো ভেঙে পড়ে যখন এই নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কেউ নিজের আবেগে কিংবা উচ্ছ্বাসে কিংবা নিজের তাগিদে তার দায়িত্বের অতিরিক্ত কোনো কাজ করে।
এটা তার দায়িত্ব পালনের গাফিলতি, এটা তার দায়িত্নহীনতা। তার কর্তব্য অবহেলার জন্য তাকে আইনের মুখোমুখি আনতে হবে। রাষ্ট্রীয় কিংবা প্রজাতন্ত্রের শৃঙ্খলা এবং কাঠামো ভেঙে ফেলবার জন্য যদি এইসব মানুষকে বিচারের সম্মুখীন করা না হয় তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতাই বাড়বে।
র্যাবের কাজ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, তবে চুড়ান্ত ভাবে পুলিশ প্রশাসনের কাজটা জননিরাপত্তা সংক্রান্ত। এখানে তারা অপরাধ দমন করবে, রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করবে। অপরাধীকে আটক করবে, এবং বিচারের মুখমুখি করবে।
তাদের উপরে অর্পিত দায়িত্ব অপরাধীকে আটক করা। এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করবার যত উপকরণ সবটা আদালতকে প্রদান করা।
বিচারের ভার আদালতের। আদালত ফৌজদারী আদালত তৈরি হয়েছে অপরাধের বিচার করবার জন্য। রাষ্ট্র তার নিজস্ব সংবিধান এবং নাগরিকের অধিকারগুলো সংরক্ষিত হলো কি না এটা যাচাই বাছাই করবার জন্য একটা বিচারিক কাঠামো তৈরি করেছে। এবং তাদের দায়িত্ব অপরাধী প্রকৃত অপরাধী কি না এটা যাচাই করে প্রচলিত বিধি মতে তাদের জন্য শাস্তি বরাদ্দ করা।
শাস্তিপ্রাপ্ত অপরাধী যেনো সমাজে নির্ধারিত শাস্তি ভোগ না করে নিরাপদে চলাচল করতে না পারে সেজন্য অপরাধ সংশোধন এবং অপরাধী আটক রাখবার কারাগার ব্যবস্থা আছে। এখানে আশা করা হয় নির্ধারিত সময়ে শাস্তি ভোগ করে একজন সুবিবেচক নাগরিক হিসেবে একজন অপরাধী কারাগার থেকে বের হবে।
এই কাঠামোগুলো রাষ্ট্রের নিজস্ব পরিচালনা কাঠামো। এখানে কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলেই সেটা রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যর্থতা। নিজস্ব বিবেকের তাড়না এখানে নেই, আদালত যতক্ষণ না রায় দিচ্ছে একজন অপরাধী ততক্ষণ পর্যন্ত সেই ব্যক্তি রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী নয়, বরং সাম্ভাব্য দুস্কৃতিকারী। রাষ্ট্র সংবিধান প্রণয়ন করে প্রতিটা বাংলাদেশী নাগরিককে এই অধিকার দিয়েছে।
ধারবাহিক আইন লঙ্ঘন এবং সংবিধান লঙ্ঘন, রাষ্ট্রের কাঠামোর উপরে ধারাবাহিক আঘাত রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে, এটাকে ব্যর্থ হতে সহায়তা করে।
দেশপ্রেম কিংবা মানবিকতা বোধে আক্রান্ত হয়ে দায়িত্বপালনে ব্যর্থতাকে সমর্থন করাটাও নৈতিক ভাবে ভুল অবস্থান। র্যাবের দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য তাকে পুরস্কৃত করা কিংবা তাকে বাহবা দেওয়া প্রকারান্তর বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ব্যর্থ হবার জন্য উৎসাহ প্রদান এবং এই ব্যর্থতাকে নৈতিক সমর্থন যোগানো।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
সহমত।
শাহবাজ বলেছেন:
মাইনাস।
অপ বাক বলেছেন:
মানুষের উদ্ভট আচরণগুলো মাঝে মাঝে কৌতুকপ্রদ। এই মাইনাস দেওয়ার উন্মাদনা দেখেও এমনটা মনে হয়। মাইনাস দেওয়া ভাইয়েরা, মাইনাস দিলে ঠিক কি প্রমাণিত হয়, বক্তব্য ভুল? আপনার এই বক্তব্য পছন্দ হয় নি?সমস্যা হলো আপনার পছন্দমফিক লিখতে বাধ্য থাকবে কেনো ব্লগের মানুষ?
যাই হোক স্বাগতম
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
ভাল কথা বলেছেন।এ কথাগুলোই আমাদের বলা উচিত।
আমি জানি আমরা অপরাধীদের তান্ডবে অতিষ্ট। আর তাই আমাদের অনেকে রেবের হত্যাকান্ডকেও সমর্থন করছেন। কিন্তু আসলে এটি রাস্ট্রের ব্যার্থতা। রাস্ট্র আইনশৃংখলা ঠিক রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আইনের পালন করতে ব্যর্থ।
আমাদের উচিত আবেগের পর্দা সরিয়ে সঠিক কথা বলা।
ইয়র্কার বলেছেন:
চারিদিকে এত অসুস্থ মানুষের বসবাস। আইনের নামে লোকজনকে ধরে এনে - তারা সন্ত্রাসী হতে পারে, নির্দোষও হতে পারে - কোনোকিছুর তোয়াক্কা না করে খুন করা হচ্ছে আর আমরা আনন্দে বগল বাজাচ্ছি। সন্ত্রাসীর মৃত্যুতে একসময় খুশি হতাম, পাড়ায় মহল্লায় মিষ্টি বিলি হতো, এমনকি ছিঁচকে চোর, পকেটমারদেরকেও গণপিটুনী দিয়ে মেরে ফেলা হতো।লাশের দাবি করতেও কেউ আসতো না ঝামেলার ভয়ে। অনেকের মত আমিও খুশি হতাম। প্রতিনিয়ত এদের হাতে অপদস্ত হওয়া মানুষগুলো দিনকে দিন অসুস্থ হয়ে যায়।
কিন্তু আমরা একটুও ভেবেছি কি, যে র্যাবকে আজ সন্ত্রাসী হত্যার জন্য বাহবা দিচ্ছি, এই সন্ত্রাসীদেরকে তৈরি করেছে কারা? এইসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই। এদের গডফাদার কারা? যাদের হাতে ক্ষমতা, তারাই। এদেরকে ক্রসফায়ারে মেরে আসল অপরাধীদেরকেই বাঁচিয়ে দেয়া হচ্ছে।
এই পোস্টে হরিসুদন, শাহবাজের মত রাজাকার নিক এসে ক্রসফায়ার সমর্থন করে যাচ্ছে, অথচ এরাই নিজামি সাকাদেরকে ক্রসফায়ারে দেয়ার কথা শুনলে হাইকোর্ট দেখাবে।
দলীয় সরকারগুলোর আমলে নাহয় ধুয়া তোলা যেত বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে যদি সারা দেশের সামনে এভাবে সদর্পে খুন করতে পারে, তাহলে রাষ্ট্র বলে কিছু থাকে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ব্যর্থ করে দিয়ে লাভটা হচ্ছে এ রাষ্ট্রের জন্মের বিরোধিদের।
বাংলা মায়ের কুলাঙ্গার ধামাধরা ফখরুদ্দিরা নিজামিকে ফুলের মালা দিয়ে যাচ্ছে আর হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লজ্জা সমস্ত বাংগালির।
আপনি লিখে যান। মুগ্ধপাঠক হিসেবে সবসময়ই পাশে পাবেন। সত্য কথাটা কাউকে না কাউকে বলতেই হয়।
ত্রিভুজ বলেছেন:
বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মিশনে আপনারা কখনোই সফল হতে পারবেন না... চেষ্টা করতে থাকুন!
ত্রিভুজ বলেছেন:
বলতে ভুলে গিয়েছি, মাইনাস দিয়েছি!
লেখক বলেছেন: তুমি প্লাস দিলে একটু চিন্তায় পড়তাম, মনে হতো ভাবনাটা ভুল পথে যাচ্ছে।
নিশ্চিত হলাম আসলে ভাবনাটা সঠিক।



















চোখ বন্ধ করে মাইনাস।