নারী নিগ্রহ
৩০ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:১৪
শিশু কারা? ইসলামী বিবেচনায় যখন রজঃস্বলা হয়ে উঠে মেয়ে শিশু তখন সে বালেগ। আর যখন বীর্য জন্মায় পুরুষ শিশুর তখন সে বালেগ। কোনো বয়সের সীমারেখা নেই এখানে। উষ্ণ মন্ডলে নারী শিশু ৯ বছর বয়েসেও রজঃস্বলা হয়ে উঠতে পারে। তবে মোটামুটি কমবেশী সবাই বয়সন্ধি কালেই বালেগ হয়ে উঠে।
১৪০০ বছরে সভ্যতা অনেকটা পথ পারি দিয়েছে। এখন জাতিসংঘ সনদে উল্লেখ করা হয়েছে ১৮ বছরের কম বয়স্ক যেকোনো মানুষই শিশু। বাংলাদেশ অবশ্য একটু পিছিয়ে আছে। তারা আইনত শিশুর বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে ১৬ বছর।
বাল্যবিবাহ প্রবণতা রোধ করা যায় নি। গ্রামে এখনও মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। সোমত্ত মেয়ে ঘরে রাখবার ঝামেলা অনেক বাবা মা করতে চান না। তাই স্বামীর ঘরে স্বামীর নিরাপত্তা হেফাজতে মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়ে তারা খুশী।
বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণে সংজ্ঞায়িত হয়েছে এইভাবে
যদি কোনো পুরুষ বিবাহবন্ধন ব্যতীত ষোলো বছরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়াই, ভীতি কিংবা শক্তি প্রদর্শন করে কিংবা তাকে প্রতারিত করে সম্মতি আদায় করে সঙ্গমলিপ্ত হন কিংবা হওয়ার চেষ্টা করেন-
ষোলো বছরের কম বয়স্ক কোনো নারীর সাথে তার সম্মতি কিংবা অসম্মতিতে সঙ্গমলিপ্ত হন তবে তিনি ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।
যদি নারী পুলিশ হেফাজতে থাকবার সময় ধর্ষিত হন তবে যাদের হেফাজতে থাকবার সময় এই ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে তাদের সবাই ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন যদি না ভিন্নরূপ প্রমাণিত হয়। হেফাজতের ব্যর্থতা জন্য ৫ থেকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হইবেন।
যদি অন্য কোনো পুরুষ ধর্ষণের দায়ে দন্ডিত হন তবে তার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড,
যদি কোনো ব্যক্তি কতৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের জন্য ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে তবে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যু দন্ডে কিংবা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হইবেন। ধর্ষণের চেষ্টা করবার শাস্তি ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদন্ড এবং এর সাথে উপযুক্ত অর্থদন্ড।
যদি ধর্ষণ কোনো সংঘবদ্ধ দলের দ্বারা সংঘটিত হয় এবং ইহার ফলে যদি ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু হয়ত তবে সকল ব্যক্তিবর্গই একই অপরাধে দন্ডিত হইবেন এবং এরজন্য নির্ধারিত শাস্তি ভোগ করিবেন ।
ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়ন আদালতের পরিভাষায় ভিন্ন। যৌন কামনা চরিতার্থ করবার জন্য কোনো নারী কিংবা শিশুর যে কোনো অঙ্গ স্পর্শ্ব করেন তবে সেটা যৌনপীড়ন, এ জন্য তাকে ৩ থেকে ১০ বছর মেয়াদের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।
যদি কেউ নিজের যৌনকামনা চরিতার্থ করবার জন্য নারীর প্রতি অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে কিংবা তার শ্লীলতা হানীর চেষ্টা করে তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২ থেকে ৭ বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হইবেন।
আমাদের আইনের কমতি নেই। প্রচুর শক্ত এবং কঠোর আইন বিদ্যমান। তবে উপযুক্ত ব্যবহার নেই। এখানে ইভ টিজিং কিংবা অশালীন অঙ্গভঙ্গি কিংবা ইঙ্গিতের শাস্তি আদালতে প্রদান করা হয় না। বরং সামাজিক সালিশে অভিযুক্তকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এলাকার মুরুব্বীরা মুখে নিষেধ করে তাদের দায়িত্ব পালন করে যান। তবে বাংলাদেশের অনেক মেয়ের স্কুলে যাওয়ার স্বাধীনতা থাকে না বখাটেদের দৌরাত্বে, তারা স্কুলে না গিয়ে বাসায় পারিবারিক কারাগারে বন্দী জীবন যাপণ করে।
যারা একটু সাহসী, তারা স্কুলে যাওয়ার পথে লাঞ্ছিত হয়, অনেকে মেয়ে শিশুই বয়সন্ধি কালের অতিরিক্ত আবেগে আত্মহত্যা করে, এমন অনেক ঘটনাই পাওয়া যাবে যেখানে লাঞ্ছনা এবং অশালীন মন্তব্যের শিকার শিশুরা বয়সন্ধি কালে সদ্য প্রবেশ করেছে, এইসব ১৩ বছরের মেয়ে শিশুরা আত্মহত্যা করে নিয়মিতই, তবে সামাজিক পৌরুষ তাতে বিন্দুমাত্র দমে যায় না।
নারী ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন বন্ধের শক্ত আইন হয়, নারীর বৈষম্য দুর করবার জন্য সরকার বাজেটে ২৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখে ,তবে আমাদের স্কুল আর কলেজের মেয়েদের লাঞ্ছনা এবং লাঞ্ছিত মেয়েদের আত্মহত্যার হার কমে না। বাংলাদেশে পুলিশ হেফাজতে, ঘরে এবং স্কুলে কলেজে যাওয়ার পথে অপহৃত এবং ধর্ষিত মেয়েদের সংখ্যা কমে না।
কৌশিক বলেছেন:
ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড - এইটাকে কঠোর শাস্তি বলো?
মানব মানিক বলেছেন:
ভালো পোস্ট । তথ্যবহুল । আরো লিখুন।
মদন বলেছেন:
+
এমিল বলেছেন:
কোন ুোরের বাচ্চা মাইনাস দিসে?
সৈয়দ দেলগীর বলেছেন:
এই দেশে কিছু কিছু নির্যাতনরে নারী মাইনাই নিছে নিয়তি বইলা... এবঙ পুরুষতন্ত্র আরো অনেক কিছুরে জায়েজ করে ছাড়ছে...
মানবী বলেছেন:
শুরুতেই এভাবে ইসলাম কে কটাক্ষ করা পোস্টটির সাথে বেমানান মনে হলো। ইসলামে "বালেগ" অর্থে যে 'এজ ওফ পিউবার্টি' বুঝানো হয়েছে তা আপনার দেয়া ব্যাখ্যা থেকেই স্পষ্ট! জাতিসংঘ ১৮ বছর বয়সটি প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে নির্ধারন করেও কিন্তু বিশ্ব জুড়ে ১২/১৩ বছরের শিশুদের মাতৃত্ব রোধ করতে পারেনি। পাশের দেশ ভারতে আজও বাল্য বিবাহ প্রথা প্রচলিত, তা নিশ্চয় ইসলামের "বালেগ" আইন অনুসারে নয়!ইসলাম ধর্ম নিয়ে তীর্যক মন্তব্যটুকু বাদ দিলে পোস্টটি খুব ভালো লেগেছে পড়ে। আমাদের দেশের ধর্ষন আইন ও তার শাস্তির সাথে পরিচিত করিয়ে দেবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ অপ বাক।
+
লেখক বলেছেন: ইসলামকে কটাক্ষ করা উদ্দেশ্য ছিলো না, অন্য একটা বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করবার আগ্রহ ছিলো। সেটা বোধ হয় উপলব্ধি করা যায় নি, ইসলামে বালেগ নারীর সম্মতিতে বিবাহ বৈধতা পায়। তার শাররীক বয়েস তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হয় না।
এই আইনে শিশু- জাতিসংঘের সনদ কিংবা সার্কের নারী নির্যাতন বিরোধী সনদের কোথাও মাইনর কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক শব্দটা ব্যবহৃত হয় নি, স্পষ্টতই শিশু বলা হয়েছে ১৮ বছরের কম বয়স্ক মানুষদের।
তবে বক্তব্য যেখানে স্থাপন করতে চেয়েছিলাম- যদিও ইসলাম বালেগদের সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতাকে স্বীকৃতি দেয় বিবাহ, যৌন সম্পর্ক স্থাপন, সন্তান ধারণ ইত্যাদি বিষয়ে, তবে বাংলাদেশের আইন স্পষ্টই বলছে বালেগ হওয়া তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, যদি বালেগ হয়েও থাকে, এবং বিবাহের পরিপূর্ণ সম্মতিও থাকে এর পরেও কেউ যদি ১৬ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে করে তবে তার সাথে সঙ্গমলিপ্ত হওয়া ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ।
গ্রামে বাল্য বিবাহের প্রবণতা এবং দায়মুক্তির প্রবণতায় আইনের ব্যবহার করা হলেও কখনও স্বামী ধর্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পায় না, কারণটা সামাজিক সংস্কার। এই জায়গাটাকে বোধ হয়স্পষ্ট করে তুলতে পারে নি আইনের ধারা।
দুঃখবিলাস বলেছেন:
আইনের সঠিক প্রয়োগ করাটা আইন রাখার চেয়েও বেশি জরুরী। ভালো লাগলো আপনার লেখা
মইন বলেছেন:
"বাল্যবিবাহ প্রবণতা রোধ করা যায় নি। গ্রামে এখনও মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। সোমত্ত মেয়ে ঘরে রাখবার ঝামেলা অনেক বাবা মা করতে চান না। তাই স্বামীর ঘরে স্বামীর নিরাপত্তা হেফাজতে মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়ে তারা খুশী।"গত মাসে ১৭ বছরের এক পোলা ৯ম শ্রেণীতে পড়ে এক মাইয়ারে লইয়া পলাইয়া বিয়া করছে। বিয়া করার কিছুদিন পর (পকেটের ট্যাকা শেষ হইবার পর) পোলা তার সদ্য বউরে লইয়া বাপের বাড়ি হাজির। তারা এখন সুখিলি তাদের সংসারজীবন পালন করতেছে।
মনে কইরেন না ঘটনাটা কোন অজপাড়া গায়ের। ঘটনাটা ঢাকার। গত এক বছরে এই ঢাকায় আমি দেখলাম এই ধরনের চার খান বিয়া। প্রতি তিন মাসে ১ খান।
তার মধ্যে একখান গ্রামীনফোনের এক বিরাট খমতাশালী (ক্ষ) কর্মকর্তার মাইয়াও আছে।




















ভালো লাগলো। +