শিশু কারা? ইসলামী বিবেচনায় যখন রজঃস্বলা হয়ে উঠে মেয়ে শিশু তখন সে বালেগ। আর যখন বীর্য জন্মায় পুরুষ শিশুর তখন সে বালেগ। কোনো বয়সের সীমারেখা নেই এখানে। উষ্ণ মন্ডলে নারী শিশু ৯ বছর বয়েসেও রজঃস্বলা হয়ে উঠতে পারে। তবে মোটামুটি কমবেশী সবাই বয়সন্ধি কালেই বালেগ হয়ে উঠে।
১৪০০ বছরে সভ্যতা অনেকটা পথ পারি দিয়েছে। এখন জাতিসংঘ সনদে উল্লেখ করা হয়েছে ১৮ বছরের কম বয়স্ক যেকোনো মানুষই শিশু। বাংলাদেশ অবশ্য একটু পিছিয়ে আছে। তারা আইনত শিশুর বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে ১৬ বছর।
বাল্যবিবাহ প্রবণতা রোধ করা যায় নি। গ্রামে এখনও মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। সোমত্ত মেয়ে ঘরে রাখবার ঝামেলা অনেক বাবা মা করতে চান না। তাই স্বামীর ঘরে স্বামীর নিরাপত্তা হেফাজতে মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়ে তারা খুশী।
বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণে সংজ্ঞায়িত হয়েছে এইভাবে
যদি কোনো পুরুষ বিবাহবন্ধন ব্যতীত ষোলো বছরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়াই, ভীতি কিংবা শক্তি প্রদর্শন করে কিংবা তাকে প্রতারিত করে সম্মতি আদায় করে সঙ্গমলিপ্ত হন কিংবা হওয়ার চেষ্টা করেন-
ষোলো বছরের কম বয়স্ক কোনো নারীর সাথে তার সম্মতি কিংবা অসম্মতিতে সঙ্গমলিপ্ত হন তবে তিনি ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।
যদি নারী পুলিশ হেফাজতে থাকবার সময় ধর্ষিত হন তবে যাদের হেফাজতে থাকবার সময় এই ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে তাদের সবাই ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন যদি না ভিন্নরূপ প্রমাণিত হয়। হেফাজতের ব্যর্থতা জন্য ৫ থেকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হইবেন।
যদি অন্য কোনো পুরুষ ধর্ষণের দায়ে দন্ডিত হন তবে তার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড,
যদি কোনো ব্যক্তি কতৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের জন্য ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে তবে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যু দন্ডে কিংবা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হইবেন। ধর্ষণের চেষ্টা করবার শাস্তি ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদন্ড এবং এর সাথে উপযুক্ত অর্থদন্ড।
যদি ধর্ষণ কোনো সংঘবদ্ধ দলের দ্বারা সংঘটিত হয় এবং ইহার ফলে যদি ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু হয়ত তবে সকল ব্যক্তিবর্গই একই অপরাধে দন্ডিত হইবেন এবং এরজন্য নির্ধারিত শাস্তি ভোগ করিবেন ।
ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়ন আদালতের পরিভাষায় ভিন্ন। যৌন কামনা চরিতার্থ করবার জন্য কোনো নারী কিংবা শিশুর যে কোনো অঙ্গ স্পর্শ্ব করেন তবে সেটা যৌনপীড়ন, এ জন্য তাকে ৩ থেকে ১০ বছর মেয়াদের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।
যদি কেউ নিজের যৌনকামনা চরিতার্থ করবার জন্য নারীর প্রতি অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে কিংবা তার শ্লীলতা হানীর চেষ্টা করে তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২ থেকে ৭ বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হইবেন।
আমাদের আইনের কমতি নেই। প্রচুর শক্ত এবং কঠোর আইন বিদ্যমান। তবে উপযুক্ত ব্যবহার নেই। এখানে ইভ টিজিং কিংবা অশালীন অঙ্গভঙ্গি কিংবা ইঙ্গিতের শাস্তি আদালতে প্রদান করা হয় না। বরং সামাজিক সালিশে অভিযুক্তকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এলাকার মুরুব্বীরা মুখে নিষেধ করে তাদের দায়িত্ব পালন করে যান। তবে বাংলাদেশের অনেক মেয়ের স্কুলে যাওয়ার স্বাধীনতা থাকে না বখাটেদের দৌরাত্বে, তারা স্কুলে না গিয়ে বাসায় পারিবারিক কারাগারে বন্দী জীবন যাপণ করে।
যারা একটু সাহসী, তারা স্কুলে যাওয়ার পথে লাঞ্ছিত হয়, অনেকে মেয়ে শিশুই বয়সন্ধি কালের অতিরিক্ত আবেগে আত্মহত্যা করে, এমন অনেক ঘটনাই পাওয়া যাবে যেখানে লাঞ্ছনা এবং অশালীন মন্তব্যের শিকার শিশুরা বয়সন্ধি কালে সদ্য প্রবেশ করেছে, এইসব ১৩ বছরের মেয়ে শিশুরা আত্মহত্যা করে নিয়মিতই, তবে সামাজিক পৌরুষ তাতে বিন্দুমাত্র দমে যায় না।
নারী ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন বন্ধের শক্ত আইন হয়, নারীর বৈষম্য দুর করবার জন্য সরকার বাজেটে ২৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখে ,তবে আমাদের স্কুল আর কলেজের মেয়েদের লাঞ্ছনা এবং লাঞ্ছিত মেয়েদের আত্মহত্যার হার কমে না। বাংলাদেশে পুলিশ হেফাজতে, ঘরে এবং স্কুলে কলেজে যাওয়ার পথে অপহৃত এবং ধর্ষিত মেয়েদের সংখ্যা কমে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


