somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইতিহাসের সব চেয়ে বড় বিনিয়োগ নিয়ে আসছে গ্রামীণ ফোন????

৩০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রামীণ ফোন ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। বাংলাদেশ সরকারের সাথে গ্রামীণ ফোনের চুক্তির ফলে প্রতিষ্ঠানটি অনেক দিন একচেটিয়া ব্যবসা করেছে। অবকাঠামোগত সংস্কার এবং বিভিন্ন স্থানে নেটওয়ার্ক সেবা প্রদান এবং অন্য সব প্রারম্ভিক মূলধনের যোগান এসেছে এই দেশের জনগণের পকেট কেটে। যখন বিশ্বের সব স্থানেই মিনিট প্রতি কথা বলার মূল্য ছিলো ১ টাকারও কম তখন গ্রামীণ ফোনের মনোপলির কারণে বাংলাদেশের মানুষ মিনিটে ৭ টাকা দিয়ে কথা বলেছে।

পরিস্থিতি বদলে যায় বাজারে আরও কিছু মোবাইল ফোন কোম্পানি আসবার পরে, বাংলা লিংকের মূল্যহ্রাসের প্রতিযোগিতায় গ্রামীণ ফোন বাধ্য হয় নিজের মিনিট প্রতি চার্জ কমানোর জন্য। এবং নানাবিধ প্রকল্প এবং প্যাকেজ থাকলেও মূলত বাংলাদেশে প্রতি মিনিট কথা বলার খরচ এখনও ৬০ পয়সার বেশী।

এই কোম্পানির ৬২ শতাংশ শেয়ারের মালিক নরওয়ের টেলিনর এবং বাকি ৩৮ শতাংশ শেয়ার গ্রামীণ টেলিকম এবং গ্রামীণ ব্যংকের। মুহাম্মদ ইউনুস খুবই কার্যকরী ব্যবসায়ী। দেশের গরিব মানুষের ভোক্তাসক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তাদের পকেট কেটে মুনাফা বের করে নিয়ে আসছেন। তাদের বিপণন এবং বাণিজ্য প্রবনতা প্রায় সব সময়ই সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিরোধী।

হঠাৎ করেই গ্রামীণ ফোন বাংলাদেশের পূঁজি বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহন করতে চাইছে। তারা ঘোষণা দিয়েছে তারা প্রায় ২০০০ কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছাড়বে। বাংলাদেশের পূঁজি বাজার বিবেচনায় এটা সবচেয়ে বড় মাপের বিনিয়োগ।

গ্রামীণ ফোন বর্তমানে খরচ কমানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, অন্য কোম্পানিগুলো যখন মিনিট প্রতি চার্জ কমাচ্ছে তখন গ্রামীণের একচ্ছত্র ব্যবসার সুযোগ আর নেই। এর ফলশ্রুতিতে গত ১ বছরে গ্রামীণ ফোনের বাৎসরিক আয়ের পরিমাণ কমেছে। এখন বাংলাদেশে তাদের ২ কোটি গ্রাহক থাকলেও গত বছর মিনিট প্রতি যে চার্জ ছিলো এখন তার চেয়ে কম মূল্য তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ দিতে হচ্ছে ব্যবহারকারীদের। সুতরাং তাদের বাৎসরিক আয় অর্ধেক হয়েছে। প্রায় ৫৬ শতাংশ টার্ন ওভার কমেছে কোম্পানিটির।

ব্যয় সংকোচন এবং পূঁজিবাজারে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য তাদের কর্মি ছাটাই এবং কর্মীদের স্থায়ী করবার উদ্যোগগুলো একই সাথে চলছে, বিশেষ এক দিনে গ্রামীণ ফোন ১০০০ কর্মীকে ছাটাই করে, এদের সবাই দৈনিক ভিত্তিতে গ্রামীণ ফোনে চাকরি করতো। নানাবিধ সেবাও প্রতিষ্ঠানটি কমিয়ে দিচ্ছে।

যে পরিমাণ আর্থিক সক্ষমতার দাবি করে গ্রামীণ ফোন বাস্তবে তাদের অবস্থা কাগজের বাঘের মতো। নিজের ভারে কিছুদুর আগাবে তবে মূলত বাণিজ্য সম্প্রসারণের খুব বেশি সুযোগ এখন নেই কোম্পানিটির। নানাবিধ বিজ্ঞাপনের আকর্ষণে তাদের ভোক্তা বেড়ে যাবে এমন সম্ভবনাও ক্ষীণ।



গ্রামীণ ফোনের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ আল ইসলাম বলেছেন দেশের পূঁজি বাজারের জন্য গ্রামীণ ফোনের শেয়ার ছাড়ার বিষয়টি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ দেশের পূঁজি বাজারের ইতিহাসে প্রাথমিক শেয়ার ছাড়বার সবচেয়ে বড় প্রস্তাব নিয়ে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

তবে সমস্যা হলো তারা বিশেষ গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাইছে। এই প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করতে তাদের আগ্রহ কম। মূলত তাদের শেয়ার কিনবে কারা? আমাদের দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা, এবং এদের অধিকাংশই গুজবে প্ররোচনায় শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে আসছে। তাদের বিবেচনা বোধ নেই, তাদের বিনিয়োগ জ্ঞান সীমিত এবং মূলত এটা ফাটকাবাজি।

এখানে খুব বেশী চতুর না হলে লাভবান হওয়া সহজ নয়। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবার জন্য প্রাথমিক কিছু তথ্য প্রতিটা সচেতন বিনিয়োগকারী জানতে চায়।

কোম্পানিটির সুনাম, তার স্থায়িত্ব এবং তার লাভ করবার সক্ষমতা সব নয়। বিনিয়োগকারী বিশ্বাস করতে চায় তার এই বিনিয়োগ আদতেই লাভজনক হবে এবং পরিশেষে তার বিনিয়োগ থেকে সে কিছু লাভ পাবে।

তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় তথ্য যেমন
শেয়ারের অভিহিত মূল্য, শেয়ার প্রতি আয়, শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য, প্রস্তাবিত প্রিমিয়াম সম্পর্কিত কোনো তথ্যই জনাব মোহাম্মদ আরিফ আল ইসলাম প্রদান করেন নি।

গ্রামীণ ফোনের এই তথ্যগুলো নিজস্ব উদ্যোগে জানা, তবে প্রকৃত সত্য জানা যাবে যখন গ্রামীণ ফোন তার প্রস্তাব প্রকাশ করবে।

গ্রামীণ ফোনের প্রতি ১ টাকার শেয়ারের বিনিময়ে বাৎসরিক আয়ের পরিমাণ ১.৫০ টাকা। এবং তারা প্রতিটি শেয়ারের প্রিমিয়াম রাখতে চাইছে ১৬ থেকে ১৭ টাকা। সুতরাং যদি ১ টাকার শেয়ার বাজারে ছাড়ে তারা তবে তাদের শেয়ারের মূল্য হবে ১৮ টাকা। এই হিসেবে তারা বাজারে হয়তো ১১০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়বে এবং এর বিনিময়ে তারা বাজার থেকে তুলবে প্রায় ১৯৮০ কোটি টাকা।

তাদের প্রতি ১ টাকার বিপরীতে আয় ১.৫০ টাকা হলেও একজন বিনিয়োগকারীকে ১২ বছর অপেক্ষা করতে হবে তার শেয়ারের প্রকৃত মূল্য অর্জনের জন্য।

বাংলাদেশ, এসইসি কতৃপক্ষ হয়তো এই প্রস্তাব বাজারে ছাড়বে। এবং এটা সম্ভবত অনুপাত হিসেবে সব চেয়ে বড় প্রিমিয়ামে শেয়ার ছাড়বার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশের পূঁজি বাজারে। এর পূর্বের রেকর্ড প্রতি টাকায় ৬ টাকা ছিলো। সঠিক তথ্য জানাতে পারবে যেকোনো সংবাদপত্রের বাণিজ্য শাখার সাংবাদিকেরা।

প্রকৃত সমস্যা এর চেয়েও ভিন্ন গ্রামীণ ফোনের বিজ্ঞাপনের মোহে এবং বাংলাদেশের পূঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের নির্বুদ্ধিতার কারণে যারা ১৮ টাকা দিয়ে একটা শেয়ার কিনবে তারাও কয়েক মাস পরে এই শেয়ারই বিক্রী করতে পারবে ১৫০ টাকায়। তবে যেই মানুষটা ১৫০ টাকায় ১৮ টাকার শেয়ারটা কিনবে সে যদি এই শেয়ারে যে বিনিয়োগ করেছে সেটা তুলে আনতে চায় তবে তার এজন্য অপেক্ষা করতে হবে ন্যুনতম ১০০ বছর। আমাদের আয়ুস্কালে এমনটা ঘটবে না।
সাবাশ গ্রামীণ সংস্থা পূঁজি বাজারে এসেও আমাদের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের খুন করবার চমৎকার তীর রেখে দিয়েছো তোমার বিষাক্ত তূণে।
১০টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×