খন্দকার দেলোয়ার হোসেন কি উন্মাদ? তার কি ক্রনিক ভীমরতিব্যামো? তার সংবাদসম্মেলন এবং তার বিবৃতি শুনে রীতিমতো চমকে উঠতে হয়। তার ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত খুঁজে পাওয়া চশমা এবং তার নেশাসক্ততার ব্যধি বোধ হয় তার স্বাভাবিক চিন্তার ক্ষমতা বিলুপ্ত করেছে।
হান্নান শাহের সাথে তার দ্বন্দ্ব, মেজর হাফিজের সাথে তার সংঘাত- এবং এই একই সময়ে প্রায় জামাতের ঘরের ছেলে হয়ে যাওয়া বৃদ্ধ দেলোয়ারের কথা শুনে ইদানিং বিরক্ত হই।
খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে, তবে পারস্পরিক অসম্মানের রাজনৈতিক নোংরা সংস্কৃতির প্রভাবেই হঠাৎ করেই বিংশ শতকের শেষ দশকে খালেদা জিয়া নোংরামি করবার জন্যই কিংবা খালেদা জিয়াকে সামনে রেখে নিজেদের নোংরামির বাসনা পুরণের জন্যই হয়তো তার জন্মদিন করা হলো ১৫ই অগাস্ট। সে দিন জাতীয় শোক দিবস, সেটাকে অন্য এক দলীয় কর্মসূচি দিয়ে আনন্দের দিনে রূপান্তরিত করবার এই কুট বুদ্ধি এবং নীচু সংস্কৃতির ধারণা কার মাথা থেকে বের হয়েছিলো এটা অবশ্যই সবার জন্যই খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
দেলোয়ার আজ দুটো বচনামৃত স্খলন করেছেন- ১৫ই আগাস্ট বিএনপি খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করবে- এবং ৩১শে মে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হোক।
খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য এবং তার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দেলোয়ারের মাতাল প্রলাপে তিনি যথেষ্ট বিব্রত, ৩১শে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার দাবি বিভেদপাগল মারমুখী রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতেও পারে হয়তো।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মাঠে ময়দানে শ্লোগানে যেমন রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং ধ্বংসের হুমকি ব্যক্তিগত ভাবে রাজনৈতিকদের ভেতরে তেমন বিরোধিতা নেই- বরং তারা পরস্পর মিত্র- ১১ই জানুয়ারির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন তেমন বিরোধিতা সুর কেউ তুলছে না, দেলোয়ার অতিরিক্ত প্রোবিএনপি বক্তব্য দিয়ে হয়তো মূল ধারার বিএনপির ক্ষতির কারণই হতে পারছে।
তবে এমন নোংরা মানসিকতা কট্টরপন্থী রাজনীতি থেকেই আসতে পারে, জামায়াতের কোলে উঠে বসে থাকা দেলোয়ারের কণ্ঠে এইসব রাজনৈতিক ধুন তুলে দিচ্ছে কি জামায়াত? আমার সন্দেহ তেমনটাই।
আমার একটা প্রস্তাব আছে- দেলোয়ারের জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার দাবিকে আমিও সম্মান করতে চাই-
১৬ই ডিসেম্বর আমরা গোলাম আজমকে ব্রাশ ফায়ারে মেরে ফেলবো, পহেলা বৈশাখে ব্রাশ ফায়ার করে মেরে ফেলবো নিজামিকে।
তাহলে জামায়াত সামনে আসতে পারবে, অন্তত ১৬ই ডিসেম্বর তাদের বিজয় দিবস উদযাপনের মর্মান্তিক যন্ত্রনা ভোগ করতে হবে না, তারা এটাকে জাতীয় নেতার প্রয়াণ দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এটাকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার জন্য সাক্ষর সংগ্রহ করতে পারবে।
একই সাথে ১৪ই এপ্রিলের বেদায়াতী উৎসবও রদ করা যাবে- সেদিন ও তাদের জাতীয় শোক দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি থাকবে।
ইসলামী ছাত্র শিবির শিক্ষা দিবস না কি যেনো নোংরামি করবে ১৫ই আগস্ট, তারা বরং এই দুই নেতাকে পরিকল্পনামফিক খুন করে তাদের মর্মবেদনা লাঘবের প্রয়াস নিতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


