somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিনের সংবাদ-

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকারে আস্থাভাজন হতে পারা বাংলাদেশের বিবেচনায় বিশাল সাফল্য, বাংলাদেশ সরকার সব সময়ই আস্থাভাজন দুর্নীতিগ্রস্থ এবং অপরাধীদের পুরস্কৃত করেছে।

সরকারের নেকনজরে থাকবার সুবিধা হলো ,যখন কেউ অপরাধ করে সরকারের মুখ কলংকিত করে তখনই তাকে সসম্মানে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়, এমন ভাবেই আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বাহরাইনের রাষ্ট্রদুত হয়ে চলে যান সসম্মানে ভিসির পদ ছেড়ে, তিনি ফিরে আসেন এবং তার নামে বিজ্ঞাপন দেয় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়।

মাসুদউদ্দীন চৌধুরি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের পদস্থ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের গুরুতর অপরাধ দমন কমিটির প্রধান ছিলেন অনেক দিন, তবে এখনও তার সম্পদ বিবরনী প্রকাশিত হয় নি, হলে জানা যেতো তিনি কতটুকু দুর্নীতিগ্রস্থ ছিলেন, তাকে সসম্মানে অব্যহতি দেওয়া হয় গুরুতর অপরাধ দমন কমিটি থেকে, বিভিন্ন গুরুতর অপরাধীদের জামিনের বন্দোবস্ত করে দেওয়ার নামে তার পরিচিত জনেরা অন্যায় ভাবে অর্থ লেনদেন করেছেন এমন অভিযোগ জেনেছিলাম, এই তালিকায় উজ্জল নক্ষত্র ইয়াবা হুদা,
বাংলাদেশের হেভিওয়েট অপরাধীরা কেউই জেলহাজতে সময় কাটান না, তারা ডিভিশন না পেলেও অর্থের বিনিময়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হাসপাতালের কেবিনে অবকাশ যাপন করেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত পুলিশ প্রহরা বিদ্যমান থাকে।

ইয়াবা মামলার অগ্রগতি নেই, নারী নিগ্রহের অভিযোগ থাকলেও ইয়াবা মামলায় গ্রেফতার হওয়া গুলশানের ধনীর দুলালদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাদী নিজেই, সুতরাং সেই মামলা খারিজ হয়ে গিয়েছে।

ইয়াবা হুদার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সেটাও ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেকোনো দিন জামিনে মুক্তি পেয়ে হাসপাতাল থেকে মুক্ত হয়ে হুদা চলে যাবে গুলশানে তার বিলাসবহুল আপার্টমেন্টে, মুক্তি পাবে জয়নাল নিকিতা,

দীর্ঘদিন চিকিৎসকের দাবি ছিলো তারেক জিয়া গুরুতর আহত, মেরুদন্ডের ব্যথায় মৃতপ্রায়, তিনি হাঁটতে পারেন না, পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন যেকোনো মুহূর্তে, হাসপাতালের কেবিনের বাথরুমে পড়ে গিয়ে নিরীহ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর কারণ হওয়ার নেপথ্যে ছিলো তার দুর্বল পদযুগল, যা পঙ্গু হয়ে যেতে পারতো যেকোনো মুহূর্তে, তবে আজ মুক্তি পেয়ে যখন হাসপাতালে পুনরায় গেলেন তারেক তখন তার দৃঢ় দৃপ্ত পদক্ষেপ দেখে বুঝবার উপায় ছিলো না এই মানুষটাই পঙ্গু হয়ে যাবে যেকোনো সময়ে, তার অতিসত্ত্বর বিদেশে ঊন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাবে বাংলাদেশ।

একই রকম রহস্যময় অসুস্থতা ছিলো নিজামীর, অবশ্য রাজনৈতিকদের অসুস্থতা সব সময়ই রাজনৈতিক সমঝোতার গল্প শোনায়। এদের মুক্তির পেছনে বৈদেশিক রাষ্ট্রের চাপ, অর্থের চাপ এবং জনগণের চাপ সব সময়ই থাকে,

মাসুদউদ্দিন চৌধুরিকে যখন সম্মানজনক অব্যহতি দেওয়া হয় তিনি তার পদোবনতি মেনে নেন নি, তার দাবী ছিলো তাকে রাষ্ট্রদুত করতে হবে, অবশ্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতিষ্ঠানসূত্রেই দুতিয়ালীর যোগ্যতা জন্মায় বোধ হয়, মুজিবকে খুন করে যাওয়ার পরে অপরাধী মেজরদের কেউ কেউ রাষ্ট্রদুতের দায়িত্ব পেয়েছিলো, এমন ভাবেই আমাদের মাসুদউদ্দিন পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় হাইকমিশনারের দায়িত্ব, অস্ট্রেলিয়ায় তার জীবনযাপন আনন্দের হোক, তার ভাবমুর্তি উজ্জল হোক,ঊজ্জল হোক বাংলাদেশের ভাবমুর্তি।

সাবেক বিচারপতি ফজলুল হক যখন ইয়াজুদ্দিনের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হন তখন তিনি একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন, আমরা কি চোর ছ্যাচ্চোর নাকি, আমাদের সম্পদ বিবরনী দিতে হবে,
ওসমান গনি যখন বোমা ফাটানোর মতো জানালেন তিনি ফজলুল সাহেবকে প্রায় ১ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন তখন তার সম্পদ বিবরনী জানবার প্রয়োজন হয় দুদকের, এবং সেখানে গুরুতর গোলমাল ধরা পরে, তিনি প্রায় ১৩ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন করেছেন, এবং তার বিরুদ্ধে অন্য একটি অভিযোগ হচ্ছে তিনি ৪৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বসুন্ধরা গ্রুপকে ৮৪ একর জমি লিজের বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন।

আমাদের নিরপেক্ষ এবং সুশীল মানুষের এই রুপ দেখে হতাশার কিছু নেই, আমাদের রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিগ্রস্থ তবে আমাদের প্রশাসনিক কাঠামোর গলদের কারণেই সম্ভবত এখানে নিয়োগ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরাও দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পরে,

একটা অভিযোগ ক দিন আগে কানে এসেছে, গীতি আরা সাফিয়া চৌধুরীর ছেলেও নাকি এমন অনেক অবৈধ লেনদেনের সাথে জড়িত, তবে এর বিস্তারিত জানা সম্ভব হয় নি এখনও।

ইয়াজুদ্দীন সরকারের আস্থাভাজন হলেও ফজলুল হক সামরিক সরকারের আস্থাভাজন হতে পারেন নি, তাই তাকে নিজের জামিনের আদেশ পাওয়ার জন্য চোরের মতো লুকিয়ে থাকতে হয় উকিলের ঘরে, আদালতে বসে তিনি নিশ্চিত খবর জানেন তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর আশু সম্ভবনা নেই, নিশ্চিত হয়েই আদালত প্রাঙ্গন ত্যাগ করেন সাবেক বিচারপতি।

যদিসামরিক সরকারের আস্থাভাজন কোনো ব্যক্তি হতে পারতেন ফজলুল হক তবে তাকে বাংলাদেশের যেকোনো দুতাবাসের প্রধান হিসেবে সরকার পাচার করে দিতে পারতো।

আমার দুঃখ হয় এই আস্থাভাজন হতে না পারা বিচারপতির জন্য। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত করবার দাবি জানাই।
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×