somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিশু পন্যে মেলামাইন-

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুনাফার লোভ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে? বিশ্বের বড় বড় শহরের অধিকাংশ মানুষই এখন প্রসেসড ফুডের উপরে নির্ভরশীল, বড় বড় শপিং মল, তাদের আলোকিত অভ্যন্তর, বছরের পর বছর গবেষণা করে নির্ধারণ করা পণ্যসজ্জা কাঠামো, এবং একই ছাদের নীচে সব কিছু পাওয়ার সুবিধা নিয়ে সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রন কিংবা তদারকির ব্যবস্থা তেমন জোরদার নয় কোনো সময়ই।

বাংলাদেশের এগোরা, পিকিউএস, এর আগে অভিযুক্ত হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যসম্ভার রাখবার অভিযোগে। এমন কি অনেক ছোটো ছোটো কোম্পানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তারা বাজার থেকে মেয়াদউত্তীর্ণ পণ্য কিনে সেগুলো কম দামে ছোটোছোটো জেলাশহরের দোকানে বিক্রী করে।

মুনাফার লোভে মানুষের জীবন এখন হুমকির সম্মুখীন। তবে আমাদের এইসব তদারকির কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের অকর্মন্যতা কিংবা অলসতা কিংবা দুর্নীতিগ্রস্ততা, অনেক কারণেই এই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তবে খাদ্য এবং প্রসেসড ফুড তদারকির কাজে নিয়োজিত দপ্তরের বক্তব্য তাদের পর্যাপ্ত লোকবল নেই, তাদের উপযুক্ত যন্ত্রপাতি নেই।

সমুদ্রবন্দরে খালাসকৃত পণ্য যাচাই করবার একটা ব্যবস্থা আছে, তারা পণ্য যাচাই করে ছাড়পত্র প্রদান করলেই সেটা বাংলাদেশে ঢুকবার অনুমতি পায়, তবে সেখানে বর্তমানে নিয়োজিত আছে সেনাকর্কর্তারা, তাদের বিরুদ্ধে বিগত ৬ মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে।

চীনের সানলু কোম্পানী বাংলাদেশে শিশুখাদ্য রপ্তানী করে, সেই কোম্পানীর বিরু্দ্ধে অভিযোগ তারা শিশুখাদ্যে বিষাক্ত মেলামাইন মিশিয়েছে, এবং চীনা কতৃপক্ষের ভাষ্য কৃষকেরা এই বিষাক্ত দ্রব্য দুধে মেশায় নি, বরং কৃষকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে যেসব ক্ষুদ্র ডেইরি তারা মিশাতে পারে।

কিংবা অধিক মুনাফার আশায় সানলু কোম্পানীও এটা মেশাতে পারে।
প্রাথমিক অভিযোগটা উঠে গুয়াংডং প্রদেশে, সেখানে এই বছরের মার্চে একটি কোম্পানীর শিশুখাদ্য খেয়ে ১১৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি, এই উৎপাদক অবশ্য দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত অধিক ক্যালসিয়াম সম্পন্ন উপাদান এই বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী। এবং তারা এই আক্রান্ত শিশুদের পরিবারদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে আমদানীকৃত পশুখাদ্যে বিষাক্ত মেলামাইন পাওয়ায় সেগুলো ফেরত পাঠায় চীনে , এই অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করে চীনা কতৃপক্ষ, পশুখাদ্যের এই সর্ববৃহৎ বাজারে প্রবেশাধিকার কোনোভাবেই রদ করবে না চীন, কিন্তু ঘটনার সমাপ্তি কোথায়?

স্থানীয় বাজারে বিষাক্ত দুধের প্রকোপে শিশুমৃত্যুর প্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয় মে মাসে, সে সময় আরও অনেক শিশুর কিডনীতে পাথর পাওয়া গেলেও এটার দায়িত্ব গ্রহন করে নি শিশুখাদ্য উৎপাদক কোম্পানী,
এর পরের প্রকাশিত মৃত্যুর সংবাদ আসে জুলাই মাসে, অভিযোগ আছে, নিউজিল্যান্ডের যে কোম্পানী সানলুর ৪৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক তারা ঘটনা বুঝতে পারার পর নিজস্ব উদ্যোগে এটা তদন্ত করতে বলে সানলু কোম্পানীকে, তবে সেটা ঘটে নি, কতৃপক্ষের গরিমসির কারণে তারা তদন্ত করে নি, এমন কি বর্তমানে সানলু বাজার থেকে ৬ই আগস্টের পর প্রস্তুতকৃত সকল শিশুখাদ্য প্রত্যাহরের উদ্যোগ নিলেও এই সময়ে রপ্তানী হওয়া শিশুখাদ্যগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহন করে নি।

চীনের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে অলিম্পিক চলাকালীম সময়ে এই বিষয়ে মুখে কুলপ এটে থাকা চীনা কতৃপক্ষ বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে শতকরা ১০ জন শিশু এই মেলামাইন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত- এটা কোনো খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এটা ব্যবহার করা হয়েছিলো কেনো?

Click This Link

মাত্র ৫ দিনে ৫ হাজারের বেশী শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
২২টা শিশুখাদ্য উৎপাদকের পণ্যে এই বিষাক্ত মেলামাইনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

অভিযোগ হলো এই সাপ্লায়ারগুলো দুধে পানি মেশাতো, দুধের ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য তারা মেলামাইন মেশাতো এর পরে, এভাবেই মেলামাইন প্রবেশ করতে শিশুখাদ্যে।
সানলু কোম্পানী ভোক্তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, তবে তারা যেই সময়ের দুধ প্রত্যাহার করেছে বাজার থেকে তার আগে থেকেই বিষাক্ত দুধ বাজারে ছড়িয়ে আছে।

আশংকার কথা হলো যেই সময়সীমার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, এই বছরের মার্চ থেকে এই বছরের সেপ্টেম্বর, এই সময়ের ভেতরেই চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে, তাদের এই দুর্নীতিগ্রস্ততায় যদি এইসব বিষাক্ত দুধ বাজারে চলে আসে তবে আমাদের অসংখ্য শিশু আপাতত কিডনীতে পাথর নিয়ে অসুস্থ, তাদের অসুস্থতার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করা হচ্ছে হয়তো, তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে কিডনীতে পাথরের পরীক্ষা মনে হয় সবচেয়ে শেষে মানুষের ভাবনায় আসবে।

আমি আমার পরিচিত সবাইকে প্রশ্ন করেছি তারা চীনা কোনো কোম্পানীর দুধ ব্যবহার করছে কি না, তাদের উত্তর অধিকাংশ সময়ই- আমরা জানি না।

ব্রান্ডিং এবং ব্রান্ড নেমের গুরুত্ব এখানেই, নেসলি কিংবা জনসন নিজের সুনামের জন্যই কঠোর মাননিয়ন্ত্রনের প্রচেষ্টা অব্যহত রাখে, যেখানে চীনা কিংবা জাপানী কোম্পানিগুলো মুনাফার লোভে মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলতেও পিছ পা হয় না।

৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×