মুনাফার লোভ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে? বিশ্বের বড় বড় শহরের অধিকাংশ মানুষই এখন প্রসেসড ফুডের উপরে নির্ভরশীল, বড় বড় শপিং মল, তাদের আলোকিত অভ্যন্তর, বছরের পর বছর গবেষণা করে নির্ধারণ করা পণ্যসজ্জা কাঠামো, এবং একই ছাদের নীচে সব কিছু পাওয়ার সুবিধা নিয়ে সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রন কিংবা তদারকির ব্যবস্থা তেমন জোরদার নয় কোনো সময়ই।
বাংলাদেশের এগোরা, পিকিউএস, এর আগে অভিযুক্ত হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যসম্ভার রাখবার অভিযোগে। এমন কি অনেক ছোটো ছোটো কোম্পানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তারা বাজার থেকে মেয়াদউত্তীর্ণ পণ্য কিনে সেগুলো কম দামে ছোটোছোটো জেলাশহরের দোকানে বিক্রী করে।
মুনাফার লোভে মানুষের জীবন এখন হুমকির সম্মুখীন। তবে আমাদের এইসব তদারকির কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের অকর্মন্যতা কিংবা অলসতা কিংবা দুর্নীতিগ্রস্ততা, অনেক কারণেই এই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তবে খাদ্য এবং প্রসেসড ফুড তদারকির কাজে নিয়োজিত দপ্তরের বক্তব্য তাদের পর্যাপ্ত লোকবল নেই, তাদের উপযুক্ত যন্ত্রপাতি নেই।
সমুদ্রবন্দরে খালাসকৃত পণ্য যাচাই করবার একটা ব্যবস্থা আছে, তারা পণ্য যাচাই করে ছাড়পত্র প্রদান করলেই সেটা বাংলাদেশে ঢুকবার অনুমতি পায়, তবে সেখানে বর্তমানে নিয়োজিত আছে সেনাকর্কর্তারা, তাদের বিরুদ্ধে বিগত ৬ মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে।
চীনের সানলু কোম্পানী বাংলাদেশে শিশুখাদ্য রপ্তানী করে, সেই কোম্পানীর বিরু্দ্ধে অভিযোগ তারা শিশুখাদ্যে বিষাক্ত মেলামাইন মিশিয়েছে, এবং চীনা কতৃপক্ষের ভাষ্য কৃষকেরা এই বিষাক্ত দ্রব্য দুধে মেশায় নি, বরং কৃষকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে যেসব ক্ষুদ্র ডেইরি তারা মিশাতে পারে।
কিংবা অধিক মুনাফার আশায় সানলু কোম্পানীও এটা মেশাতে পারে।
প্রাথমিক অভিযোগটা উঠে গুয়াংডং প্রদেশে, সেখানে এই বছরের মার্চে একটি কোম্পানীর শিশুখাদ্য খেয়ে ১১৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি, এই উৎপাদক অবশ্য দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত অধিক ক্যালসিয়াম সম্পন্ন উপাদান এই বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী। এবং তারা এই আক্রান্ত শিশুদের পরিবারদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে আমদানীকৃত পশুখাদ্যে বিষাক্ত মেলামাইন পাওয়ায় সেগুলো ফেরত পাঠায় চীনে , এই অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করে চীনা কতৃপক্ষ, পশুখাদ্যের এই সর্ববৃহৎ বাজারে প্রবেশাধিকার কোনোভাবেই রদ করবে না চীন, কিন্তু ঘটনার সমাপ্তি কোথায়?
স্থানীয় বাজারে বিষাক্ত দুধের প্রকোপে শিশুমৃত্যুর প্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয় মে মাসে, সে সময় আরও অনেক শিশুর কিডনীতে পাথর পাওয়া গেলেও এটার দায়িত্ব গ্রহন করে নি শিশুখাদ্য উৎপাদক কোম্পানী,
এর পরের প্রকাশিত মৃত্যুর সংবাদ আসে জুলাই মাসে, অভিযোগ আছে, নিউজিল্যান্ডের যে কোম্পানী সানলুর ৪৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক তারা ঘটনা বুঝতে পারার পর নিজস্ব উদ্যোগে এটা তদন্ত করতে বলে সানলু কোম্পানীকে, তবে সেটা ঘটে নি, কতৃপক্ষের গরিমসির কারণে তারা তদন্ত করে নি, এমন কি বর্তমানে সানলু বাজার থেকে ৬ই আগস্টের পর প্রস্তুতকৃত সকল শিশুখাদ্য প্রত্যাহরের উদ্যোগ নিলেও এই সময়ে রপ্তানী হওয়া শিশুখাদ্যগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহন করে নি।
চীনের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে অলিম্পিক চলাকালীম সময়ে এই বিষয়ে মুখে কুলপ এটে থাকা চীনা কতৃপক্ষ বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে শতকরা ১০ জন শিশু এই মেলামাইন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত- এটা কোনো খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এটা ব্যবহার করা হয়েছিলো কেনো?
Click This Link
মাত্র ৫ দিনে ৫ হাজারের বেশী শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
২২টা শিশুখাদ্য উৎপাদকের পণ্যে এই বিষাক্ত মেলামাইনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
অভিযোগ হলো এই সাপ্লায়ারগুলো দুধে পানি মেশাতো, দুধের ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য তারা মেলামাইন মেশাতো এর পরে, এভাবেই মেলামাইন প্রবেশ করতে শিশুখাদ্যে।
সানলু কোম্পানী ভোক্তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, তবে তারা যেই সময়ের দুধ প্রত্যাহার করেছে বাজার থেকে তার আগে থেকেই বিষাক্ত দুধ বাজারে ছড়িয়ে আছে।
আশংকার কথা হলো যেই সময়সীমার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, এই বছরের মার্চ থেকে এই বছরের সেপ্টেম্বর, এই সময়ের ভেতরেই চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে, তাদের এই দুর্নীতিগ্রস্ততায় যদি এইসব বিষাক্ত দুধ বাজারে চলে আসে তবে আমাদের অসংখ্য শিশু আপাতত কিডনীতে পাথর নিয়ে অসুস্থ, তাদের অসুস্থতার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করা হচ্ছে হয়তো, তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে কিডনীতে পাথরের পরীক্ষা মনে হয় সবচেয়ে শেষে মানুষের ভাবনায় আসবে।
আমি আমার পরিচিত সবাইকে প্রশ্ন করেছি তারা চীনা কোনো কোম্পানীর দুধ ব্যবহার করছে কি না, তাদের উত্তর অধিকাংশ সময়ই- আমরা জানি না।
ব্রান্ডিং এবং ব্রান্ড নেমের গুরুত্ব এখানেই, নেসলি কিংবা জনসন নিজের সুনামের জন্যই কঠোর মাননিয়ন্ত্রনের প্রচেষ্টা অব্যহত রাখে, যেখানে চীনা কিংবা জাপানী কোম্পানিগুলো মুনাফার লোভে মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলতেও পিছ পা হয় না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


