somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আধুনিকতা ০১

১৩ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা সমাজ যখন ধারাবাহিক ভাবেই মাঝারি মাপের মানুষদের লালন করা শুরু করে তখনই হয়তো সমাজে বড় মাপের মানুষের আগমন বন্ধ হয়ে যায়। বিপনন ও বিজ্ঞাপনের জোরে মাঝারি মাপের মানুষের বৃহৎ প্রতিমূর্তি তৈরি করা সম্ভব অনায়াসে। তথ্য আমাদের হাতের নাগালে এলে যাচাই বাছাই না করেই তথ্য হজম করে ফেলবার বদভ্যাসের শিকার সবাই। সুতরাং দিনে দিনে প্রচারমাধ্যমই ইশ্বরের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এখানে।

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভাল মানুষ, সাদা মনের মানুষ খোঁজার প্রক্রিয়া চলছে, কর্পোরেট হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তাদের পৃষ্টপোষকতার নামে বিজ্ঞাপনের জৌলুসে তাদের বিভ্রান্ত করতে। এবং আমরা সুখ্যাতি শুনেই পরের মুখে মিঠাই খেয়ে মুগ্ধ।

সভ্যতার এই পর্যায়ে মাঝারি মাপের মানুষদের জয়জয়কার, সাধারণ মানুষের বিখ্যাত হয়ে উঠবার বাসনা রয়েছে তবে প্রতিভায় খামতি বলেই তারা বিশুদ্ধ যোগ্যতায় নিজের ছাপ রাখতে পারে না সভ্যতায়, সমস্যা নেই, আছে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং আকশা সংস্কৃতির উদার দুয়ার। চ্যানেলে চ্যানেলে আকাশে শুধু ব্যান্ড উইথের গুঁতোগুঁতি। বিগব্রাদার, আমেরিকান আইডল, ড্যান্স উইথ দ্যা হিরোস, এসবের অনুকরণে সব মহাদেশেই স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো অনুষ্ঠান তৈরি করছে।

ক্লোজ আপ ওয়ানের সাফল্যের পরে এসেছে ক্লোজ আপ ওয়ানের পরবর্তী খন্ড, সে যাত্রা শেষ হলে পুনরায় নতুন করে শুরু হয়েছে তৃতীয় বর্ষের ক্লোজ আপ ওয়ান প্রতিযোগিতা।
এখানে যারা অংশগ্রহন করছে তারা সবাই খুব খারাপ মানের গায়ক গায়িকা এমন নয়, তবে কয়েক মাসের চর্চায় তাদের ধারাবাহিক উন্নতি এবং দর্শকের প্রত্যক্ষ ভোটে তাদের সেলিব্রিটি হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াতে খুব কম সময়ই ভালো মানের শিল্পীদের কদর বুঝতে পারছে শ্রোতা এবং দর্শকেরা।

সাধারণ মানুষ স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখবার জন্য টিভি পর্দায় দৃষ্টি এঁটে বসে থাকে। বিনোদনের জন্য অন্য কোনো পরিশ্রমে যেতে নারাজ মানুষ। জটিল এবং পরিশ্রমি উপলব্ধিগত বিনোদনে নারাজ মানুষেরা সহজপাচ্য হিসেবেই সস্তা বিনোদন গ্রহন করছে। সস্তা বিনোদনের সাথে সংযুক্ত হয়েছে সস্তা মানের নির্মাতা ও পরিচালকেরা। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে অনুষ্ঠান পরিকল্পকদের মানও নিম্নগামী। সুতরাং মেধার অবমূল্যায়নের তুলনায় মেধার অতিমূল্যায়নেই সংকট তৈরি হয়েছে।

এই আকাশ সংস্কৃতির যুগে যখন বড় মাপের প্রতিভারা নিজস্ব পরিশ্রমের কদর পাচ্ছেন না। কিংবা যারা নিজস্ব বিশুদ্ধতা এবং উৎকর্ষের কথা বিবেচনা করে অতিপ্রজ নয় তাদের সমস্যা আরও বেশী। প্রচার মাধ্যম নিয়মিত নায়ক ও মহানায়ক খুঁজছে। নিয়মিত পত্রিকার হেড লাইনে আসবার প্রতিযোগিতায় অনর্থক কুচুটে আচরণ করছে মানুষেরা। সমালোচনার নামে অহেতুক ব্যক্তিবিদ্বেষের প্রকাশ ঘটছে।

এইসব অঘটনের সাথে রাজনীতিও কোনো না কোনো সংযুক্ত হয়ে যায়। নিজের প্রতি সহানুভুতি বৃদ্ধির জন্য অনেক রকম সংস্থাই নিবেদিতপ্রাণ। নিজেদের ভালোমানুষির মুখোশ উর্ধে তুলে ধরতে প্রথম আলোও ত্রানের টিনের গায়ে নিজের লোগে লাগিয়ে রাখে। যেকোনো অনুদানই যখন বিজ্ঞাপনের নিমিত্তে ব্যবহৃত হয় তখন এর পেছনের ভালো মানুষি উদ্যোগটা রাজনৈতিক নোংরামি মনে হয় আমার কাছে। সুতারং সিডর আক্রান্ত জনপদে প্রথম আলোর ত্রান পৌঁছায়, জনগণের সংগৃহীত টাকায় সেখানে গৃহ নির্মান হয়, সেই গৃহের দেয়ালে শোভা পায় প্রথম আলোর বিজ্ঞাপন, যা কিছু ভালো, তার সঙ্গে প্রথম আলো। সুশীল সমাবেশে সুশীল সম্মোহনে বিমুঢ় মানুষগুলোর কখনই ভাবনায় আসে না, অনুগ্রহ গ্রহনের পরে সেটার বিজ্ঞাপন হয়ে উঠবার মতো নিগ্রহ দ্বীতিয়টি হতে পারে না।

মানুষ অনেক রকম মানসিক বিকার চিহ্নিত করেছে। অতিরিক্ত মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টার মানসিক সমস্যার নাম এডিএস। চেতনানিস্তেজকারী ড্রাগ দিয়ে এটার চিকিৎসা করা হয়। হোমোফোবিয়া যদিও মানববিদ্বেষ নয় তবে এটাও মানসিক বিকার। তবে বর্তমানে প্রচারমাধ্যমের কল্যানে ফিলানট্রফিক মনোবিকার দেখছি প্রতিদিন। দেখছি মাঝারি কিংবা নিচু মানবের ক্রমশ উত্থান।

বিতর্কিত হয়ে উঠবার প্রচেষ্টা না থাকলেও শুভ উদ্যোগ বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক বিবেচিত হলে, তবে অগ্রসর মানুষেরা যা উপলব্ধি করে তা সাধারণের উপলব্ধিতে আসতে অনেকগুলো বছর অতিক্রান্ত হয়। উন্মাদ,বায়ুগ্রস্থবিবেচিত হওয়া মানুষগুলো সাধারণের ব্যতিক্রম বলেই তাদের মতাদর্শ আক্রান্ত হতে থাকে। এদের অনেকেরই মানসিক বিকার থাকে সত্য, তবে এইসব জঞ্জালের ভীড়েও কিছু উন্নত মানুষ ও নৈতিকতা রয়ে যায়, অতিরিক্ত বাণিজ্যিকিকরণের এই যুগে সাধারণের ব্যতিক্রম হয়ে উঠার অপরাধে সমাজচ্যুত কিংবা সামাজিক নিগ্রহের শিকার হওয়ার স্বাভাবিক ঘটনাগুলোকে অঘটন বলা ঠিক হবে না।

স্বল্প চর্চিত মতবাদ এবং স্বল্পজনের বিশ্বাসের অনুরণনে একদিন সামগ্রীক সামাজিক পরিবর্তন হয়তো সুচিত হবে। তবে প্রচারমাধ্যমের জোরে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন পুরণের নামে মাঝারি মানের মানুষের স্তব ও স্তুতির ব্যধি নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত উন্নত মানসিকতা ও মেধার চর্চার জায়গাটাতে শূন্যতা রয়েই যাবে। প্রণোদনা না থাকলে শুভবোধ আঁতুরে মারা যায়।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×