প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলো রাগিবের কাছে, ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ব্যবহার করে মুহূর্তেই কম্পিউটার চালু করা যায়, সুতরাং পয়সা খরচ করে এখন টিভির মতোই তাৎক্ষণিক ভাবেই কম্পিউটারে কাজ শুরু করা যায়।
ফাইল মোছার বিষয়টাতে তেমন জটিলতা নেই, ফাইলের নামের একটা অংশ বদলে দিলেই সেটা খুঁজে বের করতে পারবে না প্রোগ্রাম-
তবে প্রশ্নের সূচনার জবাব পাওয়া হয় নি, ফাইল এক্সটেনশন দেখে আমরা নিশ্চিত ভাবেই জানি এটা খুলতে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু এটা যখন সংরক্ষণ করা হয় তখন বাইনারি ০ আর ১ এর ভেতরে কিভাবে এই তথ্যটা লুকানো থাকে যে এলোকেটেড ব্লকগুলোতে যেই বাইনারি ডাটা সংরক্ষিত সেটা প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি সফটওয়্যারই ব্যবহার করা যাবে।
আমি এমপি৩ ফাইল ওয়ার্ড দিয়ে খুলে দেখেছি অনেকগুলো বাক্স চলে আসে, অনেকগুলোতেই সে অসমর্থ এই সংবাদটি জানিয়ে যায়, তবে যেগুলোতে এই সংবাদটি জানায় না সেখানে সে অনেকগুলো চৌকোনা খুপড়ি দিয়ে পাতা ভরিয়ে রাখে। অর্থ্যাৎ তার কাছে এমন কোন পদ্ধতি নেই যা দিয়ে সে এই সংরক্ষিত ডাটাগুলোকে বোধগম্য কোনো প্রতিকৃতিতে প্রদর্শন করতে পারে।
১১০, ১১১, এইসব সংখ্যার সাথে একটি মিউজিক্যাল নোটের পার্থক্য কোথায় থাকে? ধরা যাক উভয়েই একই পরিমান ০ এবং ১ দিয়ে তৈরি।
১০০১১০১০১১১ ধরা যাক এটা একটা মিউজিক্যাল নোটের বাইনারি কোড,
একই বাইনারি কোডে লিখা সম্ভব ১২৩৯। এখন এই দুটির ভেতরে পার্থক্য নির্ধারিত হয় কিভাবে? তথ্য সংযোজন, তথ্য বিরোজনের সময় নতুন ক্ল্যাস্টার এবং তার ম্যাট্রিক্স হয়তো লিপিবদ্ধ হয়ে থাকে কোথাও না কোথাও। যদিও এই কোথাও না কোথাও জায়গাটাও হার্ড ডিস্কের ভেতরেই থাকবার কথা। ডাটাস্টোরেজ ডিভাইসের ভেতরে নানা ফর্ম্যাটে তথ্য সংরক্ষিত থাকে, প্রতিটার সংবেদনশীলতা আলাদা- ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় এই সংরক্ষিত তথ্যগুলোকে কার্যকর করে তোলা যায়।
মুলত এই নির্ধারণের কাজটা করা হয় কিভাবে?
পেপারফিড কম্পিউটারের যুগ থেকে ল্যাপটপ, পামটপের জগতে চলে আসলেও পেপারফিড কম্পিউটারের বিষয়াদি আয়ত্বকরা সম্ভব। আমার কাছে অন্তত সহজবোধ্য মনে হয়।
একই প্রক্রিয়ায় পেপারফিড সফটওয়্যারের ধারণাও অনেক প্রাচীন। সুতরাং চার্লস ব্যবেজ যে কাজের সূচনা করেছিলো, অতীব সংবেদনশীল যন্ত্র চালানোর পদ্ধতি আবিস্কারের নেশায়, সেটার ধারাবাহিক বিবর্তনের ফলেই কোনো একটা সময়ে আমরা পামটপের জগতে চলে এসেছি।
একই ভাবে কাপড় বুননের ডিজাইন তৈরির জন্য কিংবা স্বয়ংক্রিয় ভাবে কাপড় উৎপাদনের জন্য পেপারফিড সফটওয়্যার নির্মান হয়েছে আজ থেকে ২০০ বছরেরও আগে। এখনও কোলকাতার তাঁতিরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে জামদানী তৈরি করে, হয়তও মিরপুরেও এমন পেপারফিডেড তাঁত পাওয়া সম্ভব। যেখানে জামদানির নক্সা কাগজে আঁকা থাকে, সেই কাগজের গোল্লার সাথে তাঁতের সুতোগুলো কোনো না কোনো ভাবে সংযুক্ত থেকে কখন কোন সুতাটা টানায় যাবে, কোনটা পোড়নে পড়বে এইসব নিজেরাই ঠিক করে নেয় যান্ত্রিক সংবেদে।
--------------------------------------------------
গণনাকে সহজসাধ্য এবং সহজবোধ্য করে তুলবার প্রক্রিয়াটা সভ্যতার মতোই প্রাচীন একটা মানবিক প্রয়াস। সেটা আপাতত ইলেক্ট্রনিক্সের উন্নতির কারণে ঘরে ঘরে এমন কি মানুষের হাতের তালুতে উঠে এসেছে। তার মাত্রা বদলেছে, কর্মক্ষমতা বেড়েছে এবং কর্মপরিসর বিস্তৃত হয়েছে। গাণনা বাদ দিলে এখন মোটামুটি সৃষ্টিশীল প্রায় অনেক কিছুই কম্পিউটারে করা সম্ভব, ছবি আঁকা, গান তৈরি, সুর তৈরি, মঞ্চের আলোকসজ্জ্বা, শিল্পাঙ্গনে আমরা বিনোদনের জন্য যা যা দেখে থাকি তার প্রায় সবগুলোই কোনো না কোনো ভাবে নির্মাণ করা সম্ভব উপযোগী সফটওয়্যার ব্যবহার করে।
তবে এখনও সকল কাজের কাজী এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হলো না যা একাধারে ছবি নির্মাণ, গান তৈরি, লেখা এবং সুর করে দেওয়ার কাজটা করতে সক্ষম- একাধিক প্লাগ ইন দিয়ে হয়তো সম্ভব তবে এমন দিন এখনও অনেক দুরে যেখানে জেপিজি ফাইল খুলতে আর এমপি৩ ফাইল খুলতে একই সফটওয়্যার ব্যবহার করা যাবে। হয়তো সকল কাজের কাজী একটি সফটওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হয়ে যাবে। কিংবা প্লাগ ইন সমেত একটি এমন পরিবেশ হয়তো তৈরি করা সম্ভব হয়েই যাবে।
---------------------------------------------------------
এই কাজে নিয়োজিত মানুষেরা সভ্যতার প্রাচীন যুগ থেকেই নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে। তথ্য সংরক্ষণ, তথ্যকে যাচাই বাছাই করা এবং তথ্যকে নিঁখুত করে সাজিয়ে রাখবার কাজটা বর্তমানে যতটা সহজ অতীতে কখনই এমনটা ছিলো না। তাদের এই প্রয়াসটি শ্রদ্ধাযোগ্য।
প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় নি বলেই আবারও অনুরোধ সহায়তার-
আলো দিয়ে আমরা তথ্য পড়ে ফেলি, মূলত এই কাজটাতে দুটো পৃথক অংশ রয়েছে, একটি অংশ আলো উৎপন্ন করে এবং অন্য অংশটি প্রতিফলিত আলোকে বিশ্লেষণ করে। ক্ল্যাস্টারের সর্বোচ্চ আকৃতি কতটুকু হবে এটাও মনে হয় এই আলোকবৃত্তের উপরে নির্ভর করে। একলপ্তে যতটুকু আলো প্রতিফলিত হয় সেই প্রতিফলিত আলোকে বিশ্লেষণের কাজটা করবার জন্য আলাদা একটা যন্ত্র প্রয়োজন। সেই যন্ত্র ডিজিটাইজ ডাটা পাচার করে প্রসেসরে, সেখানেই বোধ হয় এই কারসাজি এবং কোনো একটা রহস্যময় ঘটনায় টেক্সট ফাইল, মুভি ফাইল, সিমুলেশন আর স্টিমুলেশনের বিষয়াদি আলাদা আলাদা প্রক্রিয়ায় পরিচিত করে তুলবার বিষয়টা সম্পাদিত হয়।
আপাতত এটা নিয়ে বেশী ঘাঁটাঘাঁটি করা ঠিক হবে না। এইসব বিষয়ে আমার জ্ঞান এখনও হেলো ওয়ার্ল্ডের উর্ধে যায় নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

