মডারেট মুসলিম-
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:০০
মডারেট মুসলিম বলবার একচ্ছত্রক্ষমতাধারী মার্কিনমদদপুষ্ট সাম্রাজ্যবাদী শক্তিটি রাষ্ট্রের শ্রেণিভুক্তি করবার সময় তাদের নিজস্ব প্রয়োজনেই কোনো কোনো দেশকে মডারেট মুসলিম রাষ্ট্রে বলে থাকে। প্রতিটি রাষ্ট্রই নিজস্ব অর্থনৈতিক প্রয়োজনকে বিবেচনা করে অন্য সব রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে।
রাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, তাকে নিজের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি মনে করা এবং না করা, যেহেতু সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর প্রধান হয়ে উঠবার কারণেই নিজস্ব রাষ্ট্রীয় ভান্ডার হতে কাকে কতটুকু অনুদান দেওয়া হবে এইসব নির্ধারণ করে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে স্থাপিত গবেষকদের তথ্য ও বিশ্লেষণ বিবেচনা করে। যারা তথাকথিত জঙ্গীবাদী দেশ তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলোকে বাধাগ্রস্ত করা এবং অনুদানগৃহীতার ভুক্তি থেকে তাদের মুছে ফেলে নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পুরণের নির্দেশনা দেওয়া, এবং এই সূচকগুলো নিয়মিত প্রকাশ করে যাওয়া- মুসলিম প্রধান দেশগুলোর জন্য একটা রাষ্ট্রীয় মাত্রা নির্ধারিত আছে এই প্রক্রিয়াটিতে। সেই সূচকগুলোর কোনো কোনোটা যখন উর্ধমুখী হয়ে উঠে তখন দেশটি মডারেট মুসলিম রাষ্ট্র থেকে জঙ্গীবাদী রাষ্ট্রের দিকে যাত্রা করে। অবশ্যই এই বিবেচনাটুকু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের গবেষকদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত।
সুমন রহমানের এই বক্তব্য শুনে আপত্তিকর মনে হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে জ্ঞানবমক সুমন রহমান মূলত এখানের আলোচনার বাইরে টেক্সট আর কনটেক্সটভিত্তিক হয়ে উঠবার বৃথা চেষ্টা করেছেন। এখানে আলোচনার ভিত্তি ছিলো ব্যক্তি। ব্যক্তি মানুষ যিনি ইসলামকে নিজস্ব ধর্মবিশ্বাস মনে করেন, তার পক্ষে নিজেকে মডারেট মুসলিম ঘোষণা দেওয়া সম্ভব কি না।
তবে সুমন রহমানের বক্তব্যে এটা প্রতিষ্ঠিত হলো এখন থেকে সনদধারী মডারেট মুসলিম হয়ে উঠবার একটি সম্ভবনার ক্ষেত্র তৈরি হলো। এখন এই বিষয়ক একটি অর্থনৈতিক চক্রও তৈরি হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। কোনো কোনো এজেন্সী এখন কিছু বিষয়ে পরীক্ষাগ্রহন করে ব্যক্তিকে মডারেট মুসলিম সনদ দিয়েও দিতে পারে।
আমাদের মডারেট মুসলিম সূচকে আপনি পাশ করতে পারেন নি সুতরাং আপনি মডারেট মুসলিম নন। এই পরীক্ষাগ্রহনকারী প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র সরকার কতৃক অনুমোদিত হতে হবে।
কোনো ব্যক্তি যখন নিজেকে মডারেট মুসলিম বিশেষণে বিশেষায়িত করতে চান তখন তিনি কেনো নিজেকে এই নির্দিষ্ট বিশেষণের ছাতার নীচে রাখতে চান? আমি এই নির্ধারিত ধর্মবিশ্বাসটির অনুসারী এবং এটার যেসব নির্দেশনা বিদ্যমান তার অনেকগুলোই আমি আধুনিক বিবেচনা করি না, সুতরাং কেতাববর্ণিত সকল ইসলামি অনুশাসন এবং নির্দেশনা আমি অন্ধের মতো অনুসরণ না করে বরং নিজস্ব বিবেচনাশক্তি ব্যবহার করে কল্যানকর এবং শুভ অনুশাসনগুলোর চর্চা করি।
আমি অন্য মতের অস্তিত্বকে মেনে নিয়ে সহনশীল মুসলিম হয়ে উঠি। মডারেট আদর্শ সব সময়ই আদর্শের সবটুকু নিয়ে গঠিত হয় না, কিছু কিছু ক্ষতিকারকবিবেচিত আদর্শিক উপাদানকে গর্হিত জ্ঞান করেই এই উপাদানগুলোকে বর্জনের প্রচেষ্টা থাকে বিশ্বাসীর ভেতরে।
আমি জঙ্গীবাদী হয়ে উঠতে চাই না, আমি সংস্কৃতির চর্চা করতে চাই, আমি কর্মক্ষেত্রে নারীকে নিজের সমকক্ষ দেখতে চাই, নারীকে পুরুষের অধীনস্ত ভাবি না, সামাজিক ক্ষমতায়নের পর্যায়ে নারীকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে চাই। মডারেট মুসলিম ভাবধারায় ধর্মের সামাজিকীকরণ বিষয়টা অনুপস্থিত। অন্তত আমার নিজস্ব অভিমত এমনটাই।
ইসলামের দুটো দিক আছে, একটি ব্যক্তি মানুষের ইসলাম। যেখানে ব্যক্তির নিজস্ব দায়বদ্ধতা আছে, ইশ্বরের নির্দেশনা মেনে চলবার এবং ইশ্বরের আনুগত্যের প্রমাণ হিসেবে তার কৃতকর্তব্যাদি নির্দিষ্ট। ইশ্বরের অধিকার বান্দার উপরে যতটুকু সেটুকু পরিপূর্ণ পালন করবার প্রচেষ্টা।
এবং একই সাথে এই ধর্মের একটি সামাজিক দিক আছে। যেখানে ব্যক্তি একক ভাবে কোনো কর্তব্য পালন করে না বরং সামগ্রীক ভাবে তাকে কিছু দায়িত্ব পালন করবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, এইসব বিষয়াদি ব্যক্তির সাথে ইশ্বরের যোগাযোগের জায়গা। এখানে ইশ্বরের নিকটে দায়বদ্ধতা ব্যক্তির। এর বাইরে সামাজিক ইসলামের অংশ হিসেবে যাকাত আসতে পারে, পারস্পরিক অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা, ঘুষ গ্রহন দুর্নীতিগ্রস্ত না হওয়া, সুদের কারবার না করা। যদিও ব্যক্তিকেই এইসব কাজ করতে হয় নিজস্ব জায়গা থেকে তবে সামষ্ঠিক প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হয় সকল বিশ্বাসীকেই।
ইশ্বরের হক এবং বান্দার হক পুরণ করে পরিপূর্ণ ইসলামমনা মানুষেরা নিজেকে মুসলিম দাবি করতে পারে। যখন বান্দার হককে খর্বিত করে ইশ্বরের অধিকারকে পরিপূর্ণ করবার রীতি প্রচলিত হয়ে যায় তখন সেটা মডারেট মুসলিম হওয়ার প্রথম ধাপ।
মুসলিম সামাজিক মানুষ এবং মুসলিম ব্যক্তি, আধুনিকতায় ব্যক্তি চিহ্নিত হওয়ার পরে , বোধ হয় ভিন্ন। ব্যক্তিসাতন্ত্রতাবাদী আধুনিকতা মানুষের সম্মলিত ঐক্যের বিপক্ষেই কাজ করে, এমন কি সেটা মডারেট মুসলিম বিশেষণের আড়ালে বিচ্ছিন্নতার দিকেই নিয়ে যায় ব্যক্তিকে।
কথা হলো মডারেট মুসলিম রাষ্ট্র এবং মডারেট মুসলিম এই শব্দগুলোর ভেতরে কোনো ঐক্য আছে কি না? একটি রাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ মডারেট মুসলিম হলেই কি সে রাষ্ট্র মডারেট মুসলিম রাষ্ট্র হতে পারে?
যারাই নিজেকে মডারেট মুসলিম দাবি করছেন মার্কিন-ব্রিটিশ সনদ হাতে না রেখে তাদের নিজস্ব অভিমত কি এই বিষয়ে। আমি আমার অভিমত জানালাম। মডারেট মুসলিম বিষয়ে আমার সংজ্ঞার বাইরেও প্রতিটা মডারেট মুসলিমের নিজস্ব সংজ্ঞা রয়েছে। সেই সংজ্ঞাগুলোকে যাচাই করেই অবশ্যই সবার জন্যই গ্রহনযোগ্য একটা মডারেট মুসলিমের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা যাবে।
রাষ্ট্র নয় যখন ব্যক্তি বিবেচিত হবে মডারেট মুসলিম হিসেবে, যেটা নিয়ে মূলত এইখানে আলোচনা চলছে, তখন তাকে কার কাছে সনদ নিতে হবে? কি শর্ত পুরণ করতে হবে?
বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
জবাব নেই।++
নুশেরা বলেছেন:
পোস্ট খুব ভাল লেগেছে।একটা প্রশ্ন। পূজাঅর্চনা করেন কিন্তু জাতভেদের চর্চা করেননা, নিম্নবর্ণের(?) হিন্দুর হাত থেকে খাদ্যপানীয় গ্রহণে আপত্তি নেই, এমন হিন্দু... অথবা নারীর গর্ভপাতের অধিকারকে সমর্থন করেন এমন চার্চগামী খ্রীশ্চান-- এদের বেলায় মডারেট টার্মটা শোনা যায়না। শুধু মুসলিমদেরই "মডারেট" হবার দরকার পড়ল কেন, কোন ব্যাখ্যা আছে?
লেখক বলেছেন:
আমার নিজের অভিমত
আদর্শ সব সময়ই আধিপত্যবাদী। অন্য মতাদর্শকে পরিবর্তনের প্রচেষ্টা থাকেই। হিন্দু, খ্রীষ্টান ইহুদি, সব ধর্মই একটা পর্যায় পর্যন্ত আধিপত্যবাদী হলেও অন্য মতাদর্শের অস্তিত্বকে স্বীকার করে নেয়।
হঠাৎ করেই যখন একটি আদর্শ নিজেকে শ্রেষ্ট ভাবে এবং সবার জন্য অবশ্য পালনীয় এমন বক্তব্য প্রদান করে তবে সেই আদর্শের অনুসারীদের নিজেদের আধিপত্যবাদকে সংযত করবার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়।
প্রত্যাদেশ বিবেচনা করলে হিন্দু ধর্ম মূলত উপদেশ ও উদাহরনভিত্তিক জীবনযাপনের পদ্ধতি। পুরাণ গাঁথায় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কি আচরণ করতে হবে এইসব উপদেশ দেওয়া থাকে, তবে তেমন স্পষ্ট কোনো আদর্শিক অবস্থান নেই এই ধর্মে।
খ্রীষ্টানদের নিজস্ব ধর্মে আধিপত্যবাদ নেই, যদিও অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদীতার অস্ত্র এটি।
কিন্তু আজ থেকে তোমাদের ধর্মকে সম্পূর্ণ করা হলো, এরপর থেকে পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য একটাই ধর্ম ইসলাম, যারা এটা মানে না তাদের মানতে বাধ্য করো, যারা কিতাবি তাদের ক্ষমতা খর্ব করো আর যারা কিতাবি না তাদের কতল করো-
এই আদর্শের চর্চা করতে গেলে সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। সুতরাং নিজের প্রত্যাদেশগত আধিপত্যবাদীতাকে সংযত করবার প্রয়োজনিয়তা থেকেই মুসলিম মানুষ নিজেকে মডারেট করে।
একলা একজন বলেছেন:
সুমন যা হতে চাইছে সেটা আপনেও চাচ্ছেন। পার্থক্য কি থাকলো
লেখক বলেছেন: আমি জ্ঞানবমন করছি না কিংবা আলোচনা কিভাবে করা উচিত সেটার মেথোডিক্যাল স্ট্রাকচার পেশ করছি না।
আমি মডারেট মুসলিম বিষয়ে নিজের অভিমত প্রকাশ করছি- এবং এটাকেই একমাত্র পথ কিংবা একমাত্র সংজ্ঞা বলছি না।
এস্কিমো বলেছেন:
ভাল লাগল আপনার লেখটা পড়ে ধন্যবাদ। কিছু দ্বিমত থাকলেও বিশ্লেষনগুলো সঠিক মনে করি। মডারেট শব্দটা বোধ হয় আর কিছুদিন পর ব্যবহৃত হবে না।
লেখক বলেছেন: না হলেই ভালো। এত বিশেষণাক্রান্ত হয়ে গেছি, নতুন একটি বিশেষণের ভারবহন করার কাজ থেকে মুক্তি পেলে ভালো লাগবে।
রাফা বলেছেন:
ইউরোপ ,আমেরিকার যে কোন সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য তৃতীয় বিশ্বের কিছু রাজনৈতিক দালাল সদা সর্বদা ব্যাতিব্যাস্ত থাকে।বাংলাদেশেও এই শ্রেণীর কিছু দালাল রয়েছে যাদের কোন আদর্শ নেই এরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মুসলিম থেকে প্রয়োজন বোধে খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করতেও রাজি আছে।নিজেদের মনগড়া ফতোয়ার মাধ্যমে এরা নিজেদেরকে মডারেট মুসলিম বলতে গৌরবান্নিত বোধ করে।পকৃত পক্ষে মুসলিম সর্বদাই মুসলিম মানবতাই তার কাছে সবচেয়ে বড় ধর্ম।
নুরুল কবির বলেছেন:
প্রিয় অপ বাক- অনেকদিন ধরে আপনার লেখা পড়ি । কিন্তু এই লেখা পড়ে কষ্ট পেলাম । সুমন রহমান নামক ইতরটি প্র-আলো ব্লগের দায়িত্ব পাবার পরে 'ব্লগার' হোয়ার চেষ্টা করছে । ব্লগস্পট বিদ্যাকুটে পরনিন্দা পরচর্চা চালায় । সা/ইনে আর আমারব্লগেও লেখে ইদাইং । তার মূল উদ্দেশ্য হল এখন মানুষের নজর পাওয়া । জামাতী তোশ্নে তার জুড়ি নাই । তার এই ফাঁদে আপনি পা দিলেন ?
তারে নিয়ে আলাদা পোষ্ট দিলেন ?
লেখক বলেছেন: তারে নিয়া আলাদা পোষ্ট দিলাম, মনে হইলো রাজনৈতিক, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষনার বাইরেও কিছু মানুষ নিজেকে মডারেট মুসলিম বিবেচনা করে। সেখানে মার্কিন সনদের প্রয়োজন নেই।
এই বক্তব্যটা প্রকাশের জন্য লেখা দিতেই হয়, সুমন রহমানের রাষ্ট্রীয় মডারেট মুসলিম ধারণার বাইরে ব্যক্তি মডারেট মুসলিম বিষয়ে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করাটা আমার বিবেচনায় গুরুত্ব বহন করে, সুতরাং তার পাতা ফাঁদে পা দিতেই হলো।
নুরুল কবির বলেছেন:
ঠিক আছে বস । তবে খিয়াল রাইখেন - আগামী রমজানে জমাতিছলামের ইফতার পার্টিতে প্র আলো ব্লগের উপদেষ্ঠা দীন মোহাম্মদ (এই নামে সওয়াব বেশি) নিজামী-কামারুর বাম পাশে বসে মুনাজাত ধরবে । হুক্কা হুয়া ।
শুধু মডারেট শব্দটা বা টার্মিং নিয়ে এয়ালার্জি থাকলে কিছু বলার নাই, সেটা একান্তউই ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে নিজের অবস্থান নিজে বোঝার মতো বিশ্লেষণ করার মতো ক্ষমতা সবারই আছে। বিশেষ করে যখন জঙ্গিবাদীদের ইসলামের মূল হোতা হিসেবে দেখা যায় বা দেখানো হয়, তখন নিজের অবস্থানকে একটা মূল্যায়ন মানুষ করতে পারে। সেটার জন্য সনদ না, বরং নিজে যে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেনা -- এটুকু পরিস্কার রাখলেই হয়।
মডারেট মুসলিম শব্দটা যখন আসে, তখন তার বিপরীতে আসে উগ্রবাদ/র্যাডিকাল/জঙ্গিবাদ এসব ... এখন আপনি যে বললেন, "যখন বান্দার হককে খর্বিত করে ইশ্বরের অধিকারকে পরিপূর্ণ করবার রীতি প্রচলিত হয়ে যায় তখন সেটা মডারেট মুসলিম হওয়ার প্রথম ধাপ।" -- এটা কি ঠিক হলো?
ধর;মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও যদি সমাজে ঘুষপ্রথার বিরুদ্ধে বা "ধনীর গরীবশোষনে"র বিরুদ্ধে কাজ করতে যাওয়া হয়, তখন কি অবশ্যই জঙ্গিবাদী হতে হবে? এটা অযৌক্তিক মনে হলো
লেখক বলেছেন: যারা নিজেদের মডাররট মুসলিম পরিচয় দিতে চাইছে, কিংবা সহনশীলতার চর্চা করতে চাইছে তারা ধর্মকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে রাখতে আগ্রহী, তারা ইসলামী রাষ্ট্রের লড়াই থেকে নিজেকে বিযুক্ত করেছে।
মডারেট মুসলিম আর মুসলিম শব্দের ভেতরে এই একটা শর্তও বোধ হয় অনুহ্য থাকে।
যেমন আপনার অভিমত মডারেট মুসলিমের বিপরীত শব্দ জঙ্গীবাদী মুসলিম- আমার অভিমত বিষয়টা জঙ্গীবাদি নয় বরং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক পর্যায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রম।
অন্যসব মতাদর্শকে অগ্রহনযোগ্য বলে বিশ্বের একমাত্র মতাদর্শই ইসলাম এটা প্রতিষ্ঠার অবস্থান থেকে সরে আসবার একটা জায়গা থাকে মডারেট মুসলিম বিশেষণে, এই সরে আসবার জায়গাটাতে সহিংসতা কতটুকু?
যখন ধর্মীয় মূল্যবোধের জায়গা থেকে কোনো সামাজিক অনাচার রদের আন্দোলন, সেটা সহিংস কিংবা অহিংস যেমনই হোক না কেনো, মূলত একটি ধর্মীয় আদর্শকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
মুসলিম নাস্তিক Click This Link যেমন মডারেট মুসলিমও তেমনি। দুইটাই কাঠাল গাছে আমস্বত্ব।
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
তবে প্রশ্ন হচ্ছে , ইসলামে সামাজিক ইসলামের গুরুত্ব অপরিসীম । রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী রাষ্ট্র হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ । অর্থনীতিতে বায়তুল মালের বিশাল ভুমিকা ।সুতরাং এটাকে বাদ দিয়ে যারা ব্যক্তি পর্যায়ে ধর্মকে লালন করতে ইচ্ছুক , তারা কি আদতেই মুসলিমত্ব রক্ষা করছেন নাকি দূরে সরে আসছেন , সেই প্রশ্নটাই দিবারাত্রি খুঁচাচ্ছে ।
নুশেরা বলেছেন:
পূর্ববর্তী মন্তব্যের জবাবের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ, অপবাক।তাহলে বলছেন শুধু আধিপত্যবাদিতা থেকে উত্তোরণই মডারেশন?
জোয়ান অফ আর্ককে পুড়িয়ে মারা বা পৃথিবীর বার্ষিকগতি নির্ধারণকারী বিজ্ঞানী(কেপলার?)'র মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত তো চার্চের ছিল। চার্চ সে পথ থেকে সরে এসেছে। রামমোহন রায় প্রমুখের উদ্যোগে হিন্দুসমাজ সতীদাহ বন্ধ করেছে। ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায়ও অপরাধের শাস্তি বা পারিবারিক আইন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংশোধন বা বদল যাই হোক একটা কিছু এসেছে। এগুলোকে কি মডারেশন বলা যায়?
লেখক বলেছেন: শুধু আধিপত্যবাদ থেকে উত্তোরণই মডারেশন এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত ভ্রমাত্মক। সামাজিক অগ্রগতির সাথে মানিয়ে নিয়ে নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের সীমানা নির্ধারণ সভ্যতার অগ্রগতির স্মারক বিবেচিত হতে পারে।
যখন চার্চ গ্যালিলিওকে শাস্তি প্রদান করে তখন চার্চ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবেই অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রন করতো। এবং যদিও পৃথিবীকেন্দ্রীক পূর্বতন মতবাদ, যা বাইবেলবর্ণিত সৃষ্টিতত্ত্বকে সমর্থন করে এমন একটা ধারণ ছিলো চার্চের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত শিক্ষাঙ্গনের পন্ডিতদের ভেতরে, সুতারং হঠাৎ করেই পৃথিবীকেন্দ্রিকতা থেকে সূর্য্যকেন্দ্রীকতা মানুষের নৈতিকতাবোধকে দুর্বল করে ফেলতে পারে এমন একটা বিবেচনা থেকেই রক্ষণশীল আচরণ করেছিলো চার্চ।
আধিপত্যবাদের সাথে রক্ষণশীলতার সম্পর্ক প্রায় সব সময়ই সমানুপাতিক। আধিপত্যবাদ বাড়তে থাকলে মূল্যবোধীয় এবং নৈতিকতাসম্বলিত আদর্শবাদের রক্ষণশীলতা বাড়তে থাকে।
সম্মিলিত বাধা এবং জনসচেতনতার জায়গা থেকে চার্চ এইসব রক্ষণশীলতার চর্চা অব্যহত রাখবার মতো অর্থনৈতিক ক্ষমতা হারাতে থাকলে অনেক কিছুর স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় চার্চ। অবশ্যই যেকোনো আদর্শের চর্চার জন্য নৈতিক, আদর্শিক একগুঁয়েমির সাথে অর্থনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন হয়।
বিষয়ভিত্তিক না থেকে সাধারণ মন্তব্য করতে হলে বলবো- সন্ত্রাসবাদের অর্থনীতি যতদিন শক্তিশালী থাকবে ততদিন সন্ত্রাসবাদী তান্ডব চলতে থাকবে, অর্থের উৎস থাকলে দলে দলে আত্মহত্যাকারী মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকবে, সেটা বাংলাদেশে জামায়াতের শক্তিশালী অবস্থা দেখে অনুমাণ করা যায়, সংগঠন হিসেবে অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান জামায়াত। সুতরাং জামায়াতের রাজনৈতিক সম্প্রসারণের সাথে অর্থনৈতিক বিবেচনাও এর সদস্যদের ভেতরে থাকে। আদর্শিক আণতি না থাকলেও অনেক কর্মীই অর্থনৈতিক কারণে এটার সাথে সম্পর্কিত থাকে, তারা হয়তো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না কিন্তু চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য এবং বাটোয়ারাকৃত অর্থের সামান্য ভাগ এরা পায়।
সামাজিক প্রয়োজনকে অস্বীকার করবার উপায় নেই, সুতরাং সময়ের সাথেই সংশোধিত হবে আদর্শ এবং এর কাঠামো আরও বিস্তৃত হবে, নিত্যনতুন ব্যখ্যায় সমৃদ্ধ হবে এবং বিতর্কিত হবে। মডারেশন সব সময়ই চলমান একটা প্রক্রিয়া, টিকে থাকবার জন্য মতাদর্শিক বিবর্তনটুকু অগ্রাহ্য করতে চাইলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যে মাত্রা প্রয়োজন, আপাতত সেই মাত্রায় সমৃদ্ধ অর্থনীতি নেই, তাই সামান্য সংশোধনবাদীতা সকল রাষ্ট্রনীতি এবং ধর্মনীতির মৌলিক অংশ হয়ে গেছে পরিবর্তিত বিশ্বে।
আপনার অভিমতের উত্তর- একেবারে মৌল কাঠামো বিবেচনা করলে অপরাধের শাস্তি এবং পারিবারিক আইন সংশোধন অবশ্যই মডারেশন। প্র্বকৃত ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় এইসব সংশোধন গ্রহনযোগ্য নয়, বরং নিষিদ্ধ। এটয়া সরাসরি কোরানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে যাবে, এই কোরানের ভাষ্য ইসলামী আইনের মূল উৎস, সংবিধানকে অগ্রাহ্য করে কোনো আইন তৈরি হলে সেটার বৈধতা থাকে না।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















