somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তুলনায় উন্নত নির্বাচন ব্যবস্থা চায় বাংলাদেশ-

২৭ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ও গণতন্ত্রায়নের নতুন যুগে প্রবেশের পূর্বে বিগত দুই বছরে বাংলাদেশের অর্জন এবং ব্যর্থতা কতিপয় পরিচিত মানুষের জবানে পড়ছি। তারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে পরিচিত এবং তাদের কথা সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সাথেই ছাপা হয়, তারা বাংলাদেশ ও তার ভবিষ্যত, রাষ্ট্র হিসেবে এর ব্যর্থতা এবং সাফল্যের খতিয়ন তুলে ধরেন, তাদের ভাষ্যে বিগত ২ বছরের অর্জনটা বুঝবার চেষ্টা করছিলাম।

তারা সবাই মোটামুটি একমত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক সংস্কার শুরু করেছিলো, সেটা ব্যর্থ হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিজের সীমানার বাইরে গিয়ে লেজে গোবরে অবস্থা তৈরি করেছে। এবং তারা পূর্বে যতটা কঠোর ছিলো এখন ততটাই নমনীয়।

জরুরী অবস্থার গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে তাদের সংশয় আছে, কেউ বলছেন জরুরি অবস্থাই ভালো, কারো মতে রাজনৈতিক হানাহানির শঙ্কা না থাকলে সেটা তুলে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

তাদের ধারণা ১১ই জানুয়ারীর সেনা হস্তক্ষেপ রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি একটা সতর্কবানী, এটা তারা উপলব্ধি করবেন। তবে তারা সবাই, এমন কি আমিও নিশ্চিত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সহসাই বদলাবে না। মাইনাস টু, প্লাস টু, জোট, মহাজোট, মহামহাজোট, যেকোনো প্রকারেই হোক না কেনো এখানে রাজনৈতিক কোন্দল এবং হানাহানির সংস্কৃতি বদলাবে না, বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গাফিলতির কারণে আটক নেতাগুলোকে দ্রুত জামিনে বের করে দেওয়া এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় তথাকথিত স্বাধীন বিচার বিভাগের জামিন দেওয়া এবং না দেওয়ার সিদ্ধান্তগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্জনগুলোকে কলুষিত করেছে।

অর্জন একটাই , মোটামুটি একটা গ্রহনযোগ্য ভোটার তালিকা, যেটাতে ভোটার বাড়বার বদলে বরং কমে গিয়েছে।
এর বাইরে বলবার কোনো অর্জন নেই, স্বাধীন বিচার বিভাগের নামে মশকরা, অনেক আবেদন নিবেদন করে একটা ট্রুথ এন্ড একাউন্টিবিলি কমিশন গড়ে তোলা সেটার মেয়াদ দুই দফায় বাড়িয়েও সেখানে মাত্র ৪৯৮ জনের উপস্থিতি বরং একটা ঘোরতর সন্দেহ তৈরি করেছে, কাদের সুবিধা প্রদানের জন্য এই একাউন্টিবিলিটি কমিশন তৈরি করা হয়েছিলো?

নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের অংশগ্রহন করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন। তারা একালায় জন সংযোগ করছেন, তারাই বোধ হয় সাম্ভাব্য প্রার্থী।

নির্বাচন হবে হবে এই সংশয় থেকে আপাতত নিশ্চিত নির্বাচন হচ্ছে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে, উপজেলা নির্বাচনের নবঘোষিত সময়সীমা জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহে-

আজ সংবিধান বিশেষজ্ঞ, এডভোকেট জহির বলেছেন আদতে ১৮ই ডিসেম্বর নির্বাচন হলেই ভালো হতো। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরে ম্যাককেইন বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছেন, তার আসবার কথা ২রা ডিসেম্বর, ইইউ'র পর্যবেক্ষক দল আসবে, জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল আসবে নির্বাচন দেখতে।

জহিরের বক্তব্য ১৮ই ডিসেম্বর নির্বাচন হলে বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা নির্বাচন দেখে যেতে পারতো, বড় দিনের ছুটির পরে তারা অনেকেই আসবে না বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে। এবং যেহেতু এটা সত্য যে বাংলাদেশের এই নির্বাচনে যেই পক্ষই পরাজিত হোক না কেনো, সুক্ষ্ণ এবং স্থুল কারচুপির অভিযোগ উঠাবেই, বিদেশী নামিদামি পর্যবেক্ষক যদি বলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে তবে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ অসার প্রমাণিত হবে।

আমাদের অবস্থা এমনই চরম বাজে, এখানে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলো কি না এই সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়, পর্যবেক্ষক যে সার্টিফিকেট দিয়ে যাবেন সেটাই সঠিক, যদিও ৩৩০ জন যদিও পর্যবেক্ষকও উপস্থিত থাকেন তবে এরপরেও ভোটের কারচুপি ঠেকানো সম্ভব না। বরং ভোটে কারচুপির নিত্যনতুন উপায় আবিস্কৃত হতেই থাকবে এখানে।

আইনের গতির তুলনায় সব সময়ই আইন ভঙ্গকারীদের গতি বেশি, তারা একধাপ এগিয়েই থাকে সব সময়।
বাংলাদেশের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী এবং নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব লোকবল, যেহেতু বাঙ্গালী এবং তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক আনতি রয়েছে, সুতরাং একেবারে সঠিক ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তুলনায় কঠোর দাবি উঠানো সম্ভব হবে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এবং এখানে বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দেওয়া সুশীলবাদীদের পরবর্তী বক্তব্য হতে পারে

বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সঠিক ও সুন্দর ভাবে সমাধা করবার জন্য নির্বাচনের এক সপ্তাহ বাংলাদেশকে জাতিসংঘের নিয়োজিত নির্বাচন মডিউলের কাছে ছেড়ে দিতে হবে, তারাই বিভিন্ন দেশ থেকে শান্তি রক্ষি বাহিনি এনে দেশের নিরাপত্তা এবং নির্বাচন কেন্দ্রের পরিবেশ রক্ষা করবে। পোলিং এজেন্ট এবং ভোট গননার জন্য আনা হবে বিদেশী গননাকর্মীদের। মুলত একটা সপ্তাহ আমাদের সম্পূর্ণ বিদেশীদের শাসনে থাকতে হবে। সেটা করলেই মনে হয় সবার কাছে সঠিক ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের ঘোষণা আদায় করা সম্ভব হবে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×