ধর্মই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতির মূল সুর।
জাতীয় পার্টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ঘোষণা দিয়েছে তারা নির্বাচিত হলে ব্ল্যাসফেমি আইন প্রণয়ন করবে। বাংলাদেশ তার মৌলিক চেতনাগত অবস্থান থেকে অনেকটা সরে অনেক দিন আগে থেকেই মুসলিম বাঙালীদের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। এখানে ভিন্ন ধর্মামবলম্বীগণ রাষ্ট্রের দ্বীতিয় শ্রেণীর নাগরিক, এবং আশ্চর্য হলো বাঙালী মধ্যবিত্ত মানসের একটা অংশ এই বিভাজনকে সঠিক বিবেচনা করে।
এই বাঙালী মুসলিম জাতীয়তাবোধাক্রান্ত চেতনায় ভারত বিরোধিতা প্রবল। তাদের ঘোরতর সন্দেহ পাকিস্তান বিভাজিত হওয়ার পেছনে ভারতের কুটচাল ছিলো। যেই ধর্মভিত্তিক বিভাজনকে অস্বীকার করে বাঙালী ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার উদ্ভব হয়েছিলো সেটাকে জন্মের পরপরই বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে ইসলামমনস্কতা বৃদ্ধি পায়। ফলাফলে এখানে বসবাসরত হিন্দুদের উপরে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের মুসলিম জাতিয়তাবোধ শেষ পর্যন্ত এখানে বসবাসরত প্রায় ২ কোটি হিন্দুকে দেশপ্রেমবিহীন ভারতীয় জঞ্জালে পরিণত করে। এখানে হিন্দুমাত্রই ভারতপ্রেমে মাতোয়ারা একদল জনগোষ্ঠী, এখানে পাহাড়ী আদিবাসিগন সবাই বিচ্ছিন্নতাকামী। সীমিত সংখ্যক খ্রীষ্টান এবং বৌদ্ধ কোনো না কোনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দালাল।
বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিগন প্রচেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগকে ঠিক এক বিপরীতে দাঁড় করাতে। তাদের অভিমত এবং আকাঙ্খা, আওয়ামী লীগ এই মুসলিম জাতীয়তাবাদের বিপক্ষে সার্বজনীন বাঙালী জাতীয়তাবাদের ধারক হবে। তবে আওয়ামী লীগও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামকেই প্রতিষ্ঠার পক্ষে।
নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা হলো সিলেটের শাহজালালের মাজার থেকে। শেখ হাসিনা সেখানে গিয়ে নিজের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন, তার পরের পরের দিন খালেদা জিয়াও সিলেটের শহজালালের মাজার থেকে নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন।
টিভিতে সম্প্রচারিত হলো তাদের মোনাজাতদৃশ্য।
অন্য দিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশ সফর করছে। তারা স্থানে স্থানে গিয়ে জনমত সংগ্রহ করছে। এই নির্বাচন জরুরী আইন থাকা অবস্থায় করা উচিত কি না কিংবা সাধারণ জনগণ কি ভাবছে দেশে জরুরী অবস্থা বজায় থাকলে ভোট নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে?
আশ্চর্য হলো রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতে সাধারণ জনগণের অবস্থান, তারা ভাবছে জরুরী অবস্থা বজায় থাকলেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। যদিও হাস্যকর ধরণের জরুরী অবস্থা শিথিল করা হয়েছে এখানে। ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত সামরিক বাহিনী ব্যারাকে থাকবে। এরপরেই পুনরায় তাদের আগমন ঘটবে বাংলাদেশের মানচিত্রে।
সাধারণ মানুষের ধারণা-
যদি জরুরী অবস্থা বজায় থাকে এবং সরাসরি সামরিক বাহিনীর তদারকিতে নির্বাচন হয় তবে ভোট জালিয়াতি, জবরদস্তি, এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া রোধ করার বাস্তবতা থাকবে না। তারা নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
২৯শে ডিসেম্বর কি হবে জানা নেই আমাদের? বাংলাদেশের রাজনীতিতে বৈদেশিক রাষ্ট্রের নাক গলানোর বাস্তবতা এবং আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দীনতার স্মারক হয়ে থাকবে অফ দ্যা রেকর্ড এই বক্তব্যটুকু-
" আমাদের সংসদ নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারবে তার একটা লিস্ট তৈরি করে দেয় আইসিআই, একটা লিস্ট তৈরি করে দেয় "র"- এদের ভেতর থেকেই আমরা আমাদের নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করি"
আশা করবো এইসব অভিযোগ কিংবা অনুযোগ কল্পিত- আমাদের নির্বাচিত সংসদেরা আমাদের দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন প্রকিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়ে আসেন।
ভোট হোক। সবাই ভোট দিয়ে নতুন ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রবেশ করুক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


