somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলোচনা করি- বাংলাদেশের ইসলামী রাষ্ট্র হয়ে উঠবার লাভ ক্ষতি-

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লন্ডনে বোমা হামলার পরে একটা প্রশ্ন উঠেছিলো, এমন একটা রাষ্ট্র যা মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতাকে রক্ষা করে, এমন কি উগ্র ধর্মীয় মতবাদকেও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রতিহত করে না, এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার উদারতার সুযোগ নিয়ে যদি সেখানে সন্ত্রাসবাদী সৃষ্টি হয় তবে রাষ্ট্রের কতৃত্ববাদী ভুমিকা কি হওয়া প্রয়োজন?

রাষ্ট্র কি নিয়ম করে এই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে নামবে?

রাষ্ট্র কি উগ্রপন্থী হয়ে যেতে পারে এমন বিবেচনায় ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করবে?

রাষ্ট্র কি নিজের অবস্থান ও কল্যানমুখী পরিপার্শ্বকে বদলে করবে?

অর্থনৈতিক বিবেচনায় একটু নীচু স্তরের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাই সন্ত্রাসবাদীদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে এমন একটা প্রচলিত ধারণা থেকেই প্রশ্ন উঠেছিলো- রাষ্ট্র যেহেতু অবহেলিতের পক্ষে না থেকে সব সময়ই অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষমতাবানদের নিয়ন্ত্রনেই থাকে এবং তাদের কল্যানের জন্যই নিজের আইনী ব্যবস্থাকে প্রয়োজনে একটু সংস্কার করে- রাষ্ট্র তার এই চরিত্র থেকে বের হয়ে অন্য কোনো পন্থা গ্রহন করবে কি না?

অনুমাণ করা হয়েছিলো মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সন্ত্রাসবাদের উৎস, সেই মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রন করা প্রয়োজন কি না?

অনেক রকম প্রশ্নই উঠেছিলো বস্তুত লন্ডনে বোমা হামলার পরে। সেখানে অবস্থানরত চরমপন্থী আদর্শিক মুসলিম নেতাকে আটক করাও হয়েছিলো।

এই প্রশ্নের কোনো উত্তর আসলে নেই। অন্তত প্রতিটা গৃহীত ব্যবস্থাই সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসবাদকে কোনো ভাবেই নির্মূল করতে পারবে না। এমন কি অপেক্ষাকৃত সচ্ছল ব্যক্তিরাও আদর্শিক ভাবে গোঁড়া মুসলিম হয়ে উঠতে পারে, ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতা নিয়ে গঠিত অনেক ছোটো ছোটো ধর্মীয় সংগঠনকেই তাহলে সন্দেহের তালিকায় রাখতে হবে, প্রতিটা চার্চ, মসজিদ, গীর্জাকেও সার্বক্ষণিক নজরদারির ভেতরে রাখতে হবে। এবং এইসব ক্রিয়া আবশ্যিক ভাবেই একটি প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। সেটা রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য কতটা কল্যানকর হতে পারে?

যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতা নিয়ে তেমন উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বাংলাদেশের প্রেক্ষিত বিবেচনা করলে। এখানেও ইসলাম কায়েমের রাজনীতি হচ্ছে। অন্তত ২০ থেকে ২৫টা সংগঠন বাংলাদেশে নিজস্ব মতধারার ইসলাম কায়েমের রাজনৈতিক, সশস্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম চালাচ্ছে। এবং আশ্চর্যজনক ভাবে এদের প্রত্যেকেরই দাবি তাদেরটাই আসল ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের পন্থা এবং তাদের ইসলামটিই আসল ইসলাম।

ভোটের রাজনীতিতে অধিকাংশ ইসলামপন্থী দলই চার দলীয় ঐক্যজোটের সদস্য- ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ইসলামি ঐক্যজোট, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, হুজি কিংবা অন্য যেকোনো সংগঠনই বাংলাদেশ ইসলাম কায়েমের প্রচেষ্টা করছে।

তুরস্ক, আর্মেনিয়া, কাজাখাস্তান থেকে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আসছে বাংলাদেশে তাবলীগ ই জামাত। বাংলাদেশের মতো ৯০ শতাংশ মুসলিমের দেশে ইসলামের দাওয়াত দিতে আসবার রসিকতা আমি বুঝতে পারি না কোনোভাবেই। এরপরও এরাও একটা রাজনৈতিক শক্তি ধারণ করে।

যেসব সংগঠন বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, তাদের কোন প্রয়োজনটা বাংলাদেশ রাষ্ট্র পূরণ করছে না এটা আমি বুঝতে পারি না। তারা হাটু পর্যন্ত দাড়ি ঝুলিয়ে ঘুরতে চাইলেই ঘুরতে পারছে, তারা গোপন ও প্রকাশ্য ইসলামী কার্যক্রম চালাতে পারছে। দেশের আইন ব্যবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকার এবং বিবাহ বিষয়ক বিষয়াদিও ইসলামী আইন মোতাবেক সম্পন্ন হচ্ছে। আধুনিকতা বলতে এখন বৈবাহিক সম্পর্ককে রাষ্ট্রীয় তালিকায় তুলতে হয়।

ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান এবং ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা প্রয়োজন- এই দাবী নিয়ে আলোচনা করবার জন্যই এই লেখার সূচনা। এখানে শিবিরের বড় বড় তাত্ত্বিক চিন্তকেরা আছেন, যাদের মতে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থাই সব চেয়ে ভালো। খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনামলের আলোকে তারা ইসলামী রাষ্ট্র নির্মাণের চেষ্টা করছেন- এইসব দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতেই শান্তিপূর্ণ আলোচনার তাগিদ অনুভব করছি।

বাংলাদেশের প্রচলিত ব্যবস্থায় তারা যা করছেন- তথাকথিত ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তারা এরচেয়ে বেশী কি আশা করেন? দারিদ্রমুক্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা ইসলাম কায়েম করতে পারবে? ইসলাম কি অধিক জনকল্যানমুখী রাষ্ট্র প্রণয়ন করতে পারবে?
তারা নতুন কি দিতে পারবে বাংলাদেশকে?

যদিও আলোচনা আমার নিজের পক্ষে সার্বক্ষণিক চালানো সম্ভব হবে না, এরপরও যতটা নিয়মিত হওয়া সম্ভব ততটা নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করবো।
১৬টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×