বিজ্ঞাপন দেখে অবাক লাগে না এখন, দৈনিক পত্রিকাগুলো একটা সময়ে যেমন ভাবে সরকারী বিজ্ঞাপন বাগানোর ধান্দাবাজী ছিলো, ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন- এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্প্রসারণ ও সাম্ভাব্য ভোক্তাবৃদ্ধি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন কিংবা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরের লড়াইয়ের কারণে দৈনিক পত্রিকা এখন সরকারী বিজ্ঞাপন পাওয়ার ধান্দাবাজি কিছুটা স্থিমিত রেখে বরং পাঠক সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং সবাই বস্তুনিষ্ঠতা কিংবা সত্যপ্রকাশের ভ্রান্ত দাবি করলেও সবারই থলের ভেতরে থাবা চাটা বেড়াল লুকানো, সেই থাবায় সবারই অপরাধের কালিমা আছে, সেই কালিমা চেটে চেটে পরিস্কার করা সম্ভব হয় না, মুছে ফেলা সম্ভব হয় না রাজনৈতিক আনতি, তাই শেষ পর্যন্ত দৈনিক, সাপ্তাহিক ,পাক্ষিক , মাসিক কিংবা ত্রৈমাসিক, সকল প্রকাশিত দলিলের রাজনৈতিক আনতি খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
দৈনিক ইত্তেফাকে রবিবার, ১৮ই জানুয়ারী একটি সরকারী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ খন্দকার মোঃ সিফায়েত উল্লাহর সাক্ষর সমেত।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে ভর্তির সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ওফ টেকনোলজি বিগত ১৩ই জানুয়ারী তারিখে প্রথম আলোতে যে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, প্রমিয়ার ইউনিভার্সিটির সেখানে উল্লেখিত কোর্সসমুহ পরিচালনা করবার কোনো অনুমোদন নেই, বরং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ছাড়া এমন কার্যক্রম চালানো প্রতারণার সামিল।
প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও অভিযুক্ত হয়েছে এই প্রতারণার জন্য এবং প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের অভিমত অনুসারে ভুঁয়া একটি প্রতিষ্ঠান।
বিজ্ঞপ্তি পড়ে খুব ভালো লাগলো। এমন তরিৎ প্রতিক্রিয়াই আমি আশা করি সরকারী দপ্তরের কাছ থেকে, তবে দৈনিক ইত্তেফাকেই আমি এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে দেখলাম। প্রথম আলো কিংবা ডেইলি স্টারে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় নি।
প্রচার সংখ্যার শীর্ষে থাকা কিংবা বাংলাদেশের সুশীল মধ্যবিত্ত এবং যারা আদতে এইসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সক্ষমতা রাখে তাদের অনেকেই নিয়মিত প্রথম আলোর গ্রাহক। এই পত্রিকাতেই প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি তার ভর্তি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু প্রথম আলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার এবং তারা নিয়মিত এটা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও এই বিশেষ ইউনিভার্সিটির যে এই সংক্রান্ত কোর্স করানোর সরকারী অনুমোদন নেই এই তথ্য ছিলো না তাদের দপ্তরে?
প্রথম আলো শেষ পর্যন্ত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, পয়সার ঝনঝনানি শুনলে সেখানে আদর্শের বালাই থাকে না, এবং বাংলাদেশে সুশীল তৈরির কারিগর প্রথম আলো অন্য সব সুশীলের মতোই অর্থলোভী শকুন হবে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে এটাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণা শুধুমাত্র দৈনিক ইত্তেফাকে না করে নিয়মিত ভিত্তিতে বিটিভিতে প্রচারের ব্যবস্থা করা উচিত, কিংবা বিটিভি এবং অন্যান্য স্যাটেলাইটয় চ্যানেলে নিয়মিত এইসব ভুঁয়া প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ও তথ্য নিয়মিত প্রচারিত হওয়া উচিত। এই কাজের জন্য একটা নির্দিষ্ট সংস্থা থাকা প্রয়োজন সরকারের, কারণ অর্থনৈতিক প্রতারণার উৎকৃষ্ট ক্ষেত্র এখন বাংলাদেশ। যেকোনো উপায়ে ধনী হয়ে উঠবার অসুস্থ লড়াই এখানে চলছে তাই প্রতারিত হওয়ার সম্ভবনাও বাড়ছে গুণিতক হারে।
প্রথম আলো প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে ভুল করেছে? ব্যবসায়িক ভাবে বিবেচনা করলে সেটা কোনো ভুল নয়, পয়সার বিনিময়ে পত্রিকার নির্দিষ্ট একটা অংশ বিক্রি করে দেওয়ার নীতিতে অবৈধ কিছু নেই, কিন্তু যদি প্রথম আলোর প্রচারিত নৈতিকতা চিন্তা করা হয় তবে সেটা যা কিছু ভালো তার সঙ্গে প্রথম আলো শ্লোগান কিংবা দিন বদলের রুপকার এই বাণিজ্যিক শ্লোগানের বিপরীতে যাচ্ছে তাদের এই আচরণ।
একই সাথে, একই দিনে প্রথম আলোতে টিআইবির কোনো একটা পদের পরিচালক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে, মাসিক বেতন প্রায় ১৫০ হাজার টাকা, বাংলাদেশের বিবেচনার বিশাল মাপের অংক।
টিআইবি কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হলে তাদের এই অর্থ প্রদান করে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকতো, কিন্তু বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ কিভাবে ঘটবে?
অনেক রকম ভাবনাই মাথায় আসে, সিপিডির গ্রাহক রয়েছে, ডেমোক্রেসী ওয়াচের গ্রাহক আছে, তারা গ্রাহকের মর্জি বুঝে ফলাফল দিবে। যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই শেষ পর্যন্ত কাস্টমার কেয়ারে ভালো না হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারে না।
কিন্তু যেসকল প্রতিষ্ঠান যারা মানবহিতৈষ্যি কাজ করছে তাদের পরিচালকেরা, এবং যেসকল প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যবসা নেই তাদের পরিচালকেরা যখন নিয়মিত মাসোহারা পায় তখনই সন্দেহ লাগে আমার। এদের এই মাসোহারা আদতে কিসের কারণে প্রদান করা হয়?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


