জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতার প্রধান সুরটা সব সময়ই এমন, এই রাজনৈতিক দলটি ১৯৭১ এ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের বিরোধিতা করেছিলো, তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় আল বদর আল শামস বাহিনী গঠন করেছিলো, রাজাকার বাহিনী এবং শান্তি কমিটি গঠনে এই দলটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছিলো।
স্বাধীনতার ৩৭ বছর পরেও এই ঘৃণা এখনও জোরদার, কিন্তু শুধুমাত্র এই কারণেই আমার জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতিতে অগ্রহনযোগ্য মনে হয় না। আমি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির বিরোধিতা করি, বিরোধিতা করি তাদের ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবার প্রবণতাকেও।
এই মুহূর্তের বাস্তবতা হলো যুদ্ধাপরাধী কিংবা ঘাতক দালাল হিসেবে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক প্রয়োজন এই মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর তেমন নেই। মতিউর রহমান নিজামী, মুজাহিদ কিংবা কামরুজ্জামান, আব্দুল কাদের এই মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির জন্য অপরিহার্য চরিত্র নয়-
যুদ্ধাপরাধ কিংবা ঘাতক দালাল হওয়ার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে আসবে জামায়াতে ইসলামী তাদের ছেঁটে ফেলবে, এই রাজনৈতিক দলটি কখনই দলীয় ভাবে এই দায় গ্রহন করবে না, তাদের যেকোনো কর্মীকে অনায়াসে ছেটে ফেলে তারা, রাজনৈতিক সংশ্রব রাখে না তাদের অনুগত নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের সাথে, কিন্তু এই সংশ্রবহীনতাতেও তাদের নিয়মিত মাসোহারা কিংবা আইনী ও সশস্ত্র সহায়তার পরিমাণ তারা কমাবে না, তবে আইনগত দিক থেকে বিবেচনা করলে মুজাহিদ কিংবা নিজামী কিংবা কাদেরকে দল থেকে বহিস্কার করে দিলে জামায়াতে ইসলামী একটি রাজাকারের দল কথাটা কোনো ভাবেই বাস্তব হবে না।
দলের নেতা কর্মী কারো সাথেই যদি ঘাতক দালালদের সংশ্লিষ্ঠতা না থাকে তবে এমন ফাঁপা কথার উপরে ভিত্তি করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো সম্ভব হবে না।
আমি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করি, আমার নিজের বিবেচনায়, এই দেশের মানুষের ধর্ম পালনের জন্য বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েম হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, বর্তমানে বাংলাদেশের যেকোনো মানুষ যে পরিমাণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করে, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে একজন মুসলিম এর চেয়ে বেশী ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে না।
আমি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করি, কারণ এই দেশের সংবিধান এবং জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব রাজনৈতিক লিপ্সা পরস্পরবিরোধী, বাংলাদেশে ইসলামী আইন প্রণয়ন সংবিধানকে কাঁটা ছেড়া না করে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়,
আমি নিজে ইসলামী আইনকে বর্তমানের যুগের সাথে মানানসই মনে করি না, এবং আমি চাই না এমন আইন বাংলাদেশে প্রচলিত হোক, যদিও আমি নিশ্চিত জানি জামায়াতে ইসলামী ঠিক তালেবানী ইসলামী লেবাস ধারণ করবে না, বরং টেকিমোল্লা টাইপ একটা জগাখিচুড়ী পূঁজিবাদসহায়ক রাজনৈতিক দল হিসেবেই বিবর্তিত হবে।
তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে আমি অগ্রহনযোগ্য মনে করি কারণ এই রাজনৈতিক মতাদর্শ আমার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক, আমার নিজস্ব সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার বিকৃত হয়ে যাবে এমন কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শকে আমি সমর্থন করি না।
আমি সহিংসতার বিরোধী, তবে রাজনৈতিক মতাদর্শকে জনমত গঠন করেই প্রতিহত করতে আগ্রহী, কোনো ভাবেই সন্ত্রাসের মাধ্যমে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার রদ করতে আগ্রহী নয়।
বাংলাদেশের মানুষ যথেষ্ট বিবেচক, তারা অন্তত এই ফাঁকি বুঝে। তাদের ভেতরে জনমত গঠিত হলে তারা নিজের উদ্যোগেই ধর্মীয় রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করবে। এবং এ জন্য আমাদের ৭১ এ জামায়াতের ভুমিকা টানবার কোনো প্রয়োজন হবে না।
প্রচলিত রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বর্তমানের সময়ে এটা খুব কার্যকরী কৌশল কিন্তু এই রাজনৈতিক কৌশলের ধার দিন দিন ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে। এখনই প্রয়োজন বিকল্প রাজনৈতিক কর্মকান্ড ভেবে নেওয়ার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



