সভ্য মানুষের মহল্লায় কেউ দরজা লাগিয়ে ঘুমায় না।
আমরা সভ্য হচ্ছি এবং লোভ-লালসার শিকার হচ্ছি প্রতিনিয়ত। আমাদের আধুনিকতা আমাদের খোলস পড়তে শেখাচ্ছে, আমাদের আড়াল শেখাচ্ছে, সভ্যতা আমাদের শেখাচ্ছে নীতিবোধ এবং নৈতিকতা, এবং এইসব ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রভাবে পরিবর্তিত হওয়ার আগেই আমরা আমাদের সারল্য বিসর্জন দিয়েছি।
অন্ত্যজ আদিবাসী, যাদের নগরে কোনো পুলিশ নেই, যাদের বসতিতে কোনো জল্লাদ নেই, যাদের কোনো জেলখানা নেই, তারা সভ্যতার সংস্পর্শ্বে এসে সভ্যতার কালিমা মাখছে গায়ে। বিষয়টা উঁচু গলায় সভ্য হয়ে উঠবার দাবি জানানো সবারই।
অনেক দুরে না গিয়ে একেবারে নিকটের চাকমা গ্রাম কিংবা ম্রোদের গ্রামে নজর দিলেও হবে, নজর দেওয়া যায় হাজং কিংবা সাঁওতাল বসতিতে। এইসব বসতির মানুষেরা দরজা লাগিয়ে ঘুমায় না, তাদের সর্দার কিংবা গ্রামপ্রধান ব্যতীত অন্য কোনো প্রশাসন নেই। পুলিশ নেই বসতিতে।
দরজা হাঁট খোলা, তবে এইসব বাসতিতে চুরি হয় না, কেউ অন্যের সম্পদ না বলে গ্রহন করে না, কেউ পরস্ত্রীর দিকে বাঁকা নজরে তাকায় না,মনোমালিন্য নেই এমন না, তবে সর্দারের কথা মেনে নিয়ে সবাই জীবনযাপন করছে এবং কোথাও কোনো ছন্দপতন নেই।
শিক্ষা মানুষকে কলুষিত করে না, বরং আলোকিত করে, তবে এখানে মডারেশনকামী সুশীল মানুষেরা, যারা নিজেদের শোভন রুচির মানুষজন মনে করেন, তারা অশুচীদের ছোঁয়াচ থেকে নিজেকে বাঁচাতে চান। তারা নিজের মনে অনেক কিছুই তৈরি করেছেন। কোনটা অশোভন এবং কোনটা শোভন এটাও আমরা তাদের কাছ থেকে জানি, এবং একটা ছোটো কুঁড়ির চারপাশে বিভিন্ন মাপের জাল বিছানো হয়, সেটাও দেখি বসে বসে। এখানে ২৪ ঘন্টা চৌকিদারি, এরপরও ভাবের ঘরে চুরি হয়ে যায়।
কার ঘাড়ে কখন কতৃপক্ষের কোপ এসে পড়বে ঠিক নেই। স্বেচ্ছাচারি কিংবা স্বৈরাচারী আচরণ দেখে মনে হয় না আদিবাসী অশিক্ষিত পিছিয়ে পড়া সমাজেও এরচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যবস্থা সম্ভব।
উচ্চশিক্ষিত মানুষগুলো নিজেরাই এমন একটা নীতিমালা তৈরি করে বসে আছে, যেই নীতিমালায় অনেক হাস্যকর বিধান আছে, প্রথম পাতার বৈচিত্র আনতে পোষ্ট মুছে ফেলবার বিধানটিও বলা যায় ব্লগের ৫৪ ধারা। যেকোনো সময়েই এটার প্রয়োগ করা সম্ভব।
আমি বিনীত ভাবে কতৃপক্ষের কাছে জানতে চাই, ঠিক এই মুহূর্তে কিংবা আগামী কাল, কিংবা আগামী একমাস পরে, যেকোনো একটি বিশেষ মুহূর্তে একটা তালিকা দিবেন আমাকে, যেই তালিকায় প্রথম পাতার বৈচিত্র প্রকাশ পাবে।
প্রথম পাতায় যা যা আসে, কিংবা ধারাবাহিকভাবে ব্লগে যা লিখিত হয় সেগুলোর বৈচিত্র আনতে হলে অন্তত ৩ ঘন্টায় প্রথম পাতায় দেওয়ার মতো কিছু পাওয়া যাবে না। এমন কি এমনও হতে পারে, সারাদিনে একবারও প্রথম পাতার সবগুলো পোষ্ট বদলে দেওয়া সম্ভব হবে না।
আমি এমনটা বলতে পারি, আজকে প্রকাশিত ১০০ পোষ্ট বাছাই করে যদি প্রথম পাতার ১০টা পোষ্ট বসাতে বলা হয়, কতৃপক্ষ, মডারেটর, কেউই আসলে দ্বিরুক্তি না করে প্রথম পাতা সাজাতে পারবে না।
পরীক্ষা প্রার্থনীয়।
অনুরোধ, অযথা কাউকে প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দিতে এমন হাস্যকর অজুহাত খুজবেন না, কাউকে যদি আপনার পছন্দ না হয়, নীতিমালার হাস্যকর ব্যবহার করে আপনারা তা করতেই পারেন।
ধরেন ২ ক, ২ খ থেকে শুরু করে ৫ ক পর্যন্ত বিভিন্ন নীতিমালার অদ্ভুত ব্যবহার আপনারা করেছেন। সেগুলো করেই যেকোনো পোষ্ট মুছে দিতে পারেন, দয়া করে এমন কথা বলবেন না, যে কথা জানলে ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের হাসির মহামারি হবে। তারা এভাবে হাসতে হাসতে মৃত্যু বরণ করলে সেটা দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



