মানবিকতা-
০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:০৯
কান্না সংক্রামক, বীভৎসতা খুব সহজেই আমাদের স্বাভাবিক চৈতন্যকে স্তব্ধ করে দেয়, এবং আমরা আমাদের সহজাত যুক্তিবোধ হারিয়ে ফেলি।
নৃশংসতা পরিমাপ করলে হয়তো এই ১৩৬টা মৃত্যুর সাথে গত ৪ বছর নিহত প্রায় ১০০০ সন্ত্রাসীর মৃত্যুকেও একই কাতারে স্থাপন করা যায়। কিংবা আরও একটু দুরে গিয়ে তাকালে অপারেশন ক্লিন হার্টের সময়ও ৮১ জন বিনাবিচারে নৃশংস ভাবে নিহত হয়েছিলো, তাদের কথাও বিবেচনা করা যায়।
আমি তুলনা করতে চাই, প্রতিটা অমানবিক মৃত্যুর বিচার দাবি করা উচিত, এই ঔচিত্যবোধ থেকেই যদি প্রতিটা ঘটনাকে দেখতে চাই তাহলে রাষ্ট্রের ভুমিকাকে প্রশ্ন করতেই হয় আমাকে। রাষ্ট্র সংঘবদ্ধ যুদ্ধবাজদের কাছে কতটা অসহায় হয়ে আছে?
প্রত্যেকেরই ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে, প্রত্যেকটা অপমৃত্যুই তার পরিজনের কাছে অনাকাঙ্খিত। প্রতিটা মৃত্যুই কিছু শুন্যতা রেখে যায়। সেনাসদস্যগণও আমাদের মতো মানুষ, এবং তাদেরও পরিজন চাইছে এই হত্যাকান্ডের বিচার।
শোকের দহনে স্বাভাবিক চিন্তাবিচ্যুত হয়ে একজন যখন বললেন তিনি তার স্বামীকে যেভাবে মারা হয়েছে বিডিআরদের সেভাবেই হত্যা করা হোক, এ টিথ ফর টিথ, এন আই ফর এন আই, প্রতিহিংসা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। যদিও তার সম্পূর্ণ অধিকার আছে, তবে নৃশংসতা দিয়ে নৃশংসতা রোধ করা যায় না।
অনেক দিক আগে, ট্রেনের কামরায় বৃদ্ধ এক সৈনিকের সাথে কথা হয়েছিলো। সৈনিকের বয়েস ৫৫ বছর, তার অবসরের সময় হয়ে যাচ্ছে, অবসরের আগে সে যাচ্ছে তার গ্রামের বাড়ী। নিয়মিত পরিশ্রমে পেটা শরীর, কানের দু পাশে কাঁচা পাকা চুল, হয়তো নিয়মিত নয়, কিন্তু সেদিন পান খেয়ে তার ঠোঁট লাল।
বসে আছেন চার সীটের আসনের একটা কোনায়। তখন সদ্য এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত, সাধারণ মানুষেরা তখন আর্মিকে তেমন ভয় পায় না, এবং একটু বয়স্ক মানুষেরা যেমন সম্ভ্রম নিয়ে তাকায়, সদ্য কৈশোর পেরোনো আমি তখনও তেমন বড় ভয়ের কিছু দেখি নি। সুতরাং তাকে নিজের মনোভাব জানাতেও সমস্যা হলো না।
কথা বলতে গিয়ে বুঝলাম, আদতে সেও আমাদের মতো সাধারণ মানুষ, একজন সৈনিক, আমার ধারণা মতে যতটুকু রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন আশা করেছিলাম, ঠিক ততটা রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান না, তখন তার বেতন ছিলো সব মিলিয়ে ৪০০০, প্রতি সপ্তাহে রেশনে ৫ কেজি চাল, পরিবারে ছেলে ২ জন। তারা গ্রামে থাকে গ্রামের স্কুলে পড়ে, এসএসসি দিবে।
আমি সৈনিকের দিকে তাকাই, তার পেটা শরীর দেখে মনে হয় না তার অবসরের সময় হয়ে গিয়েছে, তার উপরে তার ছোটো ছেলে যে এখনও স্কুলের চৌকাঠ পেরোয় নি এবং তার বড় ছেলে, যে হয়তো তার অবসরে যাওয়ার সময় হয়তো এইচএসসি দিবে, কিছুটা হলেও আমার সমবয়সী সেই ছেলেটার পিতা হিসেবে তাকে দেখলাম।
তিনি অবসরে গেলে পাবেন সব মিলিয়ে ৮৪ হাজার টাকার মতো। এই টাকায় কিভাবে দিন গুজরাণ করবেন সেই চিন্তায় ব্যকুল,
সেই মানুষটাও তার পেশাগত জীবনে তেমন সম্মান পান না তথাকথিত কমিশনড অফিসারদের কাছ থেকে। তারাও নিতান্ত চাকরের মতোই ব্যবহার করে তার সাথে। তাদের কাজ বাগান পরিচর্যা, তাদের কাজ ঘাস কাটা, তাদের কাজ আগাছা নিড়ানো, মূলত তারাই শাররীক পরিশ্রমের কাজগুলো করে থাকেন। একজন এইচএসসি পাশ ছেলে যখন সামরিক বাহিনীতে যোগদান করে, যেহেতু পদাধিকার বলে তারা এই সাধারণ সৈনিকের তুলনায় উপরের কাতারে তারা নিতান্ত অবহেলায় তাদের অচ্ছুত জ্ঞান করে। তবে সবাই তেমন নন, কেউ কেউ বড় ঘরের সন্তান হলে, তাদের আপনি করেও বলে। এইসব কতিপয় মানুষদের প্রশংসা করে চলে যাওয়া মানুষটাকে আমি শেষ পর্যন্ত দেখলাম তারপর নেমে গেলাম আমার গন্তব্যে।
আমার এক বন্ধু, তাকে জিজ্ঞাসা করলাম এক দিন হঠাৎ করেই, আচ্ছা তোর বাসায় কে কে আছে?
মা , বাবা, ছোটো ভাই-
ছোটো ভাই কোন ক্লাশে পড়ে, এইটে বৃত্তি পাওয়ার পরে আর পড়ে নাই, বিডিআরে জয়েন করছে।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি, বললাম কেনো পড়াশোনা কন্টিনিউ করলো না।
বাসার যে অবস্থা, আমার বাবা অবসর নিয়েছে, বৃদ্ধ, শাররীক পরিশ্রম করতে পারে না, আমি যতটুকু পারি সাহায্য করি, কিন্তু সবটুকু পারি না।
ছেলেটা চমৎকার, একটু কুণ্ঠিত, একটু ধর্মভীরু, কিন্তু সব মিলিয়ে ভালো মানুষ ছিলো। কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধিবিহীন সাধারণ ছাত্র, যে প্রতিদিন বিকেল বেলা টিউশনি করতে বের হয়ে যেতো, ঠিক ৯টা কিংবা ১০টায় ফিরতো টিউশনি শেষ করে, হলের ক্যান্টিনে খেয়ে, পড়তো, ভালো ছাত্র ছিলো। তার বিশ্ববিদয়ালয়ে পড়বার খরচ, তার ছোটো বোনের খরচ, তার মায়ের চিকিৎসার খরচ, সব মিলিয়ে যতটুকু সম্ভব ততটুকুই করতো ও।
আমি ওর বাস্তবতা শুনে আহত বোধ করলাম, ওর সাথে নিয়মিত ঠাট্টার সম্পর্ক বদলে গিয়ে একটু সম্ভ্রম জাগলো, আমি একেবারে বখে যাওয়া ছেলে, যা কিছু হচ্ছে চারপাশে তার কোনোটাই আমাকে স্পর্শ্ব করে না, আমার পয়সার অভাব আছে, হয়তো দু হাত খুলে খরচ করতে পারি না, কিন্তু অন্তত আমার ভাবতে হয় না বাসায় কেউ অসুস্থ হলে কি হবে, বাসার টেবিলে ভাত কিভাবে উঠবে।
অপারেশন ক্লিন হার্ট চলছে, পাবনার এক প্রাক্তন ছাত্রনেতা, এলাকার মাস্তান ছিলো এক সময়, তবে অনেক দিন হয়েছে তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত না, বাসার সামনে ছোটো একটা ব্যবসা করে জীবন চালান, বিয়ে করেছেন, প্রথম মেয়ের বয়েস তখনও ২ হয় নি, তাকে এক রাতে ধরে নিয়ে গেলো যৌথ বাহিনী ভয়ংকর সন্ত্রাসী হিসেবে তাকে গুলি করে মেরে ফেলে গেলো।
তার মেয়ের কান্নার দাগ শুকায় নি, হয়তো এই বাবা, প্রাক্তন সন্ত্রাসী, যার সাথে রাজনীতির সংশ্রব নেই ৫ বছর, তাকে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী করে, তাকে হত্যা করতে বিন্দুমাত্র বিব্রত হতে হয় নি প্রশাসনকে। এবং ৮৩ জন নিহত হয়েছিলো, পঙ্গু হয়েছিলো আরও হাজার খানেক। এই প্রতিটা অমানবিকতাই দেখিয়ে দিয়েছে, এই দেশে মানবিকতা হরণের বিচার হয় না সব সময়।
আমি রাষ্ট্রের কাছে বিশেষ কিছু দাবি করি না।শুধু দাবি করি মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্র পুরণ করুক। তাকে অন্ন নিরাপত্তা দিক, তাকে মাথাগোঁজার একটা ঠাঁই করে দিক, তাকে ন্যুনতম শিক্ষায় শিক্ষািত করুক, যেনো সে নিজের উপার্জন নিজে করে সম্মানজনক জীবিকা নিয়ে জীবনধারণ করতে পারে। এবং সেই সাথে চাই, প্রতিটা মানুষ যেনো সরকারী হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা পায়, প্রায় পঙ্গু সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্য সেবার মান খুবই খারাপ, অন্তত তার পরিজন যেনো এইটুকু সান্তনা নিয়ে বলতে পারে, যতটুকু সামর্থ্যে ছিলো তার সবটুকু দিয়েই তার রোগউপশমের চেষ্টা করেছিলাম আমরা।
নিহত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আমার ক্ষোভ নেই, বিদ্বেষ নেই, তাদের সরকারের তরফ থেকে ১০লক্ষ টাকা দেওয়া হবে, তাদের সন্তানদের শিক্ষার যাবতীয় দায় দায়িত্ব নিবে সরকার, এই সরকারী উদ্যোগকেও আমার আপত্তিকর মনে হবে না, যদি, ঠিক একই সময়ে নিহত বিডিআর সদস্যদের পরিবারের সাথেও একই মানবিক ব্যবহার করা হয়,
আজকে দুইজন কর্ণেল সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সকল বিডিআর সদস্যই এই বিদ্রোহে যুক্ত ছিলো না, তাদের কেউ কেউ সেনাসদস্যদের সহায়তা করেছে, এবং এই আভ্যন্তরীণ কোন্দলে কিছু বিডিআর সদস্য নিহত হয়েছে। তাদেরও পরিবার আছে, তারাও এই হতয়ার বিচার চাইতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র কি তাদেরও একই রকম সুবিধা দিতে বদ্ধ পরিকর?
মেধা কিংবা দক্ষতা কিংবা যোগ্যতার ঘাটতি নয় বরং অনেক সময়ই অর্থনৈতিক দৈন্যতাই নির্ধারণ করে দেয় কোন মানুষটা সাধারণ পদাতিক সৈনিক হবে আর কোন মানুষটা গিয়ে হবে লেঃকর্নেল।
যেই মানুষটা পেটের দায়ে সামরিক বাহিনীর সাধারন পদাতিক সৈনিক, সেই মানুষটার মেধা নেই এমন না, যারা নিহত হয়েছেন, তারাই মেধাবী এমন না, তারাই মানব দরদী এমন নয়, এমন অনেক মানবদরদী চারপাশে আছে, তবে সংবাদ প্রচারিত হওয়ার সময় যেভাবে দেবতাজ্ঞান করা হচ্ছে, তাতে দেবতার প্রয়ানে পূজারীস্তাবক হয়তো আত্মহত্যা করবে।
একটু সংযত আচরণ করা উচিত মিডিয়ার, একেবারে উপেক্ষা এবগ একেবারে মাথায় তুলে নাচার মাঝামাহি, যার যতটুকু প্রাপ্য ঠিক ততটুকুই দেওয়ার বোধ কবে হবে বাংলাদেশের মিডিয়ার?
বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: প্রতিহিংসার খেলা কতটুকু নীচে নামাতে পারে তাদের?
অধস্তনের হাতে অপদস্ত হওয়ার অপমানবোধও আছে এর সাথে।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
যদি কেউ মাফিয়াকে থাপ্পড় মারে মাফিয়া কি পালটা থাপ্পর মেরে ছেড়ে দিবে? নিশ্চয়ই না।সে এর চাইতে বড় আঘাত করবে, কারন প্রতিপক্ষের মাফিয়াকে ভয় পেতে হবে।
মেধা কিংবা দক্ষতা কিংবা যোগ্যতার ঘাটতি নয় বরং অনেক সময়ই অর্থনৈতিক দৈন্যতাই নির্ধারণ করে দেয় কোন মানুষটা সাধারণ পদাতিক সৈনিক হবে আর কোন মানুষটা গিয়ে হবে লেঃকর্নেল।
খুব ভালো লাগলো কথা গুলো। এজন্যই আর্মি অফিসাররা শহীদ, নিহত বিডিআর আর রিকশাওয়ালা শুধুই পড়ে থাকা লাশ।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
বীভৎতা অনেকাংশেই প্রতিহিংসার কিংবা জিঘাংসাকে উস্কে দেয়।একজন স্বামীহারা মহিলা যখন বলে একই ভাবে মারা হোক তাঁর স্বামী হন্তারককে তখন আমি কিছুটা অবাক হলেও তাকে বোঝানোর মতো যুক্তি খুঁজে পাইনা।ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে প্রতিহিংসার উৎসবে মেতে না উঠে সেনাবাহিনী তার গনবিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে পারে।সেটা আখেরে দেশ এবং সেনাবাহিনী উভয়ের জন্য মংগলজনক হবে।
অধস্তনের হাতে অপদস্ত হওয়ার অপমানবোধ সবারই আছে।শুধু সেনাবাহিনীর দোষ দিয়ে লাভ নেই।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
অধস্তনের হাতে অপদস্ত হওয়ার অপমানবোধ সবারই আছে, কিন্তু তার জবাব দেবার ক্ষমতা শুধু সেনাবাহিনীর আছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিবিএ নেতাদের দ্বারা কর্মকর্তারা প্রায়ই লাঞ্ছিত হন (যেমন হয়েছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহমদ)। কিন্তু তাদের কিছু করার থাকে না।
তক্ষক বলেছেন:
শোকের দহনে স্বাভাবিক চিন্তাবিচ্যুত হয়ে একজন যখন বললেন তিনি তার স্বামীকে যেভাবে মারা হয়েছে বিডিআরদের সেভাবেই হত্যা করা হোক, এ টিথ ফর টিথ, এন আই ফর এন আই, প্রতিহিংসা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম-শোকের সময়ের তীব্র অনুভুতির জন্য ক্ষমা করে দেবেন আশা করি।
সত্যান্বেষী বলেছেন:
পায়ের তলায় পিষ্ট মানুষের জন্য এতটা মমত্ববোধ সবার থাকে না। আমি অভিভূত। সেই সাথে প্রিয়তে।
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন:
+প্রতিটি অমানবিক মৃত্যুর বিচার চাই।
সেই সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গঠনতন্ত্র এবং ঔপননিবেশিক মনোভাবের পরিবর্তন চাই।
রুখসানা তাজীন বলেছেন:
ভালো লাগলো লেখাটা।
রাজনীতির হীন আচরন বোঝার ক্ষমতা ওদের কোথা থেকে হবে, ওরাত আমাদএর মত মোটামোটা বই পড়েনি। ওরা তো জানে না, কি করে শয়তানদের হাত থেকে বাচতে হয়। জানে না, কখন পাষন্ড কাকেরা ওদের ব্যবহার করে শয়ে শয়ে মানুষ।ওরা জাতির কলন্ক।
ওদের কোন ক্ষোভ থাকতে পারে না। বর্ডারে প্রতিদিন একজন করে মারা গেলেও পেপারে আসে না। কারন ওরা মানুষ নয়! ওরা কে? ওদের কি কোন অবদান আছে দেশের প্রতি? ২নড গ্রেডেড মানুষ ওরা।
কিন্তু তারপরও কেনজানি ওদের সাথে নিজের মিল খুব খুজে পাই। ওরা বেচে শরীরের ঘাম, রক্ত আর আমি বেচি মাথা! আর্মীদের জন্য আমারও বুক খামচে ওঠে। ওরাও ত মানুষ। তবুও ওদের পরিবার এক কোটি করে টাকা পাবে, ফ্লাট পাবে।ওদের সন্তানরা পড়াশুনার সুযোগ পাবে। কিন্তু ঐ বিডিআরের পরিবার, যারা গ্রামে থাকে, ঘোমটা খুলে আকাশ দেখে না, তাদের নোংরা সন্তানগুলোর কি হবে কেও কি জানে ?
হ্যা, ওরা হবে, টোকাই। ওরে হবে হিরোইন্চী। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়ার সুযোগও হয়ত ওদের আর হবে না। অভাবের সংসারে ঐ সন্তানদের মা কি করবে তার কুলকিনারা হবে না। ওদের ঘরে আগামী একমাস পর হাড়ি জ্বলবে কিনা জানি না। ঐ বিডিআরের বৃদ্ধা মা বাবার আর চিকিৎসা হবে কিনা জানি না। মহাজনের সুদের টাকা বাড়তে বাড়তে হয়ত বাড়িঘর যা আছে সব যাবে!
ধুত! ওরা কে ! ওদের জন্য আমরা ভাবব কেন? ওরা হল খুনি! ওদের পরিবারও খুনি! ওদের ৩ মাসের বাচ্চাও খুনি! ওদের বৃদ্ধা বাবা মাও খুনি! খুনিদের না খেতে মারা যাওয়াই তো ভাল!
আমরা নতুন প্লাজমা টেলিভিশন কিনব! মার্সিডিজ গাড়িটার বুকিংও দেয়া হয়ে গেছে! আমরা মহান! আমরা দেশপ্রেমিক! আমরা জাতির প্রান!
কৌশিক বলেছেন:
যার যতটুকু প্রাপ্য ঠিক ততটুকুই দেওয়ার বোধ কবে হবে বাংলাদেশের মিডিয়ার?
"তাদেরও পরিবার আছে, তারাও এই হতয়ার বিচার চাইতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র কি তাদেরও একই রকম সুবিধা দিতে বদ্ধ পরিকর?"
সিভিলিয়ান যে তিনজন মারা গেছেন তাদের কথাও ভোলা চলবেনা
লেখক বলেছেন: সাউথ ইস্ট ব্যাংক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে তারা ১০ জন সেনাসদস্যের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা বাবদ প্রতি মাসে ২৫ হাজার করে টাকা প্রদান করবে। প্রতি বছর ১০ টি সেনাসদস্যের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাবাবদ খরচ হবে ৩০ লক্ষ টাকা। তবে এটাই প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা।
বাবুআনা বলেছেন:
মন যা চায়.....তাই আমরা লিখা শুরু করেছি................
শুদ্ব গনতন্ত চর্চা যা বলি আমরা.................
চান্স পেয়ে কেউ কেউ ভালই ডান্স মারছে .........
দারুন দারুন!!!
আতেল সকলতে সুশীল সমাজের সাধুবাদ জানাই........!!!
আইরিন সুলতানা বলেছেন:
এতো শোকের কারণে অনেক কঠিন কথা বলতে গেলে বিবেক হীন লাগে...তারপরও.....এতো শোকের মাঝে.....হত্যাকারীদের বিচাররের দাবির মুখে থেকেও যে কথাগুলো ভুলে যাওয়া যাবে না তা হলে....অভিযোগ কিন্তু উঠেছেই ...এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে হবে...
অনেক সেনা সদস্য যেমন মারা গেছে তেমনি মারা গেছে স্বল্প সংখ্যাক সাধারণ মানুষও .... এদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ।
সরকার থেকে ইতিমধ্যে আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হয়েছে নিহত সেনাসদস্যদের পরিবারের জন্য ...এমনি ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার স্বাভাবিকতা বজায় রাখতেও ব্যবস্থা নেয়া হবে ...সম্ভবত সেনাবাহিনী থেকেও প্রতিটি পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষনা দেয়া হয় ....
এরপরেও গতকাল সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিক্ষুব্ধ সেনাদের বিভিন্ন ক্ষোভ প্রকাশের মাঝে ক্ষতিপূর্ণ মোতাবেক নগদ ১ কোটি টাকা, একটি করে ফ্ল্যাট বা প্লট, পূর্ণ পেনশনের সুবিধা দাবিগুলোর মধ্য রাজকীয়তা চোখে পরে সামান্য...
আই লাভ ব্লগিং বলেছেন:
ভালো লাগল। লেখাটা স্টিকি করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
রাজর্ষী বলেছেন:
সহমত। সেনাবাহিনীর উচিৎ যারা এই বিদ্রোহের নীলনকশা প্রনয়ন করেছে তাদেরকে ধরে প্রতিশোধ নেয়া। বিডিআর জোওয়ানরা তো ব্যাবহৃত হয়েছে। আসল কুশিলবদের খোজ করলে দেখা যাবে তাদের মত এলিট ক্ষমতাধর অথবা আর্মি অফিসার কেউ জড়িত। তাদের তো কিছু করতে পারবেনা তাই গরীব বিডিআরদের উপর হাদুমপাদুম করে।
জেরী বলেছেন:
কৌশিক বলেছেন: যার যতটুকু প্রাপ্য ঠিক ততটুকুই দেওয়ার বোধ কবে হবে বাংলাদেশের মিডিয়ার?
সামুরাই বলেছেন:
হুমমমমম
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
শান্তিতে বাচতে চাই, শান্তিতে মরতে চাই। সবাই শান্তিতে বাচুক, শান্তিতে মরুক। অস্বাভাবিক মৃত্যুর সিসমিক ওয়েভটা থামুক
তর্পন বলেছেন:
সাম্প্রতিক বিডিআর এর বিদ্রোহে যে সকল কর্মকর্তা মারা গেছেন তাদের কে বারবার আর্মী অফিসার বললেও তারা বিডিআর এর সার্ভিসরত অফিসার হিসাবে নিহত । সুতরাং সেনা কর্মকর্তা বনাম বিডিআর বলে মিডিয়া যে দুইটি ভাগ করছে সেটা বিরাট ভুল । সঠিক হবে বিডিআর কর্মকর্তা বনাম সৈনিক ।আসলে এই ভাগটাও সঠিক নয় । বিডিআর এর কাঠামোতে কর্মকর্তা আর সৈনিক অবিচ্ছদ্য অংশ । মিডিয়াগুলো এমন ভাবে প্রচার করছে যেন দরিদ্র অষ্টম শ্রেণীর অর্ধশিক্ষিত অচ্ছুত্ ঘাতক এবং খুনী সৈনিকরা হল বিডিআর আর যারা দেশপ্রেমিক অভিজাত সামরিক কর্ণেল/ব্রিগেডিয়ারদের বাহিনী হল সেনা বাহিনী ।
আজকে চ্যানেল আইতে সংবাদপত্র পর্যালোচনা দেখছিলাম । আসিফ নজরুল নামে একজন আইনের শিক্ষক আছেন । যাকে (কিছু মনে করবেন না) ক্যাঙ্গারু বুদ্ধিজীবি বললে ভুল হবে না । তিনি দেখি যুক্তি দিচ্ছেন যে বিডিআর এর নাম বদলাতে হবে (কারণ বিডিআর শুনলে মনে হয় খুনী সৈনিক দের সংস্হা ) ।
কিন্তু তার জানা না থাকার কথা না । সাতটি বীর শ্রেষ্ঠের দুইজন সৈনিক হল বিডিআর এর । আর্মীর ইতিহাস খুঁড়লে বের হবে স্বজাতির হাতে নিহত জিয়ার পলিমাখা কংকাল, জেনারেল মঞ্জুর বীরোত্তমের ঝাঝরা দেহ, তার আগে ক্ষমতা লোভী সেই জিয়ার হাতে নির্বিচারে নিহত ১৩ জন কর্মকর্তার লাশ , শেখ মুজিব এবং তার পরিবার । কই কেউ তো বলে নি সেনার গায়ে লাশের গন্ধ? তবে কেন একটি ঘটনায় লাশের দায় ঘাড়ে নিয়ে বিডিআর এর নাম বদলাতে হবে ।
আমি মনে করি হুজগে বা বিশ্বাস প্রবণ বাঙালীকে বিপথে নেয় এরকম চরিত্রহীন বুদ্ধিজীবী শ্রেনীর প্রভাব ।এই লোক গুলো্ই কয়েকদিন আগে প্রধান মন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছে রাজনৈতিক ভাবে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য । আজ যখন খবরের পাতায় স্ট্যানটবাজ এরশাদ কমেন্ট করে যে ২০ মিনিটের সামরিক একশন হলে প্রাণ বাঁচানো যেত ।সুতরাং শেখ হাসিনা ব্যর্থ । তখন আসিফ কী বলছেন জানেন? বলেছেন এরশাদ যেহেতু সামরিক অভিজ্ঞ লোক । সুতরাং তার কথাই সম্ভবত: সঠিক ।
বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া সংকটের শুরুতে ঠিক থাকলেও পুরনো ফর্মে ফিরে এসেছেন ।আর্মী একশন কেন হল না এমন বক্তব্য দিয়ে মিডিয়াতে তেনা প্যাচানো শুরু করেছেন । কিন্তু আশ্চর্য হলাম তার দলের একসময়ের মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক লে: জে: মীর শওকতের একটি সাক্ষাত্কারে বলছেন অন্য কথা। তার কিছু স্পস্ট বক্তব্য খুব যুক্তি সঙ্গত মনে হয়েছে । তিনি যুক্তি দিয়েছেন,
১. এই হত্যাকান্ড কাজ কোন ভাবেই বিডিআর এর কোন সেনার কাজ নয়। হতে পারে না । কারণ তিনি কাছে থেকে দেখেছেন বিডিআর সৈনিকেরা তাদের অফিসারদের দিকে কতটা অনুগত।
২. তার মতে সকাল ৯ টা থেকে ১১ টার মধ্যে একটি বহিরাগত মুখোস ধারী লোক এই কাজের শুরু করেছে । বিদ্রোহী হলে মুখোস পরার কথা না । মুখোসের কারণ হল যাতে বিডিআর সেনারাই যাতে তাদের না চিনতে পারে ।
৩. এই মুখোস ধারীরা সংখ্যায় কোন ভাবেই ৮/১০ জনের বেশী না ।তবে এদের হয়তো অস্ত্র চালনায় ভাল প্রশিক্ষন ছিল এবং পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের ।
৪. এরা হয়তো এর আগে এদের কিছু এজেন্ট ডালভাত কর্মসুচির নামে সেনাদের ক্ষেপিয়ে তুলেছিল ।কিন্তু এই সৈনিকরা অফিসারদের হত্যার কিছু কখনই ভাবে নি ।
৫. এই মুখোসধারী বহিরাগতরা শুরুতে অস্ত্র সাপ্লাই করেছে । বাধ্য করেছে অংশ নিতে । অস্ত্রাগার লুন্ঠনে নেতৃত্ব দিয়েছে । পরিকল্পনা মত প্রায় সকল অফিসার কে মেরে ১১ টার মধ্যে কাজ শেষ করে পুরো জিনিসে বিডিআর সেনাদের ঘাড়ে ফেলে পালিয়ে গেছে । যারা করেছে তাদের সনাক্ত করা খুবই কঠিন হবে বলে মীর শওকত মনে করেন।
যদি এটি সত্যি হয় তবে সেই বিডিআর সেনাদেরকে কোন তদন্তের আগে অপরাধী করা কী উচিত্ হয়েছে? কে জানে এটি হয়তো উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার মত অন্যায় হবে ।দু:খ জনক হলেও সত্যি সৈনিকদের মৃতদেহের ছবি ইমেইলে ঘুরে বেড়াবে না ।এরা শুধু বিশ্বাস ঘাতক মীর জাফর বলে গালি খাবে । রাগীব ভাইয়ের মত শ্রদ্ধেয় ব্লগার দের দেখেছি বিডিআরের সৈনিকদের অভিযুক্ত করে কুকুর বলে গালি দিতে ।
যা হোক সেনাবাহিনী আপাত দৃষ্টিতে সরকার কে বাইপাস করে তাদের মত দেশ চালানো শুরু করেছে । গত কয়দিনে খবরের আপডেট কমে গেছে । অপারেশন ডালভাত সহ নানান দুর্ণীতির দায় ঢাকতে দৃর্ণীতি চক্রটি কী টিভি চ্যানেল গুলোর নিউজ মডারেশন শুরু করেছে?
Click This Link
কোন তদন্তের আগে অপারেশন রেবেল হান্ট শুরু হয়েছে । তার মানে কোন তদন্ত রিপোর্টের আগে সেনা কর্মকর্তারা ঘোষনা দিয়ে ফেলেছেন কে রেবেল।এবং হরিণ শিকার করার মত হান্টিং হবে বিদ্রোহীরা । কী চমত্কার।
এক বয়স্ক বিডিআর সৈনিকের ছবি দেখছিলাম ব্লগের পাতায় ।২০ টি বছর প্রভুভক্ত ভৃত্যের মত সৈনিকের কাজ করেছে । সে মাথা নত করে বসে আছে । জানেনা বেতন পাবে কিনা । কারণ আগে অনেক রেবেল হান্টের লিটমাস প্যাপারে দেখা হবে সে পাপী কিনা । হয়তো এর আগে প্রধান মন্ত্রী এক কোটি টাকার বিল পাশ করবেন প্রতিটি সেনা কর্মকর্তাদের জন্য ।
নারিকেল-জিন্জিরা বলেছেন:
কৌশিক বলেছেন: যার যতটুকু প্রাপ্য ঠিক ততটুকুই দেওয়ার বোধ কবে হবে বাংলাদেশের মিডিয়ার?
অরণ্য আনাম বলেছেন:
হত্যা-সেটা যাই হোক, কাম্য নয়। তবে, সামরিক বাহিনীতে সবচেয়ে বড় বিচারের নামে গণহত্যা হয়েছিল "জিয়া"-র শাসন আমলে। তাতে ১১শ -১৪শ সৈনিক-কে হত্যা করা হয়।
স্বপ্নশিকারী বলেছেন:
আমি স্বীকার করি বিডিআর এর কাজ এটা না।বাইরে থেকে কেউ বা কারা এসে এই কাজটি করেছে।কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো,তোমার সামনে তোমার ভাইকে তোমার সহযোগীতায় এভাবে মেরে ফেললো।এদের কে কি কেউ ভাই বলে?আর যদি , আর্মি অফিসার রা প্রতিহিংসা না কোরটে পারে ।
তাহলে আমি এই রাজাকার নিধনের জন্য এি গনস্বাক্ষর, দাবী এগুলাও বন্ধ করা উচিত। কারন
২৫শে মার্চ আর ২৫ শে ফেব্রুয়ারীর মধ্যে শুধু মৃতের সংখ্যারই পার্থক্য আছে।
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন:
প্রতিটি অমানবিক মৃত্যুর বিচার চাই।
বাবু>বাবুয়া>বাবুই বলেছেন:
নিহত তিন জন বেসামরীক নাগরিকের পরিবারকেও একই সুবিধা দেওয়ার জোর দাবী জানাই। একটু ভিন্নভাবে দেখলে, যে সব সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন তাদের কর্ম দক্ষতা নিয়ে সন্দেহ হয়। একজন কর্মকর্তা যখন তার অধঃস্তন কর্মীদের ষড়যন্ত্রের খবর রাখেন না তার বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ আনা যেতে পারে। দেশের প্রতিরক্ষার কাজে যারা নিয়োজিত তারা নিজেদেরকেই নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হয়েছে। বিডিআর এ বদলী নিয়ে সামরিক বাহীনিতে যে টাকার খেলা হয় তা সর্বজন বিদিত। অর্থ প্রতিপত্তি নিয়ে যারা ব্যাস্ত তারা দেশের প্রতিরক্ষায় কতটুকু সময় খরচ করেছে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।
পক্ষান্তরে ঐ তিন জন বেসামরিক নাগরিক এর কোনই সম্পর্ক নেই এই হত্যা কান্ডের সাথে বরং তার ট্যাক্সের টাকায় কেনা অস্ত্রেই তাকে মরতে হয়েছে তাদের হাতে যারা তার নিরাপত্তা বিধানে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ।
কাজেই সেনাবাহিনী অপেক্ষা তাদের প্রতি বেশী সহনাভুতিশীল হওয়া উচিত। সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষের এই তিন জন বেসামরিক নাগরিক সম্পর্কে বক্তব্য থাকা উচিত ছিল।
টানিম বলেছেন:
আমার পোস্টা একবার দেখবেন??????????????
তাসমান বলেছেন:
তর্পন বলেছেন: সাম্প্রতিক বিডিআর এর বিদ্রোহে যে সকল কর্মকর্তা মারা গেছেন তাদের কে বারবার আর্মী অফিসার বললেও তারা বিডিআর এর সার্ভিসরত অফিসার হিসাবে নিহত । সুতরাং সেনা কর্মকর্তা বনাম বিডিআর বলে মিডিয়া যে দুইটি ভাগ করছে সেটা বিরাট ভুল । সঠিক হবে বিডিআর কর্মকর্তা বনাম সৈনিক ।আসলে এই ভাগটাও সঠিক নয় । বিডিআর এর কাঠামোতে কর্মকর্তা আর সৈনিক অবিচ্ছদ্য অংশ । মিডিয়াগুলো এমন ভাবে প্রচার করছে যেন দরিদ্র অষ্টম শ্রেণীর অর্ধশিক্ষিত অচ্ছুত্ ঘাতক এবং খুনী সৈনিকরা হল বিডিআর আর যারা দেশপ্রেমিক অভিজাত সামরিক কর্ণেল/ব্রিগেডিয়ারদের বাহিনী হল সেনা বাহিনী ।
আজকে চ্যানেল আইতে সংবাদপত্র পর্যালোচনা দেখছিলাম । আসিফ নজরুল নামে একজন আইনের শিক্ষক আছেন । যাকে (কিছু মনে করবেন না) ক্যাঙ্গারু বুদ্ধিজীবি বললে ভুল হবে না । তিনি দেখি যুক্তি দিচ্ছেন যে বিডিআর এর নাম বদলাতে হবে (কারণ বিডিআর শুনলে মনে হয় খুনী সৈনিক দের সংস্হা ) ।
কিন্তু তার জানা না থাকার কথা না । সাতটি বীর শ্রেষ্ঠের দুইজন সৈনিক হল বিডিআর এর । আর্মীর ইতিহাস খুঁড়লে বের হবে স্বজাতির হাতে নিহত জিয়ার পলিমাখা কংকাল, জেনারেল মঞ্জুর বীরোত্তমের ঝাঝরা দেহ, তার আগে ক্ষমতা লোভী সেই জিয়ার হাতে নির্বিচারে নিহত ১৩ জন কর্মকর্তার লাশ , শেখ মুজিব এবং তার পরিবার । কই কেউ তো বলে নি সেনার গায়ে লাশের গন্ধ? তবে কেন একটি ঘটনায় লাশের দায় ঘাড়ে নিয়ে বিডিআর এর নাম বদলাতে হবে ।
আমি মনে করি হুজগে বা বিশ্বাস প্রবণ বাঙালীকে বিপথে নেয় এরকম চরিত্রহীন বুদ্ধিজীবী শ্রেনীর প্রভাব ।এই লোক গুলো্ই কয়েকদিন আগে প্রধান মন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছে রাজনৈতিক ভাবে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য । আজ যখন খবরের পাতায় স্ট্যানটবাজ এরশাদ কমেন্ট করে যে ২০ মিনিটের সামরিক একশন হলে প্রাণ বাঁচানো যেত ।সুতরাং শেখ হাসিনা ব্যর্থ । তখন আসিফ কী বলছেন জানেন? বলেছেন এরশাদ যেহেতু সামরিক অভিজ্ঞ লোক । সুতরাং তার কথাই সম্ভবত: সঠিক ।
বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া সংকটের শুরুতে ঠিক থাকলেও পুরনো ফর্মে ফিরে এসেছেন ।আর্মী একশন কেন হল না এমন বক্তব্য দিয়ে মিডিয়াতে তেনা প্যাচানো শুরু করেছেন । কিন্তু আশ্চর্য হলাম তার দলের একসময়ের মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক লে: জে: মীর শওকতের একটি সাক্ষাত্কারে বলছেন অন্য কথা। তার কিছু স্পস্ট বক্তব্য খুব যুক্তি সঙ্গত মনে হয়েছে । তিনি যুক্তি দিয়েছেন,
১. এই হত্যাকান্ড কাজ কোন ভাবেই বিডিআর এর কোন সেনার কাজ নয়। হতে পারে না । কারণ তিনি কাছে থেকে দেখেছেন বিডিআর সৈনিকেরা তাদের অফিসারদের দিকে কতটা অনুগত।
২. তার মতে সকাল ৯ টা থেকে ১১ টার মধ্যে একটি বহিরাগত মুখোস ধারী লোক এই কাজের শুরু করেছে । বিদ্রোহী হলে মুখোস পরার কথা না । মুখোসের কারণ হল যাতে বিডিআর সেনারাই যাতে তাদের না চিনতে পারে ।
৩. এই মুখোস ধারীরা সংখ্যায় কোন ভাবেই ৮/১০ জনের বেশী না ।তবে এদের হয়তো অস্ত্র চালনায় ভাল প্রশিক্ষন ছিল এবং পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের ।
৪. এরা হয়তো এর আগে এদের কিছু এজেন্ট ডালভাত কর্মসুচির নামে সেনাদের ক্ষেপিয়ে তুলেছিল ।কিন্তু এই সৈনিকরা অফিসারদের হত্যার কিছু কখনই ভাবে নি ।
৫. এই মুখোসধারী বহিরাগতরা শুরুতে অস্ত্র সাপ্লাই করেছে । বাধ্য করেছে অংশ নিতে । অস্ত্রাগার লুন্ঠনে নেতৃত্ব দিয়েছে । পরিকল্পনা মত প্রায় সকল অফিসার কে মেরে ১১ টার মধ্যে কাজ শেষ করে পুরো জিনিসে বিডিআর সেনাদের ঘাড়ে ফেলে পালিয়ে গেছে । যারা করেছে তাদের সনাক্ত করা খুবই কঠিন হবে বলে মীর শওকত মনে করেন।
যদি এটি সত্যি হয় তবে সেই বিডিআর সেনাদেরকে কোন তদন্তের আগে অপরাধী করা কী উচিত্ হয়েছে? কে জানে এটি হয়তো উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার মত অন্যায় হবে ।দু:খ জনক হলেও সত্যি সৈনিকদের মৃতদেহের ছবি ইমেইলে ঘুরে বেড়াবে না ।এরা শুধু বিশ্বাস ঘাতক মীর জাফর বলে গালি খাবে । রাগীব ভাইয়ের মত শ্রদ্ধেয় ব্লগার দের দেখেছি বিডিআরের সৈনিকদের অভিযুক্ত করে কুকুর বলে গালি দিতে ।
যা হোক সেনাবাহিনী আপাত দৃষ্টিতে সরকার কে বাইপাস করে তাদের মত দেশ চালানো শুরু করেছে । গত কয়দিনে খবরের আপডেট কমে গেছে । অপারেশন ডালভাত সহ নানান দুর্ণীতির দায় ঢাকতে দৃর্ণীতি চক্রটি কী টিভি চ্যানেল গুলোর নিউজ মডারেশন শুরু করেছে?
Click This Link
কোন তদন্তের আগে অপারেশন রেবেল হান্ট শুরু হয়েছে । তার মানে কোন তদন্ত রিপোর্টের আগে সেনা কর্মকর্তারা ঘোষনা দিয়ে ফেলেছেন কে রেবেল।এবং হরিণ শিকার করার মত হান্টিং হবে বিদ্রোহীরা । কী চমত্কার।
এক বয়স্ক বিডিআর সৈনিকের ছবি দেখছিলাম ব্লগের পাতায় ।২০ টি বছর প্রভুভক্ত ভৃত্যের মত সৈনিকের কাজ করেছে । সে মাথা নত করে বসে আছে । জানেনা বেতন পাবে কিনা । কারণ আগে অনেক রেবেল হান্টের লিটমাস প্যাপারে দেখা হবে সে পাপী কিনা । হয়তো এর আগে প্রধান মন্ত্রী এক কোটি টাকার বিল পাশ করবেন প্রতিটি সেনা কর্মকর্তাদের জন্য ।
সম্পুর্ন একমত।এই মন্তব্যে +
তর্পন বলেছেন:
@তাসমান, ধন্যবাদ
মিডিয়া কি করবে? হাত পা তো বাধা!!!
হাত পা খুলতে গেলেই যে বন্ধ হতে হয়, বন্ধ হয়ে যায় একটা ব্যাবসা, বন্ধ হয়ে যায় শত শত কর্মীর জীবিকা। এমনকি বন্ধ হয়ে যায় একজন মিডিয়ার মালিকের সমাজকে কিছু বলার সুযোগ। এই সত্যটাও কি সাধারণ মানুষ অনুধাবন করবে না!
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন:
ভালো লাগলো লেখাটা।
সোহানী বলেছেন:
তর্পন এর সাথে সর্ম্পূন একমত।
শিট সুজি বলেছেন:
খুব ভাল লাগল আপনার পোস্টটি । হতভাগ্য বিডিআর সৈনিকদের কথা কেউ ভেবে দেখছে না। বাংলাদেশের মিডিয়াগুলার পল্টিবাজি দেখলাম । সব মাকাল ফল ।
সালমা শহীদ বলেছেন:
চমৎকার পোষ্ট। একশ ভাগ সহমত।
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
কান্না সংক্রামক, বীভৎসতা খুব সহজেই আমাদের স্বাভাবিক চৈতন্যকে স্তব্ধ করে দেয়, এবং আমরা আমাদের সহজাত যুক্তিবোধ হারিয়ে ফেলি।এই লাইনগুলোই গততিন দিনে আমাদের মানুষদের আবেগে প্রতিফলিত।
তবে হয়ত তা আবার পরিবর্তিত হবে।
আপনার পোষ্টের সাথে ভীষন ভাবে একমত।
রাষ্ট্র সবার জন্য সমান এ কথা বিশ্বাস করাটা আমাদের এখন ভীষন দরকার। যদিও তার কোন আশাপ্রদ চিহ্ন কোথাও দেখতে পাচ্ছি না। বরং উল্টোটাই চারিদিকে অসহ্যভাবে প্রকট।
আব্দুলকুদ্দুসমদন বলেছেন:
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: কান্না সংক্রামক, বীভৎসতা খুব সহজেই আমাদের স্বাভাবিক চৈতন্যকে স্তব্ধ করে দেয়, এবং আমরা আমাদের সহজাত যুক্তিবোধ হারিয়ে ফেলি।এই লাইনগুলোই গততিন দিনে আমাদের মানুষদের আবেগে প্রতিফলিত।
তবে হয়ত তা আবার পরিবর্তিত হবে।
আপনার পোষ্টের সাথে ভীষন ভাবে একমত।
রাষ্ট্র সবার জন্য সমান এ কথা বিশ্বাস করাটা আমাদের এখন ভীষন দরকার। যদিও তার কোন আশাপ্রদ চিহ্ন কোথাও দেখতে পাচ্ছি না। বরং উল্টোটাই চারিদিকে অসহ্যভাবে প্রকট।
আর তার সমাধানও করতে হবে। বিচার বহির্ভূত হত্যা কোন ভাবেই কাম্য নয়।
মিডিয়ার প্রচারানুসারে জনগণের মতের পরিবর্তন হয়। কে যে কখন মিডিয়ার হিরো তা বোঝার উপায় নেই(সম্ভবত তারা নিজেরাও জানে না)। সরকারকে তেমনি ঘন ঘন মত বদলালে চলবে না।
প্রত্যেক বাহিনীকে নিজ নিজ কাজেই থাকতে দেওয়া উচিৎ। বিডিআরের কাজ সীমান্ত রক্ষা, তাকে দিয়ে বছরের পর বছর অপারেশন ডাল-ভাত চলিয়ে যাওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি RAB, কোবরা, অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে অভ্যন্তরীন সন্ত্রাস নির্মূলের কাজে বছরের পর বছর আর্মি লাগিয়ে রাখা ঠিক নয়। কারন তারা প্রশিক্ষণ পেয়েছে নিজের কাজে পারদর্শী হবার জন্য। অন্য কোন কিছুতে তারা আনাড়ি হতেই পারে। তাইতো নিজের দেশের মানুষের সাথে ব্যবহার আর শত্রূ সৈনিকদের সাথে করা আচরণ তারা মাঝে মাঝেই গুলিয়ে ফেলে।
তবে জরুরী প্রয়োজনে(রাজনৈতিক বা প্রাকৃতিক দূর্যোগ) তাদেরকে স্বল্প সময়ের জন্য মাঠে নামানোতে তেমন দোষ নেই। তত্বাবধায়ক সরকারকে প্রথমে মানুষ ভাল ভাবেই নিয়েছিল, কিন্তু দুই বছরের দীর্ঘ শাসনকালে তাদের কাজে অধিকাংশ জনগণই নাখোশ হয়েছে।
আর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পদ এভাবে ধীরে ধীরে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দিতে থাকলে কিছুদিন পর তা রাজনৈতিক দলীয়করনের মত হয়ে যাবে।
সেনাবাহিনীর সদস্যদের সবজান্তা ভাবার কারন নেই। সুযোগ সুবিধা পেলে পুলিশও সন্ত্রাস নির্মূল করতে পারবে, আর ভাল ভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করলে জিনিসপত্রের দামও সাধারণের ক্রয়সীমার মধ্যে থাকবে(আর্মি, বিডিআর লাগবে না)।
রাখালবালক বলেছেন:
শতোভাগ একমত। পরশু যারা হিরো ছিলো আজ তারা সাধারণ মানুষের ঘৃনার পাত্র। আশ্চর্য এই বাঙ্গালী চরিত্র !নিহত সকল আর্মি এবং বিডিআর জওয়ানদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। সকল হত্যার বিচার হোক......
কাদামাটি বলেছেন:
শতভাগ একমত।
দিবাচর বলেছেন:
ঠিক কথা
সাজিল বলেছেন:
সহমত।
মজিদ বিশ্বাস বলেছেন:
৯০% ই মেধার ভিত্তিতে পদন্নতি পায়। এছারা আরো অনকে গুন থাকলেই কেউ মেজর, কর্নেল হতে পারে। যে ঘটনার জওয়ানরা ঘটিয়েছে এই অভাব পূরণ হতে এদেশেল বিশ বছরের বেশি সময় লাগবে।
সচেতন বলেছেন:
২৩. তর্পন বলেছেন: সাম্প্রতিক বিডিআর এর বিদ্রোহে যে সকল কর্মকর্তা মারা গেছেন তাদের কে বারবার আর্মী অফিসার বললেও তারা বিডিআর এর সার্ভিসরত অফিসার হিসাবে নিহত । সুতরাং সেনা কর্মকর্তা বনাম বিডিআর বলে মিডিয়া যে দুইটি ভাগ করছে সেটা বিরাট ভুল । সঠিক হবে বিডিআর কর্মকর্তা বনাম সৈনিক ।সচেতন: আমিও শুরু থেকে এটাই অনেককে বোঝাবার চেষ্টা করেছি। মিডিয়ার মতো একটি মাধ্যমও এই বিশাল ভুলটি করছে।
৪০. রাখালবালক বলেছেন: ...নিহত সকল আর্মি এবং বিডিআর জওয়ানদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।...
সচেতন: খুশি হলাম যে আপনি উভয় পক্ষের নিহতদের শান্তি কামনা করেছেন।
৪৪. মজিদ বিশ্বাস বলেছেন: ...যে ঘটনার জওয়ানরা ঘটিয়েছে...
সচেতন: আপনি নিশ্চিত যে জওয়ানরাই করেছে?
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন:
ভালো লিখেছেন। নিরপেক্ষ বিচার করলেই হয় এখন।
কুমিল্লার পোলা বলেছেন:
চমৎকার লেখা।আপনাকে ধন্যবাদ।
মাদারি বলেছেন:
@অপবাক চমৎকার লিখেছেন।
@ আহসান হাবিব শিমুল
"অধস্তনের হাতে অপদস্ত হওয়ার অপমানবোধ সবারই আছে।শুধু সেনাবাহিনীর দোষ দিয়ে লাভ নেই"
আর উর্ধ:তন এর হাতে নিয়মিত অপদস্ত বা নির্যাতিত হওয়ার বুঝি কোন অপমান বোধ নেই!!!
লেখক বলেছেন: যেমন মহানুভব লা হচ্ছে শাকিলকে আদতে তেমন মহানুভব আচরণ কি করেছিলো শাকিল?
তার পোষা কুকুরকে নিয়ে বৈকালিক ভ্রমনে বের হওয়ার সময় তিনি যে রাস্তা দিয়ে হাঁটতেন সে রাস্তার সকল বিডিআর সদস্যদের নিজের বাদ দিয়ে এটেনশন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, যদি বিডিআরগণ কুকুরের বৈকালিক ভ্রমনের সময়ও নিজের কাজে মগ্ন থাকে সেটা শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধের সামিল হয়ে যেতো।
যদিও বিডিআর গেটে লিখিত আছে এই পিলখানার ভেতরে গাড়ীর সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ২০ কিমি প্রতি ঘন্টা, তবে শালিক এসে নিয়ম করেছিলেন সেখানে গাড়ীর সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে হবে ১০ কিমি'র কম।
তিনি পিলখানাকে নিজের ক্ষুদ্র জমিদারি মনে করে যখন যা ইচ্ছা নির্বাহী আদেশ প্রদান করেছেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তিনি অধীনস্ত বিডিআর সদস্যদের সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করতেন এবং তার এই জমিদারসুলভ মানসিকতার প্রভাবেই তার পরিবারের সদস্যগণও একই রকম অমাজিত আচরণ করতো বিডিআর সদস্যদের সাথে।
অবশ্য পরিবারের প্রধান যেমন আচরণ করবেন তার অধিনস্তরাও একই আচরণ শিখবে, তার পরিবারের শিশু সন্তান যখন তাদের গৃহকর্মে নিযুক্ত বিডিআর জাওয়ানকে যাচ্ছে তাই ভাষায় গালি দেয়, তখন বাস্তবতাবোধ লুপ্ত হয়েই এই আচরণ করে, তবে শাকিল সাহেব কি নিজের পরিবারের এই অমার্জিত আচরণের বিরুদ্ধে কিছু বলেছেন?
তিনি এটাকে বাধা প্রদান করেন নি।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
গুটিকয় খুনীকে দিয়ে এ ম্যাসাকার যারা ঘটিয়েছে; তাদের বিরাট কোনো উদ্দেশ্য ছিলো। এখানে বিডিআরের বঞ্চনা-ফঞ্চনার কথা বলে কোনো লাভ নেই। প্রথম দিকে আমিও বিডিআরের বিদ্রোহ মনে করেছিলাম। এখন স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে এটা কোনো বিদ্রোহ নয়; পরিকল্পিত গনহত্যা। সেনাবাহিনীর যতোগুলো অফিসার প্রান হারিয়েছেন, তারা সবাই কি ডিজঅনেষ্ট ছিলেন? মৃতদের মধ্যে মেডিকেল অফিসারও তো ছিলেন; তারা কি দূর্নীতি করেছিলেন?
তাদের পরিবার কি দোষ করেছিলো?
এতোবড়ো আঘাতের পর সেনাবাহিনীর মতো একটি স্কিলড প্রতিষ্ঠান এখনো পর্যন্ত কোনো রকমের আক্রোশ দেখায়নি। পৃথিবীর আর কোনো দেশের সেনাবাহিনী এতোটা ধৈর্য্যের পরিচয় দেবে বলে আমার মন হয়না। আক্রমনের পর সরকারি নির্দেশে ভেতরে ঢুকেনি তারা। নিজেদের এতোগুলো অফিসার ভেতরে আছে জানার পরও।
পাকিস্থানী হানাদাররাও এতোবড়ো ক্ষতি করতে পারেনি আমাদের। দেশীয় খুনিরা যা করে দেখালো; তার নজির পৃথিবীর আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই।
বিডিআরের গরীব জওয়ানদের জন্য আমার সহানুভূতি আছে ঠিকই; কিন্তু বিদ্রোহের নামে ব্যাপক গনহত্যা যারা চালালো আমি তাদের ফায়ারিং স্কোয়াড চাই।
লেখক বলেছেন: যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার সবাই চাইছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা যা দাবি করবে সেটাই তাদের দিয়ে দিতে হবে। অবুঝ শিশু যদি চাঁদের বায়না ধরে, তাকেও এটা বুঝিয়ে দেয় বাবা মা চাঁদ ধরা সহজ নয়, কিন্তু একদল বয়স্ক শিশু অযাচিত দাবি জানালেও তাদের সরকার বলতে পারছে না আপনার সংযত আচরণ করুন।
মাবরুকা তোয়াহা বলেছেন:
প্রিয়তে থাকবে । সুন্দর লিখেছেন।
মাদারি বলেছেন:
এরশাদ বাদশা বলেছেন:"প্রথম দিকে আমিও বিডিআরের বিদ্রোহ মনে করেছিলাম। এখন স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে এটা কোনো বিদ্রোহ নয়; পরিকল্পিত গনহত্যা।"
প্রথম দিকে যে ঘটনাটিকে আপনার বিদ্রোহ বলে মনে হয়েছিল পরে গিয়ে লাশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে আপনার মনে হচ্ছে এটা পরিকল্পিত গণহত্যা। শুধু আপনার নয়, বেশির ভাগ মানুষই প্রথমে বিডিআর এর প্রতি সহানুভুতিশীল থাকলেও পরবর্তীতে স্রেফ লাশের সংখ্যা দেখেই ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার কথা বলে চলেছেন। বিদ্রোহে মৃতের সংখ্যা কম হয় আর পরিকল্পিত গণহত্যায় লাশের সংখ্যা বেশী হয়- এরকম কি কোন আইন কানুন আছে নাকি?
বঞ্চিত-লাঞ্চিত-নির্যাতিত-অপমানিত হতে হতে কিছু মানুষ যখন বিদ্রোহ করে, সেটার মাঝে যদি কোন আদর্শ না থাকে, কোন সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা না থাকে, তখন সেটা স্রেফ নৈরাজ্যই হয়- লাশের সংখ্যার মাপকাঠিতে একে পরিকল্পিত বা ষড়যন্ত্র বলার মানে হলো ঘটনার ভিত্তিতে যে সব কারণ রয়েছে সেগুলোকে আড়াল করে ফেলা- যে চেষ্টাই এখন সর্বত্র হচেছ্।
সোনার বাংলা বলেছেন:
এরশাদ বাদশা বলেছেন: গুটিকয় খুনীকে দিয়ে এ ম্যাসাকার যারা ঘটিয়েছে; তাদের বিরাট কোনো উদ্দেশ্য ছিলো। এখানে বিডিআরের বঞ্চনা-ফঞ্চনার কথা বলে কোনো লাভ নেই। প্রথম দিকে আমিও বিডিআরের বিদ্রোহ মনে করেছিলাম। এখন স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে এটা কোনো বিদ্রোহ নয়; পরিকল্পিত গনহত্যা।
সেনাবাহিনীর যতোগুলো অফিসার প্রান হারিয়েছেন, তারা সবাই কি ডিজঅনেষ্ট ছিলেন? মৃতদের মধ্যে মেডিকেল অফিসারও তো ছিলেন; তারা কি দূর্নীতি করেছিলেন?
তাদের পরিবার কি দোষ করেছিলো?
এতোবড়ো আঘাতের পর সেনাবাহিনীর মতো একটি স্কিলড প্রতিষ্ঠান এখনো পর্যন্ত কোনো রকমের আক্রোশ দেখায়নি। পৃথিবীর আর কোনো দেশের সেনাবাহিনী এতোটা ধৈর্য্যের পরিচয় দেবে বলে আমার মন হয়না। আক্রমনের পর সরকারি নির্দেশে ভেতরে ঢুকেনি তারা। নিজেদের এতোগুলো অফিসার ভেতরে আছে জানার পরও।
পাকিস্থানী হানাদাররাও এতোবড়ো ক্ষতি করতে পারেনি আমাদের। দেশীয় খুনিরা যা করে দেখালো; তার নজির পৃথিবীর আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই।
বিডিআরের গরীব জওয়ানদের জন্য আমার সহানুভূতি আছে ঠিকই; কিন্তু বিদ্রোহের নামে ব্যাপক গনহত্যা যারা চালালো আমি তাদের ফায়ারিং স্কোয়াড চাই।
এরশাদ বাদশা@ তর্পনের সাথে একমত।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
আপনারা আপনাদের মতামত দিন; ব্লগে পোস্টের পর পোস্ট দিয়ে ভরিয়ে ফেলুন। এই গনহত্যাকে জায়েজ করার সমস্ত চেষ্টাই প্রয়োগ করুন। কিচ্ছু যায় আসেনা। আর্মির যেসব সোলজার চোখের পানিতে ভাসছে(কর্মকর্তাদের কথা বাদ দিলাম), তাদের অশ্রুজলে এই দেশের মাটি সিক্ত হচ্ছে; যে মাটিকে রক্ষা করার জন্য ওদের জীবন। বিডিআরও ঠিক একই কাজে নিয়োজিত। কিন্তু যেসব খুনী এতোবড়ো ধাক্কাটা দেশকে দিয়েছে, তাদেরকে বিডিআর পরিচয়ে পরিচিত করবোনা আমি। আমার মনে হয়; বিডিআররা নিজেরাও জানেনা তারা কতোটুকু বঞ্চিত, যতোটুকু জানে এই ব্লগের ব্লগাররা...
ক্ষোভে-দুঃখে ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে... যতোবারই টিভির সামনে বসছি অশ্রুজলে ভেসে যাচ্ছি। সবকিছুর পরও সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব। বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার অবলম্বন। প্রচেত্য আমার ব্লগে একটি ছবি পোস্ট করেছেন.. একজন আর্মি সোলজারের অশ্রুজলের দৃশ্য। সে তার কোনো আত্মীয়ের জন্য কাঁদছেনা। কাঁদছে তার স্যারের জন্য, যার সাথে সে এতোদিন কাজ করেছে।
যাদের উপর দেশরক্ষার ভার নিয়োজিত; অসহায়ের মতো তারাই চোখের জলে ভেসে যাচ্ছে.. এর থেকে দুঃখের আর কি হতে পারে??
ইয়ামিন বলেছেন:
গনহত্যার বিচার হোক। কিন্তু মৃত বিডিাআর জোয়ানদেরও সমান সম্মাননা দেয়া হোক। যতই হোক তারাও আমাদের দেশেরই সৈনিক।
তর্পন বলেছেন:
চ্যানেল আই খবরে সেনা বাহিনীর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ এক মহিলা কর্মকর্তার গ্রেনেড এবং বিস্ফোরকের নমুনা পরীক্ষা করে বিস্মিত হয়েছে কারণ সেখানে ব্যবহৃত অনেক অস্ত্র এডভান্সড প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ইন্জিনিয়ার কোরের লোক ছাড়া পরিচালনা সম্ভব না । তিনি বলেছেন সৈনিকেরা এগুলো ব্যবহারে করতে কোন ভাবেই সক্ষম নয় ।
ব্যার্থতার কাব্য বলেছেন:
"শোকের দহনে স্বাভাবিক চিন্তাবিচ্যুত হয়ে একজন যখন বললেন তিনি তার স্বামীকে যেভাবে মারা হয়েছে বিডিআরদের সেভাবেই হত্যা করা হোক, এ টিথ ফর টিথ, এন আই ফর এন আই, প্রতিহিংসা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। যদিও তার সম্পূর্ণ অধিকার আছে, তবে নৃশংসতা দিয়ে নৃশংসতা রোধ করা যায় না।"একমত।
গান্ধিজীর একটা উক্তি ছিল এরকম,"An eye for an eye, makes the whole world blind."
আমরা অবশ্য সবসময়ই অন্ধ ছিলাম,তবে এক চোখে...তাই আজকেও আমরা শুধু পরাক্রমশালীদের
কষ্টটাই দেখব, এই এইট পাস বিডিআররা আবার মানুষ?? তাদের লাশের সংখ্যা, তাদের কষ্টের কথা শুনে কি হবে???এরাতো ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত খুনী...
চলেন আমরা কোন তদন্ত ছাড়াই অপারেশন রেবেল হান্ট করি, প্রকৃত অপরাধীদের খোঁজা বাদ দিয়ে এই নিকৃষ্ট বিডিআর জাতটাকে ধ্বংস করি...
লেখক বলেছেন: চোখ রাখুন সংবাদে ,আপনার চোখে কাপড় বাঁধতে হবে না, মিডিয়াই নিজের ক্যামেরায় পট্টি লাগিয়ে সংবাদ পরিবেশন করবে।
আমাদের মিডিয়া গুলি কিন্তু অত্যধিক আবেগ মিশিয়ে খবর পরিবেশন করছে। তারা এখন "বি.ডি.আর" নামটিকে "পিশাচ"-এর প্রতিশব্দ বানিয়ে ফেলেছে। সংবাদ কর্মী খবর বলতে গিয়ে প্রায় কেঁদে ফেলছে। সাধারন যদু-মধু আবেগ তাড়িত হলে সমস্যা নাই, কিন্তু সেনাবাহিনী আবেগ তাড়িত হলে সমস্যা আছে।
মনে রাখা উচিৎ বি.ডি.আর একটি ক্ষুদ্র অংশ কিন্তু এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বাকি অধিকাংশ জওয়ানরা নির্দোষ।
"বি.ডি.আর" এর নাম পরির্বতন আমার কাছে কেন যেন হেয়ালী মনে হচ্ছে।
বিচার বহির্ভূত হত্যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। যাই হোক, তা যেন সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে হয়।
কঁাকন বলেছেন:
একমত
মেঘলা মানুষ বলেছেন:
লেখাটা ভাল ও সময়োপযোগী। আমরা আসলে একপেশে না হয়ে থাকতে পারি না।
সব অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিচার হোক, এসবের বিচার যেমন দরকার জনাব "কখগ" কে কোন রাষ্ট্রীয় সংস্থা ধরে নিয়ে মেরে ফেললে তারও বিচার দরকার।
নিকো৮১২৩ বলেছেন:
ধন্যবাদ। অনেক ধন্যবাদ। আর্মি শেষ পর্যন্ত প্রতিহিংসার রাস্তাতেই হাটলো। যদিও এটাই প্রত্যাশিত ছিলো। অন্য কোন আচরণ এরা করতেই পারে না....এখন বিনা বিচারে হাজার হাজার বিডিআর মরবে আর চাকরি হারাবে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















