আমার প্রিয় পোস্ট

মুধুচন্দ্রিমা শেষ না হলে সেটা সংক্ষিপ্ত করে আপাতত বিবেচক হয়ে উঠুক হাসিনা।

০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১০:৫৫

শেয়ারঃ
0 0 0

আওয়ামি লীগ ভোটার সমর্থন বিবেচনায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল। প্রাপ্ত বয়স্ক ভোটারদের শতকরা ৩৫ শতাংশ অন্ধ আওয়ামি লীগ সমর্থক, আওয়ামি লীগের কর্মকান্ড যেমনই হোক না কেনো তারা আওয়ামি লীগের নৌকা প্রতীকেই ভোট দিবেন। তাদের একনিষ্ঠতাই সম্ভবত আওয়ামি লীগের সবচেয়ে বড় পূঁজি।

প্রত্যাখ্যান এবং অবিশ্বাসের রাজনীতি চলছে বাংলাদেশে। সাধারণ মানুষের ভেতরে ২৫ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, রাজনৈতিক ন্যস্ততাহীন এই ২৫ শতাংশ মানুষ সব সময়ই নিয়ন্ত্রন করে ভোটের পরিসংখ্যান। সংসদীয় আসনে কে জয়ী হবে তা নির্ধারণ করে এই রাজনৈতিক পরিচয়বিহীন ২৫ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ। তারা পরিবর্তনের আশায় কিংবা নিজস্ব প্রতিশ্রুতিপুরণের ব্যর্থতায় কিংবা উভয় কারণেই একবার ধানের শীষে ঝুঁকে পড়ে আর একবার ঝুঁকে নৌকা প্রতীকের দিকে। ফলাফলে গত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ইতিহাসে একবার বিএনপি, একবার আওয়ামি লীগ, পুনরায় বিএনপি এবং আওয়ামি লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে।

দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামি লীগ এবার স্বাধীন বাংলাদেশে তৃতীয় বারের মতো সরকার গঠন করলো, এবং প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়েছে রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের নিয়ন্ত্রন করতে। তারা নিজস্ব সমর্থকদের লোভ এবং লালসাকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ হয়েই প্রতিবার ছিটকে পড়েছে।

এবারও সম্ভবত সে ঘটনারই পুনারাবৃত্তি দেখবো আমরা।২০১৪ সালের নির্বাচনে পুনরায় বিএনপি নির্বাচিত হবে যদি আওয়ামি লীগ নিজস্ব সমর্থক ও কর্মীদের নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ হয়। তবে বিএনপি নিজস্ব দলীয় কোন্দলে যেহেতু কোনোভাবেই সংগঠিত হতে পারছে না, সুতরাং সম্ভবত এই আওয়ামি ব্যর্থতায় লাভবান হবে ধর্মীয় লেবাসে রাজনীতি করা দলগুলো। এবং পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে তাদের আসন সংখ্যা বাড়বে।

মানুষের ভেতরের অপরাধপ্রবনতা সার্বজনীন ব্যধি নয় কিন্তু যখন অপরাধীর পৃষ্টপোষক হয়ে উঠে ক্ষমতাবানেরা তখন অপরাধী রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহন করে। রাজনৈতিক মতবাদসমর্থনের ক্ষুদ্রতা এবং নেতাদের নিজস্ব পেশী শক্তি ও ক্ষমতার লোভ এইসব অপরাধীকে সীমাহীন অন্যায়ের সুযোগ দেয়। বস্তুত প্রভাবশালী হতে চাওয়া নেতাদের এই নির্লজ্জ অপরাধীদের পৃষ্টপোষকতা দেশের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়।

ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় পোষ্টার, মোফাজ্জল মায়ার মুক্তি চাই, মুক্তিযোদ্ধা হওয়াই কারো নিস্পাপ হয়ে উঠবার সনদ নয়। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে লুণ্ঠনে সিদ্ধহস্ত অনেকেই আছে রাজনীতিতে। মায়া চৌধুরী এবং তার সন্তানের অপরাধপ্রবনতার ইতিহাস খুঁজতে ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সালের পেপার পত্রিকা খুঁজলেই চলবে।

তেমনই এক সুপাত্র হাজী সেলিম, লালবাগের দ্বিতীয় ইশ্বর। প্রথম জন, নাসিরুদ্দীন পিন্টু, বর্তমানে পুলিশি জেরার মুখোমুখি। তার পক্ষে সাফাই গেয়ে খালেদা জিয়া একবার বলেছিলেন, এ আপনাদের ঘরের ছেলে ভুল করলে বকে দিবেন। কাকে বকবে সাধারণ অসংগঠিত মানুষ। যে মানুষটা৭টা খুনের মামলার প্রধান আসামি। যার প্ররোচনায় লালবাগের অন্তত ৫জন সন্ত্রাসী খুন হয়েছে, টিটু, সগির, বাবু, এবং দুজনের হাত কেটে ফেলা হয়েছে, সে মানুষকে বকতে যাওয়ার কিংবা সংশোধন করতে যাওয়ার দুঃসাহস হবে কার?

হাজী সেলিমের পোষ্টারে লিখা শান্তির সপক্ষের মানুষ। এবং অন্যতম শিল্পপতি। তার মিছিলে লিটন ছুটছে নাইন এমএম পিস্টল হাতে এটা ছাপা হয়েছিলো দৈনিকের প্রথম পাতায়। নাসিরুদ্দিন পিন্টুর সাথে তার রাজনৈতিক বৈরিতা নেই। ছুটের ব্যবসায় বখরা নিয়ে লড়াই আছে। তিনি আবেদন করেছেন তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের। এবং রাষ্ট্র এবং সরকার অনুগত বিচারালয় তার জামিন নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। তারা বিশেষ বিবেচনায় তার জামিনের ব্যবস্থা করছেন।

এই সন্ত্রাসী যদি নির্বিঘ্নে ছাড়া পায় তাহলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার সম্পূর্ণ দায়টাই পড়বে আওয়ামি লীগের ঘাড়ে। পুলিশ তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে হয়তো পরিস্থিতি সামলানোর জন্য, কিন্তু আওয়ামি লীগের নেতাদের উমোদারি এবং চাপে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া, থানা হাজত থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং অপরাধ করতে উৎসাহ দেওয়া, কোনোটাই বোধ হয় সুবিবেচনার পরিচয় নয়।

ঢাকা শহরে রাজনৈতিক পরিচয়ে সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজীর ঘটনা বেড়েছে। আটক হচ্ছে গুটিকয়েক সন্ত্রাসী কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। আওয়ামি লীগের নেতাদের ভেতরে নিজস্ব গ্রুপিং এবং লবিং চলছে। তাদের মন রাখবার জন্য কিছুটা উদাসীনতা রয়েছে সরকার পক্ষের।

এখনও সরকারের অর্ধবর্ষপূর্তি হয় নি, কিন্তু এই সময়েই আলোচিত ৫জন সন্ত্রাসী বিচারিক প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। তাদের মুক্ত করবার পেছনে সরকারি চাপ ছিলো। সরকার যদি নিজ দায়িত্বে অপরাধীসৃজন প্রকল্প হাতে নেয় তবে আমজনতার ৫ বছর দাঁতে দাঁত চেপে অপেক্ষা করা ভিন্ন অন্য কোনো উপায় থাকে না। তারা ব্যলট বাস্কে নিজের প্রত্যাখ্যান জানিয়ে আসবে।

বিডিআর বিদ্রোহের প্রথম দিনে যদি হাসিনা শক্ত ভাষায় বক্তৃতা দিতো তাহলে হয়তো সে দিনই বিদ্রোহ থেমে যেতো। বিশেষত দ্বিতীয় দিনের বক্তৃতায় তার মূল বক্তব্য ছিলো, আমাকে কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। সেটা প্রচারিত হওয়ার ঘন্টাখানেকের ভেতরেই বিদ্রোহীগণ অস্ত্রসমর্পন করে।

বর্তমানে মনে হয় তেমনই একটা সময় এসেছে। আওয়ামি লীগ নিজেকে পরপর তৃতীয় বার নির্বাচিত দেখতে চায়। তাদের আগ্রহ সেখানেই। তারা চাইছে ২০১৪ সালের নির্বাচনের জিতবার পরে ২০২০ সালের বির্বাচনেও জয়ী হতে। তবে বিজয় নিজের আগ্রহ কিংবা চাহিদায় আসে না। যদি এমন কর্মকান্ড অব্যহত থাকে তবে আওয়ামি লীগ বিশাল মাপের ভোটদুর্নীতি না করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারবে না।

যারা চাঁদাবাজী করছে, অপরাধীদের পৃষ্টপোষ্কতা করছে এবং অপরাধীসৃজন প্রকল্প গ্রহন করেছে। যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পঙ্গু করছে কিংবা নির্যাতন করে ঘরছাড়া করছে, তারা সবাই করছে এটা আওয়ামী লীগের পতাকা এবং সরকারে অধিষ্ঠানের বিষয়টাকে পূঁজি করে।

শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে মৃদু ভাষায় বলেছেন তিনি অপরাধীদের ঘৃনা করেন , তাদের দমন করতে চান। তবে সময় এসেছে এটা শক্ত ভাষায় বলবার। স্পষ্ট বলবার সময় এখনই। নইলে আম ছালা এবং পায়ের নীচের মাটি সবটুকুই যেকোনো মুহূর্তে নেই হয়ে যাবে।

নিজের দলের বর্ষীয়ান নেতাদের আদর সোহাগ না করে স্পষ্ট বলবার সময় এসেছে, নিজেদের এই অপরাধ প্রবনতা দমন করুন কিংবা বিদায় নিন। ছাত্র লীগের ছেলেদের স্পষ্ট করে বলবার সময় এসেছে, তোমরা যদি অপরাধ করো, তবে সেটা নিজ দায়িত্বে করবে, আওয়ামি লীগ দলীয় ভাবে, প্রশাসনিক ভাবে, তোমাদের কৃতকর্মের দায় গ্রহন করবে না।

এবং সর্বোপরি আমাদের স্বাধীন বিচার বিভাগের পরাধীন বিচারকদের দ্রুত অপসারণ করে সেখানে অন্তত মেরুদন্ডসমেত কিছু বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন, দলীয় ঝোল খেতে খেতে এদের নিজস্ব বিচারিক বোধ লুপ্ত। তারা সংগঠনের নাম শুনলেই বিনা বিবেচনায় নিরপরাধ ঘোষণা দিয়ে সাধারণ জনগণের সাথে যে প্রতারণা শুরু করেছে সেটার জন্য তাদের বিচার হওয়ার উচিত।

সময় খুব দ্রুতই কমছে, এবং যত সময় যাবে অপরাধ এবং অপরাধীর বোধ বাড়বে। অপরাধ এবং অপরাধীর বোঝা ঘাড়ে নিয়ে বাংলাদেশে কেউ নির্বাচিত সরকার গঠন করতে পারে নি। শেখ হাসিনাকে এটা উপলব্ধি করতে হবে এখনই।

অবশ্য সবচেয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামি যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে জামাতকে দমন করতে পারবে না। আমার আশংকা মিথ্যে হোক এমনটাই আমি চাই। তবে প্রত্যাখ্যানের রাজনীতি চলতে থাকলে ২০২০এ জামায়াতে ইসলামীই বাংলাদেশে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করবে।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

৩. ০৭ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:০২
প্রগতিশীল বলেছেন:
'মুক্তিযোদ্ধা হওয়াই কারো নিস্পাপ হয়ে উঠবার সনদ নয়'

একমত

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮৬০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
তবু ও মানুষ কাঁদে
অধিকার চায় একটি শিশুর
তবুও মানুষ বাঁচে
কার হাতে অধিকার
মানুষ না যীশুর............

অধিকার সবার চাই, মতপ্রকাশের অধিকার নামান্তরে মতদ্্বৈত্বতার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ