somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবী সৃষ্টির আগে এবং ধ্বংসের পরে ইশ্বর কি করবেন?

১৩ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আকাশ ও পৃথিবী আর ওদের মাঝে কোনোকিছুই আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করি নি।

সুরা আম্বিয়া আয়াত ১৬

অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশ ও পৃথিবী ওতপ্রোতভাবে মিশে ছিল? তারপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সবকিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম।তবুও কি ওরা বিশ্বাস করবে না?

সুরা আম্বিয়া আয়াত ৩০

আর আমি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত সৃষ্টি করেছি যাতে পৃথিবী ওদেরকে নিয়ে এদিকে কিংবা ওদিকে ঢলে না যায়, আর আমি ওর মধ্য প্রশস্ত পথ করে দিয়েছি যাতে ওরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে।

সুরা আম্বিয়া আয়াত ৩১

আর আমি আকাশকে করেছি এক সুরক্ষিত ছাদ, তবু ওরা তার নিদর্শনসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকে
সুরা আম্বিয়া আয়াত ৩২


সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে ফেলবো যেভাবে লিখিত কাগজ গুটানো হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেটাবে আমি পুনরায় সৃষ্টি করব। প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য, আমি এ পালন করবই।

সুরা আম্বিয়া ১০৪


সৃষ্টি এবং প্রলয়ে সম্পর্কিত এই সূরা পড়ে বিমলানন্দ উপভোগ করি আমি সময় সময়। অনেক আগে একজন প্রশ্ন করেছিলো, মহাবিশ্ব যখন সৃষ্টি হয় নি তখন ইশ্বর কি করতেন? বিজ্ঞানের কল্যানে এখন অন্তত সে প্রশ্নের উত্তর আংশিক দেওয়া যেতে পারে। পৃথিবী সৃষ্টির আগে ইশ্বর কি কি করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এটা লেখা। যেভাবে অপপ্রচার এবং অপবিজ্ঞানে স্বাভাবিক চিন্তাধারার মানুষের নিজস্ব যুক্তিবোধ ওলোট পালোট হয়ে যাচ্ছে তাতে এই লেখাটা সামান্য স্থিরতা আনতে পারলেই আমি আনন্দিত হবো।

সৃষ্টিকর্তা কোরানে বলেছেন তিনি নিছক কৌতুক করবার জন্য এই পৃথিবীর সৃষ্টি করেন নি, পৃথিবীর জন্ম প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ জানা না গেলেও কিছুটা অনুমাণ করা যায়। পৃথিবী কোনো এক সুপার নোভার ধ্বংসাবশেষ কিংবা পৃথিবীর অতি নিকটে কোনো একটি সুপার নোভা বিস্ফোরিত হয়েছিলো সুদুর অতীতে।

আমাদের পৃথিবী এবং আমাদের সূর্যের বয়েসের তেমন তফাত না থাকায় আমরা ধরে নিতে পারি আমাদের পৃথিবী এবং সূর্য্য সমসাময়িক সময়েই সৃষ্টি হয়েছে। এবং অনুমাণ বলছে আমাদের সৌরমন্ডলের কাছাকাছি একটি সুপারনোভা ছিলো।

নক্ষত্রের নির্দিষ্ট একটি আকার আছে, তার পারমাণবিক জ্বালানি আত্তীকরণের হার নির্ভর করে তার আকৃতির উপরে, সুপারনোভা আমাদের সূর্যের তুলনায় অন্তত ২০ থেকে ৫০ গুণ কিংবা তারও বেশী ভরের হতে হবে। সূর্য্যের বর্তমানের আকৃতি থেকে অনুমাণ করা যায় এটা পূড়ে নিঃশেষ হতে কিংবা শ্বেত কিংবা লাল বামন[ হোয়াইট কিংবা রেড ডোয়ার্ফ] হতে আরও অন্তত ৫০০ কোটি বছর লাগবে। কিন্তু একটা সুপারনোভা তার ভরের উপর নির্ভর করে কয়েক মিলিয়ন থেকে কয়েক শো মিলিয়ন বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। সুতরাং মহাবিশ্ব যখনই তৈরী হোক, সেখান থেকে একটা নক্ষত্র তৈরী হওয়া এবং সে নক্ষত্র সুপার নোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হওয়া পর্যন্ত ইশ্বরকে অন্তত অনেকটা সময় বেকার বসে থাকতে হয়েছিলো।

পৃথিবী এবং সূর্য্য যে সুপার নোভার অবশেষ, সেটার বিস্ফোরণ ঘটানোও ইশ্বরের কাজ নয়। সুপার নোভা বিস্ফোরিত হয় নিজস্ব মহাকর্ষীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় চাপে। মহাকর্ষের কারণে সংকুচিত হয় নক্ষত্র, এবং শ্বেত কিংবা লাল বামন হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে লোহা পর্যন্ত মৌল সৃষ্টি হতে পারে। এটা বৈজ্ঞানিক বিধি, পৃথিবীতে যে পরিমাণ সীসা পাওয়া যায়, যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম এখনও অবশিষ্ট। সে পরিমাণ সোনা আমরা পাচ্ছি মাটি খুঁড়ে, এসবই সৃষ্টি হয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ে। অর্থ্যাৎ একবার শ্বেত বামন হওয়ার পরে পুনরায় পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয় এবং লোহার উপরের মৌলগুলো তৈরি হওয়া শুরু হয় সে বিক্রিয়ায়।

এরপরে বিস্ফোরিত হয়ে তা ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে।

কিন্তু প্রথম সমস্যা হলো আকাশ বলে কিছু নেই আমাদের। পৃথিবীর উপর নেই নীচ নেই, ডান নেই, বাম নেই, পৃথিবীর চারপাশে মহাকর্ষের করণে আটকে থাকা বায়ুমন্ডলে প্রতিসরণ এবং প্রতিফলনের খেলায় আমরা আকশ নামক জিনিষটা দেখি। ইশ্বর কি সময় নিয়ে বায়ুমন্ডল তৈরি করেছেন?

আয়াত ৩০এ এসে মনে হয় তারা আলাদা কিছু নয়, বরং পৃথিবী তৈরীর প্রক্রিয়াতেই বরং এদের বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অতীতের ব্যাখ্যা মেনে ধরে নিলাম সকল বস্তু হট বিগ ব্যাং হিসেবে একই অবস্থানে ছিলো, কিন্তু সেটা বিস্ফোরিত হয়ে, প্রসারিত হয়ে, ঠান্ডা হয়ে, এত সুপারনোভা তৈরী হলো, সেসব সুপারনোভার সবগুলোই সমান রকম সম্ভবনা রাখে জীবন সৃষ্টির সম্ভবনা সকল ক্ষেত্রেই সমান। সবগুলো নির্মাণই কি ইশ্বরের অভিপ্রায় ছিলো?

তবে কোরাণ যেহেতু বিশেষত মানুষের কলয়ানে নাজেল হয়েছে সুতরাং আমাদের এই পৃথিবী নির্মাণে ইশ্বরের কারসাজি নিশ্চিত ভাবেই আছে। সুতরাং কোরাণ অনুসারে আমাদের সৃষ্টি এবং পৃথিবী সৃষ্টির জন্যই এত আয়োজন। কিন্তু পৃথিবীকে নিজস্ব কক্ষপতচ্যুত হওয়া থেকে পাহাড় পর্বত বিরত রাখে না। বরং বাস্তবতা হলো আমরা প্রতি মুহূর্তেই সূর্য্যের নিকটবর্তী হচ্ছি, আমাদের নিজস্ব পৃথিবীর কক্ষপথের আকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে। তা মোটেও স্থির নেই। যেমনটা সুরা আম্বিয়া আমাদের জানাতে চাইছে, সে রকম স্থিরতা নেই। আমরা সর্পিলাকারে ঘুরতে ঘুরতে সূর্য্যের পেটে চলে যাচ্ছি প্রতি নিয়ত, সূর্য্যের জ্বালানি হওয়ার সম্ভবনা তৈরী হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।

সেটাই বোধ হয় ১০৪ নম্বর আয়াতে বিবৃত হয়েছে। কিন্তু সেটাও সত্য নয় আদতে, ১০৪ নম্বর আয়াত এই ধারাবাহিকতার কিছু নয়, সূর্য্য একদা জ্বালানী নিঃশেষিত হয়ে লাল বামনে পরিণত হবে এবং অনন্তকাল এভাবেই জ্বলতে থাকবে। সেটা ঘটবার সম্ভবনা ৫০০ কোটি বছর পরে।

এরপরে যদি কখনও বিগক্রাঞ্চ হয় তখন হয়তো নতুন করে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হবে, কিন্তু সূর্য্য পুনরায় সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হয়ে নতুন পৃথিবীর সৃষ্টি করবে না।
যেভাবে পৃথিবীর জন্ম হয়েছিলো একদা, সূর্য্য মৃত হলে সেভাবে পুনরায় পৃথিবীর জন্ম হবে না। এবং এই সূর্য্য বিস্ফোরিত হওয়ার তুলনায় স্ফীত হবে এবং সেখানে নিশ্চিত ভাবেই সোনা এবং রুপা তৈরি হবে না।

১১টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×