যৌনতা বিষয়ে ভাবনা ১
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ রাত ২:১৪
যুদ্ধ এবং যৌনতাই আমাদের ভাবনাকে নিয়ন্ত্রন করে, অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ এবং যৌনতাকেই পূঁজি করে টিকে থাকে, সম্প্রসারিত হয়। আপাতদৃষ্টিতে যতটা পরিপাটি মনে হয় আমাদের সমাজের গাঁথুনি, সেটা বোধ হয় অনেক দুর থেকে দেখবার ফল, কিংবা আমাদের সমাজে যৌনতাভিত্তিক লুকোচুরি থাকলেও সেটা স্বাভাবিক ভাবে বিকশিত না হয়ে যতটা ছড়িয়েছে ভেতরে ভেতরে, সেটা জেনে আশ্চর্য হই প্রতিবারই।
যৌনঅপরিতৃপ্তির কারণে পরকীয়া প্রবন মানুষেরা স্বগৃহে এবং স্ববরে স্থিতি পাবে ভায়াগ্রা আসবার পরে- এমন মন্তব্যও ভ্রান্ত প্রমাণিত হলো, পরকীয়ার কারণে স্বামী কিংবা স্ত্রীকে হত্যা করা, শিশু সন্তানদের হত্যা করবার মতো বিভৎসতার নজির শুধু এই শতকেই পত্রিকায় এসেছে এমন নয়, বাংলাদেশের পত্রিকায় গত শতকে, অর্থ্যাৎ ১০০ বছর আগেও এমন ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে।
তখনও পরকীয়াপ্রবন নারী প্রেমিকের সাথে গাঁটছাড়া বাঁধবার আগে স্বামীকে হত্যা করে ফেরারী হয়েছে, কিংবা ভুল করে নিজের কন্যাকে হত্যা করেছে।
এটাকে সামাজিক অবক্ষয় বলবার অবকাশ বোধ হয় নেই এখন। সভ্যতা কখনই এমন রাস্তায় যায় নি, বরং এই যৌনতাকে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেছে সভ্যতা। আমাদের সভ্যতার অবদান বড়জোর এইগুলোকে একটা নিয়মতান্ত্রিকতার ভেতরে নিয়ে আসা।
সভ্যতায় নারী একটা সময় পূজিত হয়েছে তার উর্বরতার জন্য, নারীরাই সন্তান গর্ভে ধারণ করতে পারে এবং নারীরাই পুরুষের বিজ গর্ভে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের জন্ম দেয়- এই অলৌকিক গুণের জন্যই নারী দেবিরুপে পূজিত হয়েছে, যা কিছু ফলবন্ত, ভুমি, নদী, শষ্য সবই পূজিত হয়েছে নারীরুপে, আকাশ বর্ষণ করে, সেই বর্ষণসিক্ত ভুমি ফলবতী হয়, সুতরাং আকাশ পুরুষ, ধরণী নারী।
বয়ে যাওয়া জলধারা, যার কোনো শাখা নদী নেই, কিংবা যার কোনো উপনদী নেই, বাংলাদেশে সেসব জলধারাকে নদ বলে, নদী সেগুলোই যাদের শাখাপ্রশাখা আছে,
যমুনা, মেঘনা, পদ্মা, করোতোয়া, সবই নদী, কারণ এদের ভাটির কোথাও না কোথাও এরা একটা দুটো শাখা ছড়িয়েছে, আত্রাই থেকে উৎপন্ন হয়েও কোনো শাখা নদী তৈরি করে নি, তাই পূনর্ভবা নদ, ব্রহ্মপূত্রেরও কোনো শাখা নদী নেই, কপোতাক্ষ কিংবা আড়িয়াল খাঁ শুধু কোনো জায়গায় একটা জলের শাখা ছড়াতে পারে নি বলেই আজীবন নদ রয়ে গেলো।
আমাদের নিজেদের ভেতরেও এই ফলবন্ত হয়ে উঠবার প্রতি একটি মোহ কাজ করছে, সামাজিক পুরুষাকার এভাবেই চিহ্নিত হয়েছে। পূজ্য নারী নগরভিত্তিক সভ্যতা শুরুর পর থেকেই সমাজের কতৃত্ব হারিয়েছে ধীরে ধীরে, নগর সভ্যতা এবং সেমেটিক ধর্মের আগমনে নারী হয়েছে অবগুণ্ঠনবাসীনি। তাদের চাষ আর পশুপালনের কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ এখানেও তাদের উর্বরতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
সে সময়ে নারীর যৌনতার অবাধ স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করবার প্রয়াসেই সেমেটিক ধর্মে নারীকে পাপের আকর বলা হয়েছে। এমনটাই নারীবাদি নৃবিজ্ঞানীদের অভিমত ছিলো।
ইভ, তার যৌনতা এবং লোভের জন্য স্বর্গ থেকে বহিস্কৃত একজন, নারীর শুদ্ধতা এবং উৎকর্ষতা শেষ পর্যন্ত তার যোনীর অভেদ্যতা। এই সামাজিক ধারণারও জন্ম হয়েছে এই ধর্মগুলোর অবাধ প্রসারে।
প্রতিটা সমাজ নিজের মতো করে যৌনতাকে নিয়ন্ত্রন করতে চেয়েছে, চেয়েছে অর্থনীতি বিকাশ এবং সামাজিক স্থিরতা নির্মান করতে চেয়েছে যৌন সম্পর্কগুলোকে কোনো না কোনো নিয়মে বেধে।
গ্রীসে চল ছিলো, কোনো মেয়ে বিবাহযোগ্যা হলে তাকে পতিতাবৃত্তি করতে হতো, মন্দিরের বেদীতে গিয়ে বসে থাকতে হতো, যে কেউ সামান্য অর্থ দিয়ে তাকে ভোগ করবার পরে তার বিবাহের সুযোগ মিলতো। হেরোডেটাস নিজের ইতিহাস গ্রন্থে লিখেছেন- সুন্দরী মেয়েদের তেমন সমস্যা হতো না, তারা অতি সহজেই মানুষের নজরে পরতো এবং পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারতো। তবে সমস্যা হলো অসুন্দরীদের। তারা বছরের পর বছর মন্দিরের চাতালে অপেক্ষা করতো, যদি কোনো দিন কোনো দয়াবানের করুণা হয় এবং তার সামনে পয়সা ছুড়ে দিয়ে তার সাথে সঙ্গমের আগ্রহ দেখায় তবেই তার জামাই জুটবে।
আমাজানের আদিবাসীরা প্রতি পূর্ণিমায় অবাধ যৌনাচারের সুযোগ রেখেছে, এ কারণেই সেখানে পুরুষে পুরুষে যৌনদ্বন্দ্ব নেই, ভারতের নগরগুলোতে প্রখ্যাত সুন্দরীদের মন্দিদের দেবদাসী করা হতো, তারা বিশিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ এবং অন্য সব কুলীনদের যৌনচাহিদা পুরণ করতো পয়সার বিনিময়ে।
ব্যাবিলনে কিংবা মিশরের উপরের অংশে, মন্দিরে সুন্দরীদের সেবাদাসী করে রাখবার প্রবনতা ছিলো। অর্থ্যাৎ সমাজের একটা অংশ, যারা সে সময়ে সমাজকে নিয়ন্ত্রন করতো, তাদের নিজেদের ভেতরে যৌনতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হওয়ার কোনো রকম আগ্রহ ছিলো, সুতরাং তারা ভবিষ্যতে সুন্দরী ও কাম্য হয়ে উঠতে পারে এমন রমনীদের দেবতা তথা সমাজপতিতের সবার ভোগের জন্যই উন্মুক্ত রাখতো। যেকেউ মন্দিরে গিয়ে তাদের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করবার সুযোগ পেতো না।
বিয়ের প্রথা যেমনই হোক না কেনো, সেটা আদতে একটা সামাজিক স্বীকৃতি, একজন নারী ও পুরুষের একত্রবাসের স্বীকৃতি, কনে পন দেওয়া কিংবা বরপন দিয়ে দুজন এই স্বীকৃতি আদায় করে নেয় সমাজ থেকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার একটি উপজাতিতে নিয়ম হলো, তাদের বিবাহযোগ্যা নারীকে যখন কোনো পুরুষ পছন্দ করবে, তখন সেই মেয়েকে নিজের যোগ্যতা প্রমান করতে হবে সবার সামনে নেচে। তার নাচ দেখে যদি অন্য সবাই যৌনউত্তেজিত হয় তবেই সেই মেয়ের বিয়ের স্বীকৃতি মিলে, অর্থ্যাৎ যখন একজন নারী অন্য একজন পুরুষের সাথে একত্রবাস শুরু করবে, সেসময় থেকেই যৌন্যতার দ্বন্দ্বে যেনো সে পুরুষ অন্য পুরুষের সাথে জড়িয়ে না পড়ে এটা নিয়ন্ত্রনের জন্যই গোত্রের সবাইকে এক করে তাদের সবাইকেই যৌনউত্তেজনা দেওয়ার প্রথা।
প্রথা অদ্ভুত হতে পারে, সময় সময় খুবই উৎকট এবং অশালীন মনে হতে পারে, কিন্তু সামাজিক স্থিরতা নিয়ে আসবার দীর্ঘমেয়াদী প্রয়াসে এইসব রীতিই সংস্কৃতি হিসেবে চর্চিত হচ্ছে। এবং খুব বেশী অগ্রসর না হলেও সেসব সভ্যতা গত ১০ হাজার বছর ধরে নিজস্ব সংস্কৃতি অক্ষুন্ন রেখেই টিকে আছে।
যৌনতার অন্য একটা ব্যবহার ছিলো যুদ্ধে, পুরুষের সুন্দরী নারীর প্রতি কামনাকে পূঁজি করে সম্রাট এবং সেনাপতিগণ একদা নারীদের গুপ্তচরের পেশায় নিয়োজিত করতো, তাদের কাজ ছিলো শত্রু শিবিরের গুরুত্বপূ্র্ণ মানুষদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে এইসব সংবাদ সেনাপতিকে জানানো। তারা একই সাথে গুপ্তঘাতকের কাজও করতো।
তারাশঙ্কর তার এক গল্পে এমনটাই জানিয়েছেন যে, আমরা যাদের বেদে-বেদেনী বলি তারাও আসলে কোনো এক সময় রাজার গুপ্তচর ছিলো, তাই বেদে-বেদেনীরা ছদ্মবেশ নিতে পটু, এটা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তারা সংস্কৃতি হিসেবে চর্চা করছে, তারা পতিতাবৃত্তিও করে প্রয়োজনে।
স্বামীর বয়স্ক সব আত্মীয়দের সাথে পর্যায়ক্রমে সঙ্গমলিপ্ত হওয়ার প্রথাও আছে কোথাও কোথাও। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়েই পুরোহিতদের যৌন চাহিদা পুরণের অনেক রকম পন্থাই আবিস্কৃত হয়েছে।
পুরোহিতদের কাজ সমাজে একটা শৃঙ্খলা নির্মান, তারা নিজেদের ধর্মীয় বয়ান কিংবা অভিজ্ঞতার আলোকে সমাজের বিভিন্ন ঝুট ঝামেলা নিয়ন্ত্রন করেন, তাদের ক্ষোভ প্রশমন করেন, এবং আবশ্যিক ভাবে এইসব পুরোহিতদের কামুকতা বেশী, সুতরাং তারা সকল সুন্দরী নারীদের ভোগ করতে আগ্রহী, রাজার কনয়া কিংবা চন্ডাল কন্যা কোনো বিভাজন নেই, পুরোহিতের সাথে সঙ্গম না করলে বিবাহ বৈধ হবে না। এমন রীতিও একটা সময়ে প্রচলিত ছিলো।
অনেক রকম যৌনসংস্কৃতি চর্চিত হয়েছে। সভ্যতার অগ্রগতির এবং প্রযুক্তির উন্নতির জন্য আমরা সেসবের কিছু অংশ জানছি। অনেক রীতিকেই আমাদের অতিরিক্ত জটিল সমাজের প্রেক্ষিতে এবং আমাদের চর্চিত সংস্কৃতির প্রভাবে রীতিমতো অভব্য এবং অসভ্য মনে হয়। অথচ আমাদের পরিপাটি সামাজিক বুননেও এইসব যৌনদ্বন্দ্ব সব সময় ক্রিয়াশীল।
আমাদের সভ্য মানুষদের বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কে জড়িয়ে পরা কিংবা সামাজিক ভাবে অবৈধ সম্পর্ক চর্চা করা কিংবা সামাজিক ভাবে অনৈতিক বিবেচিত কর্মকান্ডে অতিরিক্ত উৎসাহী হয়ে উঠবার কারণটা মোটেও সামাজিক অবক্ষয় নয়, বরং আমাদের নিজস্ব মূল্যবোধ এবং চর্চিত সংস্কৃতি এই প্রথাকে কখনই দমন করতে পারে নি। মানুষের যৌনতার চাহিদাকে উপেক্ষা করে দানবের জন্ম দিয়েছে।
সেমেটিক ধর্ম নিজে নিজস্ব কিছু নিয়মের সৃষ্টি করেছিলো, নিজস্ব গোত্রের জন্য এই নিয়মগুলো হয়তো কার্যকরী ছিলো, কিন্তু একটা পর্যায়ে তারাই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলো এবং তাদের সংস্কৃতি কিংবসা সংস্কার অন্য সব অধিকৃত দেশে ছড়িয়ে পড়লো।
ইসলাম সর্বশেষ ধর্ম একটা নির্দিষ্ট কাঠামো বেধে দিয়েছে, এর আগে কোনো সভ্যতায় এতটা স্পষ্ট নির্দেশনা ছিলো না। কাদের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন বৈধ হবে এবং কাদের সেটা স্থাপন করা অবৈধ হবে এটার বিস্তারিত সেখানে বলা আছে।
আমার অনেক আগে একটা প্রশ্ন জেগেছিলো মনে, সংকলিত হাদিসের অর্ধেকের বেশীই যৌনতা সম্পর্কিত, আরবের মানুষের কি অন্য কোনো কাজ ছিলো না?
এত দিন পরে নিজেই খুঁজে পেলাম সে উত্তর, আদতে মানুষ সভ্যতার শুরু থেকেই এই যৌনতা এবং যুদ্ধ দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, সুতরাং এটার গুরুত্ব তাদের কাছে অনেক বেশী। আর সেই গুরুত্বের প্রকাশ ঘটছে সাহাবীদের সাধারণ জিজ্ঞাসায়। তারা নিজেরাও প্রচলিত সংস্কৃতির সাথে নবউদ্ভাবিত ধর্মের সংস্কৃতিকে খাপ খাইয়ে নিয়ে নিজেদের যৌনজীবন এবং যৌনতার চর্চা করতে চেয়েছে।
বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
প্রিয়সখা বলেছেন:
ভাল লিখেছেন, ভাল লেগেছে। আবারো ভাল লিখবেন। ভাল থাকবান। ভালবাসা সহ।
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
++
কালপুরুষ বলেছেন:
বলিষ্ঠ বক্তব্য।
শয়তান বলেছেন:
আমার অনেক আগে একটা প্রশ্ন জেগেছিলো মনে, সংকলিত হাদিসের অর্ধেকের বেশীই যৌনতা সম্পর্কিত, আরবের মানুষের কি অন্য কোনো কাজ ছিলো না?
----
চরম বলেছেন । একই প্রশ্ন গুটগুট করতো আমার ভেতরও
লেখক বলেছেন: ব্যবস্থা সব সময়ই ছিলো, এখনও আছে।
ধর্মবেত্তা, পৌরোহিত্য এ সুযোগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
নতুন একটা ধর্মমত শুরু করলে সেটাতে এসবের অন্তর্ভুক্তিকরণ হলে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা না।
জীবের স্বাভাবিক প্রবনতা বহুগামীতা, সুতরাং ধর্মীয় ভাবে সেটাকে স্বীকৃতি দিলে মানুষ অত্যুগ্রহী হয়ে সেখানে নিজেকে সমর্পন করবে, শুধু নির্ধারিত কিছু বিধান রাখতে হবে, অবাধ যৌনতার ছাড়পত্র কোনোভাবেই ধর্মীয় মনোভাব প্রকাশ করে না। মানুষ শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির কারণেই সীমিত সম্পদ নিজের করায়ত্ব রাখতে চায়।
মানুষ আমি আমার কেন পাখির মত মন? বলেছেন:
শয়তান বলেছেন:আমার অনেক আগে একটা প্রশ্ন জেগেছিলো মনে, সংকলিত হাদিসের অর্ধেকের বেশীই যৌনতা সম্পর্কিত, আরবের মানুষের কি অন্য কোনো কাজ ছিলো না?
----
চরম বলেছেন । একই প্রশ্ন গুটগুট করতো আমার ভেতরও
মন্তব্যে ঝাঝা।
মানুষ আমি আমার কেন পাখির মত মন? বলেছেন:
অসাধারণ লেখায় +
যাক লেখাটা অসম্ভব সুন্দর হয়েছে। আপনাকে প্লাস++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
বিডি আইডল বলেছেন:
চিন্তার বিষয়
শয়তান বলেছেন:
তাহলে বটমলাইনটা কি অনেকটা এরকমঃ আমাদের সামাজিক জীবনে বরাবরই ধর্মীয় আগ্রাসন এসেছে অর্থনৈতিক সম্পদ কুক্ষিগতরাখা কেন্দ্রিক যৌনচিন্তার কারনে ??
লেখক বলেছেন: সামাজিক জীবনে ধর্ম সামাজিক স্থিরতা এবং অর্থনৈতিক বিকাশের জায়গাটাতে কাজ করে। সামাজিক স্থিরতার জন্য যতটুকু যৌনস্বাধীনতা প্রয়োজন, সেটা ধর্মীয় পরিসরে পাওয়া যায়, তবে সবাই এর সমান ভাগ পায় না।
অর্থনৈতিক সম্পদ কুক্ষিগত রাখা এক ধরণের যৌন চাহিদা এমনটা আমার মনে হয় না। তবে অর্থনৈতিক সম্পদের প্রাচুর্য নিজের যৌন চাহিদা পুরণের এবং যৌন উচ্ছৃঙ্খলতার জন্য সহায়ক ভুমিকা পালন করে।
দ্বিতীয়নাম বলেছেন:
লেখক বলেছেন: ইসলাম সর্বশেষ ধর্ম একটা নির্দিষ্ট কাঠামো বেধে দিয়েছে, এর আগে কোনো সভ্যতায় এতটা স্পষ্ট নির্দেশনা ছিলো না। কাদের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপন বৈধ হবে এবং কাদের সেটা স্থাপন করা অবৈধ হবে এটার বিস্তারিত সেখানে বলা আছে।তার জন্যই যখন তখন পুরুষের সেক্স স্ত্রীর উপর নিশ্চিত করা হইছে : http://www.amarblog.com/eskimo/64666
লেখক বলেছেন: বক্তব্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মানুষ সভ্য হয়ে উঠবার পথে অনেক ভাবে এই বিষয়টাকে ব্যখ্যা করবার চেষ্টা করছে, কিন্তু মূল বক্তব্য হলো যুদ্ধ আর যৌনতাই সব ভাবনাকে নিয়ন্ত্রন করেছে।
শয়তান বলেছেন:
@ বৈকুনঠ ভারত বর্ষের আর্যরা কিন্তু বেশীরভাগই অস্থানীয় । অথচ এরাই কার্যত সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি সবচে বেশী ভোগ করে গেছে ।
লেখক বলেছেন: কষ্ট করে বুখারী, মুসলিম, মিলকাত পড়ুন, অনেক জায়গায় বিষয়ভিত্তিক না হলেও যৌনতা সম্পর্কিত আলোচনা আছে, সেটা চিকিৎসা শাস্ত্র বিষয়ক অংশ হোক, ওজু বিষয়ক অংশ হোক, তালাক ও বিবাহ, বিবাহ সম্পূর্ণ করবার প্রক্রিয়া, নামাজ, রোজার নিয়মকানুন, দান,
শুভ৭৭ বলেছেন:
খুব ভাল লিখেছেন।'ইসলাম সর্বশেষ ধর্ম একটা নির্দিষ্ট কাঠামো বেধে দিয়েছে, এর আগে কোনো সভ্যতায় এতটা স্পষ্ট নির্দেশনা ছিলো না' - ঠিক।
ইসলাম সেক্সকে গুরুত্ব দিয়েছে। তবে কিছু সীমানাও দিয়ে দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি ইসলাম খুব ব্যালেন্সড।
লেখক বলেছেন: কোনো নীতিমালার সাফল্য নির্ভর করে যারা এই নীতিমালার চর্চা করছে তাদের ব্যক্তিগত বিবেচনার উপরে।
সুতরাং যতই ব্যলান্সড হোক না কেনো, আদতে এটার সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা নির্ভর করবে চর্চার উপরে, কে কোন অংশকে গুরুত্ব দিয়ে চর্চা করছে তার উপরে এর সাফল্য ব্যর্থতা নির্ভর করবে।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
পড়লাম। নজরে রইলো।
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
অনেক কিছু জানলাম, কিন্তু আসলে বুঝি নাই যে কী বুঝাতে চাইছেন !!গ্রীসের সেই রীতি, বা সবার সামনে নেচে যৌনত্তেজিত করার রীতিকে কী সাপোর্ট করলেন, নাকি দেখাইলেন যে এটা ঠিক না ??? !!!
ধরতে পারলাম না।
যাউক, যৌনতার সাথে কী ভালবাসার কোন সম্পর্ক নাই ?? এটা কী শুধু ক্ষিধা পাইল, তাই খাইলাম ??? একজনের সাথে আরেকজনের পার্টনারশীপ তাহলে কেন হবে?? মানে, ধরেন, একটা ছেলে গোষ্ঠীর বিভিন্ন মেয়ের সাথে স্নগম করে বেড়াচ্ছে, একই ভাবে মেয়েটাও। তাহলে, ওদের পার্টনারশীপ কীভাবে হবে ? মানে, একজন কী আরেকজনকে কখনও বিশ্বাস করতে পারবে ?? মনে হবে না যে আজকে রাতে আমি ওর সাথে যেটা শেয়ার করছি, কালকে রাতে আমার বন্ধুর সাথে সেই কথা তুলে আমাকে নিয়ে ওরা হাসাহাসি করবে ?????
বহুবিবাহতেও একই সমস্যা। তাও একটা পরিবার। যদিও অকারণে বহুবিবাহ করলে জুতা মারা উচিত। অর্থনোইতিক বন্টনের জন্যই বিবাহ। যেই পার্টনারের সাথে আমার বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে উঠল না, আমি মারা যাবার পর আমার সম্পত্তি তাকে কেন দিয়ে যাব??
কথা হচ্ছে, যৌনতার সাথে বিশ্বাসের সম্পর্ক দুই রকম। একটা প্রথমেই বলেছি, ফিলিংসের শেয়ার করাটা। অবাধ যৌনতায় আমি মনের মত কাউকে পাব না। আরেকটা হল,ইচ্ছার স্যাক্রিফাইস। আমার যতই কষ্ট লাগুক, আমি তোমাকে ছেড়ে ওই ব্যটার কাছে যাব না, তোমাকে মনে রাখব, দরকার হলে কষ্ট করব। এই যে "মনে থাকা" এটার উপরেই পার্টনারশীপ।
আর, পার্টনার চয়েস করার সময় গ্রীকদের মত বা আফ্রিকানদের মত যৌনতাকে বেইজ করে চয়েস করাটা গাধার কাজ। এটা করতে হবে মনের মিল দেখে। আর, আমি বিশ্বাস করি, কেউ কখনও মনের মত কাউকে পায় না, বরং যাকে পায়, তাকেই মনের মত করে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে, তাকে আমার মত পাওয়ার জন্য তার যৌনাচরণের একটা সীমা ত থাকতেই হবে। তাই না ?
লেখক বলেছেন: যৌনতা শাররীক চাহিদা, সে চাহিদা নতুন প্রজন্ম সৃষ্টির প্রেষণা চিহ্নিত হতে পারে, কিন্তু সেটার সাথে মানসিকতার সম্পর্ক ব্যাস্তানুপাতিক।
জীবজগতের স্বাভাবিক নিয়মে ডিম্ব পরিপূর্ণতা পায়, যদি স্তন্যপায়ী কিংবা মেরুদন্ডী প্রাণী হয়, ডিম্ব একটা নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে ২৪ ঘন্টা থেকে ৭২ ঘন্টা সময় পর্যন্ত।
সে সময়ে স্ত্রী প্রজাতীর জীব সুঠাম এবং বলিষ্ট কাউকেই শয্যাসঙ্গী হিসেবে চায়, পাখী কিংবা বানর কিংবা মানুষ, প্রত্যেক প্রজাতির পুরুষই তখন নারীর সামনে গিয়ে নিজেদের মেলে ধরে,
এই সময়টা অতিক্রান্ত হলে নারীজীব বিশ্বস্ততার দিকে ঝুঁকে, বিষয়টার জৈবিক কারণ যেমনই হোক না কেনো, এই বিশ্বস্ততার ধারণা আমাদের সামাজিক এবং নৈতিক শিক্ষার ফল।
সামাজিক স্থিরতা আনবার জন্য আমাদের নিজস্ব যৌনচাহিদার উপরে কিছুটা সামাজিক নিয়ন্ত্রন আরোপ করা হয়েছে, সেই আরোপিত সামাজিক নিয়ন্ত্রন আমাদের একমুখাপেক্ষী হতে প্রেষণা জোগায়।
কোনটা সঠিক পথ এবং কোনটা বেঠিক পথ, এমন নির্দেশনা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। আমি আমার চর্চিত সংস্কৃতির জায়গা থেকে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবো আপনি আপনার সাংস্কৃতিক অনুভব থেকে তার চেয়ে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছালেও সেটাই আপনার জন্য উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।
আকাশ_পাগলা বলেছেন:
সে সময়ে স্ত্রী প্রজাতীর জীব সুঠাম এবং বলিষ্ট কাউকেই শয্যাসঙ্গী হিসেবে চায়, পাখী কিংবা বানর কিংবা মানুষ, প্রত্যেক প্রজাতির পুরুষই তখন নারীর সামনে গিয়ে নিজেদের মেলে ধরেজীবজগতের চিরসত্য কথা। তাও কি সব ছেলেরাই মেয়েদের সামনে নিজেকে মেলে ধরে ??? হ্যাঁ, সবারই ইচ্ছা করে, কিন্তু, ইচ্ছা হলেই কী সব ছেলে তা করে ? মেয়েরাও এগিয়ে আসে।
-----------------
যাহোক, পশুপাখি চিন্তা করতে পারে না, আমরা পারি। পশুপাখির বেলায় নৈতিকতার প্রশ্ন আসে না, আমাদের বেলায় আসে/আমি ব্যক্তিগত ভাবে কোন সংস্কৃতি মানি না। মানতেও চাই না। যেটা উচিত সেটা করব, যেটা উচিত না সেটা করব না।
এখন উচিত আর অনুচিতের প্রশ্ন আসে। এই ব্যাপারটা যতদিন আমরা সংস্কৃত নামের একটা গণ্ডিতে থেকে বিচার করব, ততদিন যুক্তি না বরং রীতি দিয়ে বিচার করা হবে যে কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল।
এখানে, খেয়াল রাখতে হবে, একটা বিষয়ে একেক সংস্কৃতি একেক মতামত দেয়। একটা না মত একটা যুক্তির বিচারে শুধু সেই বিষয়ের জন্য ঠিকই টিকবে। মানে, বুঝাতে চাচ্ছি, একেক সংস্কৃতির একেক বষয় হয়ত ঠিক হবে, বা যুক্তির সাথে মিলে যাবে।
আসল কথায় আসি, জীবজগতের মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণি এত অনুভূতি রাখে না। তারো জীবিকার খোজে যায়, আপনিও অফিসে যান। কিন্তু, তারা অফিসে যেয়ে বসকে মনে মনে গালি দিতে পারে না। জীবজগতের বাকি সদস্যরা কী করে আর না করে, সেটা দিয়ে মানুষের বিচারের দরকার নেই। আমরা বিচার করব, কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক।
তরুণ বয়সে যার সাথে ইচ্ছা তার সাথে চলে যাওয়াটা এর সামনের সময়ে একটা অনিশ্চয়তার তৈরি করে। এটা শুধু সামাজিক ভাবে না, মানসিক ভাবেও। সামাজিকতা বাদই দিলাম, মানসিক ভাবেও এই অবাধ যৌনাচরণের সমাজে আমি বিশ্বস্ত কাউকে পাব না। আমি মনে করি, মানুষের জন্য এর চেয়ে বড়ো কষ্ট আর কিছু হতে পারে না।
বিশ্বস্ততার সাথে অবাধ যৌনাচরণের কী সম্পর্ক সেটা আমি আগেই বলেছি, তাই আর রিপিট করলাম না।
একসময়ে কালোদের অত্যাচার করাটাও রীতি ছিল,ঞ্জাতপ্রথা মানা হত, ক্রীতদাসও রীতি ছিল। হোক তা রীতি, অথবা কোন ধর্মের কিছু। যা খারাপ তা খারাপ। যুগ যুগ ধরে মানুষ মেনে আসলেই তা ঠিক হয় না, টিকে থাকলেও যা ভুল তা ভুল।
মন বলে মস্তিষ্কের একটা অংশ আছে মানুষের, কীভাবে যেন সবকিছুতে এটা নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। একটা ছেলে যেই গোষ্ঠীতে একেকবার একেক মেয়ের সাথে যা ইচ্ছা করতে পারছে, এটা সত্য যে সেই সমাজে ছেলেদের মাঝে রেষারেষি থাকবে না। কিন্তু, ডাইনিং টেবিলে পাশাপাশি রাখা চেয়ারগুলারও রেষারেষি নেই। মনের তৃপ্তি ছাড়া মানুষ আর চেয়ারের পার্থক্য কী ?
আফ্রিকার সেই উপজাতিরা যারা সব মেয়ে ছেলে যার যা ইচ্ছা করতেছে, তারা কী প্রেয়সী নিয়ে কবিতা লেখে ? তাদের প্রেয়সী কে হয়, গোষ্ঠীর সবাই ? কী জানি।
লেখক বলেছেন: আসলে প্রশ্নগুলো আমার জন্যে না, এই প্রশ্নগুলো আপনার নিজের কাছে নিজের প্রশ্ন। নিজেকেই এটার উত্তর খুঁজে নিতে হবে।
মানুষের নৈতিকতাবোধ নিয়ে আমার নিজস্ব ভাবনা হয়তো আপনার সাথে মিলবে না। তবে প্রশ্নের চেয়ে আক্ষেপ বেশী আপনার লেখায়।
খেক খেক বলেছেন:
অসাধারন লিখেছেন ভাইভাল লাগল ।
প্লাস কিভাবে দিব??
রেটিং কিভাবে দিতে হই একটু জানালে ভাল হয়।
আমি সামুতে নতুন।তাই জানি না।
লালসালু বলেছেন:
আগে জানলে পুরোহিত হতাম
শরীফ উদ্দীন বলেছেন:
আপনার এই পোষ্টটা পড়লাম। বেশ ভালই লাগল। সময় কয়ে সবগুলো পোষ্ট পড়ার ইচ্ছা রইল। এখানে আপনি মুলত এধরনের পোষ্ট দিয়ে কি বুঝাতে চেয়েছেন তা আমার কাছে এখনো স্পষ্ট না। যাই হোক, আরেকটা ব্যপার তা হলো "রাসুল সঃ বর্ণিত হাদিসের প্রায় অর্ধেক যোণতা সম্পর্কিত এটার সাথে একমত হতে পারলাম না। ইসলাম শুধু ধর্ম নয় একটা পরির্পূর্ণ জীবন বিধান হিসেবে মানব জীবন প্রয়োজনিয় খুটিনাটি সব বিষয়ে সমাধান দিয়ে গিয়েছে। সেখানে যৌণতা আছে, রাজনীতি আছে, অর্থনীতি আছে, আছে রান্নাঘর থেকে পার্লামেন্ট পর্যন্ত সব। তাই বলে শুধু যৌণতা নিয়েই যদি অর্ধেকের বেশি হাদিস থাকে তবে অন্যান্য বিষয়গুলো কি কম গুরুত্ব পেলনা? কিন্তু যৌনতা যেমন গুরুত্বপূর্ন অন্যান্য বিষয়গুলোও সম গুরুত্ব রাখে। যাইহোক অর্ধেকের বেশি বর্ণিত হাদিস যোনতা নিয়ে এ কথার সাথে আমি একমত হতে পারলাম না। তবে দেখি সময় সুযোগ করতে পারলে গুনে দেখার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ আপনাকে। সুন্দর পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ। সাথে প্লাস ফ্রিইইইইইইইইইই্
জইন বলেছেন:
ভাল লিখেছেন, ভাল লেগেছে.......... আপনার লেখার উদ্দেশ্যটা বুঝলাম, ধন্যবাদ
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















