খাদিজার জন্ম বনি হিশাম গোত্রে, তার পিতার নাম খোয়ালেদ, কিংবা খালিদ, দাদার নাম, আসাদ, পরদাদার নাম আব্দুল উজ্জা, এবং তার পিতার নাম কুসেয়...............
মোহাম্মদের জন্মও বানি হিশাম গোত্রে- পিতা আব্দুল্লাহ, দাদা আব্দুল মুত্তালিব, দাদার পিতা, হাশিম, তার পিতা আবদ মানাফ, এবং তার পিতা কুসেয়-
সেই বিবেচনায় খাদিজা আদতে জ্ঞাতি সম্পর্কে মুহাম্মদের ফুপু।
বানি হিশাম গোত্র, বংশানুক্রমে কা'বার রক্ষক, এদের সবাই মুর্তিপূজারি নয়, বরং এদের ভেতরে অনেকেই একেশ্বরবাদী, তবে তাদের সাথে কোনোভাবেই ইহুদি কিংবা খ্রীষ্টানের যোগসূত্র ছিলো না।
তারা ইব্রাহিম এবং তার পূত্র ইসমাইলের ধর্ম অনুসরণ করতো।
খালিদ কিংবা তার পিতা আসাদের গোত্রের একজন ওয়ারাকা বিন নওফল,
একেশ্বরবাদী, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ধর্মে আকৃষ্ট ছিলো না। অন্তত ৫৯৫ সাল পর্যন্ত বিষয়টা সত্য।
খাদিজার বাবা মারা যায় ৫৭৫ সালে, এবং মা মারা যায় ৫৮০ সালে, এবং এরপর খাদিজা নিজেই পিতার ব্যবসার হাল ধরেন।
যদিও ইতিহাসে তাকে দুই বার বিবাহিত বলা হয়েছে কিন্তু তার স্বামীদের সম্পদের উত্তরাধিকারী হিসেবে সে ব্যবসা পরিচালনা করেছে এমন নয়। সুতরাং একটা অনুমান হতে পারে সে ছিলো অবিবাহিত, এবং মুহাম্মদকেই সে প্রথম বিবাহ করেছিলো।
তার সততা এবং গুণমুগ্ধ হয়ে আরবেরা তাকে "তাহিরা" উপাধি দিয়েছিলো, ধনসম্পদের জন্য তার উপাধি ছিলো মক্কার রাজকন্যা।
তার বোনের তিন মেয়ে জয়নব,রুকাইয়া এবং উম্মে কুলসুম, তারা মোহাম্মদের কন্যা নয়, রুকাইয়া এবং উম্মে কুলসুমের সাথে বিয়ে হয় উসমান বিন আফ্ফানের। তার আগে এদের বিয়ে হয়েছিলো আবু লাহাবের সন্তানের সাথে।
জয়নবের বিয়ে হয় আবুল আস ইবনে আর রাবি- মদিনা হিজরতের পরে কুরাইশদের সাথে প্রথম যুদ্ধে যুদ্ধবন্দি হিসেবে ধৃত, এবং পরে মুহাম্মদ তাকে মুক্তি দেন, সে ইসলাম গ্রহন করে এবং মদিনায় হিজরত করে পরবর্তীতে।
এই হিজরতের সময় জয়নব আহত হয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যু বরণ করে মদিনায়???
এই হত্যার প্রতিশোধ নিতে মুহাম্মদ অপরাধীকে জীবিত পুড়িয়ে মারবার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে সে আদেশ রদ করে বলেন পুড়িয়ে মারবার একমাত্র অধিকার আল্লাহ'র।
যদি এই ঘটনা সত্য হয়, তবে উসমান সে হিসেবে মুহাম্মদের জামাই নয়- সুন্নিরা এই ইতিহাস অস্বীকার করে জয়নব, রুকাইয়া এবং উম্মে কুলসুমকে মুহাম্মদের মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায়- কিন্তু কেনো?
যদি খাদিজা ন্যুনতম ২০ বছর বয়েসে ব্যবসার হাল ধরেন তাহলেও তার বয়েস ৫৯৫ এ হয় ৩৫। এমনও হতে পারে সঠিক বয়েস না জানা থাকলেও সেটা ৩০ থেকে ৩৫ এর আশেপাশে হবে, এর বেশীও হতে পারে, কিন্তু অবিবাহিত খাদিজার মৃত দুই স্বামীর নাম কোথাও পাওয়া যায় না কেনো?
-------------------------------------------------------------------------------
তবে মূল প্রশ্ন এটা না, মূল প্রশ্ন মুহাম্মদ বনি হিশাম গোত্রের প্রতিনিধি হিসেবে ইসমাইলের বংশধর, এবং ঈসা, মুসা এরা সবাই ইসহাকের বংশধর??
বনি হিশাম কোনোভাবেই এই ধর্মের সাথে সংযুক্ত নয়, কিন্তু একেশ্বরবাদের যে ইতিহাস বনি হিশাম চর্চা করেছে সেটার ইতিহাসের সাথে সম্ভবত ঈসা মুসার ইতিহাসের পার্থক্য ছিলো।
কিংবা যে গল্প প্রচলিত ছিলো আরবে সেটা হয়তো মদিনা কিংবা অন্য কোথাও প্রচলিত ছিলো না, মুহাম্মদের সাথে ইহুদিদের শান্তি আলোচনা এবং নবুয়ত নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যায় একটা ফেরেশতার কারণে,
জিব্রাঈল এবং মিকাইলের ভেতরে যদি তফাত না থাকতো তবে জেরুজালেম নিয়ে পৃথিবীতে এত রক্তক্ষয় হয় না।
মুসলিম ট্রাডিশনে জিব্রাঈল সকল ইশ্বরের বার্তা নিয়ে আসে মর্ত্যে, মিকাইল শুধু বৃষ্টি বন্যা, এইসব প্রাকৃতিক বিষয়াদি দেখভাল করে,
অন্য দিকে এই মিকাইল ইহুদিদের সকল সুসংবাদ বয়ে নিয়ে এসেছে, জিব্রাঈল ইহুদিদের শুধুমাত্র দুঃসংবাদ বহন করে আনতো।
-------------------------------------------------------------------------------
মুহাম্মদ মদিনায় হিজরত করার কারণ কি মাতৃভুমিতে পদার্পন? আমিনা মদিনার মেয়ে, পিতৃভুমি মুহাম্মদকে রিক্ত ফিরালেও মাতৃভুমি তাকে হতাশ করে নি।
--------------------------------------------------------------------------
মুহাম্মদ যে ইশ্বরের প্রেরিত পুরুষ হতে পারে এই অনুমান কিংবা বিশ্বাস মুহাম্মদের ভেতরে প্রবিষ্ট করবার হোতা কে? খাদিজা, না ওয়ারাকা বিন নওফল?
-------------------------------------------------------------------------
মুহাম্মদ বাণিজ্য থেকে ফিরে কা'বাকে ৭ বার প্রদিক্ষণ করেছিলো, অন্যান্য বণিকেরাও কা'বায় গিয়ে ৭ বার প্রদিক্ষণ করে আসতো। এটা সে সময়ে অবিশ্বাসী কিংবা বিশ্বাসী, একেশ্বরবাদী কিংবা বহুইশ্বরবাদী সকলের স্থানীয় সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ঠ্য ছিলো।
কিন্তু ইসলাম কেনো এটাকে হ্বজ্জ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলো এবং ঈমাণদার স্বচ্ছল বান্দাদের জন্য ফরজ করলো?
আরবের মাটির তলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ার পরে এরা এই একটা ব্যবসা করে অন্তত টিকে থাকতে পারবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


