somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিডিআরদের সেনা আইনে বিচার করা অনৈতিক হবে

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link

যেকোনো আইনের একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে, সেই লক্ষ্য পুরণের জন্য আধুনিক রাষ্ট্র একটি নির্বাচিত আইনী পরিষদ তৈরি করেছে, আদালত ও বিচার ব্যবস্থার বিকাশ ঘটেছে, এবং বিদ্যমান আইনের কাঠামোতে কিছুটা জড়ত্ব আছে বলেই রাজার মুখের কথাই আইন জাতীয় স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়েছে।

আইনের কেতাবের সুচনায় একটা বক্তব্য দেওয়া আছে, যেকোনো অপরাধের বিচার হবে অপরাধ সংঘটনকালীন সময়ে বিদ্যমান আইনের আওতায়, অর্থ্যাৎ যদি ভবিষ্যতে কোনো কারণে কোনো আচরণ অপরাধ বিবেচিত হয়, সেই আইন প্রযুক্ত হওয়ার সময় থেকেই এটাকে অপরাধ বিবেচনা করতে হবে, পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো এই আইনের আওতায় বিচার করা যাবে না।

জনসমাগমস্থলে প্রকাশ্যে ধুমপান এখন নিষিদ্ধ এবং সেটা অপরাধ, কিন্তু এই আইন বলবত হওয়ার আগে যারা প্রকাশ্যে ধুমপান করেছে, তাদের এই আইনের আওতায় অপরাধী ঘোষণা করা যাবে না, এটা হলো আইনের কেতাবের সূচনার কথা।

তবে এইসব আইনের পেছনদরজা আছে, আইন প্রয়োগ হইবার সময়কাল প্রজ্ঞাপনে নির্ধারণ করে দেওয়া যায়, সুতরাং পেছনের তারিখ দিয়ে আইন জারি করা সম্ভব। এবং সরকার সেনাবাহিনীর মনোবাঞ্ছা পুরণের জন্য এমন একটা উদ্যোগ নিচ্ছে- বিডিআর বিদ্রোহ যখন সংঘটিত হয় তখন বিডিআর এবং এখানে প্রেষণে নিযুক্ত সকল সেনাকর্মকর্তাই বিডিআরদের জন্য নির্ধারিত আইন মোতাবেক এখানে কর্মরত ছিলেন, তাদের সেনাআইনে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে, শেখ হাসিনাকে প্রায় অপহরণ করে সেনাছাউনিতে অবরুদ্ধ করে এই আব্দার জানিয়েছিলেন সেনাকর্মকর্তাগণ।

আমাদের উজবুক বাণিজ্যমন্ত্রী যিনি প্রাক্তন সেনাকর্মকর্তা, তিনি বিডিআর বিদ্রোহের তদন্তের সমন্বয়কারী ছিলেন, এবং সেনাবাহিনীও এই বিদ্রোহীদের আটক করবার জন্য কিংবা হত্যা করবার জন্য অপারেশন রেবেলহান্ট শুরু করেছে এবং এই অপারেশন রেবেলহান্টের কার্যক্রম এখনও অব্যহত আছে।

সেনাবাহিনীর উচ্ছৃঙ্খল সদস্যদের আব্দার পুরণের জন্য ব্যাকডেট দিয়ে আইন কার্যকর করে বিডিআরবিদ্রোহীদের বিচার সেনাআইনে করার সাম্ভাব্যতা নিয়ে একটা আলোচনা চলছে আদালতে। এটা যদি বাস্তবায়িকত হয় তবে সেটা হবে আমাদের সেনাবাহিনীর আব্দারের কাছে নতজানু হওয়া। সেটা কাম্য নয়

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে সবারই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে এবং আইনের কেতাবের প্রচলিত বিধিকে পাশ কাটিয়ে যখন কোনো আইন প্রয়োগ করা হয় তখন সেটার উপযুক্ততা বিচার করতে হয়, এমন কি অনিবার্যতাও বিচার করতে হয়। ১৯৭৩ সালে দালাল আইনের আওতাভুক্ত ছিলো ১৯৭১ সালে কৃত অপরাধসমুহ, এটার গ্রহনযোগ্যতা কিংবা বাস্তবতা ছিলো, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের নেপথ্যে যে রক্তাক্ত ইতিহাস, যে নির্বিচার গণহত্যার ইতিহাস এবং এর ন্যায় বিচারের দাবি উত্থাপিত হয়েছিলো, সেটা গণদাবি এবং এই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নির্যাতিত সকল পক্ষেরই ছিলো, সুতরাং এই আইনের প্রয়োগ ও সূচনাকাল নিয়ে দ্বন্দ্বের অবকাশ নেই, কিন্তু বিডিআরবিদ্রোহ কিছুটা সেনাকর্মকর্তাদের নিজস্ব গলদে হয়েছে, কিছুটা হয়েছে বিদ্যমান অব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ায়,এবং অন্য কোনো আইনে এর বিচার হলে ন্যায়বিচার বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কাও নেই এখানে।

এরপরও সেনাবিদ্রোহ আইনে বিচার করে গণহত্যার উস্কানি দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের জন্য খুব একটা মঙ্গলজনক কিছু হবে বলে মনে হয় না আমার। বরং বিদ্রোহের বিচারের জন্য বিডিআরের নিজস্ব আইন আছে, সেটার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয় মনে হলে প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় এর বিচার দাবি করা যায়, কিন্তু এরজন্য সেনাসদস্যদের জন্য প্রচলিত আইনে বিডিআরদের বিচার করতে হবে এমন উদ্ভট দাবি মেনে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।

প্রতিটা বাহিনীর নিজস্ব নীতিমালা আছে, এবং সেসব নীতিমালা মেনেই সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বিধিমোতাবেক দেশসেবা করছেন, এখন তাদের নীতিমালাবহির্ভুত অন্য কোনো আইনে তাদের বিচার করে তাদের দ্রুত মৃত্যুর ব্যবস্থা করে দেওয়া নীতিসঙ্গত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রাষ্ট্র তার নাগরিকদের প্রাপয় ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিক এবং প্রশিক্ষিত খুনিদের কাছে মাথা নত না করুক, বাংলাদেশের সরকারের কাছে এটুকুই প্রত্যাশা।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×