somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাত্রশিবিরের প্রাণঢালা ধন্যবাদ ছাত্রলীগকে ... ! !

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাণঢালা ধন্যবাদ দেওয়া উচিত ছাত্রলীগকে। কেননা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অগ্রপথিক বলে পরিচিত ছাত্রলীগ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর চট্টগ্রামে হরতাল পালনের সুযোগ করে দিয়েছে তাদের। এই ছাত্রসংগঠনটি এত দিন বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আড়ালে-আবডালে কাজ করলেও এখন প্রকাশ্যে হরতাল পালন করছে, গাড়ি ভাঙচুর করছে; শিক্ষক ও প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর চড়াও হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সমাবেশ ডেকে শিবিরের নেতারা এই বলে হুমকি দিয়েছেন, ছাত্রলীগের বেপরোয়া সন্ত্রাস বন্ধ না হলে তাঁরা প্রয়োজনে দেশের সব ক্যাম্পাসে ধর্মঘট ও ক্লাস বর্জন করবেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ভরাডুবির পর শিবির অনেকটা আড়ালে চলে গিয়েছিল। তাদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রকাশ্যে তৎপরতা চালাতে সাহস পায়নি। এবার ছাত্রলীগ দুজন শিবিরকর্মীকে হত্যা করে শিবিরকে সেই ‘সাহস জুগিয়েছে’।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও শিবিরের সংঘর্ষের পেছনে কোনো আদর্শগত দ্বন্দ্বের কথা শোনা যায়নি। ঘটনার সূত্রপাত খেলার মাঠের হাঙ্গামা নিয়ে। খেলার মাঠের বিরোধ শ্রেণীকক্ষে গড়ায় এবং সেখান থেকে দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা, চাপাতি ও রামদা নিয়ে একে অন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শিবির কয়েকজন ছাত্রলীগের কর্মীর মাথা ফাটিয়েছে, কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তারা কত দিন ধরে ক্যাম্পাসে মাস্তানি করে বেড়াচ্ছে, তার সবকিছুই চাপা পড়ে গেছে দুজন শিবিরকর্মীর নিহত হওয়ার ঘটনায়। যেকোনো মৃত্যুই শোকের। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আরও কয়েক দফা বন্ধ ছিল—কখনো ছাত্রলীগের সঙ্গে উপাচার্যের বিরোধের কারণে, কখনো ছাত্রলীগ-শিবির দ্বন্দ্বের কারণে। কয়েক মাস ধরে যখন ক্যাম্পাসে মোটামুটি সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছিল, তখনই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। পরিণতিতে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় এক মাস শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা-ক্লাস হবে না। গতকাল কয়েকটি পত্রিকায় চিরাচরিত সেই ছবি ছাপা হয়েছে: শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এই যে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি মাস হারিয়ে গেল, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে—বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, সরকার, ছাত্রলীগ না শিবির? ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এতটাই আদর্শবান যে শিবিরের কর্মীকেও তাঁদের কর্মী বলে দাবি করেছেন। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব আর কাকে বলে?
এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কখনো নিজেদের মধ্যে মারামারি করে, কখনো প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস মানেই ছাত্রলীগ। গত ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনটির পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগকে চরিত্র বদলানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, ছাত্রলীগের চরিত্র ঠিক নেই। একবার তিনি রাগ করে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন। ছাত্রলীগের চরিত্র এতটাই অনড় যে এ ধরনের রাগ-অভিমানে তা বদলাবে না। এ জন্য চাই কঠিন শাস্তি। প্রধানমন্ত্রী বা আওয়ামী লীগের নেতারা যতই ছাত্রলীগের গায়ে হাত বোলান না কেন, তাঁরা একটার পর একটা ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরিয়ে চলেছেন। এখন ছাত্রলীগ মানেই আতঙ্ক। শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে যে বই তুলে দিয়েছিলেন, তাতে ধুলো জমলেও চাপাতি-কিরিচগুলো চকচক করছে। ছাত্রলীগের কর্মীরা পড়াশোনার ব্যাপারে ‘না’ বললেও সন্ত্রাসকে ‘হ্যাঁ’ বলছেন, হল দখলকে ‘হ্যাঁ’ বলছেন; ‘হ্যাঁ’ বলছেন টেন্ডারবাজি-দখলবাজিকেও।
যে ছাত্রলীগ এখন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে মহাপ্রতাপ দেখাচ্ছে, মারামারি করছে, সেই ছাত্রলীগ কিন্তু ২০০৭-০৮ সালে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিপদের দিনে গর্তে লুকিয়ে ছিল। শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে তখন মতিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে নারীকর্মীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরনা দিলেও ছাত্রলীগের ‘দুঃসাহসী নেতা-কর্মীদের’ দেখা যায়নি। দেখা যায়নি ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াতের প্রচণ্ড প্রতাপের সময়ও। ছাত্রলীগের এই ‘বসন্তের কোকিলেরা’ সরকার ও প্রশাসনের ওপর ভর করে দৌরাত্ম্য চালাচ্ছে।
শিবির ও ছাত্রদল এই বলে আশ্বস্ত হতে পারে যে ছাত্রলীগের হাতে তাদের যতজন নেতা-কর্মী মারা গেছে, তার চেয়ে বেশি ছাত্রলীগের কর্মী মরেছে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার মেয়াদ যত শেষ হয়ে আসছে, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ততই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
ছাত্রলীগ কতটা জনপ্রিয় সংগঠন, তা সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচন দিয়ে একবার পরীক্ষা করে দেখতে পারে। সামরিক শাসনামলে সর্বশেষ ডাকসুর নির্বাচন হয়েছে। এরপর কোনো সরকারই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচন দেয়নি।

সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:২৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×