somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীনতার ঘোষণা, একটি জাতির জন্ম ও শহীদ জিয়ার ঘোষক বিতর্ক

২৬ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ৯:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ ২৬শে মার্চ। ৪৩তম মহান স্বাধীনতা ও লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত জাতীয় দিবস আজ। বিশ্বের বুকে লাল সবুজের পতাকা ওড়ানো দিন আজ। ১৯৭১-এ বীর সেনানীদের রক্তে আর বঙ্গ মাতার অশ্রুধারায় ভেসে গিয়েছিল এই দেশের মাটি। সাতচল্লিশে ভারত বিভক্তির পর আমাদের এতদঞ্চলের বাসিন্দাদের উপর যে অপ্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও নির্যাতন চাপিয়ে দেওয়া হয় তাহার বিরুদ্ধে জনতার সংগ্রামী কাফেলা বার বার প্রতিবাদে গর্জাইয়া উঠেছে।


শেরে বাংলা ফজলুল হক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙলার মানুষ তাহাদের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে অকুতোভয়ে। তার ধারাবাহিকতায় আমরা প্রতিবাদ করে আজ হতে চল্লিশ বৎসর পূর্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পরাধীনতার বক্ষ বিদীর্ণ করে আমরা স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যকে ছিনিয়ে এনে ছিলাম। মহান সেই স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবেসে অগনিত শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক অভিনন্দন। সামু ব্লগের সকল ব্লগার বন্ধুদেরও আন্তরিক শুভেচ্ছা ।


২৫শে মার্চ ১৯৭১, এই কালো রাত্রিতে বর্বর ইয়াহিয়া বাহিনী ঢাকায় নিষ্ঠুরভাবে বাংলার নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষকে নির্বিচারে হত্যা শুরু করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধরে নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু বর্বর বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের নীললকশা আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিঁনি যানতেন তাকে গ্রেফতার করা হবে। তাই তাঁকে ধরে নিয়ে যাবার আগে বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিকে দিকে যে বার্তা প্রেরণ করেছিলেন, সেই বার্তার একটি কপি পেয়ে ছিলেন আগরতলা যড়ন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি কমাণ্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী।
নিম্নে বার্তাটির ফটো কপি সংযুক্ত করা হলোঃ


বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার খবর জিয়াউর রহমানকে প্রথম অবহিত করেন কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম (অব.)। সেনাবাহিনীতে চাকরিরত থাকাকালীন কর্নেল অলির বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের (এসিআর) পঞ্চম পৃষ্ঠায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।


এসিআর থেকে জানা গেছে, বিএসএস-৯৭০৬ অলি আহমদ সম্পর্কে ১৯৭৪ সালের ৮ মার্চ ব্রিগেড কমান্ডার মীর শওকত আলীর ইংরেজিতে করা মন্তব্য ছিলঃ 'এই কর্মকর্তার অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা। তিনি কঠোর পরিশ্রমী এবং পদমর্যাদা অনুযায়ী তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের চেয়েও বেশি দায়িত্ব পালনে সক্ষম। সঠিক নির্দেশনা পেলে তিনি সেনাবাহিনীতে সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হবেন। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। বস্তুত তিনিই প্রথম কর্মকর্তা, যিনি ঝুঁকি নিয়ে নিজ উদ্যোগে একাত্তরের ২৫/২৬ মার্চ রাতে স্বাধীনতার ঘোষণার খবর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে অবহিত করেন।


'এদিকে ২০ আগস্ট ১৯৭৪ জিয়াউর রহমান (ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ) হিসেবে একই পৃষ্ঠায় ইংরেজিতে মন্তব্য করেনঃ
'তিনি (কর্নেল অলি আহমদ) খুবই অনুগত, সাহসী ও চৌকস অফিসার। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও উদ্যমী।'


এই গোপন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অনেকেই বলেছেন ১৯৭১ সালের ২৫/২৬ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে জিয়াউর রহমানকে অলি আহমদের খবর দেওয়া প্রসঙ্গে মীর শওকতের এই প্রত্যয়ন এবং জেনারেল জিয়ার তাতে অনুস্বাক্ষরের পর জিয়া কি আর স্বাধীনতার ঘোষক থাকেন?


অথচ কিছু অর্বাচীন ও অতি উৎসাহীরা স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও বিতর্কের ঝড় তুলে কাউকে ছোট করতে গিয়ে তার প্রাপ্য সম্মান না দিয়ে নিজেরাই ছোট হয়ে যাচ্ছেন প্রতি পলে, প্রতি ক্ষনে। দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে তারা যার যার প্রাপ্য সম্মানটুকু প্রদর্শন করতে পারছেনা বলে প্রকাশ হয়ে পড়ছে তাদের কুৎসতি চেহারা। একাত্তরের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এ-দেশীয় দোসর এবং আজকের সেই দোসরদের নব্য অনুগত দোসররাও একই ভঙ্গিতে, একই মিথ্যাচারের মাধ্যমে সেই সময়কার নির্মম গণহত্যা আর নির্যাতনকারীদের সম্পর্কে অসচেতন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করে চলেছে।
আজ ৪২ বছর পরও মানুষকে তারা একইভাবে আক্রমণ করছে। হত্যা, লুট, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে দলীয় নীতির নামে, যা বাংলাদেশের মৌলিক নীতি যে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে, তার মূলে কুঠারাঘাত করে চলেছে। আজ স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তিকামী মানুষকে বলতে চাই, এ দেশকে দুর্বৃত্ত, জঙ্গি, রাজাকারদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য রুখে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। আমরা চাইনা এমন কোন বিতর্কে জড়াতে যাতে প্রকৃত ইতিহাস ঢাকা পড়ে কালির আচড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১২:৫৪
২৩টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা: ইতিহাসের প্রতি অবমাননা।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা: ইতিহাসের প্রতি অবমাননা।
=======================================
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যাঁরা অমর হয়ে আছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন তোফায়েল আহমেদ। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে মহান... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×