somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই মেলা'২০১১ দর্শন - আমার কেনা কিছু বই

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বছরের ফ্রেবুয়ারি মাস মানেই আনন্দ-উৎসব। মাস জুড়ে বই মেলা, পহেলা ফাল্গুন, ভালবাসা দিবস। মেলায় নতুন বইয়ের গন্ধ। বসন্তের ফুরফুরে হাওয়ায় নষ্টালজিয়ায় বুদ হয়ে ঘুরে বেরানো। সর্বোপরি রয়েছে বিশ্ব ভাষা দিবস "২১ শে ফ্রেবুয়ারি"। দিবসের প্রভাত ফেরি। (এই ফাকে চুপি চুপি বলে নেই এ দিনটা আমার জন্মদিনও বটে :)) আহা! আনন্দ। প্রতিটি কোনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে বাংলার চির চেনা ঐতিহ্য-অবগাহন।
বঞ্চনায় ভরা এই দেশে পরিবার প্রিয়জন নিয়ে ঘোরাঘুরির স্থানের অভাব কিছুটা হলেও পুরন করে দেশের এই সর্ব বৃহৎ বই মেলা। বই কেনা কিংবা কারন ছাড়াই চারুকলা ও তার আশে পাশে, টিএসসি, বাংলা একাডেমির চত্বরে ঘুরতে কখনই ক্লান্তি আসে না। উৎসব! উৎসব!! প্রিয় বই, লেখক-কবি, আপন সন্তানের মত বের হওয়া নতুন বই, প্রথম ভালবাসা! উত্তেজনা-আকর্ষন।

এখন কম্পিউটারে উজ্জ্বল পর্দায় এক মাউসের ক্লিকে কত আজব তথ্য চলে আসে চোখের পলকে। এরপরও বই এর চারকোনা মলাটের আবেদনের কমতি আছে কি ? চাইলেই সব বিখ্যাত বইয়ের পিডিএফ ফর্মে পেয়ে যাচ্ছি! আমি পারি না। মনিটরের স্ক্রিনে একদমই পড়তে পারি না। মাথা ধরে আসে।
শুয়ে বসে গড়াগড়ি দিয়ে বই পড়ার আনন্দই আলাদা। এই শাশ্বত আবেদন টিকে থাকবে অনন্ত কাল। স্বকীয়তা লালনে, সুস্থ মননশীলতা চর্চায় সর্ব শক্তি দিয়ে বই প্রকাশ শিল্পকে পৃষ্টপোষকতা করতে হবে আমাদের। এখানে লেখক, কবি, প্রকাশক, অবশ্যই পাঠকবৃন্দ সবার সমান ভুমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারকেও আর্থিক পৃষ্টপোষকতার সাথে সঠিক সম্মাননা দেয়ার বিষয়টা নজর দিতে হবে। এটা হবে বাড়তি পাওয়া। ভবিষ্যত প্রজন্মের বই পড়ার অভ্যাস রক্তে প্রথিত হওয়া চাই। এই চেষ্টায় নূন্যতম শিথিলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। এই কারনেই ইংল্যান্ড তথা সমগ্র ইংরেজ ভাষাভাষী দেশের মানুষরা "হ্যারী পর্টার" জাতীয় বই নিয়ে এত মাতামাতি করে। রুপ কথার বই হোক তবুও অন্তত শিশুদের পড়ার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে।

আজকে নিয়ে এই পর্যন্ত চারবার বই মেলায় যাওয়া হলো। আবোল তাবোল হাতে যা পেয়েছি তাই কিনে ফেলা হয়েছে। হুমায়ুন আহমেদ আর জাফর ইকবাল স্যারের এর মোটামুটি সব কটা বই প্রথমেই কিনে ফেললাম। আমার বউ আর শালী কুল এর প্রথম পছন্দ বলে কথা! এই বইগুলো নিয়ে অনেকের উন্নাসিকতা রয়েছে। আমি তাদের একটা কথাই বলি, দেশে নতুন প্রজন্ম যারা অসুস্থ বিজাতীয় সংস্কৃতিতে আসক্ত তাদেরকে বইমুখী করার জন্য এই বইগুলোর অবদান অগ্রগণ্য।

হুমায়ুন আহমেদের বই পড়লে মনের ভিতর এক ধরনের আবেগ বা ঘোর তৈরি হয়:|!! আর কোন লেখকের বইতে তেমনটা হয় না। সবাইকে ভাল মানুষ হিসাবে চিন্তা করতে শেখায়! উনি ভাল খারাপ সকল চরিত্রেরই কিছু পজিটিভ বৈশিষ্ট্য সামনে নিয়ে আসেন। ফলে আর যাই হোক হিন্দি সিরিয়ালের কুটনামি শেখা হতে দুরে থাকবে এই নতুন প্রজন্ম! আর কি চাই? সায়েন্স ফিকশনে জাফর ইকবাল স্যার অদ্বিতীয়।

আমাদের সামহোয়ার ইন ব্লগের অনেক লেখক এবার বই মেলার সময় বই প্রকাশ করেছেন। তার মধ্যে আমার প্রিয় কবি "স্বদেশ হাসনাইন" রয়েছেন।উনার কবিতার বই সংগ্রহ করলাম "দোতলার মানষ"। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় বইটা সংগ্রহ করতে পেরেছি। অটোগ্রাফ পেলাম ঠিকই! তবে কিঞ্চিত ভুল হয়ে গেছে :|। অটোগ্রাফটি অন্য কারে নামে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখা। কার জন্য অটোগ্রাফটা লেখা ছিল উনিই ভাল বলতে পারবেন। আমি উনার সোনালী হস্তাক্ষরে লেখা স্বাক্ষর পেয়েছি, তাহাই সই বলে ছোঁ মেরে নিয়ে নিলাম।

মেলায় থেকে "অপর বাস্তব ৫" কেনার আর একটা উদ্দেশ্য ছিল। তাও পূরন হলো। উৎসর্গ করা হয়েছে "ফেলানী ও সীমান্তে নিহত স্বজনেরা"। নতুন কিনলাম, পরে সময় করে পড়ে বিষয়বস্তু, ভালমন্দ, সমালোচনা ইত্যাদি করতে হবে। যদিও বেশির ভাগ লেখাই আগে সামুতে পড়া হয়েছে। এবার বাড়তি সংযোজন হচ্ছে প্রতিটি লেখার পর কিছু নির্বাচিত মন্তব্য যোগ। আমার একটা মন্তব্য (দ্বিতীয় পাতার প্রথমে লাইনেই:D) স্থান পেয়েছে দেখে চরম পুলকিত হলাম:):)

(সবাই মোটা মোটা বই প্রকাশ করছে মেলায়, আমি না হয় এতটুকু লেখা দিয়েই গর্ব প্রকাশ করছি:))
অনেক ব্লগার (মন্তবিস্ট) এর নাম আর মন্তব্য এই বইতে স্থান পেয়েছে। আপনার নাম-মন্তব্য বইটিতে স্থান পেয়েছে কিনা চেক করতে "আগে আসলে আগে পাবেন" ভিত্তিতে বইটি কিনে ফেলতে পারেন। দ্রুত! শেষ হয়ে যেতে পারে!! :P

আরো প্রিয় কিছু লেখক আর ব্লগারের বই এখনও কেনা হয়নি। সব বই একবারে কিনলে পরে যে কবার মেলায় যাবো তখন শুধু শুধু "উইন্ডো শপিং" (যথার্থ বাংলা অর্থ কি হতে পারে?) করতে হবে। তাই জমা থাকুক। সময় এখনও ঢের বাকি!! বই মেলায় ঘাঁটি গাড়া হয়েছে। দেখা যাক আর কয়টা বই বগল দাবা করতে পারি। :):)

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:২১
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×