
বছরের ফ্রেবুয়ারি মাস মানেই আনন্দ-উৎসব। মাস জুড়ে বই মেলা, পহেলা ফাল্গুন, ভালবাসা দিবস। মেলায় নতুন বইয়ের গন্ধ। বসন্তের ফুরফুরে হাওয়ায় নষ্টালজিয়ায় বুদ হয়ে ঘুরে বেরানো। সর্বোপরি রয়েছে বিশ্ব ভাষা দিবস "২১ শে ফ্রেবুয়ারি"। দিবসের প্রভাত ফেরি। (এই ফাকে চুপি চুপি বলে নেই এ দিনটা আমার জন্মদিনও বটে
বঞ্চনায় ভরা এই দেশে পরিবার প্রিয়জন নিয়ে ঘোরাঘুরির স্থানের অভাব কিছুটা হলেও পুরন করে দেশের এই সর্ব বৃহৎ বই মেলা। বই কেনা কিংবা কারন ছাড়াই চারুকলা ও তার আশে পাশে, টিএসসি, বাংলা একাডেমির চত্বরে ঘুরতে কখনই ক্লান্তি আসে না। উৎসব! উৎসব!! প্রিয় বই, লেখক-কবি, আপন সন্তানের মত বের হওয়া নতুন বই, প্রথম ভালবাসা! উত্তেজনা-আকর্ষন।
এখন কম্পিউটারে উজ্জ্বল পর্দায় এক মাউসের ক্লিকে কত আজব তথ্য চলে আসে চোখের পলকে। এরপরও বই এর চারকোনা মলাটের আবেদনের কমতি আছে কি ? চাইলেই সব বিখ্যাত বইয়ের পিডিএফ ফর্মে পেয়ে যাচ্ছি! আমি পারি না। মনিটরের স্ক্রিনে একদমই পড়তে পারি না। মাথা ধরে আসে।
শুয়ে বসে গড়াগড়ি দিয়ে বই পড়ার আনন্দই আলাদা। এই শাশ্বত আবেদন টিকে থাকবে অনন্ত কাল। স্বকীয়তা লালনে, সুস্থ মননশীলতা চর্চায় সর্ব শক্তি দিয়ে বই প্রকাশ শিল্পকে পৃষ্টপোষকতা করতে হবে আমাদের। এখানে লেখক, কবি, প্রকাশক, অবশ্যই পাঠকবৃন্দ সবার সমান ভুমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারকেও আর্থিক পৃষ্টপোষকতার সাথে সঠিক সম্মাননা দেয়ার বিষয়টা নজর দিতে হবে। এটা হবে বাড়তি পাওয়া। ভবিষ্যত প্রজন্মের বই পড়ার অভ্যাস রক্তে প্রথিত হওয়া চাই। এই চেষ্টায় নূন্যতম শিথিলতা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। এই কারনেই ইংল্যান্ড তথা সমগ্র ইংরেজ ভাষাভাষী দেশের মানুষরা "হ্যারী পর্টার" জাতীয় বই নিয়ে এত মাতামাতি করে। রুপ কথার বই হোক তবুও অন্তত শিশুদের পড়ার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে।
আজকে নিয়ে এই পর্যন্ত চারবার বই মেলায় যাওয়া হলো। আবোল তাবোল হাতে যা পেয়েছি তাই কিনে ফেলা হয়েছে। হুমায়ুন আহমেদ আর জাফর ইকবাল স্যারের এর মোটামুটি সব কটা বই প্রথমেই কিনে ফেললাম। আমার বউ আর শালী কুল এর প্রথম পছন্দ বলে কথা! এই বইগুলো নিয়ে অনেকের উন্নাসিকতা রয়েছে। আমি তাদের একটা কথাই বলি, দেশে নতুন প্রজন্ম যারা অসুস্থ বিজাতীয় সংস্কৃতিতে আসক্ত তাদেরকে বইমুখী করার জন্য এই বইগুলোর অবদান অগ্রগণ্য।
হুমায়ুন আহমেদের বই পড়লে মনের ভিতর এক ধরনের আবেগ বা ঘোর তৈরি হয়
আমাদের সামহোয়ার ইন ব্লগের অনেক লেখক এবার বই মেলার সময় বই প্রকাশ করেছেন। তার মধ্যে আমার প্রিয় কবি "স্বদেশ হাসনাইন" রয়েছেন।উনার কবিতার বই সংগ্রহ করলাম "দোতলার মানষ"। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় বইটা সংগ্রহ করতে পেরেছি। অটোগ্রাফ পেলাম ঠিকই! তবে কিঞ্চিত ভুল হয়ে গেছে
মেলায় থেকে "অপর বাস্তব ৫" কেনার আর একটা উদ্দেশ্য ছিল। তাও পূরন হলো। উৎসর্গ করা হয়েছে "ফেলানী ও সীমান্তে নিহত স্বজনেরা"। নতুন কিনলাম, পরে সময় করে পড়ে বিষয়বস্তু, ভালমন্দ, সমালোচনা ইত্যাদি করতে হবে। যদিও বেশির ভাগ লেখাই আগে সামুতে পড়া হয়েছে। এবার বাড়তি সংযোজন হচ্ছে প্রতিটি লেখার পর কিছু নির্বাচিত মন্তব্য যোগ। আমার একটা মন্তব্য (দ্বিতীয় পাতার প্রথমে লাইনেই
(সবাই মোটা মোটা বই প্রকাশ করছে মেলায়, আমি না হয় এতটুকু লেখা দিয়েই গর্ব প্রকাশ করছি
অনেক ব্লগার (মন্তবিস্ট) এর নাম আর মন্তব্য এই বইতে স্থান পেয়েছে। আপনার নাম-মন্তব্য বইটিতে স্থান পেয়েছে কিনা চেক করতে "আগে আসলে আগে পাবেন" ভিত্তিতে বইটি কিনে ফেলতে পারেন। দ্রুত! শেষ হয়ে যেতে পারে!!
আরো প্রিয় কিছু লেখক আর ব্লগারের বই এখনও কেনা হয়নি। সব বই একবারে কিনলে পরে যে কবার মেলায় যাবো তখন শুধু শুধু "উইন্ডো শপিং" (যথার্থ বাংলা অর্থ কি হতে পারে?) করতে হবে। তাই জমা থাকুক। সময় এখনও ঢের বাকি!! বই মেলায় ঘাঁটি গাড়া হয়েছে। দেখা যাক আর কয়টা বই বগল দাবা করতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


