somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আগুন-পানি-ফ্যাসীবাদ!!!

০২ রা জুন, ২০১০ রাত ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসসালামু আলাইকুম,
ভারতীয় মিথ অনুযায়ী আগুন নাকি জলের (পানির) সন্তান। অর্থাৎ আগুনের জন্ম পানিতে। অথচ বাস্তবে আগুন-পানি-বরফের চরিত্র কতোই-না আলাদা!!! একটি সিংহের মাথা হইতে তাহার লেজের দূরত্ব যতখানি গণতন্ত্রের সহিত ফ্যাসিবাদের দূরত্ব তাহার চাহিতেও অনেকদূরের। সিংহ ইচ্ছা করিলেও তাহার লেজের অগ্রভাগ তাহার নাক-মুখ দিয়া স্পর্শ করিতে পারে না। কিন্তু গণতন্ত্রকে ফ্যাসিবাদ নিমিষেই খাইয়া হজম করিয়া ফেলিতে পারে।
ফ্যাসিবাদের উদর হইতে গণতন্ত্রের জন্মের সম্ভাবনা খুউবই কম। হয়তো একজন বধিরের কানে শুনিবার সম্ভাবনা উড়াইয়া দেয়া যাইবে না। মরা-বৃক্ষেও ফল-ফুল ধরিতে পারে।কিন্তু ফ্যাসিবাদ গণতন্ত্রকে সামান্য ছাড় দিবে--সেই সম্ভাবনা শূন্য।বাংরাদেশ কি এখন সেই সম্ভাবনার দিকে অগ্রসর হইতেছে?প্রথমে আইনের দোহাই পাড়িয়া চ্যানেল ওয়ান। তাহার পর হযরত মহম্মদ ( স.)-এর মহব্বতের দোহাই পাড়িয়া ফেইসবুক। এখন আবার মালিকানার দোহাই দিয়া 'আমার দেশ'-উপর কোপ মারা হইলো। এইসব আলামত আর যাই হউক স্বস্তির আলামত নয়। মনে করিবার যথেষ্ট কারণ রহিয়াছে যে গণতন্ত্রের উদরে এক জঘন্য ফ্যাসিবাদ ধীরে-ধীরে বাড়িয়া উঠিতেছে। মাকড়সাকে মারিয়া যেমন তাহার সন্তানের জন্ম তেমনি গণতন্ত্রকে হত্যা করিয়া এক দানবের জন্মের প্রতীক্ষায় একটি পুরা জাতি।
জনগণ ঝিম মারিয়া থাকে। জনগণ কখনো-কখনো চুপ করিয়া থাকে। জনগণের মৌনতার ভাষারও একটি অদ্ভুত অর্থ রহিয়াছে। সেই ভাষা পাঠ করিতে ব্যর্থ হইলে সরকার তো বাংরাদেশের সরকার একটি বিশাল শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদও পিছু হটিয়া পাড় পায় না। ইতিহাস হইতে আর উদাহরণ টানিতেছি না। সেইসব সকলেরই জানা। শুধু আমাদের বর্তমান সরকারের তাহা জানা থাকিলে আমরা কৃতার্থ হইতাম। জানা মানে শুধু মুখস্থ জানা নয়। জানা মানে বক্তৃতায় উদ্ধৃতি করা নয়।
জানা মানে মর্ম দিয়া ইতিহাসকে অনুধাবন করা। বলা যাইতে পারে ইতিহাসের মর্মানুবাদকে অনুধাবন করিতে পারা।
আমাদের দেশের সরকার তথা শাসক সম্প্রদায় বিষয়টি কি অনুধাবণ করিতে পারিতেছেন? তাহাদের লোভ লালসা জনগণকে শোষণ করিবার সীমাহীন ইচ্ছা তাহাদিগকে ক্রমাগত গণতণ্ত্র হইতে সিংহের লেজের দিকে টানিয়া নিতেছে।
বুলগেরিয়ার জর্জি ডিমিট্রভ ( gEorgE DIMItroV) আমার পিতার জন্মের আগেই কহিয়া গিয়াছিলেন : ফ্যাসিবাদের উদ্দেশ্যই হইলো জনগণের উপর লাগামহীন শোষণ কায়েম রাখা। বাংলাদেশে সেইরকম অবস্থা ঘটিতেছে বলিলে ভুল বলা হইবে। কারণ শোষণ ছিলো। এখন সেইটা চূড়ান্ত-একটি রূপ গ্রহণ করিবার দিকে ঝুকিতেছে।
এইটা বলিয়া আর ভুলানো যাইবে না যে এই সরকার নির্বাচিত সরকার। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার। কেন বলা যাইবে না? যাইবে না তাহার কারণ ডিমিট্রভের দোহাই দিয়া বলিতে চাহি : ফ্যাসিবাদ জনগণকে একটি দূর্নীতিগ্রস্থ সরকারের হাতে তুলিয়া দেয়। যে-সরকার নিজে জনগণের সামনে উপস্থিত হইয়া থাকে একটি সৎ আর নিষ্কলুষ চেহারা নিয়া। অন্তত তাহাদের দাবী সেই রকমই।
কী অবাক কাণ্ড!!! মনে হইতেছে বুলগেরিয়ার ডিমিট্রভ যেন বাংলাদেশের কথা বিবেচনা করিয়াই কথাগুলি বলিয়াছিলেন!!! এইসব সখা ১৯৩৫ সালে বলা হইলেও আজ এই ২০১০ সালে আসিয়াও তাহাকে খারিজ করিবার উপায় নাই। এখন ভয় হইতেছে আমাদের ব্লগগুলি হয়তো অচিরেই সরকারের কালো তালিকার শিকার হইবে। যে-দেশে সাধারণ মানুষ ক্রস-ফায়ারের শিকার হইয়া থাকেন সেই দেশে কোনো মিডিয়াই আর নির্ভয়ে চলিতে পারে না। মানুষের নিরাপত্তার কথা আর নাইবা কহিলাম। এই কথা স্বীকার না-করিয়া উপায় নাই ফ্যাসিবাদ জনগণের জন্য ভালো কিছু আনিতে সক্ষম নয়। এইটা বুঝিবার জন্য খুউব বেশি বুদ্ধির দরকার নাই। যেমন মিডিয়ার উপর কালো থাবা দিবার আগে সরকারের অজুহাতগুলির প্রকৃত তাৎপর্য বুঝিবার জন্য ফুলপ্যান্ট বা পাজামা বা লুঙ্গি পড়িবার প্রয়োজন নাই। যাহারা হাফপ্যান্ট পরিধানের বয়সে আসিয়া রহিয়াছে তাহাদেরও বুঝিতে অসুবিধা হইতেছে না যে সরকারের বাগাড়ম্বের প্রকৃত অর্থ কোথায়?
পরম করুণাময় আমাদের গণতন্ত্রকে হেফাজৎ করুন। আমাদিগকে সহজ সরল পথে অগ্রসর হইবার তাওফিক দিন।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১০ দুপুর ১২:১৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×