আসসালামু আলাইকুম,
হাতে গুনিয়া দুই চারিটি বাদ দিয়া দিলে বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হইতেছে সার্টিফিকেট বিক্রির দোকান।
আপনি আলুর দোকানে গিয়া টাকা দিবেন-- আলু পাইবেন।
পটলওয়ালাকে টাকা দিবেন --পটল পাইবেন।
কিন্তু ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়কে আলু-পটল-সহ আমার ১৪ গোস্ঠীকে কলে পিষিয়া দিলেও একখানা সার্টিফিকেট বাগাইতে পারিবো না।
দেশের মোড়ে-মোড়ে এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
আমাদের মিরপুরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রহিয়াছে। যাহার নিচতলাতে রোড-সিমেন্টের দোকান।
দোতলায় কাপড় সেলাইয়ের দোকান , মিষ্টির দোকান
আর তৃতীয এবং চতুর্থ তলায় হইতেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
এইটা ২ বছর আগের কথা। বর্তমান অবস্থা কেমন তাহা দয়া করিয়া অনুমান করিয়া নিন।
একটা কোচিং সেন্টারের সহিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো তফাৎ দেখি না।
এইটার নাম উচ্চশিক্ষা নহে।
এইভাবে অলিতে-গলিতে উচ্চশিক্ষা বিতরণ করা যায় না।
চট্টগ্রামে গিয়া দেখি আরেক কাহানি!
কী কাহানি?
সেইখানে শাখা-কাহানি।
মানে হইতেছে : বস টেইলার্স যেমন আগে বিজ্ঞাপন দিতো আমাদের কোথাও কোনো শাখা নাই।
কিন্তু বিভাগগুলিতে তাহাদের শাখা ছিলো বা সেই নামে টেইলারিঙস-এর দোকান ছিলো।
ওইখানে এখন সেই অবস্থা।
এশিয়ান য়ুরিপিয়ান আমেনিকান--কতোরকম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শাখা দেখিলাম তাহা বলিবার নয়।
আমাদের এক বন্ধু কহিলেন : এই শাখা-কাহানি এখন সারা দেশেই ছড়াইয়া গিয়াছে।
আমার প্রশ্ন এইসব দোকানে কাহারা জ্ঞান বিক্রয় করিয়া তাকে আর কাহারাই-বা সার্টিফিকেট খরিদ করিতে যায়?
উত্তর সরল :
তাহারাই যায় যাহাদের পিতা-পিতামহের অনেক টাকা রহিয়াছে কিন্তু মাথায় মগজ নাই।
অর্থাৎ যাহারা পোপ জন পল টু-র মতো ফেলটু-মার্কা ছাত্র-ছাত্রী।
তাহাদের প্রতি কাহারোই মানবিক হওয়া উচিত নয়। অন্তত আমি নহি।
সরকারের উচিত এইসব বেসরাকরি বিশ্বিদ্যালয়ের প্রতি কঠিনসব শর্তাদি আরোপ করা।
যাহাতে উচ্চশিক্ষার নামে এইসব পান-বিক্রয়ের দোকান (সার্টিফিকেট) খুব দ্রুত উঠিয়া যায়।
নতুবা মেধাবী কিন্তু উচ্চবিত্ত নহে--এমন ছাত্রছাত্রীগণের কান্নার শেষ থাকিবে না।
এইসব মেধাবী মধ্যবিত্ত/নিম্নবিত্ত ছাত্রছাত্রীগণই দেশকে এখনও টিকাইয়া রাখিয়াছে। শুধু আজ হইতে নহে। সেই ব্রিটিশ আমল হইতে।
সকলে ছহি-ছালামতে থাকিবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


