আসসালামু আলাইকুম,
সন্ত্রাসী-দমনের অজুহাতে আফগানিস্তানে মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত ন্যটো-আগ্রাসনের ৯ বৎসর হইতে চলিলো।সেইখানে হামিদ করাজাইয়ের পুতুল সরকারকে ক্ষমতায় বসাইয়া আর বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার খরচ করিয়াও মার্কিন-ব্রিটিশ যুদ্ধজোট কিছুতেই সুবিথা করিতে পারিতেছে না। পারিবার কথাও নহে। আফগান জনগণ তাহাদের দেশের মাটিতে আর বিদেশি সৈন্য দেখিতে চাহিতেছে না।প্রতিদিনই সেইখানে মার্কিন-ব্রিটিশ সৈন্য যেমন প্রতিরোধী আফগান যোদ্ধাদের আক্রমণের শিকার হইতেছে তেমনি আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষেরও দুর্দশার কোনো সীমা থাকিতেছে না।
অন্যান্য ন্যাটো জোটের মতন ডাচ সরকারও ২০০৬ হইতে দক্ষিণ আফগানিস্তানের উরুগান প্রদেশে তাহার প্রায় ১৯০০ সৈন্য মোতায়েন করিয়াছিলো। কিন্তু আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি অবনতির কারণে ডাচ সরকার গত ১লা আগস্ট হইতে তাহার সকলে সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়াছে।
যদিও ন্যাটোর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাগণ বলিতেছেন এই সৈন্য প্রত্যাহারের কারণে তাহাদের বিশেষ কোনো সমস্যা হইবে না। কারণ ডাচ সৈন্যদের জায়গায় সেইখানে নতুন করিয়া মার্কিন-অস্ট্রেলিয় সৈন্য মোতায়েন করা হইবে। কিন্তু এইটা নিছক মুখের কথা, মনের কথা নহে। কারণ সমস্যা না-হইলে তাহারা ডাচ সরকারকে তাহারা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করিতো না।
অন্যদিকে ডাচদের পাশাপাশি আরেক মার্কিন-ব্রিটিশ মিত্র কানাডাও ঘোষণা দিয়াছে তাহারা ২০১১ সালেই তাহাদের সকল সৈন্য প্রত্যাহার করিয়া লইবে। এইখানে উল্লেখ করা উচিত যে কানাডার সৈন্যগণ আফগানিস্তানের দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ কান্দাহারে মোতায়েন রহিয়াছে।
এইসব ঘোষণাকে আফগান যোদ্ধাগণ স্বাগত জানাইয়া বলিয়াছে যে তাহাদের দেশ হইতে বাদবাকীরাও যেন তল্পি-তল্পা গুটাইয়া চলিয়া যায়। তাহা হইলেই আফগানিস্তানে আবার শান্তি পিরিয়া আসিবে।
ন্যাটো কর্মকর্তাগণ অবশ্য সম্প্রতি কাবুলে বলিয়াছে ২০১৪ সালেই তাহারা আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব আফগানিস্তেনর নিজস্ব বাহিনির হাতে প্রদান করিবে। কিন্তু পরিস্থিতি যেই দিকে যাইতেছে তাহাতে আফগান প্রতিরোধী যোদ্ধাগণ তাহাদের সেই সুযোগ দিবে কিনা সন্দেহ। তাহার পূর্বেই হয়তো নিজের দেশের ক্ষমতা তাহারা নিজেরাই দখল করিয়া নিবে।
আফগানিস্তানের প্রকৃত মালিক সেই দেশের জনগণ। কোনো বিদেশি সরকার নহে। এই সত্য উপলব্ধি করিবার সময় আসিয়াছে।
মুক্ত-স্বাধীন আফগানিস্তান দীর্ঘজীবী হউক।
সকলে ছহি-ছালামতে থাকিবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



