আমার প্রিয় পোস্ট
- পবিত্র কাবা শরীফ এর ভিতরের বিরল দৃশ্য। - নীলপদ্দ
- স্কেচ শেখার কিছু বই - সাদাচোখ
- ইজরায়েলের জবানবন্দী:: তেলআবিবে বিপন্ন মানবতা আর আত্মরক্ষার অধিকার !! - মেহরাব শাহরিয়ার
- সামহয়ারে এসে যে লেখকদের সঙ্গে পরিচয় হলো - মাহবুব মোর্শেদ
- তাহাদের একুশ, আমাদের আট / তাহাদের ক্রুশ, আমাদের ছায়াঢাকা পুকুরঘাট - কোলাহল
- প্রিয় বল্গারদের জন্য গল্প ও একটি মোরাল,(প্লিজ গল্পটি পড়ুন,আমি আপনাদের ৫টি মিনিট চেয়ে নিলাম) - বিহংগ
- একটা চিঠি এসেছে, মজার (এবং খানিকটা আরোপিত দুখের) - কোলাহল
- সময়ের মুল্য, জীবনের মুল্য, ব্লগিংয়ের মুল্য - কোলাহল
- দুঃখবিলাস… - ফারজানা মাহবুবা
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- টানেলের শেষেও শুধু অন্ধকারের গান - সন্ধ্যাবাতি
- ছবি চাই, ছবি। দিন না একটা ছবি। - রাগিব
- জীবনের প্রয়োজনে জীবন যেখানে পরাজিত।(চতুরভূজ) - চতুরভূজ
- সামহোয়ার, ইলেকট্রনিক মোল্লা, ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধ ও লেখক যশোপ্রার্থীদের তড়পানি - মাহবুব মোর্শেদ
- তুমি যে তোমারই তুলনা (উৎসর্গ - ইসলামের এক বীর সৈনিককে) - উম্মু আবদুল্লাহ
- একজন প্রেসিডেন্টের ইমেইল এবং আমাদের নেগেটিভ মনোভাব - শামসুজ্জামান সিদ্দিকী শাহীন
স্মৃতিতে অমলিন বগুড়ার দিন।
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৪৮
ভেবেছিলাম কিছুদিন আর নস্টালজিক লেখা লিখবনা। এক ধরনের লেখা লিখতে লিখতে আমি নিজেই খানিকটা বিরক্ত। নতুন কিছু লেখার চাই। চাই বটে কিন্তু পারিনা। বাবার চাকুরীসুত্রে বগুড়ায় থাকা এক অচেনা ব্লগার আবারও ছুটির দিনে আমাকে নস্টালজিক করে দিয়েছে।
আজ খুব মনোযোগ নেই। শব্দ নিয়ে নাড়াচাড়া কিংবা উপমা আর ব্যঞ্জনার সমাহার ঘটানোর চেস্টা চালানোতে কোন তাড়না নেই। কেবল প্লাস্টিকের শক্ত চেয়ারে যতটা পারা যায় আরাম করে পিঠ ঠেকিয়ে দু কথা মনে করার চেস্টা। মহাস্থানগড়ের পাদদেশে ধুলায় লুটোপুটি খাওয়া বিচ্ছিন্ন ক্ষনগুলিকে একযায়গায় জড় করে রাখার আকুতি ছাড়া আহামরি আর কিছুই করতে চাইনা।
কোন এক দিনে, সম্ভবত তখন বর্ষাকাল চলছিলো, হানিফ পরিবহনের বাসটি যখনসাতমাথায় এসে দাড়িয়েছিল তখন আমি ঘোলা জানালায় উকি ঝুকি দিয়ে গুড়ি গুড়ি বৃস্টিতে ভিজতে থাকা বগুড়া নামক একটি সুন্দর শহরকে দেখবার চেস্টা করেছিলাম। আমার সেই কৌতুহল আনন্দে পর্যবসিত হলো যখন দেখলাম আব্বা ছাতা মাথায় দিয়ে এসে হাসিমুখে দাড়িয়ে আছেন আমাদের সামনে।। তারপর... আনন্দে উদ্বেলিত আমি স্নেহময়ী বাবার হাত ধরে ভেজা মাটিতে পা রাখলাম।
আজ ১৫ বছর পরে দিনাজপুরগামী (কাকতলীয়ভাবে সেই হানিফ পরিবহনের) সুপার স্যালুন চেয়ার কোচ যখন বনানীর বাকে এসে আস্তে করে বায়ে ঘুরে গেল তখন আমার পুরনো স্মুতিগুলো আরেকবার নড়ে চড়ে বসল।
বড় ভালবেসে ফেলেছিলাম বগুড়াকে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটু সামনে রাস্তার বিপরীতে ঢুকে যাওয়া গলিটাকে সিএন্ডবি রোড বলা হতো কিনা আমার ভাল খেয়াল নেই। তবে একপাশে সড়ক ও জনপথ আরেকপাশে পূর্তভবন রেখে মাঝখানদিয়ে ঢুকে যাওয়া ছোট রাস্তা দিয়ে খানিক আগালেই রহমান নগর। চায়না লজ নামক এক আলীশান বাড়ির পাশেই আমার ছেলেবেলার ছোট্ট উঠানটা এইতো যেন চেয়ে চেয়ে দেখছি।
মাত্র একবছর ছিলাম। তাই মজা করে থাকার সখ মেটেনি। তবুও অনেক কারনেই বগুড়াকে মনে পড়ে। জীবনে প্রথম গুলতিবাস দিয়ে কাকের পাছায় মার্বেল লাগাতে পেরেছিলাম বগুড়াতে থাকতেই। সজনে আর পিয়াজর কালি নামক তরকারী চিনেছিলাম বগুড়া গিয়ে। দক্ষিনবঙ্গে তখনো এরকম তরকারী চোখে দেখিনি। কাঁচা কাঠাল গরুর গোশ দিয়ে রান্না করে খাওয়ার কথা শুনে আমাদের বাসাসুদ্ধ সবার চোখ কপালে উঠেছিল। দোতলার আন্টি আমাদের বিশ্বাস করানোর জন্য শেষে নিজেই রেধে পাঠিয়ে দিলেন। কাঠাল নামক একটা ভালো জিনিষ ( যেটা আমাদের জাতীয় ফলও বটে) এভাবে শ্রাদ্ধ করার জন্য আমরা নিজেরা নিজেরা বগুড়াবাসীকে যথেস্ট গালমন্দ করেছিলাম যদিও তরকারী খাবার পরে আমাদের রাগ কিঞ্চিত কমেছিল।
বগুড়া গিয়ে প্রথম দারুচিনি গাছ দেখেছিলাম। বইতে পড়েছি দারুচিনি দ্বীপের দেশ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাস্তবে দেখি আমাদের ছোট রাস্তাটা যেখানে বাক নিয়েছিল সেখানে দোকানটার পিছনের বাড়ির উঠোনে আছে একটা দারুচিনি গাছ। আমি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম।
মালতি নগর হয়ে জলেশ্বরীতলার মোড় পেরিয়ে কারূপল্লীর সামনে দিয়ে সাতমাথায় চলে যেতাম। জিলাস্কুলের গেট দিয়ে ঢুকেই ছিল একটি ফুলের গাছ। নাম জানিনা তবে হলুদ ফুল ছড়িয়ে থাকতে নিচে, দারুন লাগত। গাছটা কি এখনু আছে ? থাকার কথা নয়।
বগুড়া থাকাকালীন প্রথম জানলাম ক্রিকেট নামে একটা খেলা আছে খুব জনপ্রিয়। বিশ্ব কাপ ক্রিকেট হচ্ছে। প্রতিদিনের পত্রিকায় দেখে মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল গ্রাহাম গুচ, কেপলার ওয়েলস, আজহার উদ্দিন, ইমরান খান, এ্যালান বোর্ডার, রিচার্ডসন, ইত্যাদি নামগুলো। ওয়াসিম আকরামের বলে ভেঙ্গে যাওয়া স্ট্যাম্পের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে গ্রাহামগুচ ফাইনালের পরের দিন পত্রিকায় দেখা এই ছবিটা এখনও আমার চোখে জীবন্ত। বাংলাদেশে ক্রিকেট উম্মাদনা মনে হয় ওর পর থেকে বিস্তৃতি লাভ করেছিল।
মিহি একটা সেমাই প্রথম খেয়েছিলাম বগুড়াতেই। দুখ পেয়েছিলাম করতোয়া নদী দেখে। নদীর দেশের মানুষ করতোয়ার নাম শুনেছিলাম খুব কিন্তু দেখে হতাশ। এটা কোন নদী হলো নাকি!! রেলওয়ে ব্রীজের নিচে কতগুলো শুকর সারাগায়ে মলমুত্র মেঘে ঘোরাঘুরি করত। দূর্গাপুজা উপলক্ষে যে মেলা হয় সেখান থেকে মাটির ত্যেরী খেলনা কিনেছিলাম। ইস কিযে আনন্দ পেয়েছিলাম।
বগুড়ায় কোরবানী করেছিলাম একটা খাসী। সেটার কাহিনী বলতে গেলে যে কয়জন পাঠক এখনও ধৈর্য ধরে আছেন তারাও ছুট দেবেন।
ওহ, ভুলে গেছি মাটির দোতলা ঘর ছিলো বগুড়ায় গিয়ে আমাদের চরম একটা বিস্ময়। লাল রঙ্গের ছোট ছোট আলু এখন সব যায়গায় দেখি তবে এর মজা পেয়েছিলাম বগুড়ায় গিয়ে।
আর ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে চাইনা। মহাস্থানগড়, বেহুলার ঢিবি, কারূপল্লী স্টুডিও, আজব গুহা, মহররম আলীর দই, ভি এম স্কুল, মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল, সেওজগাড়ী, সাতমাথা পার্ক, আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠ, ইত্যাদির কথা এক বাক্যে বলে রাখলাম।
নস্টালজিয়া বড় খারাপ জিনিষ। একবার ধরলে ছাড়তে চায়না। আমার এখন ইচ্ছে করছে কথা বলতেই থাকি, বলতেই থাকি। উঠতে মন চাচ্ছে না। কথা বলতে বলতে বগুড়ায় যাবার প্রচন্ড একটা ইচ্ছা জেগে ওঠে। কোথায় যাবো। পনের বছর পরে পরিচিত কেই নেই (একমাত্র সেই বাড়িওয়ালার পরিবার ছাড়া। তাদের কি মনে আছে আমাদের কথা!) নাহ, যাবো একবার। মাস তিনেক পরে একবার যাবো ভাবছি। কাউকে চেনার দাকার নেই। প্রয়োজনে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরব। এখনকার বগুড়াকে মিলিয়ে দেখবো পনের বছরের আগের বগুড়ার সাথে, বগুড়ার পথে পথে ধুলোয় জমে থাকা নরম পায়ের চিন্হ খুজে বেড়াব ।
কস্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৩৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ওহ, আপনিতো নামাজগড়ের কথা মনে করিয়ে দিলেন@ শিরীন সুলতানা সাজি। যাক তাহলে বগুড়ার একজনকে পেয়ে গেলাম।
আপনাকেও শুভেচ্ছা।
একরামুল হক শামীম ভাইয়ের কথা মেনে এটি ছিল আমার গ্রুপ পোস্ট। আরেকটু পরেই ড্রাফট করে দিচ্ছিলাম। আপনার চোখে কিভাবে পড়ল তা ভেবে আশ্চর্য লাগছে।
ভাল থাকবেন।
িঅনুশীলনকািরনী বলেছেন:
বাব্বাহ... বগুড়ার ঝুলিতে অনেক কিছু।'মালতিনগর' অদ্ভুত সুন্দর নাম । ওখানেই আমরা থাকতাম। বেশিদিন না , অল্প কিছুদিন।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ@িঅনুশীলনকািরনী
আপনি তাহলে সত্যি সত্যিই এই পোস্টের অপেক্ষায় ছিলেন। ভালো লাগল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ @ নাজিম উদদীন
আমিতো এখন পর্যন্ত তাই জানি। পরিবর্তনের ব্যাপারে আপনি কিছু শুনেছেন নাকি।
কণা বলেছেন:
বগুড়ায় ছিলাম ৪ বছর... তেমন কিছু মনে নেই... তবে আপনার লেখাটা পড়ে অনেক জায়গার নাম মনে পড়ে গেল....
ভাল লেগেছে লেখাটা... +
লেখক বলেছেন: বাহ, আরেকজন পাওয়া গেল। ধন্যবাদ@কনা।
তেমন কিছু মনে নেই? আপনি কি অনেক দিন আগে ছিলেন নাকি ! আমার তো পনের বছরের আগের সব কথা মনে আছে।
সব যেন চোখে ভাসছে। কারুপল্লী স্টুডিওতে আদিম মানুষের আজব গুহার অদ্ভুত শব্দটা পর্যন্ত।
কণা বলেছেন:
পিচ্চিকালে ছিলাম তো... কারুপল্লীর কথাও মনে পড়ে গেল... হু, শব্দটা ভয়ংকর ছিল...
আবছা আবছা অনেক কিছুই মনে পড়ছে এখন...
আমরা প্রথমে মালতীনগরে থাকতাম, পরে ছিলাম নিশিন্ধারায়... শহর থেকে অনেকটা দূরে...
কণা বলেছেন:
একটু আগে "নিশিন্ধারা" নামটা কিছুতেই মনে করতে পারছিলাম না... হি হি হিবিশ্বরোডের কথা মনে হতেই নামটা মনে পড়লো...
লেখক বলেছেন: নিশিন্দারা নামটা আমারও স্পস্ট খেয়াল নেই। মহাস্থানগড় ছাড়া শহর থেকে বেশী দুরে যাওয়া হয়নি কখনো। আত্নীয় ছিল তাই মাঝিরা ক্যান্টনমেন্টে বেড়াতে যেতাম মাঝে মাঝে।
পুরানো কথা স্মরন করতে মজাই লাগে।
সুনাগরিক বলেছেন:
মালতীনগর, বৃন্দাবনপাড়া, নিশিন্দারা, জ্বলেশ্বরীতলা, বাদুরতলা, কত সুন্দর সুন্দর নাম। করতোয়া নদীর ধারে কেটেছে ছোটবেলার অনেকটা সময়। মনে করে দিলেন সবকিছু। বগুড়া ছেড়েছি ক্লাস এইটের পরে।
লেখক বলেছেন: উহু, বৃন্দাবনপাড়াটা চিনিনা। মাত্র একবছর ছিলাম কিনা! এত কিছু চেনার সময় পাইনি।
আমি বগুড়ায় পড়েছি শুধুমাত্র ক্লাস সিক্স।
আবাবিল বলেছেন:
আহা, থামলেন কেন। ভালই তো লাগছিল। কোন পাঠকের ধের্য্য চ্যুতি হয়েছে? আরো কিছূ মনে করতে পারলে লিখে ফেলুন। স্মৃতিকথা পড়তে খুবই আগ্রহ আমার।
লেখক বলেছেন: আপনার ধৈর্যের তারিফ করতে হয়। আসলে লেখাটা রিল্যাক্স মুডে লেখা হয়েছিল একটা গ্রুপের জন্য। ভাবছিলাম আরো সময় নিয়ে আরো ভাল করে গুছিয়ে পড়ে ফ্রন্টপেজে পোস্ট করবো। কিন্তু কয়েকজনের সাড়া পেয়ে আগেই ছেড়ে দিলাম।
মনে হচ্ছে আপনি বগুড়া ছিলেন বা আছেন। কারুপল্লী স্টুডিওতে গিয়েছেন কখনো।
আবাবিল বলেছেন:
কি যে বলেন, কারুপল্লির দোলনায় কত দোল খেয়েছি পিচ্চি কালে। স্কুল থেকে ফিরবার পথে ঢুকতাম কারুপল্লিতে। মনের মত দোল খেয়ে অতপর ঘরে ফিরতাম। পাশেই ছিল সরাকারী গার্লস স্কুল। ওরাও আসতো। অপেক্ষা করতো কখন আমি দোলনার দখল ছাড়বো। এখন মনে হয় টিকেট সিস্টেম হয়ে গিয়েছে।
লেখক বলেছেন: দোলনার পাশেই একটা বায়েোস্কোপ ছিলো দুই টাকা লাগত মনে হয় কিন্তু সেই দুই টাকাই মোটে জোগাড় হতো না।
সুনাগরিক বলেছেন:
মনে আছে, কারুপল্লী আর ভিএম স্কুলের মাঝখানে একটা চশমার দোকান ছিল? জেলা স্কুলে পড়ার সময় ঐ পথ দিয়ে কতদিন হেঁটে গিয়েছি!
লেখক বলেছেন: ঐ পথে দিয়ে বহুদিনই হেটে গিয়েছি তবে চশমার দোকানের কথাতো খেয়াল নেই। জলেশ্বরীতলা মন্দিরের কথাই কেবল মনে আছে।
আবাবিল বলেছেন:
এখানে এত বগুড়ার লোক? সুনাগরিক, আপনি কয় ক্লাস পড়েছেন জিলা স্কুলে?
সুনাগরিক বলেছেন:
"জিলাস্কুলের গেট দিয়ে ঢুকেই ছিল একটি ফুলের গাছ। নাম জানিনা তবে হলুদ ফুল ছড়িয়ে থাকতে নিচে, দারুন লাগত। গাছটা কি এখনু আছে ? থাকার কথা নয়।"আছে কী না জানিনা, তবে ওটাকে আমরা মাইক ফুল বলতাম। এর নীচেই কলার পাতায় নিয়ে কলার পাতার চামচ দিয়ে আলম ভাইয়ের চটপটি মাখা খেতাম। সেকি ভোলা যায়? সেই আলম ভাই কি এখনো যায় তার চটপটি বেচতে?
লেখক বলেছেন: ইয়েস, মাইকফুল। কলার পাতায় নিয়ে কলার পাতার চামচ দিয়ে আলম ভাইয়ের চটপটি মাখা খেতাম। যে কারনে বাস্কোপ দেখা হতো না সে কারনে চটপটিও খাওয়া হতো না। কেবল আরেকজনকে খেতে দেখে মুখে লালা ঝরত।
সুনাগরিক বলেছেন:
@আবাবিল৬ষ্ঠ ও ৭ম ক্লাস। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ক্লাস হত সাত মাথার দিকের বিল্ডিংএ আর ৭ম এর ক্লাস হতো আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠের দিকের একতলা বিল্ডিংয়ে।
চির সবুজ বলেছেন:
খুব ভাল লাগলো এই পোষ্টটি পড়ে, আমার দেশের বাড়ী নঁওগা। তবে বড় হয়েছি ঈশ্বরদী আর ঢাকাতে।ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ চির সবুজ। ইশ্বরদীর উপর দিয়ে কয়েকবার আসা যাওয়া করেছি।
আবাবিল বলেছেন:
@সুনাগরিক,
হুমায়ন আহমেদকে একবার সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল মনে আছে কি? আমি তখন চিনতাম হুমায়ন ফরিদিকে- কান কাটা রমজান নামে। ভাবলাম কোথাকার কোন হুমায়ন আহমেদ না এসে যদি হুমায়ন ফরিদি আসতো কি মজা হতো, দেখতে পেতাম।
লেখক বলেছেন: সংশপ্তক নাটকের কানকাটা রমজানের কথা বলছেন নিশ্চয়ই। নাটকটি আমার কাছে অত ভালো লাগেনি। হয়তো পুরোটা দেখিনি এজন্য।
আবাবিল বলেছেন:
বগুড়া জিলা স্কুলে গিয়ে প্রথম স্কুলের দেয়া টিফিন খেতে শিখলাম। আমি জানতাম টিফিন মানে বিরতী। কিন্তু প্রথম দিন টিফিনের সময় দেখি নাস্তা হাজির। ছোট সময় থেকে শিক্ষা- সাধলেই নিতে হয়না। ভাবলাম প্রথমে না বলবো। তারপরও জোড় করলে নেব। তাছাড়া পেটেও ক্ষুধা আছে। কিন্তু দেখি প্রত্যেকেই বিনা বাক্যব্যায়ে নিচ্ছে। আমিও লাজ শরম ভুলে হাত বাড়িয়ে দিলাম। এরপর থেকে অবশ্য আর ভুল হয়নি।
স্কুলের নিজস্ব ক্যান্টিনে নাস্তা বানানো হতো।
কণা বলেছেন:
নিশিন্দারা শহর থেকে কিছুটা দূরে ছিল... এজন্যই হয়তো চিনছেন না... তবে মাঝিরা ক্যান্টনমেন্ট আরও দূরে ছিল... আমি মাঝিরা ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে পড়তাম... শহরে যেতাম খুব কম... তবে গেলে আকবরিয়ার চকবার খেতাম-ই...
অবশ্য প্রতিদিন স্কুল যেতে গিয়ে পুরো শহরটা ঘোরা হয়ে যেত... স্কুল বাসটা প্রথমে আমাকে নিতো... পুরো শহর ঘুরে স্কুলে যেতাম... ব্যাক করার সময় আমি প্রথম নামতাম... মজাই লাগতো...
লেখক বলেছেন: ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে পড়তেন ? তাহলে তো আপনি সৌভাগ্যবান।
স্কুলবাসে উঠে সবাইকে যেতে দেখলে আমার শুধু মনে হতো কেন আমাকে ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে ভর্তি করা হচ্ছেনা! বাসে করে গল্প করতে করতে যেতাম।
নিবেদীতা বলেছেন:
বগুড়ার মালগ্রামে নানাবাড়ী, অনেক স্মৃতি,ওটা ছোটোবেলায় আমার স্বপ্নের শহর মনে হত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ @ নিবেদীতা
বগুড়ার সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক নেই তবে আত্বার সম্পর্ক রয়ে গেছে। আমার ছোটবোনের জন্ম বগুড়াতেই। বগুড়া তাই আমাদের পরিবারিক ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।
বড়বেলায় বগুড়ায় ছিলাম প্রায় দেড়বছর............আর ছোটবেলায় বাবা/মার সাথে ঈদের মার্কেটিং করতে আসতাম।
সুন্দর লিখেছেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ@কাল্বেলা
শহর থেকে দুরে থাকতেন নিশ্চয়ই।
লেখক বলেছেন: যাবেন নাকি বোগরা!
সবসময়ের মত ভালো লাগা লেখা
লেখক বলেছেন: আপনার ভালো লাগায় আমি আনন্দিত।
অনেক দিন ধরে আপনার কোন লেখা দেখছিনা । ব্যাপার কি ?
লেখক বলেছেন: হে হে হে ! চলেন ভাইসাব, দুজনে মিলে বোগরা যাই। একটা গুলতিবাস যোগাড় করেন। সবগুলোর পাছায় মার্বেল মেরে আসি।
কোলাহল বলেছেন:
হুম..সবাই বগুড়া যেতে একপায়ে খাড়া। রোডমার্চ টু বগুড়া।
আশফানুর আরেফিন বলেছেন:
আমি বগুড়ার ছেলে । এর আগে ভাবতাম বগুড়া বুঝি আমার একার প্রানের শহর। এখন দেকছি অনেকেই বগুড়া কে ভালবাসে । অনেকে আবার আমার থেকে বেশি। অনেক দিন থেকে ভাবছি আবার সেই পথ গুলো তে হাটবো । কল্পনায় দেখতে পাব ছেলেবেলার আমি কে হাসছি, খেলছি, সাইকেল চালাচ্ছি, প্রথম প্রথম সিগারেট খাচ্ছি ,সেই সব মোড়, চা এর দোকান, প্রাইভেট ফাকি দিয়ে রাতের বগুড়া দেখা কিন্তু সময় করে উঠতে পারিনা । তারপরও সেদিন সময় করে কলনি তে গেলাম পেট ভরে কাবাব খেলাম তারপর হাটতে হাটতে সোডিয়াম আলোতে ভিজতে ভিজতে মোহাম্মাদ আলি হাস্পাতাল এর সামনে দিয়ে চলে এলাম সাতমাথা। বুকের ভেতর কেমন জানি ফাকা ফাকা লাগল।আচ্ছা এর নাম মায়া না ভালবাসা ?
লেখক বলেছেন: হুম। এর নাম কি মায়া না ভালবাসা হবে!! কিছু একটা হবে।
আপনাকে ধন্যবাদ।
আশফানুর আরেফিন বলেছেন:
জন্মদিন এ শুভেচ্ছা জানাতে ভুলে গেছিলাম । লেট হ্যাপি বারথ ডে।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা আপনাকে। ভালো লাগল।
আচ্ছা, আপনি আমার জন্মদিন জানলেন কোথ্থেকে!! কাউকে বলেছি এমন তো মনে পড়ে না।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















ছোটবেলার কত স্মৃতি যে আছে ।
এখনো স্বপ্নে আসে নানীবাড়ী.......নামজগড়ের ঈদগাহ মাঠ।
আপনের স্মৃতি নাড়া দিয়ে গেলো।অনেক শুভেচ্ছা।