আপনারা জানেন প্রাইভেট কারে কতজন করে যাতায়াত করে আর পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কত মানুষ যাতায়াতের সুযোগ পায়। তারপরও প্রাইভেট এবং পাবলিক যানবাহনের আলাদা আলাদা সুযোগ সুবিধা আছে যেমন ধরেন পাইভেট যানবাহনে আপনি ইচ্ছা করলে যেখানে সেখানে যখন তখন যাইতে পারেন আপনি তখন মুক্ত পাখির ন্যায়। অসুবিধা হচ্ছে খরচ একটু তুলনামূলক বেশী। আবার ধরেন পাবলিক ট্রান্সপোর্টের কথা এখানে অনেকে এক সাথে একই গন্তব্যস্থানে যেতে পারেন খরচও আপনার হাতের একেবারে নাগালে। কিন্তু আপনি দেখেছেন কি একটা ডাবল ডেকের পাবলিক গাড়িতে কতটুকু জায়গা দখল করে আর কতজন প্যাসেঞ্জার তাতে চলাচল করতে পারে। এখন ঐ বাসের সব যাত্রী যদি মনে মনে ইচ্ছা করে যে নাহ আর পাবলিক না আমি নিজেই একটা পাইভেট কার কিনে ফেলব তাহলে সব কটা প্রাইভেট কার মিলে কতটুকু জায়গা দখল করবে একটু কল্পনা করুনতো। তাছাড়া ব্যাংক গুলোতো আছেই তাদের জন্য লোন নিয়ে।
এখন বলি পাইভেট গাড়ী কাদের জন্য? প্রাইভেট গাড়ী তাদের জন্য যারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ণকাজে নিযোজিত, যাদের দ্বারা দেশের কল্যান সবচেয়ে বেশী অর্জিত হয় বা হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রাইভেট গাডী কিনতে আপনার টাকা লাগবে না টাকা আপনাকে দেয়া হবে। আমার জানা মতে বাংলাদেশে সরকারী বেসরকারী ৪৭টা ব্যাংক আছে এমন কোন ব্যাংক নাই যে তারা কার লোন নামে একটা লোন তারা দেয় না। তার মানে কি দাড়াল বাংলাদেশ সরকার বা ব্যাংকগুলো আপনাকে পাইভেট গাড়ি কিনতে উতসাহিত করছে। ফলে দিন দিন প্রাইভেট গাড়িতে রাস্তা সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোন ব্যাংককে দেখবেন না পাবলিক গাড়ি লোন নামে কোন লোন তারা অফার করছে বা সরকারের পক্ষ থেকেও দেখবেন না। ফলে আমাদের দেশে প্রাইভেট গাড়ি বৃদ্ধি পাচ্ছে উচ্চ হারে অথচ বৃদ্ধি পাচ্ছে না রাস্তা এবং পাবলিক গাড়ি। এজন্য মতিঝিল থেকে মিরপুর আসতে সময় লাগছে ২ ঘন্টা। আর ফার্মগেট থেকে মিরপুর-----!!! আপনিতো সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত গাড়ীতেই উঠতেই পারবেন না তা আসবেন কি করে। আপনার বাহুতে যদি অনেক শক্তি থাকে তাহলে আপনার দ্বারা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু আপনার বয়স ৫০ বছর তারপর আপনি একজন মহিলা এবার চিন্তা করে দেখুন তো তার সিএনজি ছাড়া গতি আছে??? আর সিএনজি পেলেতো!!!
এবার আসি সিঙ্গাপুরের কথায়। এখানে প্রাইভেট গাড়ির থেকে পাবলিক গাড়ি তুলনামূলক বেশী। এবং সরকার প্রাইভেট গাড়ি থেকে পাবলিক গাড়িতে যাতায়াত করতে উতসাহিত করে। আর আপনি গাড়ি কিনতে চাইলেই যে কিনতে পারবেন এখানে এমন না। এখানকার ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইতেই আপনার কয়েক বছর লেগে যাইতে পারে। এটা আমাদের দেশের মত না ৫০০০টাকা দিলেন আর লাইসেন্স পেয়ে গেলেন!
ফলে এখানে কোন মানুষকে পাবলিক গাড়িতে উঠতে ঠেলাঠেলি করতে হয় না। সাথে ট্রাফিক জ্যাম কি জিনিস এটা খায় না মাথায় দেয় তা সিংগাপুরবাসী হয়ত জানেই না।
এবার আসুন পরিকল্পনা। আমাদের রাজউক তারা কি কখনো চিন্তা করেছে আগামী ২০ বছর পর আমাদের ঢাকার কি অবস্থা হবে, রাস্তা কোথায় কোথায় কি পরিমান বাড়াতে হবে? ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস হবে কিনা হলে কিভাবে হবে অথবা ইন্টার সিটি ট্রেন চালু করা যায় কিনা বা গেলে কিভাবে? অথচ সিঙ্গাপুরের এখন পর্যন্ত ৪ টা MRT ট্রেন লাইন আছে। এবং তারা এখন চিন্তা করছে ২০২০ সাল নাগাদ আরো ২ টা লাইন বৃদ্ধি করতে তার জন্য তারা এখনি কাজ শুরু করে দিছে।
সুতরাং আমাদের দেশে প্রাইভেট গাড়ি কমাতে হবে সাথে সাথে পাবলিক বাস অনেক হারে বৃদ্ধি করতে হবে। ব্যাংগুলোকে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট লোন নামে লোন দিতে হবে। রাজউকের পরিকল্পনা মাফিক প্লান করে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে আশা করা যায় যানযট কমে আসবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


