মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠতেই রিসিভ করে হ্যালো বলতেই অপরপাশ থেকে বিলাই,ইদুঁর তেলাপোকা,টিকটিকি,রামছাগল,গাদাসহ যতরকম মেয়েলি গালি আছে সব শেষ করে নীতুর সোজা এ্যাকশন ,ঐ তোরে না কইছি ঠিক ১টায় চাদঁনীচকের সামনে থাকতে?১০মিনিটের মধ্যে তুই যদি চাদঁনীচকের সামনে হাজির হইতে না পারস তাহলে তোর বাসায় গিয়ে তোর পা ল্যাংড়া করে আসুম কইয়া দিলাম।আতংকিত স্বরে বললাম,তুই কি পুলিশ বাহিনীতে ভর্তি হওয়া আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করছিস নাকি? নীতু হেসে উঠে বলল,পুলিশ যে স্টাইলে ঢাবির কাদেরকে ডাকাত বানিয়ে থানায় নিয়ে কোপাইছে ঐ লেভেলের কোপাকুপিতে যাওয়ার আগে মড়েল টেষ্ট হিসেবে তোকে ঝাঁড়– পেটা করে চেষ্টা করে দেখব তোর পা ল্যাংড়া করার যোগ্যতা আছে কিনা।যদি ল্যাংড়া করতে পারি তাহলে পুলিশে ভর্তি হওয়া ঠেকাইকে? বললাম,মড়েল টেষ্ট লাগবেনা তোর বাড়ি গোপালগঞ্জ বায়োডাটায় এটা দেখলেই তোর চাকরি ঠেকানোর সাধ্য কারো নাই তোর বাপজান আবার পুলিশের হর্তাকর্তা? আপাতত তোর বাসায় গিয়ে পা ল্যাংড়া করার প্ল্যান বাদ।১০মিনিটের মধ্যে যদি আসতে না পারিস তাহলে তোকে ছিনতাইকারী বানিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেব।এরপর পুলিশ তোকে জনতার হাতে তুলে দেবে গনপিঠুনি দিতে ।পুলিশ জনসংখ্যা কমানোতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।দেখবি আগামী কয়েকবছর পর জনসংখ্যা কমানোর ভূমিকার জন্য ‘জাতির আম্মা’ পদক পাবে পুলিশ বাহিনী বলে নীতু লাইন কেটে দিলো।
মোবাইল পকেটে রেখে একটা সিএনজিতে উঠে বসে বললাম,মামা যাইবা না এটা বলবানা।১০মিনিটের মধ্যে চাদঁনীচকের সামনে পৌঁছায়া দিবা।সিএনজিওয়ালা ভাব নিয়ে বলল,সামনে ঈদ মামা।একটু বাড়ায়া দিবেন।বললাম,ব্যাপারনা ভাড়াতো আমি দিমুনা দিবে পুলিশকন্যা।সিএনজিওয়ালা স্টাট দিতে গিয়ে থেমে গিয়ে বলল,মামা এমনিতেই আজ কুফা লাগছে।সিএনজি নিয়ে বেরুতেই এক সার্জেন্ট থামায়া কিসব নিয়মকানুন কইয়া ২০০ট্যাকা নিয়ে গেলো।এখন আপনি আবার কইতাছেন ভাড়া দিবে পুলিশকন্যা।না মামা, ভাড়ার দরকার নাই।আমি যামুনা মামা।ড্রাইভারের দিকে মোবাইলটা বাড়িয়ে দিয়ে বললাম,এই নাও আমার মোবাইল।তোমার নায্য ভাড়া থেকে ৩০টাকা যদি বেশী না দিছে এই মোবাইল তোমার। সিএনজিওয়ালা মামা বললেন,আপনি মামা বেশ মজার লোক ।এরপর স্টার্ট দিয়ে চালাতে শুরু করলো। এই যুগের প্রেমিকারা যেখানে প্রেমিকের মানিব্যাগ খালি করতে ব্যস্ত সেখানে নীতু একদম ব্যতিক্রম।নীতুর সাথে সর্ম্পকের শুরুতে বন্ধু বান্ধবরা সতর্ক করে বলেছিল,দোস্ত এই মাইয়া পুলিশ অফিসারের মাইয়া।পুলিশ কখনো দেয়না সব সময় নেয়। বাপের সুযোগ্য কন্যা হিসেবে এই মেয়ে তোর টিউশনির সব টাকা হাওয়া করে দিবে।আইসা গেছি মামা সিএনজিওয়ালা মামার কথায় ভাবনার জগত কে বাই বলে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ২০মিনিট লেগেছে আসতে। চাদঁনীচকের সামনে নীতুকে মহিলা পুলিশ স্টাইলে পায়চারি করতে দেখে সিএনজি থেকে নেমে সোজা ওর কাছে গিয়ে বললাম,তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে মানিব্যাগে টাকা নিতে ভুলে গেছি।ভাড়ার টাকাটা দিয়ে দে।
বিয়ের পর সব সুদে আসলে পরিশোধ কইরা নিমু।আর শোন,আমাকে এখন থেকে নাম ধরে ডাকবিনা মহারানী ডাকবি বলে নীতু মিষ্টি হাসি দিয়ে ২০০টাকা বের করে দিতেই সিএনজিওয়ালাকে ১০০টাকা দিয়ে বাকী ১০০টাকা আমার পকেটে চালান করে বললাম,বুঝলি মহারানী অনেকদিন পর ১০০টাকার নোট কেমন দেখলাম।আমার হাতে চিমটি দিয়ে বলল,আর একটা কথা বলবি ১০০টাকা আমার পার্সে আসবে বলে চাদঁনীচকের ভিতরের দিকে হাটাঁ শুরু করল।মাকের্টে ঢুকেই প্রথমে কাপড়ের দোকানে।কাপড়ের দোকানে ঢুকে আর সাজানো থ্রিপিস দেখে আর বের হয়ে যায়।বললাম,কিরে তুই কি দেখতে এসেছিস নাকি কিনতে এসেছিস?মহারানী এমন ভাবে আমার দিকে তাকাল যে আর কিছু বলার সাহস পেলামনা।গৃহপালিত বিড়ালের মত মহারানীর পিছনে হাঁটতে শুরু করলাম।প্রায় ৩ঘন্টা ৩০টার মত দোকানে দেড়শ এর বেশী থ্রিপিস দেখে অবশেষে মহারানীর একটি থ্রিপিস পছন্দ হলো।হাফঁ ছেড়ে বললাম, কিনলি তাহলে।চল তোকে বাসায় দিয়ে আসি।নীতু আকাশ থেকে পড়ার মত করে বলল,বলিস কি মাত্রতো ড্রেস কিনলাম।জুতা কিনতে হবেনা? বিনাবাক্যে আমার টিউশনির টাকা দিয়ে কেনা জুতার তলা ক্ষয় করে নীতুর পিছনে পিছনে জুতার দোকানে ঢুকতে লাগলাম আর বেরোতে লাগলাম।কোন জুতাই নীতুর থ্রিপিসের সাথে ম্যাচিং হয়না।যতবারই জুতার দোকানে যায় ততবারই ইচ্ছা হয় জুতার দোকানের জুতা নিয়ে নিজের কপালে বাড়ি দিতে।আরো দেড় ঘন্টা শেষে অবশেষে জুতা কিনলো।
জুতা কেনা শেষ হতেই ভাবলাম যাক বাবা বাচাঁ গেলো।কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে জানাল থ্রিপিস আর জুতার সাথে ম্যাচিং করে কপালের টিপ,নখপালিশ,লিপষ্টিক,আইলাইনার,কানের দুল কিনবে এবং প্রথমেই কিনবে টিপ শুনেই মনে মনে বললাম,দরকার হলে তোর পুলিশ বাপের হাতে তুলে দে তবু আমাকে ছাইড়্যা দে।কিন্তু বলা হলোনা।সারা চাদঁনীচকে ১ঘন্টায়ও টিপ খুজেঁ ফেলোনা।তাই মহারানীর পিছনে পিছনে গাউছিয়ায়।এক টিপের দোকানে এক মেয়েকে দেখিযে বললাম,মহারানী দেখ দেখ মেয়েটার কপালের টিপটার কারণে মেয়েটাকে কেমন সুন্দর দেখাচ্ছে।ঐ কালারের টিপ..আমার কথা শেষ করতে না দিয়ে হুংকার দিয়ে বলল,সুন্দর সুন্দর মেয়ে দেখে বেড়াচ্ছিস?তাই তো বলি এতক্ষন হাটাঁর পরও কেন একবারও বললিনা বাকী শপিং কাল করিস।গুষ্টি কিলাই শপিংয়ের।তুই মার্কেটে ঘুরে ঘুরে সুন্দর সুন্দর মেয়ে দেখ আমি গেলাম বলে বেরিয়ে গেল দোকান থেকে।দোকানদার মুচকি হাসি দিয়ে বলল,ভাইজান বউ-প্রেমিকার সামনে অন্য মেয়েদের সুন্দরের প্রশংসা করতে নেই।এখন জলদি গিয়ে রাগ ভাঙান।দোকানীকে পাল্টা হাসি দিয়ে বললাম,আছেরে ভাই আছে।এই সামান্য প্রশংসাই আমাকে আরো কয়েকঘন্টা হাটাঁ থেকে বাচিঁয়ে দিয়েছ।
প্রিয় পাঠক,নারীকূলের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা শপিংয়ে ঘোরার মত বিরক্তি থেকে বাচঁতে শপিং সেন্টারে গিয়েই কোন সুন্দরী মেয়ের প্রশংসা করে মুক্তি পাওয়ার কৌশল কাজে লাগাতে গিয়ে বউ-প্রেমিকা দ্বারা চড় থাপ্পড় খেলে কোন ভাবেই আমি দায়ী নয়।
ফান ম্যাগাজিন ভিমরুলের শপিং সংখ্যায় প্রকাশিত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


