কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য বহুদিন থেকেই আমরা লেগে আছি। বিভিন্ন প্রকার ক্যাম্পেইন চলছে। অত্যন্ত ভাল কথা। আমাদের দেশের একটি এলাকা সপ্তাশ্চর্য হিসেবে নির্বাচিত হলে তা হবে আমাদেরই গৌরব। দেশের ক্রমহ্রাসমান ভাবমূর্তির বিকাশে এটি বিরাট ভূমিকা রাখবে নিঃসন্দেহে।
আজ দেখলাম বাংলালিংকও ফান্ডিং করছে এই আয়োজনে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনও এগিয়ে এসেছে দেরীতে হলেও। যেখাবেই হোক, কক্সবাজারকে সেরা প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য হিসেবে নির্বাচিত করা চাই ই চাই...
প্রশ্ন হচ্ছে, যে প্রক্রিয়ায় আমরা কক্সবাজারকে নির্বাচিত করতে চাচ্ছি, এটা কি বৈধ বা গ্রহনযোগ্য?
শুধু বাংলাদেশীরাই কি বাংলাদেশের একটি স্থানকে নির্বাচন করবেন? আমিতো আমার স্থানকে শ্রেষ্ঠ বলতেই পারি, কিন্তু এর গ্রহনযোগ্যতা কতখানি?
লাখলাখ ভূয়া(!) ইমেইল এর মাধ্যমে আমরা ভোট দিতে শুরু করেছি। এরজন্য খোলা হয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ সহ বিশেষ কম্পিউটার সেন্টার। এই ইমেইলগুলোর অন্তত ৯৮% জীবনে আর কখনও ব্যবহৃত হবে না। একটি ভোট দেবার জন্যই এটা তৈরী করা হয়েছে।
নিউসেভেনওয়ান্ডারস.কম এটির আয়োজক (এন৭ডব্লিউ.কম)। কিন্তু তাদের গ্রহনযোগ্যতা কতটুকু এটা কি কেউ কখনও প্রশ্ন তুলেছেন? এটা কোন প্রতিষ্ঠিত সংস্থাই নয়...
প্রথমদিকে ভিয়েতনাম তাদের দুটি স্থানকে আমাদের মতই ভূয়া(!) ভোট দিয়ে এগিয়ে রেখেছিল। পরে যখন দেখলো যে এটা খামোখা... তারা সরে গেল। কিন্তু আমরা অদম্য।
ভূয়া ইমেইল নয়, সপ্তাশ্চর্য নির্বাচন করবেন নির্বাচিত জুরী বোর্ড। এটা জাতিসংঘের অনুমোদিত হতে হবে। প্রাকৃতির ঐতিহ্য নিয়ে পৃথিবী জুড়ে যেসব সংস্থা কাজ করে, তারা এটা করতে পারে।
"ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক" করলেও গ্রহনযোগ্যতা পেত। প্রত্যেকটি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত স্থানকে নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের পর নাম্বারিং এর ভিত্তিতেই কেবল সর্টলিস্ট করা যায়। ভূয়া ইমেইল নয়...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



