স্বপন
নিঝুম রাতে দোচালা ঘরে
ভালোবেসেছিলো তোর বাবা মা দু’জন দু’জনাকে,
শুধুই কামতাড়নায়, নাকি উত্তর পুরুষে নিজেকে ছড়াবার বাসনায়, জানিনা।
তবে তাদের স্বপ্ন ছিলো কোনো এক নিশ্চয়,
না হলে তোর নাম স্বপন হবে কেন?
স্বপ্নের আদল তো হলো, বর্ণ পেলি বাবার থেকে, কৃষ্ণ বর্ণ।
সেটুকু পোষাতে বিধাতা তোকে মায়ের মত চোখ দিয়েছিলেন।
প্রাইমারীতে পরিচয় আমার স্বপনের সাথে।
পাট করা চুলে দেয়া তেল মাঝে মাঝেই কপালে গড়াতো,
আকাঙ্খিত অনাগত ভবিষ্যতের মতই তা প্রায় ই চমক ছড়াতো।
বলতাম, এত তেল দিস কেন রে?
বিদ্যার দেবীর কাছে প্রার্থনা নিশ্চয় কম করেন নি ওর মা,
তবু স্বপনের পড়া হলোনা।
মস্তিষ্ক যখন ক্ষুধা ঠাকুরের ভোগ যোগাতে ব্যস্ত
লক্ষী তখন সমঝোতা করে ফেললো।
প্রাইমারী শেষে অন্য স্কুলে গেলাম আমি,
অনেক দিন আর দেখা নেই স্বপনের সাথে।
নতুন স্কুল, নতুন বন্ধু, এই সব নতুনের মাঝে রঙ হারালো পুরোনেরা।
কেটে গেলো কত কত দিন,
মা বাবার স্বপ্নের জাল বুনে চলেছি আমি।
মাসে দু’বার চুল কাটাতে হয়,
পরিচিতি দোকানে গিয়ে চোখ মুদলেই...আহ! মাথা হালকা।
সেদিন বড় ভীড় সেখানে, দ্বিধা নিয়ে পা বাড়ালাম অন্যটায়।
কোনার দিকে ফাঁকা দোকান দেখে ঢুকে পড়লাম,
চেয়ারে বসিয়ে কালচে হয়ে যাওয়া এক সময়ের সাদা কপড়টি গলায় পেঁচিয়ে দিল দোকানী,
কাজটা ধরতো স্বপন, হাঁক দেয় লোকটি।
আয়নায় স্বপন দেখে বিস্ফোরিত হয় চোখ,
স্বপনের সেই কালো রঙের ক্ষতি পোষানো চোখে ব্যথাভরা, মায়াকাড়া হাসি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

