ক'দিন আগেও ছেলেটাকে ব্যাগ কাঁধে ক্লাসে যেতে দেখেছে কাশেম,
সকালে উঠেই নিত্যদিনের অভ্যাস তার এই চা দোকানে বসা,
আজও সেখানে বসেই পেয়ালা হাতে রাজা উজির মারছিলো সে,
দেখে সেই ছেলেটিই আজ সেজেগুজে অফিসে যাচ্ছে।
বেকার কাশেম একটু যেন নাড়া খায়।
তার দু'টি মেয়ে বড় হচ্ছে, আর কতদিন কাটাবে এভাবে?
ছগির মিয়ার কাছে যাবার কথা ভাবে সে,
ভালো বেতন, থাকা খাওয়া এমন অনেক কিছুই বলেছিলো ঐদিন ছগির মিয়া,
গা করেনি সে, এই বেশ ভালো আছি;
এখন বুঝি আর না গেলেই নয়।
বৌ তার মুখে ফেনা তুলে ক্লান্ত হয় প্রতিদিন,
কীভাবে যে চলছে সংসার!
ক'মাস ব্যাস্ত কাটায় কাশেম,
একে ধরে, ওকে বোঝায়, টাকা জোগাড় করে সে,
বৌয়ের দিকে তৃপ্ত চোখে তাকায় সে,
মনে বলে, কেমন দেখালাম বলো তো!
এই মরুদ্বীপে দু'মাস কেটেছে তার,
এসময়ে দেখেছে সে প্রবঞ্চনা আর অমানবিকতার নগ্ন রূপ।
সে কখনো কর্মঠ ছিলোনা, ভাতঘুম ছিলো খুব প্রিয়,
এখন তার ঘুম আসেনা,
ছোট্ট মেয়ে দু'টির মুখছবি তাকে জাগিয়ে রাখে প্রতিক্ষণ।
দেশে গরমে গায়ে ভেজা গামছা জড়াতো সে গায়ে,
বৌ তার বকতে বকতে হাত পাখা চালাতো,
লু হাওয়ায় ঘামে ভেজা জামা গায়ে লেপ্টে গেলে মনে পড়ে যায় তার সব।
নির্মাণরত সু-উচ্চ ভবনের উপর থেকে নীচে তাকিয়ে
আর সব কিছুর মত জীবনকেও বড় ক্ষুদ্র আর তুচ্ছ মনে হয় তার।
বছর পেরিয়ে কফিনবন্দী কাশেম দেশে ফেরে,
একই সময়ে মরুফাঁদে ধরা দিতে উড়তে চলেছে হাজারো কাশেম,
স্বপ্ন নিয়ে, বছর পেরিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে ফিরতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



