আচ্ছা রগ কাটলে কেমন লাগে জানেন? আসুন দৃশ্যটা একটু কল্পনা করি। যে কাটছে, তার চোখে মুখে উত্তেজনা। দুয়েকজন সাথী চেপে ধরেছে শিকারকে। ঠিক যে জায়গাটায় তালুটা হাতের সঙ্গে মিশেছে, ঠিক সেখানেই পোচ দেয়া হলো- একটা কোরবানীর পশু জবেহর সোয়াব পাওয়ার আশ্বাসে তৃপ্ত সেই ঘাতক ভালো করে তালুটা মুড়িয়ে দিলো পেছনে। এমন করার উদ্দেশ্য হাতটা আসলেই অচল হয়েছে কিনা, নার্ভগুলো ঠিক মতো বিচ্ছিন্ন হয়েছে কিনা। এরপর একইভাবে পায়ের গোছায় ছুরি চালানো। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ঠিক এইসময় সাথীরা জোরে জোরে কলেমাও পড়ে!
আর যার কাটা হলো, সে কাটাপশুর মতো ছটফটায়। দ্রুত হাসপাতালে না গেলে রক্তক্ষরণেই নির্জীব হয়ে যেতে হবে। আর ভালো ডাক্তার না পেলে চিরতরে অকেজো হয়ে যাবে হাত-পা। জোড়া লাগলেও সেই হাতে সাড় পেতে বছর কেটে যাবে।
এতটুকু বানিয়ে বলা নয়। জামাতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন ছাত্র শিবিরের হাতে বিকলাঙ্গ একজন ছাত্রমৈত্রী কর্মীর বয়ান এটা। আজ হলে গিয়েছিলাম, সেখানে দেখা হয়েছিলো রাজশাহীর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তন ছাত্রের সঙ্গে। এর আগে শুনেছিলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেতার গল্প। শিবিরের ছেলেরা তাকে সালাম দিলো। তারপর হাত মেলালো একজন। সেই হাত ছাড়লো না। আরেকজন এসে চপার দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দিলো সেটা। কব্জিসহ সেই হাত নিয়ে উল্লাস করতে করতে মিছিল বের করলো শিবির। মুখে আল্লাহু আকবর ধ্বনি।
একদল খুনী ইসলামের বিজয়োল্লাসকে ঢাল বানিয়ে নৃশংসতা করে বেড়াচ্ছে, কি ভয়ানক ব্যাপার! আর কোনো বিধর্মীর এত ক্ষমতা নেই ইসলামকে নিয়ে তামাশার যেটা তারা করে থাকে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) কাফেরদের বিরুদ্ধে বিখ্যাত এক জয় পেয়েছিলেন বদরের ময়দানে। সেই জয়কে ব্যাঙ্গ করতে তারা গঠন করলো আলবদর বাহিনী, যাদের কাজ খুন আর ধর্ষণ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে বেছে বেছে এ দেশের সূর্যসন্তানদের হত্যা করেছিল এই আলবদররা। তারা কারা ছিলো? জামাতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র সংঘ যা পড়ে ভোলপাল্টে শিবির হয়েছে। সে আদর্শ আর আজকের আদর্শে বিন্দুমাত্র বিচ্যুতি নেই তাদের। তারা ধর্মের পোষাক পড়ে ইসলামকে ধর্ষণ করে, ধর্ষণ করে বাংলাদেশকে। আমাদের স্বাধীনতার অস্তিত্ব তারা স্বীকার করে না। অথচ বলা হয়েছে দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ। সেই অর্থেও তারা মুনাফিক, বেঈমান।
আলবদর প্রধান নিজামীর গরাদবাসে সামহোয়ারকে উত্তাল বানিয়ে ফেলেছে একাত্তরের ঘাতকদের নতুন প্রজন্ম। তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে না বলে এক ঘরে একডজন রাজাকারের জন্ম দিয়েছে, বাল্যবিবাহ দিয়ে সেখানেও বাড়িয়েছে প্রজন্ম। সেগুলো সব এখন এক সুরে রা দেয়। আমাদের প্রধান কবি শামসুর রাহমানের উপর হামলা করে, হামলা করে হুমায়ুন আজাদের ওপর। সেবার তারা ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়নি সালেহী। অধ্যাপককে খুন করেও সে হাসতে হাসতে বেরিয়ে এসেছে জেল থেকে। অথচ, এনিয়ে তাদের কি উল্লাস!
আমরা মনে হয় অভ্যস্ত হয়ে গেছি এতে। নাকি ওরা ভাবছে আমাদের ধৈর্য্যের শেষ সীমায় তারা আমাদের ঠেলে দেবে। সইতে সইতে আর কতো! এবার কি সময় হলো প্রতিরোধের?
শিবিরের হাতে নির্মম হত্যার শিকার অধ্যক্ষ গোপাল মুহুরীর ছবির লিংকটা সরিয়ে ফেলা হলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০০৮ রাত ১০:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



