somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকের রম্য রচনা- ডেইলি সংগ্রাম (বাম রাজনীতি প্রসঙ্গে কিছু কথা)

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link


বাম রাজনীতি প্রসঙ্গে কিছু কথা
-মো: ওয়াজেদ আলী আখন্দ



বই পড়ি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা পড়ি। তবে ইসলাম সম্পর্কীয় বই এবং পত্র-পত্রিকা পাঠে তৃপ্তি পাই, আনন্দবোধ করি। এ বিষয়ে অন্যান্য পাঠক একমত পোষণ করবেন বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, এ জন্য সকলকেই জ্ঞান অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন। আর জ্ঞান অর্জনের জন্য শিক্ষার খুবই প্রয়োজন। কেননা, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ব্যতীত কোন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। এর বাস্তব প্রমাণ পাই এ উপমহাদেশের ইতিহাস থেকে। আমরা জানি ইংরেজ জাতি প্রায় দুইশত বছর এ উপমহাদেশ (ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ) শাসন করে। এ দীর্ঘ সময়ে ওরা মুসলমানদের শিক্ষা লাভ করার সুযোগ দেয় নাই। বরং নানা প্রতিবকতা সৃষ্টি করতো। এর ফলে মুসলিম সম্প্রদায় খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানেও ইরাক, আফগানিস্তান, কাশ্মীর এবং অন্যান্য মুসলিম দেশ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

যাহোক! আজ আমরা বাংলাদেশী জনগণ ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টির ফলশ্রুতিতেই শিক্ষা লাভ করার সুযোগ পাই। বর্তমানে বহু মুসলিম ছেলেমেয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা লাভ করছে। তবে গুণগতমান আশানুরূপ নয়। কেননা, ইংরেজ জাতি কর্তৃক প্রবর্তিত শিক্ষা পদ্ধতি আজও আমরা অনুসরণ করছি। ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম মানুষকে সুপথ দেখায়। তাই ওরা (ইংরেজ জাতি) সুকৌশলে এ শিক্ষা থেকে আমাদের বঞ্চিত করেছে। এটা ছাড়া পাকিস্তানের ২৪ বছর শাসনামলেও এর কোন পরিবর্তন হয়নি তদুপরি ৩৬ বছর হলো আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি কোন গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তাই এ শিক্ষার অভাবেই কিছুসংখ্যক মুসলিম নামধারী ব্যক্তি কথায়, কাজে-কর্মে, চিন্তা-চেতনায়, ধ্যান-ধারণায় নাস্তিক হয়েছে। জনাব আসাদ বিন হাফিজ-এর লেখায় এরূপ বিষয় প্রকাশ পায়। তিনি “রাশেদ খান মেননের রাজনৈতিক দর্শন ও বাম রাজনীতি” শিরোনামে দীর্ঘ প্রব লিখেছেন যা সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় ৯ নবেম্বর/২০০৭ তারিখ এ প্রকাশিত হয়। ঈদ সংখ্যা নয়া-দিগন্ত পড়ে তিনি দেখতে পান যে, ‘রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার' শিরোনামে শ্রদ্ধাভাজন রাশেদ খান মেনন একটি প্রব লিখেন। এ প্রবই তাঁর (আসাদ) লেখার প্রেরণার উৎস। তিনি তথ্য বহুল বিবরণ দিয়ে এ প্রবটি লিখেন যা খুবই চমৎকার। রাশেদ খান মেনন একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাই একজন মুসলিম হিসেবে তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে গুড়ে বালি ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না। তবে মানুষের উপকার করার উত্তম ব্যবস্খার সকল দিক-নির্দেশনা পাই আল-কুরআন এবং রাসূল (সা:)-এর হাদিসসমূহে। এগুলো তিনি (রাশেদ) চর্চা করেন না। কেননা, সারাটি জীবন তিনি বামপন্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। তাই সমাজতন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য তিনি লেলিন, স্ট্যালিন ও মাও সেতুং-এর বই পড়েন। এসব বই পড়ে তাঁর মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, “ধর্ম হচ্ছে আফিম স্বরূপ।” তাঁর এ কথা পড়ে সত্যি অবাক না হয়ে পারা যায় না। কেননা ইসলাম আফিম নয়। বরং মানুষের কল্যাণের জন্যই এ ধর্ম। তাই আল্লাহ এবং রাসূল (সা:)কে জানা এবং মানা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। তদুপরি আল্লাহপাক এরশাদ করেন, “হে মু'মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, তাঁহার নৈকট্য লাভের উপায় অনেðষণ কর ও তাঁহার পথে সংগ্রাম কর, যাহাতে তোমরা সফলকাম হইতে পার” (সূরা মায়িদা আয়াত ৩৫)। এ হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও তিনি (রাশেদ) তা অস্বীকার করেন। এভাবে তিনি নাস্তিকে রূপান্তরিত হোন। অথচ একজন অমুসলিম (খৃস্টান) ব্যক্তি একশত ব্যক্তির তালিকায় হযরত মুহাম্মদ (সা:)কে এক নম্বরে স্খান দিয়েছেন।

তাঁর (আসাদ বিন হাফিজ) লেখায় আরও জানা যায় যে, রাশেদ খান মেনন অস্ত্রের মাধ্যমে ধনীদের সম্পদ লুট করে এনে তা গরীবের মধ্যে বিতরণ করবেন। কেননা ধনী ব্যক্তিগণ স্বেচ্ছায় তাদের সম্পদ দান করে না। এ থেকে জানা যায়, তার (রাশেদ) উদ্দেশ্য গরীবের উপকার করা। এ মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সকলেই তাকে সাহায্য করবেন। তবে এ জন্য মানুষ খুন করার কোন প্রয়োজন নাই বা হবে না। বরং প্রয়োজন ইসলামী আদর্শ মোতাবেক নিজে চলা এবং সৎ পরামর্শ দিয়ে অন্যকেও এ পথে পরিচালনা করা। মানুষের কল্যাণের জন্যই তো ইসলামে যাকাতের ব্যবস্খা রয়েছে। প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা:) ইসলামের জন্য তাঁর সমুদয় সম্পদ দান করে দিয়েছিলেন। এমনই উদাহরণ অন্য তিনজন খলিফাও রেখে গিয়েছেন। পরবর্তীকালে অনেক রাজনীতিবিদ, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগণ মানুষের কল্যাণের জন্য সঠিক ও দৃঢ়ভাবে দেশ শাসন এবং নিজেদের অর্থসম্পদ অকাতরে দান করেন। এক্ষেত্রে শের-এ-বাংলা একে ফজলুল হক, হোসান শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ, শেখ মজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান এবং আরও অনেকের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে।

অতএব আসুন, দেশ ও জাতি গঠনে ইসলামের সঠিক পথ অনুসরণ করি। আর নাস্তিকদের সম্পর্কে সতর্ক হই। এতেই কল্যাণ নিহীত রয়েছে।

লেখক : একজন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×