বাম রাজনীতি প্রসঙ্গে কিছু কথা
-মো: ওয়াজেদ আলী আখন্দ
বই পড়ি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা পড়ি। তবে ইসলাম সম্পর্কীয় বই এবং পত্র-পত্রিকা পাঠে তৃপ্তি পাই, আনন্দবোধ করি। এ বিষয়ে অন্যান্য পাঠক একমত পোষণ করবেন বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, এ জন্য সকলকেই জ্ঞান অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন। আর জ্ঞান অর্জনের জন্য শিক্ষার খুবই প্রয়োজন। কেননা, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ব্যতীত কোন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। এর বাস্তব প্রমাণ পাই এ উপমহাদেশের ইতিহাস থেকে। আমরা জানি ইংরেজ জাতি প্রায় দুইশত বছর এ উপমহাদেশ (ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ) শাসন করে। এ দীর্ঘ সময়ে ওরা মুসলমানদের শিক্ষা লাভ করার সুযোগ দেয় নাই। বরং নানা প্রতিবকতা সৃষ্টি করতো। এর ফলে মুসলিম সম্প্রদায় খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানেও ইরাক, আফগানিস্তান, কাশ্মীর এবং অন্যান্য মুসলিম দেশ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
যাহোক! আজ আমরা বাংলাদেশী জনগণ ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টির ফলশ্রুতিতেই শিক্ষা লাভ করার সুযোগ পাই। বর্তমানে বহু মুসলিম ছেলেমেয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা লাভ করছে। তবে গুণগতমান আশানুরূপ নয়। কেননা, ইংরেজ জাতি কর্তৃক প্রবর্তিত শিক্ষা পদ্ধতি আজও আমরা অনুসরণ করছি। ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম মানুষকে সুপথ দেখায়। তাই ওরা (ইংরেজ জাতি) সুকৌশলে এ শিক্ষা থেকে আমাদের বঞ্চিত করেছে। এটা ছাড়া পাকিস্তানের ২৪ বছর শাসনামলেও এর কোন পরিবর্তন হয়নি তদুপরি ৩৬ বছর হলো আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি কোন গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তাই এ শিক্ষার অভাবেই কিছুসংখ্যক মুসলিম নামধারী ব্যক্তি কথায়, কাজে-কর্মে, চিন্তা-চেতনায়, ধ্যান-ধারণায় নাস্তিক হয়েছে। জনাব আসাদ বিন হাফিজ-এর লেখায় এরূপ বিষয় প্রকাশ পায়। তিনি “রাশেদ খান মেননের রাজনৈতিক দর্শন ও বাম রাজনীতি” শিরোনামে দীর্ঘ প্রব লিখেছেন যা সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় ৯ নবেম্বর/২০০৭ তারিখ এ প্রকাশিত হয়। ঈদ সংখ্যা নয়া-দিগন্ত পড়ে তিনি দেখতে পান যে, ‘রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার' শিরোনামে শ্রদ্ধাভাজন রাশেদ খান মেনন একটি প্রব লিখেন। এ প্রবই তাঁর (আসাদ) লেখার প্রেরণার উৎস। তিনি তথ্য বহুল বিবরণ দিয়ে এ প্রবটি লিখেন যা খুবই চমৎকার। রাশেদ খান মেনন একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাই একজন মুসলিম হিসেবে তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে গুড়ে বালি ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না। তবে মানুষের উপকার করার উত্তম ব্যবস্খার সকল দিক-নির্দেশনা পাই আল-কুরআন এবং রাসূল (সা
তাঁর (আসাদ বিন হাফিজ) লেখায় আরও জানা যায় যে, রাশেদ খান মেনন অস্ত্রের মাধ্যমে ধনীদের সম্পদ লুট করে এনে তা গরীবের মধ্যে বিতরণ করবেন। কেননা ধনী ব্যক্তিগণ স্বেচ্ছায় তাদের সম্পদ দান করে না। এ থেকে জানা যায়, তার (রাশেদ) উদ্দেশ্য গরীবের উপকার করা। এ মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সকলেই তাকে সাহায্য করবেন। তবে এ জন্য মানুষ খুন করার কোন প্রয়োজন নাই বা হবে না। বরং প্রয়োজন ইসলামী আদর্শ মোতাবেক নিজে চলা এবং সৎ পরামর্শ দিয়ে অন্যকেও এ পথে পরিচালনা করা। মানুষের কল্যাণের জন্যই তো ইসলামে যাকাতের ব্যবস্খা রয়েছে। প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা
অতএব আসুন, দেশ ও জাতি গঠনে ইসলামের সঠিক পথ অনুসরণ করি। আর নাস্তিকদের সম্পর্কে সতর্ক হই। এতেই কল্যাণ নিহীত রয়েছে।
লেখক : একজন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


