আদৃতার পড়ালেখা করতে ইকটুও ভালো লাগেনা। সে চায় অনেক কিছু। চায় গতকাল দেখা সিনেমার নায়িকাটার মতো সাজতে। চায় নিজের একটা গাড়ী, যেটা দিয়ে ঘুরবে সে সারাটি ক্ষণ। সাথে থাকবে তার রাজকুমার। নাহ, রাজকুমার না...রুপ কুমার। সে সৌন্দর্য ভালোবাসে। কোন জিনিস দেখতে সুন্দর না হলে তার মনে ধরে না। তা সে যতই ভালো হোক। আব্বু সেদিন একটা খাতা কিনে দিয়েছিলো, পাতাগুলো কি মসৃন! কিন্তু খাতার কভার টা না, ক্যামন য্যানো! ক্ষ্যাত ক্ষ্যাত! তাই সে ওটা তার ছোটভাই কে দিয়ে দিয়েছে। আলহাজদের কত্তো টাকা! সে ওতো টাকা হলে যত ভালো ভালো জামা, সব কিনে ফেলতো। কিন্তু আলহাজটা ক্যামন যেনো! লেবেন্ডুস টাইপের। ওর চেয়ে আদিল দেখতে কত্তো স্মার্ট! বাইক চালিয়ে পাড়ার দোকানে এসে যখন একটা সিগারেট ধরিয়ে টান দেয়, দারুন লাগে দেখতে। কিন্তু সবাই তাকে খারাপ বলে। স্কুলে যেতে আসতে অবশ্য আদিল বেশ কয়েকবার ওর পথ আটকেছে, কি সব বলে! লজ্জা করে আদৃতার। সামনা সামনি ঝাড়ি দিলেও, ভালো লাগে তার। আদিলকে দেখলেই তার বুনো একটা গন্ধ কোথা থেকে এসে নাকে লাগে। এই গন্ধটাকে সে খুব ভালোবাসে। আদিলের লম্বা জুলফি, ফর্সা চেহারার খোচা খোচা দাঁড়ি তার ভালোলাগে। এমন সুন্দর দেখতে হলে আর কি চাই? ইচ্ছে করে ওর পেছনে বসে ওকে জড়িয়ে ধরে বাইকের পেছনে ঝড়ের গতিতে উড়তে।
আদিলের বাইকের ট্যাংকি ফুটো হয়ে গেছে। চুইয়ে চুইয়ে তেল বের হচ্ছে। হাউয়ার ট্যাংকি আর ফুটো হওনের টাইম পাইলোনা! আদিল ভাবে। মাখ্খন মাখ্খন ছেড়িগুলার স্কুলে যাওনের টাইম হৈছে। অখন ট্যাংকি সারনের টাইম কৈ? ঐযে ঐ ছুড়িটা, কিজানি নাম.. হ, আদৃতা। ক্যামন কৈরা তাকায়া থাকে! হালায় একবার চিপায় লৈতে পারলে...উমমম...মাক্ষি!
রফিকের দোকানে বসে থাকতে ভাললাগতেছেনা। বৌটা পোয়াতী মাস পাচেক। এইসময় ডাক্তর দেহাইতে না পারলে কি জানি কি হয়। আগের পুলাডা মরা বাইর হয়েছে। চা বেইচা যে কয় টেকা আয় হয়, তা দিয়া কি আর কিলিনিকে লৈয়া যাওন যায়! আবার দুকানে আইসা বসছে আদিল্যা হারামজাদা। এইটারে না পারে কিছু কৈতে, না পারে সইতে। কিছু কইলে যদি দুকানে আগুন ধরায়া দেয়! সারাদিন বইসে বইসে হারামজাদাটা মহল্লার মাইয়াগুলার পিছনে লাগবো। তাও সে চা বানাইতে বানাইতে কয়, আদিল ভাই কিরাম আছেন?
রিয়ানার গা জ্বলে ওঠে আদিলকে দেখলে। বদমাইস লাফাংগা একটা! আলহাজ কতো ভদ্র, শান্ত...তানা এই আদৃতা ছুড়িটা খালি তারে বাদ দিয়ে আদিলের দিকে তাকাবে, খালি তার গল্প করবে। আলহাজ যে তার পিছনে ঘুরাঘুরি করতেছে, সে দিকে নজরই নাই। আলহাজের মতো বড়লোকের ছেলে পাইলে আর কিছু দেখা লাগে? সারা জীবনের মতো নিশ্চিন্ত! আজ আবার আদৃতা আদিলের সাথে কথাও বলতেছে। সে বলে উঠলো, ঐ, আদৃতা, আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে। তুই থাক আমি গেলাম। বাহ! ছুড়ি দেখি আমার কথাই শুনলো না! মরগা তুই, আমি যাই।
মিলন দেয়াল টপকে ঢুকেছে দুই বাড়ীর মাঝের চিপা এক গলিতে। ম্যালা কিছু পাওন যায় মাঝে মইদ্দে। মাগার হালায় আইজ কপালডাই খারাপ। দুইডা স্পিডের খালি বোতল আর একখান ডাইলের বোতল ছাড়া আর কিছু নাই। গোটাকয়েক ব্যবহৃত কনডম আর স্যানিটারী ন্যাপকিন দেইখা নিজের কপালরে গাইল দিতে দিতে বের হয়ে আইতেছিলো, এমন সময় দরোয়ানের রুমের জানালা দিয়া আওয়াজ শুনে চুপ কৈরা খাড়ায়। "আব্বে ছেড়ি, মোচড়া মোচড়ি করিস না, চুপ মাইরা হুইয়া থাক, আরাম পাবি!"- আদিল ভাইয়ের গলা না! হালায় কারে... গলি থেইকা বাইর হৈয়া দেহে দারোয়ান গেটের সামনে খাড়ায়া বিড়ি টানতেছে। ট্যাক থেইকা একখান বিড়ি বাইর কৈরা দারোয়ানের কাছে আগুন চাইতে গিয়া দেহে গেটের বাইরে মাইয়া মাইনসের দামী স্যান্ডেল। আস্তে কৈরা বস্তায় ঢুকায়া দারোয়ানের চোখের দিকে তাকায়, দারোয়ান দেইখাও না দেখার ভান করে একমনে বিড়ি টানে। হালার আইজ ংদ ইনকাম ভালোই হৈছে, ভাবতে ভাবতে মিলন মহল্লা ছাড়ে।
ঈশ্বর তখন দিবানিদ্রায় ব্যাস্ত ছিলেন। মর্তলোকের এক অস্ফুট আর্তনাদ কানে ঢুকতেই হাই তুলে উঠে বসেন। কোথা থেকে আর্তনাদ এলো খুজতে গিয়ে আদিম ধর্মে রত দুই মানব মানবীর দেহ দেখে তিনি মুচকি হাসেন। সারা আকাশে তখন দুইটা চিল ছিলো, দীর্ঘ দুপুরে তাদের ডেকে ডেকে হয়রান হওয়া কারো নজরেই পড়েনা। না স্বর্গে, না মর্তে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




