কোটিপতি হতে কে না চায়? সবারই মনে আশা থাকে জীবনে কোটিপতি হবার। কেউ কেউ সারা জীবন ধরে গাধার খাটনি খেটে তবেই কোটিপতি হয়েছেন। কেউ হয়েছেন খুব সহজে। তবে এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। আজ আমি আপনাকে জানাচ্ছি কোটিপতি হবার খুব সহজ একটি উপায়।
তেমন কিছু করতে হবে না, আপনাকে শুধু দশটি মানুষের সাথে আজ পরিচয় করিয়ে দিবো। তাদের যে কোন একজন কে খুঁণজে এনে দিতে পারলেই আপনি শুধু মাত্র কোটিপতি নন, কোটি কোটি পতি হয়ে যাবেন।
সি আই এ এর মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে আছেন এই দশজন ভদ্রলোক(!!)। আসুন একে একে তাদের নাম-ধাম ও কৃতকর্ম দেখি-
গ্লেন স্টুয়ার্ট গডউইনঃ এই ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, খুন ও জেল ভাঙ্গিয়া পলায়ন।
পুরস্কারঃ ১,00,000 ডলার বা ৭০,০০,০০০ টাকা!
আমলনামাঃ ১৯৫৮ সালের ২৬ জুন জন্ম এই ভদ্রলোকের। ছয় ফিট উচ্চতার এই ভদ্রলোক ক্যালিফোর্নিয়ার ফলসম জেল হতে যখন পালান, তখন তিনি খুনের অপরাধে জেল খাটছিলেন। ঐ বছরই তিনি গ্রেফতার হন মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভ্যালের্তায়, মাদক পাচারের অভিযোগে। উনাকে ওখান থেকে গুয়াদালাজারার জেলে পাঠানো হয়। ১৯৯১ সালের এপ্রিলে তিনি জেলের রুমমেট কে খুন করেন এবং ঠিক তার পাঁচ মাস পরে তিনি ঐ জেল থেকেও পালিয়ে যান!
ভদ্রলোক স্প্যানিসে বড়ই দক্ষ এবং ধারণা করা হয় তিনি মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও মেক্সিকোর মাঝে বিচরণ করিয়া বেড়াইতেছেন। বর্তমানে সম্ভবতঃ মাদক সম্পর্কিত ব্যাবসায় জড়িত আছেন। উনি মুটামুটি Michael Carrera, Miguel Carrera, Michael Carmen, Glen Godwin, Glen S. Godwin, Dennis H. McWilliams ও Dennis Harold McWilliams এই নাম গুলা ছদ্ম নাম হিসেবে ব্যাবহার করেন।
রবার্ট উইলিয়াম ফিশারঃ খুন, বাড়িঘর ধ্বংশ করা ও পলায়ন।
পুরস্কারঃ ১,০০,০০০ ডলার বা ৭০,০০,০০০ টাকা।
আমলনামাঃ ১৯৬১ সালের ১৩ই এপ্রিল জন্মানো এই ভদ্রলোক তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুন করেন, তারপর তার স্কটসডেল, এরিজোনার যে বাড়িতে থাকতেন সেটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেন ২০০১ সালে।
খুব ভালো একজন স্পোর্টসম্যান, শিকারী এবং মাছ ধরায় পারদর্শী। উনার মাড়ির দাঁতে একটি রাজমুকুট অংকিত আছে। খুব ভাবের সাথে হাটা চলা করেন, যদিও ব্যাকপেইন আছে, যার কারণে বুকটা একটু চেতিয়ে হাঁটেন। তিনি অনবরত তামাক চিবুতে ভালোবাসেন। নিউ মেক্সিকো এবং ফ্লোরিডার আশেপাশে বেশ ঘুরাঘুরি করেন। ধারণা করা হয় উনার সাথে সব সময় বেশ কয়েক রকমের বন্দুক থাকে, তার মাঝে একটি হইলো হাই পাওয়ারের রাইফেল।
এডুয়ার্ডো রেভেলোঃ মাদকচক্র চালানো, মাদক রাখা ও বিক্রি করা।
পুরস্কারঃ ১,০০,০০০ ডলার বা ৭০,০০০,০০০ টাকা।
আমলনামাঃ ১৯৬৮ সালের ১৩ই অক্টোবর জন্মানো এই ভদ্রলোক ২০০৮ সালে একবার টেক্সাসে একবার কেস খাইছিলেন মাদকচক্র চালানো, অবৈধভাবে টাকা আদায়, হেরোইন, কোকেন ও গাঁজা রাখা ও বিক্রি করা। ধারণা করা হয় ২০০৩ থেকে তিনি ব্যাবসা শুরু করেন।
ব্যারিও আ্যজটেকা (মাফিয়া সংগঠন) এর ক্যাপ্টেন বা "ক্যাপো" হিসেবে ভদ্রলোকের সুপরিচিতি ছিলো। এবং তার নির্দেশে জুয়ারেজ, মেক্সিকোতে ব্যারিও আ্যজটেকা সংগঠন চলতো। তিনি ও তার সংগঠন ছিলো 'ভিনসেন্ট ক্যারিলো ফুয়েন্তেস' এর হিটম্যান। ধরণা করা হয় এনারা সংখ্যাধিক খুনের সাথে জড়িত। এনার বিচরণক্ষেত্র মেক্সিকো এবং টেক্সাসের এল প্যাসো তে। সম্ভবত উনি প্লাস্টিক সার্জারি করে তার চেহারা এবং হাতের রেখা চেন্জ করে দিয়েছেন।
আ্যালেক্সিস ফ্লোরেসঃ কিডন্যাপিং, মার্ডার এবং গ্রেফতার এড়ানোর জন্য পলায়ন।
পুরস্কারঃ ১,০০,০০০ ডলার বা ৭০,০০০,০০০ টাকা।
আমলনামাঃ আমাদের দেশের রাজনিতীবিদ দের মতো ভদ্রলোকের জন্মতারিখও অনেক। ১৮ই জুলাই ১৯৭৫, ১৮ই জুলাই ১৯৮২, ১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৮০, ১৭ই জুলাই ১৯৮২! ভদ্রলোক পেনিসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় একটি পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে কিডন্যপ এবং মার্ডার করেছেন। জুলাই, ২০০০ সালে মেয়েটিকে খোঁজা শুরু হয়, পাওয়া যায় ঐ বছরের আগস্ট মাসে মৃতপ্রায় অবস্থায়। পরবর্তীতে মেয়েটির মৃত্যু হয়। ভদ্রলোক হন্ডুরাসে ঘোরাফেরা করেন বলে জানা গেছে। Mario Flores, Mario Roberto Flores, Mario F. Roberto, Alex Contreras ও Alesis Contreras নাম ধারণ করে তিনি নিজেকে আত্মগোপন করেন।
সেমিওন মোগিলেভিচঃ ইন্টারনেট জালিয়াতি, RICO ষড়যন্ত্র, মেইল ফ্রড, অবৈধ টাকা লেনদেন সম্পর্কিত অপরাধ ও ষড়যন্ত্র, অপরাধ করতে সাহায্য করা, সিকিউরিটি বন্ড জালিয়াতি, SEC তে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন, SEC তে ভুয়া তথ্য প্রদান, এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করা এই ভদ্রলোকের বৈশিষ্ট্য।
পুরস্কারঃ ১,০০,০০০ ডলার বা ৭০,০০০,০০০ টাকা।
আমলনামাঃ ১৯৪৬ এর ৫ই জুলাই বা ৩০ শে জুলাই জন্ম এ ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে কানাডার শেয়ার মার্কেটে মাল্টি মিলিয়ন ডলারের ভুয়া স্কীম চালানোর জন্য অভিযোগ আছে। উনার হেডকোয়ার্টার ছিলো পেনিসিলভানিয়ার বাকস কাউন্টির নিউটাউনে। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত উনি সফল ভাবে এই ব্যাবসা চালিয়ে গিয়েছেন। এই বিশাল সাম্রাজ্য ভেঙ্গে পড়ে ১৯৯৮ সালে। হাজারে হাজারে বিনিয়োগকারীর প্রায় দেড়শ মিলিয়ন ডলার উনি মেরে খান, যা ধরা পড়ে ১৯৯৮তে এবং উনাকে অভিযুক্ত করা হয় ২০০৩ এর এপ্রিলে।
ভদ্রলোক মোঁচ রাখেন এবং চেইন স্মোকার বলে জানা গিয়েছে। উনার বাড়ি রাশিয়ার মস্কোতে হলেও রাশিয়ান পাসপোর্ট ছাড়াও ইজরাইলী, ইউক্রেনিয়ান এবং গ্রীক পাসপোর্ট ইউজ করতেন।
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




