somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ কেমন নির্মমতা ?

১৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানতাম অনেক কষ্ট হবে, চরের মধ্য দিয়ে কাদা পানির মেখে অনেক পথ হাটতে হবে। তবুও গেলাম মানুষ কত নির্মম হতে পারে নিজ চোখে দেখার জন্য। সহকর্মিদের সাথে করে প্রথমে কুষ্টিয়া শহর থেকে যানবাহনে করে মহিষকুন্ডি গেলাম। সেখান থেকে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মার তীরে গিয়ে যখন দাড়ালাম তখন ঘড়ির কাটায় একদম ঠিক ঠিক দুটো বাজে। যারা আমাদের খবর দিয়ে নিয়ে গেছে অর্থাত নির্মমতার শিকার যারা তারা দু’জন চরের দিকে হাত দিয়ে দেখাচ্ছে ওই যে ওখানে আমাদের জমি। তাদের বলার স্টাইলে মনে হলো এই তো এখানেই কিন্তু তাকিয়ে দেখি বিস্তৃর্ণ এলাকা। বিশাল পদ্মার চর। যতদুর চোখ যায় শুধু ফাকা মাঠ আর নদীর পানি। দুরে আবছা দেখা যায় একদিকে ভারত অন্যদিকে রাজশাহী। যা হোক চরের ভেতর নেমে হাটা শুরু করলাম। প্রথমেই কাদা আর পানি পেরুতে হলো। কাদার মধ্যে বেছে বেছে পা ফেলতে লাগলাম। হঠাত পায়ে এসে লাগলো শীতল পানি। তখন যেমন মনে হলো তেমনটিই করলাম। পানির মধ্যে পুরোপুরি পা ডুবিয়ে নিলাম। আমার দেখাদেখি সহযাত্রী সাংবাদিক সাজ্জাদ রানাও একই কান্ড ঘটালো। দেখাদেখি জহুরুল ইসলামও। যা হোক আমরা হেটে যাচ্ছিতো যাচ্ছিই। এইতো এখানে..বলা আর শেষ হয়না তাদের। আমরা নরম মাটি, বাদামের ক্ষেত, কালাইএর ক্ষেত ফাকা মাঠ পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। যামেলা করছিল কাধের ব্যাগটি। আড়াই কেজি ওজনের ল্যাপটপের ব্যাগটির ওজন মনে হচ্ছিল আধামন। বারবার কাধ বদল করা দেখে কৃষকদের একজন আমার কাছ থেকে ব্যাগটি চেয়ে নিল। পরে একইভাবে পাতলা হলো সাজ্জাদ রানাও। যা হোক আমরা যখন হেটে হেটে ক্লান্তি নিয়ে স্পটে পৌছালাম তখন চোখ আকাশে উঠলো। মাঠের পর মাঠ ফসল শুন্য। দীর্ষ চরে কোথাও ফসল আছে। কোথাওবা শুন্য। এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি মহিষ দিয়ে খাইয়ে দিয়েছে এসব কালাই ও বাদামের ক্ষেত। ভিডিও ক্যামেরায় বিভিন্ন এ্যাঙ্গলে টেক করলাম দৃশ্য। এরপর কৃষকদের সাক্ষাতকার নিলাম। তাদের বক্তব্য হলো-এসব জমি একসময় তাদের জমির ক্ষেত ছিল। পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। পদ্মা আবার দুরে সরে যাওয়ায় চর জেগে উঠেছে। তারা এবার চীনাবাদাম ও মাসকালাই রোপন করেছিল। চরের অদুরে রুবেল মহলদার নামের এক ব্যক্তির মহিষের বাথান আছে। তার অর্ধশতাধিক মহিষও আছে। শোনা যায় কালাই, বাদাম বা কাচা ফসল খাওয়ালে গরু মহিষ তাজা হয়। সে কারনে রুবেল একেকটি চরে গিয়ে গভীর রাতে মহিষ দিয়ে ক্ষেত খাওয়ায়। আমাদের আসার খবর শুনে একে একে আরো কৃষকরা আসতে থাকলো। একেক জনের কারো ২০ বিঘা, কারো ৮ বিঘা, কারো ৪ বিঘা কারো ৩ বিঘা জমির ফসল খেয়ে গেছে তার মহিষ। কেউ কেউ বললো দিনের বেলা চোখের সামনেও মহিষ দিয়ে খাইয়েছে ফসল, কিছুই বলতে পারেনি তারা। সবমিলে ১৫জন কৃষকের ১২০ বিঘা জমির ফসল নষ্ট করেছে মহিষে। যখন সব কৃষক একত্রিত হয়ে ফুসে উঠেছে তখন চর ছেড়ে অন্য চরে চলে গেছে রুবেল মহলদার। থানায় মামলা করতে গিয়েছিল ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা। মান্নান নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা রুবেলের পক্ষ নিয়ে তাদের থানা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। বলেছে স্থানীয়ভাবে পুলিশিং কমিটিতে বিষয়টির সুরাহা করা হবে। কিন্তু কোন সুরাহাই হয়নি। আমরা যখন দৌলতপুর থানার ওসি সাহেবের নিকট বিষয়টি জানতে চাই, তিনি বলেন এ অপরাধে সরাসরি মামলা নেবার বিধান নেই। কোর্টের অনুমতি প্রয়োজন হয়। নানা আইনের কথা বলে আমাদেরকে হাসি মুখে বিদায় দেন। তার বক্তব্যও আমরা রেকর্ড করেছি। আমরা গিয়েছিলাম গত সোমবার। মঙ্গলবার আমাদের এক সহকর্মির নিকট ফোন করেছে ক্ষতিগ্রস্থরাই। বলেছে, ভাই নিউজ করেন না। তারা আমাদের ক্সতিপূরন দিতে রাজি হয়েছে। আপনারা এখন নিউজ করে দিলে আমরা আর কিছুই পাব না। তারা পাওয়ারফুল তো।
বলুন তো এখন কি করবো?
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×