বাংলাদেশের ভবিষ্যত আজ অন্ধকারাচ্ছন্ন। শকুনেরা লুটে-পুটে খাবার সকল আয়োজনই যেন শেষ করেছে আমাদের এই দেশটাকে। মানবাধিকার আজ দানবাধিকারে পরিনত হয়েছে, জোড় যার মুল্লুক তার – প্রবাদটিও আজ যেন পরাজিত হয়েছে আওয়ামী অত্যাচারের কাছে। আজ পাবনার জেলা প্রশাসনকে অসহায়ের মত কাদতে হচ্ছে জনস্মুখে আর আওয়ামী দানবদের বিরোধীতা করার অপরাধে শাস্তি স্বরুপ তাদেরকে করা হচ্ছে বদলি বা ওএসডি। রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে মানুষ এমনকি জনপ্রতিনিধিদেরকেও।
দ্রব্যমুল্যের ঊর্ধগতি, চরম লোডশেডিং, ইভ টিজিং, ছাত্র-ছাত্রী লীগের সন্ত্রাস-হামলা-কামরাকামরি, শিক্ষাংগনে চাদাবাজি, ছাত্র আর যুবলীগের মধ্যে শক্তি পরীক্ষার সন্ত্রাসী খেলা, খুনী এম পির পক্ষে পুলিশ অফিসারের সাফাই, সীমান্তে বি এস এফের অত্যাচারে সরকারের নীরবতা, দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী ট্রানজিট প্রদান, খুনী-সন্ত্রাসীদের বিচারপতি নিয়োগসহ সরকারের নানান কর্মকান্ডে জনগন আজ বিক্ষ্বুদ্ধ।
অপরদিকে সরকারের ইসলাম বিরোধী অবস্থান ও আজ পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। দেশের বৃহত্তম ইসলামী সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে আজগুবিসব অভিযোগ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নামের প্রহসন যে আজ ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রথম পদক্ষেপ তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে।
বাম-রামপন্থী প্রভাবিত সরকার যেন এই মুসলিম অধ্যুষিত জনপদে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে। আর এই অসম যুদ্ধে হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করছে রাষ্ট্রযন্ত্রকে- প্রশাসন ও বিচার ব্যাবস্থাকে। আদালতকে আওয়ামী করনের মাধ্যমে ন্যায় বিচারকে করা হয়েছে সুদুরপরাহত। আওয়ামী সন্ত্রাসী-দানবদের পাপমুক্তি আর ইসলামের বিভিন্ন ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়াই যেন আজ তাদের প্রধান কাজ। ইসলামকে নির্বাসনে পাঠিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিচারপতিদের তাগিদ আজ আওয়ামী লীগ নেতাদেরকেও ভড়কে দিচ্ছে।
আমার এই ঘোমটা খোলার ডাকাডাকি ঐ সব বাম-রাম বা তাদের অনুসারীদের অথবা এই ইসলাম বিদ্বেষী সরকারের আমলে যেসব আলেমরা পুলিশ প্রটেকশনে ইসলামী সমাবেশ করে ‘আমরা আম্লীগের বিটিম নই’ বলে জাত চিনিয়েছেন তাদের প্রতি নয়।
বরং আমার এ আহবান সেইসব আলেমদের প্রতি যারা আজও নিজেদেরকে এদেশের ইসলাম প্রিয় মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে জাহির করেন আর বিভিন্ন সেমিনারে এসে প্রধান অতিথি, সভাপতির আসন অলংকৃত করেন তাদের প্রতি। আপনারা আলেমরা যখন একসাথে বসেন, ইসলাম রক্ষার তাগাদা দেন তখন মানুষ আশান্বিত হয়। আজকে বাংলাদেশের মুসলমানদের এই দুঃসময়ে কি আপনারা আপনাদের উপড় অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন? এই প্রশ্নটা নিজেদের বিবেকের কাছে জিজ্ঞাসা করে দেখুন, বিবেক কি বলে।
আমরা বুঝি আপনারা আজ কৌশলী ভূমিকায় আছেন কিন্তু একটা একটা করে ইসলামের বিধানগুলোর বিপক্ষে রায় দেয়া হচ্ছে- ফতোয়া, পর্দা, বোরকা বিতর্কিত করা হচ্ছে, শিক্ষা ব্যাবস্থাকে সেক্যুলার করা হয়েছে এমনকি সংবিধান থেকেও ইসলামকে বিতারিত করে ধর্মনিরপেক্ষতা স্থাপন করার ব্যাবস্থা করা হচ্ছে কিন্তু কই আপনাদের কৌশলী ভূমিকার তো কোন পরিবর্তন হচ্ছেনা।
বাকশালসম জামানা চলছে তাই কথা বলতে হয় সাবধানে… পান থেকে চুন খসলেই হামলা-মামলা-গ্রেফতারের ভয়। আদালত রায় দিচ্ছে ইসলামী বিধানগুলোর বিপক্ষে আর আপনারা প্রতিবাদও করছেন না, যদি না আবার আদালত অবমাননার মামলা হয়। কৌশলী হন সমস্যা নাই তবে ভয় পেলে কিন্তু ক্ষমা পাবেন না। ইসলামের উপড়ে আঘাত আসলে অতীতে কত না হুমকী-ধামকী-মিছিল-মিটিং করতেন কোথায় আজ সেসব আয়োজন? আজগুবিসব অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার আর রিমান্ড দেখে ভয় পেলে চলবে না। ইসলামী আন্দোলনের পথ ফুল বিছানো নয় তাই তো এ পথের সৈনিকরা গ্রেফতার আর রিমান্ডের পরোয়া করেনা- হাসতে হাসতে জীবন বিলিয়ে দেয়। শহীদ তীতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহর রক্ত যাদের ধমনীতে-যাদের সাথীরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে আর সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে জীবন বাজী রেখে, কোনো কমজোড়-ভীড়ু তাদের নেতা হতে পারেনা।
অনেক আগেই সময় হয়েছে রুখে দাড়াবার। ঘোমটা খুলুন, ভয় জড়তাকে পিছে ঠেলে আন্দোলনের ময়দানে আসুন। সেমিনার করে আর বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব শেষ মনে করবেন না আর যদি সাহস না থাকে তবে ইসলামী প্রোগ্রামগুলোতে গিয়ে প্রধান অতিথি হয়ে হুমকি দিয়ে অযথা ইসলাম কে অপমান করবেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

