সুত্র হতে পড়তে এই লিংকে ক্লিক করতে পারেন।
হাইকোর্টে হট্টগোল সৃষ্টিকারী বিএনপি-পন্থী আইনজীবীরা জামিন পেলেননা। পাশাপাশি পুলিশের তদন্ত কাজে বাধা দান মামলায়ও জামিন হয়নি বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের। জামিন আবেদন শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে আগামীকাল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রাখে।
৭ আগস্ট রোববার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চে বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা দুটি পৃথক মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় আদালতের নিকট এন্টিসিপেটরি বেল তথা অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেন। অভিযুক্ত বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের হয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহাবুব হোসেন শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি মামলা দুটোকে জামিন যোগ্য ধারায় হয়েছে বলে আদালতকে অবগত করান। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা এই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তাদের পালিয়ে যাবার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া পুলিশ অভিযুক্ত কয়েকজনকে গ্রেফতার করে ১০ দিনের রিমান্ড চান। এতে আমরা আশংকা করছি অভিযুক্ত আইনজীবীদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হবে।
আদালত তাদের কথা শোনার পর রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীদের কথা শোনেন। রাষ্ট্র পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, জামিনের সাথে আদালতের ভাবমূর্তি জড়িত। এখন জামিন দেওয়া হলে এসব ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিণ চৌধুরীকে “কালো মানিক” বলেছে। অভিযুক্তরা স্লোগান দিয়েছে “কালো মানিকের চামড়া তুলে নিবো আমরা” । অভিযুক্ত আইনজীবীরা একজন বিচারপতির সাথে যে আচরণ করেছে তা আইনজীবী সুলভ নয়।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের পক্ষে শুনানিকারী আইনজীবী ও বর্তমান সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মাহাবুব হোসেনকে পুনরায় ডাকেন। বিষয়টি একটি সম্মানজনক উপায়ে সমাধান হবে কিনা, বার ও বেঞ্চ কোনো সমঝোতায় আসবে কিনা এসব জানতে চান। আদালত এই মুহূর্তে কোনো আদেশ দিবেন কিনা সেটাও তার কাছে জানতে চান। জবাবে খন্দকার মাহাবুব হোসেন সিনিয়র আইনজীবীদের নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে বলে জানালেন।
আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন শুনানি আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেন।
আদালতে মামলা মুলতবি হবার পর সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি খন্দকার মাহাবুব হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের তার অফিস কক্ষে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, আমরা জামিনের জন্য দুটি আবেদন পেশ করেছিলাম। আবেদনের সময় অভিযুক্ত সকল আইনজীবী উপস্থিত ছিলো। কি কারণে জামিন দেওয়া হবে তার সবকিছু বলা হয়েছে। আদালত বিষয়টির ওপর শুনানি কাল পর্যন্ত মুলতবি করেছে।
এটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম তার অফিসে সাংবাদিকদের একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতকার দেন। তিনি বলেন অভিযুক্তরা যে আচরণ করেছে তাতে আদালতের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বার ও বেঞ্চ কোনো সমঝোতায় আসবে কিনা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি সাবেক বার সভাপতি থাকার কারণে চিঠি পেয়েছি কিন্তু কি হবে তা এ মুহূর্তে বলতে পারি না। তিনি বলেন বার ও বেঞ্চের মধ্যে আপোষ হলেও হতে পারে কিন্তু পুলিশের ফৌজদারি মামলায় কীভাবে আপোষ হয় তা আমার জানা নাই। তিনি বলেন, তারা জামিনের আবেদন করলে প্রচলিত আইন অনুসারে নিম্ন আদালতে গিয়ে জামিন চাইতে পারে।
একজন আইনজীবী গত দুইদিন যাবত গ্রেফতার এড়াতে বার সভাপতির কক্ষে অবস্থান নিয়ে আছেন । তার ব্যাপারে কি হবে? পুলিশ কি তাকে গ্রেফতার করবে? এর উত্তরে এটর্নি জেনারেল বলেন সেটা পুলিশ বলতে পারে তাকে গ্রেফতার করবে কিনা। কিন্তু গত দুইদিন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি বার সভাপতির অফিসে আশ্রয় নেওয়ার কারণে। পুলিশ আদালতের ওপর যে শ্রদ্ধা দেখিয়েছে তা প্রশংসনীয়। সূত্র. নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


