টিপাইমুখ। অনেক দিন বন্ধ থাকার পর এই নামটি আবার শুনতে হলও। বন্ধু রাষ্ট্র বলে পরিচিত যে রাষ্ট্রটি এদেশের শাসক দলের কাছে অতি মাত্রায় পরিচিত। প্রতিবেশী দেশের জনগণ যে দলটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সেই রাষ্ট্রটির বর্তমান কর্মকাণ্ড কি তার ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করে? ভারত টিপাইমুখ প্রকল্প থেকে সরে আসবে এমনটা কোনো সময়ই বলেনি। তারা বলেছে বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু তারা করবে না। এ কথার মধ্যে একটি চালাকি আছে। এখানে বলা হয়নি বাংলাদেশ ক্ষতি হবে বলে যেটা মনে করে সেটা ভারত করবে না। ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, ভারত বাংলাদেশের ক্ষতি বলতে যেটা মনে করে সেটা তারা করবে না। ভারতের যুক্তি, টিপাইমুখ বাঁধ বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি করবে না। কারণ এই বাঁধ হলে বাংলাদেশ বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। যেহেতু বন্যা বাংলাদেশের একটি ক্ষতিকর দুর্যোগ। সে কারণে ভারত সরকার টিপাইমুখ বাঁধ বানিয়ে বাংলাদেশকে তার আসন্ন ক্ষতি থেকে বাঁচাবে। সুতরাং বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবে না ভারত। এ কথার মাজেজা হচ্ছে এখানে।
নদীতে বাঁধ দেওয়া মানে নদীকে মেরে ফেলা। নদী কে নিয়ে এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত গবেষণা হয়েছে তার কোনোটিতেই বলা হয়নি বাঁধ নদীর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। নদীকে তার আপন গতি চলতে দিতে হয়। এ চলার পথে বাধার সৃষ্টি করলে নদীর মৃত্যু হয়। বাঁধ দিলে নদীর স্বাভাবিক গতি লুপ্ত হয়।
অন্যদিকে, নদীতে পানির প্রবাহ থাকলে বায়ু পানির সংঘর্ষে অক্সিজেন তৈরি হয়। জলজ প্রাণীর বসবাসের জন্য অক্সিজন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে। নদীর পানিতে অক্সিজেন উৎপাদন কমে যাবে। জলজ প্রাণীরা সেখানে বেঁচে থাকতে পারবে না। বেকার হয়ে যাবে হাজার হাজার মৎস্যজীবী। যার অর্থনৈতিক ক্ষতি বিরাট।
অন্যদিকে বাঁধ দিয়ে যে বন্যা নিয়ন্ত্রণ হয়। এটাও একটা উদ্ভট যুক্তি। বর্ষার সময় বা পাহাড়ি ঢলে যখন নদীতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন বাঁধ একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত পানি আটকে রাখতে পারে। মাত্রার বাইরে চলে গেলে বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে রাখা যায় না। তখন বাধ ভেঙে যেতে পারে এই ভয়ে পানি ছেড়ে দিতে হয়।
জল বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বন্যা ঠেকানোর জন্য এমন বহু বাঁধ বানিয়েছিলও চীন সরকার। তাদের এমন ভাবনা ছিলো শুরুর দিকে। পরে দেখা গেলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলেও বন্যা বন্ধ করা যাচ্ছে না এ প্রকিৃয়ায় মাধ্যমে। অন্যদিকে নদী গুলো মরে যাচ্ছে। আর বাঁধের পরবর্তী অংশে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। শেষমেশ চীন সরকারকে সে সব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ডিনামাইট দিয়ে ভেঙ্গে দিতে বাধ্য হয়। ইন্টারনেট ঘাঁটলেই এসব তথ্য পেয়ে যাবেন ভূরি ভূরি। এ নিয়ে বহু সংবাদ সেই সময় প্রকাশিত হয়েছে।
ভারত বাংলাদেশের সাথে প্রকৃত অর্থে কেমন সম্পর্ক চায় সেটা তার কাজ দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। দু দেশের সম্পর্ক খারাপ হয় এমন কিছু করা উচিত না ভারত বাংলাদেশ উভয়রই। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুসারে, উপকূলবর্তী দেশ গুলোর অধিকার আছে তাদের নিজ নিজ উন্নয়নে নদীকে ব্যবহার করার। কিন্তু তা হতে হবে নদীর তীরবর্তী দেশ গুলোর স্বার্থ রক্ষা করে। এক দেশের ক্ষতি করে অন্য দেশের উন্নয়ন হবে। এভাবে আন্তর্জাতিক নদীর সম্পদ ব্যবহার করা যায় না। এটা রীতি বিরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক আইন বিরুদ্ধ। নদীকে বাঁচতে দিতে হবে নদীর মত। আমি কত ভাগ পানি পাব, সে কত ভাগ পানি পাবে, তার ভিত্তিতে নদীর স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায় না। নদীতে সব সময় পানির অফুরন্ত প্রবাহ থাকবে এমন নিশ্চয়তা দিয়ে নদীর পানি ভাগাভাগি চুক্তি করতে হবে। নদীর জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে। নদীর পানিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। নদীতে নব্যতা রক্ষা করতে হবে। নদী ভরাট বন্ধ করতে হবে। নদীকে দখল মুক্ত করতে হবে।
আমরা সকলে জানি সমাজের একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী শ্রেণি আছে যারা নদীর পানি নিয়ে সস্তা রাজনীতি করে। যারা নদীকে বহুভাবে হত্যা করছে। সেটা নিয়ে কিন্তু সেই তাদের খুব একটা সরব হতে দেখা যায় না। বাংলাদেশ একটি নদী মাতৃক দেশ। নদীই যদি না থাকে তখন হয়ত বলা হবে বাংলাদেশ নদী ধ্বংস কারী দেশ। লেখার সূত্র এই লিংকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


