আমার প্রিয় পোস্ট
- আর্কাইভ : আমার কিছু খুচরো লেখালেখি - আইরিন সুলতানা
- চির উন্নত শির(আজ আমাদের জাতীয় কবির ১০৯তম জন্মবার্ষিকী,বাংলা ১১ই জৈষ্ঠ হিসেবে আগামী কাল-ও){ছবি ব্লগ} . - অ্যামাটার
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- মহিতোযের দেশে ফেরা... - পিয়াল
- মুক্তি পেয়েও আরিফের ফেরারী যাপন - অমি রহমান পিয়াল
- আমার নিরন্তর মুসলমান হয়ে ওঠা - সামী মিয়াদাদ
- বৃষ্টির গল্প ! (চলছে...) - পিয়াল
- ওরা সবাই বাই সাইকেল বালিকা......./ ভাস্কর চৌধুরী - ভাস্কর চৌধুরী
- ব্লগারদের সঙ্গে আমার স্মৃতি এবং আমার কথোপকথন - একরামুল হক শামীম
- চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়.... - আব্দুন নূর তুষার
- সব কিছু তোমার জন্য নয় - মানুষ
- চলুন,প্রাপ্তিকে আবারো ভালবাসা দিয়ে প্রমাণ করি মানবতা শেষ হয়ে যায়নি - মোসতফা মনির সৌরভ
- জীবনটাকে উপভোগ করে চলে গেল বন্ধু সঞ্জীব চৌধুরী - নিজেরআয়না
- রম্য ছড়াঃ নারী নিকের ব্লগার যারা - কালপুরুষ
- কেন যাব - কালপুরুষ
- disgusting attack on blog moderator - আরিল
- সাড়ে সাত হাজারের ভেলরি, আড়াই লাখের শফি সামি, আর দুই পয়সার আমরা.. - আরিফ জেবতিক
আবারো মালয়শিয়া !!! (পর্ব-১) : রানওয়ের মাটি ছুঁয়ে ডানা মেলে উড়ে গেল যেন একটি পাখি...
১১ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:১২
আবারও মালয়শিয়া! চোখের সামনে দিয়ে পুরোন ফিল্মটা যেন নিমিষেই ফার্স্ট ফরওয়ার্ড হয়ে গেল । সেই ২০০৫ এর নভেম্বরে জীবনের প্রথম প্লেনে চড়া, বিদেশের মাটিতে পা দেয়া, অপরিচিত মানুষ, রাস্তা-ঘাট; যখন একটু একটু করে তুমুল উৎসাহ নিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছি তখনই হুট করে সাত মাসের স্মৃতি নিয়ে দেশে ফেরা । সেই মালয়শিয়া আবারো হাতছানি দিয়ে এমন প্রবলভাবে ডাকল যে লোভটা সামলানো গেল না একদমই।
স্বল্প বা দীর্ঘ, প্রবাস জীবন যতটুকু সময়েরই হোক না কেন, দেশ থেকে কেউ আসবে জানলে সবার খুবই ছোট্ট ছোট্ট চাহিদাগুলো, আব্দার বললে ভাল শোনাবে হয়ত, শুনলে বড় মায়া লাগে।আব্দারের তালিকায় উঠে আসে সন্দেশ, লাড্ডু, বইমেলা থেকে হুমায়ুনের বই এর সাথে "অপর বাস্তব", বাঙলা গানের সিডি; কারো আবার আমের আচার তো কারো রসুনের আচার । তালিকানুযায়ী সব এক এক করে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম ব্যাগে। দেশে থাকা স্বজনরাও সাথে কিছু দিয়ে দিতে চায় বিদেশে অবস্থানরত তাদের প্রিয়জনদের জন্য। যেমন, আমার এক পুরোন সহকর্মী কুয়ালালামপুরে এক নামকরা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে; ওর হাসব্যান্ড আছেন দেশে। ভদ্রলোক একদিন দেখা করে একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিলেন, হাতে নিয়ে যতটুকু মনে হলো সালোয়ার কামিজ।
ভিসা, অফিস থেকে ছুটি নেয়া, কেনাকাটা- প্রতিদিন একটু একটু করে সেরে নিলাম। ব্লগারদের ২১ তারিখের বিকালের আড্ডাটা মিস্ করলাম রাতের ফ্লাইটের কারনে। রাত ১:৪০ এ ফ্লাইট, মালয়শিয়ান এয়ারলাইন্স ; আগেরবারও তাই ছিল। প্রায় ১১টার দিকে জিয়া (জিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট)'তে পৌছে গেলাম। ক্যাব ঢালু সিড়ি দিয়ে উপরের টার্মিনালের দিকে হালকা গতিতে যাচ্ছিল, পুলিশ গাড়ি থামিয়ে, জানালার সমান্তরালে মুখ নামিয়ে বলল, "যাত্রী ছাড়া বাকীরা নেমে যান, শুধু যাত্রীই ক্যাব নিয়ে উপর পর্যন্ত যেতে পারবে বাকীরা হেঁটে" । সবার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল এবং আমরা সবাই নেমে পড়লাম ক্যাব থেকে। ছোট্ট একটা তর্ক করল আব্বা । ওদের ভাষ্য ছিল, আজকাল একটু নিয়মকানুন আরোপিত হয়েছে, তবে শুধু মহিলা যাত্রী বুঝলে তারা এভাবে বলতনা। এর মাঝে আরেকটা ক্যাব গতি না কমিয়ে হুশ করে উপরে উঠে গেল; পুলিশগুলো হা করে দাঁড়িয়ে। আব্বা সেদিকে হাত তুলে দেখিয়ে হালকা খোঁচা দিতে ছাড়লনা।
আমরা হেঁটেই উপরে উঠে আসলাম। এবার আরেক নিয়ম এর মুখোমুখি । আগেরবার আমি ভেতরে গেলে আব্বা-আম্মা-ভাইয়া কাঁচের গ্লাসের এপাশ থেকে যতক্ষণ, যতদূর দেখা যায় দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু এবার সে পর্যন্ত যাওয়া যাবে না; আরেক নিয়ম। অনেকেই দেখি বিরক্ত । একজন বলেই বসলেন, "খালি নিজের দেশ, জন্মভূমি বলেই... না হলে এই দেশে কোন কিছুতেই হয়রানি ছাড়া শান্তি পেলাম না..." ।
আমি বিদায় নিয়ে ভেতরের দিকে যাওয়া শুরু করলাম । মায়েদের ক্ষেত্রে বোধহয় তাবত নিয়ম কানুন শিথিল হয়ে যায় । আম্মাকে খানিকটা ভেতরে যেতে দেয়া হলো। আম্মা আগেরবারের মত সেই কাঁচের এপাশ থেকে আমাকে দেখতে থাকলেন।
মালয়শিয়ান এয়ারলাইন্স ৩২ কেজি পর্যন্ত লাগেজ বহন করতে দেয় এটা জানলাম বোর্ডিং পাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে। আমি বেশ মাপঝোক করে লাগেজ এনেছিলাম যাতে মাঝরাতে কোন ঝামেলা না হয়। (স্যরি, সারিয়া আপু, আগে জানলে আপনার প্যাকেটটাও নিয়ে আসা যেত...তবে যেমন বলেছি, "নেক্সট টাইম"...যদিও জানিনা সেই নেক্সট টাইম আগামী ১০ বছরেও আর আসবে কিনা !
)
ইমিগ্রেশনের নিয়ম-কানুন পার হতে বেশ ঝামেলা হলো ; দু'জন অফিসার বেশ ভাব নিয়ে এসে পাসপোর্ট দেখল। কাউন্টারের অফিসার কাগজপত্র দেখে আবার আরেকজনকে দেখিয়ে বলে, "ট্যুরিস্ট ভিসা, আগেও একবার গিয়েছিল..." । ক'দিন আগে আমার সহকর্মী অফিসের কাজে একদিনের জন্য বাহরাইন গিয়েছিল; বেচারীর প্রথম বিদেশ ভ্রমনে ইমিগ্রেশনে এমনভাবে আটকে গিয়েছিল যে যাওয়াটা নাকি বাতিলই হয়ে যাচ্ছিল প্রায়। আমাকে এক সিনিয়র মহিলা অফিসারের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হলো। মাঝরাতের এইসব টানাহেঁচড়া সয্য হচ্ছিলনা; আমি পুরোপুরিই বিরক্ত এবং তা অবলীলায় আমার গলার স্বরে প্রকাশ করলাম । কি, কেন, কোথায় এইসব প্রশ্নের উত্তর শুনে মহিলা অফিসার আমার সাথের অফিসারকে বললেন, "আমার মনে হয় ছেড়ে দেন..." । কেমন জানি অপমান লাগল কথাটাতে; "ছেড়ে দেন" মানে কি ! আমি কি আটকানো ছিলাম তাহলে!!! কেউ কেউ বলে আমার চেহারা নাকি "ভাজা মাছ উল্টেপাল্টে খেতে পারে না" টাইপ; সেটা নিয়ে আমার নিজেরই এখন সন্দেহ হলো । কারন কত রাঘব-বোয়াল ফসকে যায় আর আমি চুনোপুঁটি মাঝরাতে একগাদা প্রশ্নের সম্মুখীন হই ! কাউন্টারের কাছে ফিরে আসার সময় আমি বেশ একটু ক্ষোভ প্রকাশ করতেই সাথের অফিসার বললেন, "ম্যাডাম, আসলে ইদানীং একটু কড়াকড়ি করা হয়েছে..." ।
ইমিগ্রশনের ঝামেলা শেষ করে একটুক্ষণ বসতে হলো; তারপর কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়ানো, তারপর ফ্লাইটের সময় পর্যন্ত আবারও ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা । আব্বা-আম্মা ততক্ষনে বাসায় পৌছে গেছে; আমি মাঝে মাঝেই ফোনে তাদের আপডেট দিচ্ছিলাম । অবশেষে ব্রীজ পার হয়ে প্লেনের ভেতরে প্রবেশ; বোর্ডিং পাস নেয়ার সময় কাউন্টারে বলেছিলাম উইন্ডো সিট দিতে । ডাবল সিট তবে ঠিক জানালার পাশেরটা পাইনি দেখে মনটা খারাপ হলো । আগের বার যাওয়ার সময় সাথে সদ্য পরিচিত ছোট ভাই টাইপ এক বন্ধু ছিল- মোসাদ্দেক; আমাদের যাত্রা উদ্দেশ্যও এক ছিল । দেশে ফেরার সময় আমার পাশের সিট খালি ছিল । এবার পাশে কে বসবে কে জানে ! এবার শেষ পর্যন্ত এক মেয়ে এসে বসল; গন্তব্যস্থল আমেরিকা । প্লেনে উঠে শেষবারের মত আব্বা-আম্মার সাথে কথা বলে ফোনটা অফ করে দিতেই মনটা খারাপ হয়ে গেল ।
টেকনিক্যাল কিনবা সাধারণ জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থাকায় বিমান উড্ডয়নের নাটকীয় বর্ননা দিতে পারছিনা। তবে গতবার কানে প্রবল চাপ পড়েছিল সেটা আর এবার অনুভব করলাম না তেমন । আমার সামনের সিট দু'টো খালি দেখে আমি চটজলদি সেখানে স্থানান্তরিত হয়ে গেলাম । জানালা দিয়ে নীচে তাকিয়ে আলো-আঁধারিতে মায়াময়, রহস্যময় রাতের ঢাকা দেখলাম। মাস্ (মালয়শিয়ান এয়ারলাইন্স সার্ভিস) এর দিনের ফ্লাইট নেই; তাই দিনের আলোতে নিজের পরিচিত শহরটাকে উপর থেকে দেখার শখটা এবারও পুরণ হলোনা।
ওদিকে তেমন কিছু খেয়ে আসিনি বলে পেটে পুরোদস্তর ছুঁচোর নাচন শুরু হয়ে গেছে। আমি খাবারের জন্য হা করে বসে থাকলাম । একটা কড়া গন্ধে পেটটা ভয়ানক মোচড় দিয়ে উঠল; মাথা-ঘাড় ঘুরিয়ে কোনাকুনি বসে থাকা এক চাইনিজের সামনে বিয়ারের ক্যান দেখলাম (এই ব্যাটা গিলেছিল অনেক...) । অবশেষে খাবারের ট্রলি দেখা গেল। খুব সুন্দর করে জিগেষ করা হলো "ভেজ" নাকি "নন-ভেজ"। "নন-ভেজ" সার্ভ করা হলো- ভাত, বেগুণের তরকারী, পাঠার মাংস ভুনা, সালাদ, এক টুকরা ফল (গন্ধের কারনে আমি ভেবেছিলাম এটা মালয়শিয়ান ফল ডুরিয়ান, তবে পরে শুনলাম প্লেনে নাকি ডুরিয়ান নিষিদ্ধ; অবশ্যই গন্ধের কারনে)। আগেই বলেছি, প্রচন্ড ক্ষুধার্থ ছিলাম, তাড়াহুড়ো করে খাবার মুখে দিতেই মুখটা বিস্বাদে ভরে গেল। আগেরবারের খাবার ভালই লেগেছিল, আর বেশ কয়েক মাস থাকার কারনে আমি মালয় খাবারের সাথে কম-বেশী অভ্যস্ত ছিলাম । কিন্তু এবার আর কিছুতেই গলাধ:করণ করা গেল না ; অগ্যতা রেখে দিলাম ; সামনের সিটের পেছনের অংশটার সাথে সাঁটা ছোট্ট মনিটরে চলতে থাকা মুভিতে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করলাম, তবে একটু ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছিল দেখে গায়ে বিমানের দু'টো চাদর জড়িয়ে চোখ বুঁজলাম ঘুম দেবার জন্য।
ঘুম ভাঙল গন্তব্যে পৌঁছনোর পর । বিমান থেকে নেমে তৃতীয়বারের মত পা দিলাম মালয়শিয়ান এয়ারপোর্টের চকচকে মেঝেতে; বেশ খানিকটা হেঁটে দিকনির্দেশনামত ইমিগ্রেশন কাউন্টারের লাইনে দাঁড়ালাম (৭:২৬ পার হয়েছে ততক্ষণে) । মনে মনে ভাবলাম এখানে না জানি আবার কত-শত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় ! আমার পাশের কাউন্টারে টুরিস্ট ভিসায় আগত এক বাঙালীকে হালকা পাতলা প্রশ্ন করা হচ্ছিল (সাথে কত ডলার আছে, কোথায় উঠবে এইসব) দেখে আমিও প্রস্তুত হয়ে গেলাম । কিন্তু মহিলা ইমিগ্রেশন অফিসার আমার দিকে একবার তাকিয়ে পাসপোর্টে দরকারী ছাপ মেরে আমার মালয়শিয়ায় প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত করে দিলেন বিনা বাক্য ব্যয়ে।
চোখে-মুখে হালকা পানির ঝাপটা দিয়ে সাথের লাগেজ দু'টো নিতে গেলাম । ধীর গতিতে ঘুর্ণায়মান চওড়া বেল্টের উপর রাখা সবার লাগেজগুলো এক এক করে চোখের সামনে দিয়ে পার হয়ে আবার ফিরে ফিরে আসতে লাগল । আমার সবসময়ই মনে হয় একসাথে অনেক লাগেজের ভিড়ে নিজেরটা চিনবনা, তাই সাবধানী হয়ে লাগেজের উপর নিজের নামের ট্যাগ বসিয়ে নিয়েছিলাম । যাই হোক, লাগেজগুলো ঠিক মতই পেলাম । লাগেজের ওখানেই একজন বাঙালী কাজ করছিল দেখলাম । আমাকে দেখে জিগেষ করল , "ঢাকা...?" । আমি মাথা নাড়লাম । আমার পরবর্তী কাজ ছিল কেলিয়া (KLIA) এক্সপ্রেসে (ট্রেন সার্ভিস) করে কে.এল (KL) সেন্ট্রাল পৌছনো। এই লোককে জিগেষ করেই জেনে নিলাম কোন দিকে গেল ট্রেন পাব ।
তবে বিমান বন্দরে দিকনির্দেশনাগুলো এমন দরকারমত এবং চোখে পড়ার মত জায়গাতে থাকে যে কাউকে জিগেষই করতে হয়না আসলে। আমি ঠিকমতই কেলিয়া (KLIA) এক্সপ্রেস টিকেট কাউন্টারের সামনে পৌছে ৩৫ রিংগিত দিয়ে টিকেট নিলাম। পরে জেনেছিলাম বিমান বন্দর থেকে কে.এল (KL) সেন্ট্রাল রুটে বাস সার্ভিসও আছে, ১০ রিংগিত লাগে মাত্র। একটু দ্বিধায় সামনে দাঁড়ানো ট্রেনটা ছুটে গেল। অবশ্য হালকা এসি, চকচকে মেঝে, নানান বেশভূষার বিভিন্ন দেশীয় লোকজনের মাঝে বসে থাকতে খারাপ লাগছিলনা। বোধহয় ৫ মিনিটের মাথায়ই ট্রেন এলো , এই প্রথম কেলিয়া (KLIA) এক্সপ্রেসে পা রাখলাম। ট্রেনের ভেতর মালপত্র রাখার জায়গা আছে, সিটের সামনের দিকে ঝুলানো মনিটরে চলছে লেটেস্ট খবর আর পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থানগুলোর ঝলক । পাহাড়, সারি সারি পাম গাছ পাশ কাটিয়ে ২৮ মিনিটের ট্রেন যাত্রা আমাকে পৌছে দিল কে.এল (KL) সেন্ট্রাল, যাকে "ট্রান্সপোর্ট হাব" বলা হয়।
প্লাটফর্ম পার হয়ে অটোমেটেড মেশিনে হাতের টিকেট প্রবেশ করাতেই হাঁটুর সামনে থেকে ছোট্ট স্লাইডের মত গেট খুলে গিয়ে এপাশ থেকে ওপাশে যাওয়ার অনুমতি দেয়। ততক্ষণে অনেক অপরিচিতের ভিড়ে চোখ খুঁজে পেয়েছে পরিচিত মুখ। কাউন্টার থেকে টোকেন নিয়ে বাইরে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে ট্যাক্সি নিতে হলো। জানালার দু'পাশ দিয়ে পরিচিত, অপরিচিত রাস্তা সরে যেতে লাগল । খানিকটা যাত্রা পথের ক্লান্তি, চেনা-অচেনার দোলাচল, একটু বিস্ময়, একটু অন্যরকম ভাললাগা অনুভুতি- সব মিলিয়ে আমি হালকা উত্তেজনার স্বরে বলেই ফেললাম , "হেই, আই এ্যাম ইন মালয়শিয়া এ্যগেইন....!!!" ।
প্রকাশ করা হয়েছে: ভ্রমণ কথা বিভাগে ।
অলস ছেলে বলেছেন:
দেশ থেকে যতবার ফিরেছি এখানে বা ওখানে, প্রতিবারই ফেরার পর অন্তত তিন চার দিন খুব মন খারাপ থাকে আমার, সব শুন্য লাগে। মনে হয় ঢাকার ভ্যাপসা গরম আর জ্যামের মধ্যেই পৃথিবীর সবচে' বেশী সুখ। তবে টাইম ইজ দ্য বেস্ট ডক্টর ইউনুস।
রামন বলেছেন:
সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় বর্ননা করলেন আপনার ভ্রমন কাহিনী,ভাল লেগেছে । কতদিন সেখানে থাকবেন,সেটি তো বল্লেন না।
লেখক বলেছেন:
দু'সপ্তাহ ছিলাম ।
প্লেন বাম্প করলে কান বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই সমস্যাটা হয়। এটা কাটানোর একটা বিরক্তিকর উপায় হলো বার বার ঢোক গেলা।
পরের অংশের অপেক্ষায় থাকলাম।
লেখক বলেছেন:
ইশশ, ভাইয়া, টিপসটা আরো আগে পেলে ট্রাই করে দেখা যেত....আর কবে না কবে প্লেন ভ্রমনের সুযোগ পাবো কে জানে ! ![]()
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
শরীর খারাপ এত বড় লেখা পড়ার মত শক্তি শরীরে নেই। .......................খাপছা খাপছা করে পড়ে নিলাম
লেখক বলেছেন:
কি হইসে ?? ড:আইজু'কে খবর দিতে হবে ?
ভাল থাকুন , সুস্থ হয়ে উঠুন ...
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:
আপনার প্লেন নামা ও ভ্রমন নামার প্রশংসা না করে আর পারছি না। মুগ্ধকার ভাষায় মুগ্ধভাবে বর্ণনা করে দিলেন। বিমুগ্ধ। আপনার প্রবাস নামা নিয়ে আরো লিখুন।
আপনার জন্য শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।
লেখক বলেছেন:
লিখব
ধন্যবাদ ...
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
অনেক অনেক অভিজ্ঞতা হলো আপনার সাথে আমাদেরো
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
আপনার ফেসবুক এর ছবি গুলাতে কমেন্ট করতে পারতাছি না...........ফ্রেন্ড রিকয়েস্ট ঝুলাই রাখছেন কে নো
লেখক বলেছেন:
রিকোয়েস্ট এ্যাপ্রুভ করা হয়েছে...
নতুন বলেছেন:
সানওয়ে পিরামিডে বেড়াতে আসবেন..." secrate recipe "এর চিজ কেক খাবার দাওয়াত দিলাম...
বৃহস্পতি বারে পরিক্ষা শেষ...
if u come Sunway pyramid or theme park... sms me +60169814376 ..
লেখক বলেছেন:
আমার ব্লগ খেয়াল করেননি বোধহয়...আমার ফিরতি ফ্লাইট জিয়া'র রানওয়ে ছুঁয়েছিল গত শনিবার (৫ই এপ্রিল), রাত বারোটা বাজার কিছু আগে...প্রায় দু'সপ্তাহ ছিলাম ।
নতুন বলেছেন:
oh u came at 21..
never mind... Next time
লেখক বলেছেন:
খুশী ?? ![]()
চলতে থাকুক...
লেখক বলেছেন:
চলতে থাকবে...তবে কয় পর্বে শেষ হবে তা বলতে পারছিনা এই মুহুর্তে...
লেখক বলেছেন:
কেমনে কি !!! আপনাকে ইমিগ্রেশনে আটকাইলোনা !!!!!!!!!!!!!!!!
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন:
উমম
লেখক বলেছেন:
ব্যাঙ ঢুকসে নাকি গলায়..?
মাইনুল বলেছেন:
খুব সুন্দর লেগেছে। একটা ব্যাপার, ব্লগে বড়লেখাগুলিকে ছোট ছোট পর্বে ভাগ করে দিলে ভাল হয়। এইটা একান্ত ই আমার মতামত।
লেখক বলেছেন:
সত্যিই... এটা বড় হয়ে গেছে ..তবে আরো কিছু পর্ব আসবে...এখানে বিষয়বস্তুটা একই ছিল...যাত্রাপথ সংক্রান্ত বর্ণনা, তাই একবারেই শেষ করে দিলাম....এবং অবশ্যই মতামতের জন্য ধন্যবাদ ।
কোলাহল বলেছেন:
আটকাইছিলো। আপনার নাম বলছি পরে ছাইরা দিছে। হে..হে..হে...
লেখক বলেছেন:
ইশশশ, ভুল করে ফেলেছি....আমাকে যখন আটকালো...তখন যদি "আপনার নাম" থুক্কু নিজের নামটা বলতাম..তাইলে না জানি কি খাতির করত ![]()
লেখক বলেছেন:
এইবার তাইলে ঝুম বরাবর ঝুম হউক.... ![]()
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
বাংলাদেশের অন্যতম টুরিস্ট আকর্ষন হতে পারে আমাদের এয়ারপোর্টগুলো । পৃথিবীতে যে এতোগুলো গবেট একসাথে থাকতে পারে তা দেখার জন্য লোকজন নিশ্চয়ই এখানে আসতে পারে ।১. ট্যাক্সি ক্যাবে করে যাত্রী যাবে , কিন্তু বাকীরা হেঁটে উঠবেন , কেন রে ভাই ? কোন যুক্তি নেই । এরকম স্টুপিড চিন্তা যারা করতে পারে , এরা বিরল প্রজাতির সংরক্ষন যোগ্য প্রানী ।
২ .সেদিন আমার সামনের এক ভদ্রলোক দেখি বারবার বলছেন যে উনার ল্যাপটপটি এক্সরে মেশিনে দিবেন না । আর সিকিউরিটি গার্ড বলছে যে দিতেই হবে ।
পৃথিবীর আর কোন এয়ারপোর্টে আমি দেখিনি যে ল্যাপটপ এক্সরে মেশিনে চেক হচ্ছে । বড়ো বড়ো নোটিশ লাগানো থাকে যে ল্যাপটপ যেন কোন অবস্থাতেই এক্সরে মেশিনের ভেতর দেয়া না হয় । আমাদের হচ্ছে উল্টো নিয়ম ।
৩. কয়েকমাস আগে চীনে যাচ্ছি , তো চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনের কাউন্টারের এক চ্যাংড়া ছেলে বলল , আপনার তো ডলার এনড্রোসমেন্ট নেই । আপনাকে বোর্ডিং কার্ড দিতে পারব না । আমার আগে এক ভদ্রলোককে এই কথা বলল , উনি খুব কাকুতি মিনতি শুরু করলেন দেখলাম । আমার পালা এলে সেই একই ডায়লগ ।
আমি একটু অশ্লীলতা মিশিয়ে বললাম " আমার ডলার লাগবে না । আমি তোদের রিটার্ন টিকেট কেটেছি । আমাকে কুনমিং এয়ারপোর্টে নিয়ে যাবি , আমি সেখানে রাতে এয়ারপোর্টে ঘুমাব , তারপর কাল ভোরে ফিরে আসব , ইমিগ্রেশনও করব না চায়নায় , ডলারও লাগবে না । তাতে তোর সমস্যা কী ?
তোকে ডলার দেখার দায়িত্ব কে দিছে ? "
তখন আর কথা বাড়ায় নি ।
লেখক বলেছেন:
৩ নং বক্তব্য...জটিলসসস বস...
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
টিপস :১. ঢাকা এয়ারপোর্টে সব সময় ইংরেজীতে কথা বলুন । ভুল শুদ্ধ যাই হোক , ইংরেজীতে কথা বলাই ভালো ।
এদের ইংলিশ ভীতি আছে ।
লেখক বলেছেন:
ইশশ..সবাই টিপসগুলো পরে দেয় কেন !!!!!!!!!! আর কবে যাই না যাই....
তবে মনে রাখলাম....চান্স পাইলেই ফর্মুলা এ্যাপ্লাই ![]()
চিকনমিয়া বলেছেন:
হুম
অলস ছেলে বলেছেন:
অনেক কিছু শিখলাম।
লেখক বলেছেন:
টারটুউউ.....একটু দম নিতে দ্যাও
প্লেন উড্ডয়ন অবতরণের সময় নিজেই নিজের দুই কান ধইরা থাকা .....
লেখক বলেছেন:
হায় আল্লাহ !! তাই নাকি !!! আমার আবার অনেক লিফটে অনেক উঁচুতে উঠতে গেলেও কানে চাপ লাগে....কে জানে পর্দা কয়দিন টেকে...কি জানি একটা গান আছে না...পর্দে মে রেহেনে দো.... ![]()
আবু সালেহ বলেছেন:
সময় তো স্বল্প তাই দম না নিয়াই পড়লাম....পরের পর্ব যেন একটু ছোট হয়.....নইলে দম আটকানোর সম্ভাবনা আছে....
লেখক বলেছেন:
প্রানপণ চেষ্টা করব ছোট করার ![]()
অ্যামাটার বলেছেন:
হুম...এয়ারপোর্ট টিপসগুলো মুখস্ত কইর্যা নিলাম...তয় আফনে যে 'দিনমজুর' এইডা জানতাম না,
পিকনিকোত দেইখ্যা ভাবচিলাম 'ছাত্রীনং অধ্যনং তপ' !
লেখক বলেছেন:
ইয়ে ..কিইইযে বলেন না...হিহি...![]()
লেখক বলেছেন:
চকো আছে ক'টা এখনও...কাল পর্যন্ত থাকলে পাইতে পারো...
কালপুরুষ বলেছেন:
চমৎকার ভ্রমণ কাহিনীর সবে শুরু, তবে শেষ টুকুর জন্য অপেক্ষায়। ভয়ে একটুখানি শুকাইছিলা মনে হয়। একটা ছবিতে মুখটা খুব শুকনা শুকনা লাগলো।
লেখক বলেছেন: যাওয়ার সময় প্লেনে ঠিকমত খাওন দেয় নাই,,,ওইটার ধাক্কা সামলাইতে টাইম লাগছিল....
লেখক বলেছেন:
শুভ নববর্ষ ১৪১৫
...অনেক অনেক শুভেচ্ছা...
মানুষ বলেছেন:
শুভ নববর্ষ
লেখক বলেছেন:
মানুউউউ...শুভ নববর্ষ ....
![]()
লেখক বলেছেন:
কি খবর ?? ওখানে কেমন হলো, কি হলো নববর্ষে ??
শুভ নববর্ষ ১৪১৫...স্বপ্নগুলো নব আনন্দে জাগুক
প্রাণ ফিরে পাক রঙিন স্পর্শে
![]()
লেখক বলেছেন:
একটানে জুসসসস..........!! গলায় আটকে নিতো ? ![]()
ম. রহমান বলেছেন:
দেশের এয়ার পোটের কথা আর বলে লাভ নেই... আমার এক বাংলাদেশী স্যার বলেছিলেন, দেশে নামার পর এয়ার পোটের অফিসার দের চেহারা দেখে মনে হয়...ওরা আমাকে বকতেছে...মুখটা এতো কালো করে রাখে, দেখে মনে হয় ও বলতেছে, ঐ হালা দেশে আইছোস কেন, ভাগ এইদেশ হতে...পারি না, ইচ্ছে করলে ও পারি না...আমার ভাইয়ের (এয়ার পোটে যারা কাজ করেন, দেশী ভাই ) সাথে ইংরেজী তে বকতে পারি...ভাইয়ের চেহারার দিকে তাকিয়ে আর ইংরেজী বলা হয়ে উঠে না... নিজের সুবিধার জন্য অপরের দূবল জায়গায় কখনোই আঘাত করতে পারি না...আমাকে দিয়ে হয় না, হবেও না...যাক একটু কষ্ট হলে হোক...
লেখক বলেছেন:
আমাদের অবস্থা হলো...কইতেও পারি না, সইতেও পারি না
X-(
লেখক বলেছেন:
দিব দিব...রাগ করো কেন !
চিকুউউ...আজকে আড্ডায় সবাই তুমারে মিস করেছে....![]()
শুভ নববর্ষ
ম. রহমান বলেছেন:
*বকতে পারি না হবে
রণদীপম বসু বলেছেন:
পোস্ট না পড়ে, শুধু অন্যের মন্তব্য পড়ে মন্তব্য করা ঠিক না। তাই মন্তব্য করলাম না।
লেখক বলেছেন: তাইলে , সময় হলে, কষ্ট করে একটু পড়ে নিয়েই মন্তব্য করেন ।
চাচামিঞা বলেছেন:
বাংলাদেশের এয়ারপোর্টের ব্যবস্হাপনা, কস্টমস ও ইমিগ্রেশনের যন্ত্রনা অদ্বিতিয়। অন্য কোন দেশের ইমিগ্রেশন পার হতে প্রবলেম হয় না, কিন্তু জিয়ার ইমিগ্রেশনে সত্যি আমার বুকটা দুরদুর করে।যাই হোক ভালো লেখা , পরের পর্বগুলো সিগ্রই পরে নিব। আরিজ - আমার প্রথম সন্তান। লেখাটির মাধ্যমে ২ মাস পর ব্লগে ফিরে এলাম। এবার আবার আপনাদের লেখা পয়তে পারবো।
লেখক বলেছেন:
ওয়েলকাম ব্যাক...![]()
আপনার পোস্ট পড়ে দেখি...
সরদার মোঃ আয়াজ বলেছেন:
Last news is our honourable police hampperd to peson which is come from foreign country. the police try to catch the mobilephon from person. But the police did not sucess. Now my question is ------ how investigetor are feel secured when air port police are correpted?but we are already knoen that those police are arrested by RAB, then the RAB handover those police to our police department but we do not know what are the funnishement are select those police?
লেখক বলেছেন: burning question and i dont have the answer...




















বেকার বসে আছি। কোন কাজ করতেও আর ভালো লাগেনা। বিকালে যাবো বুকিত বিনতাং।
প্লিজ, সিরিয়াসলি নিয়েন না। ভাল থাকেন।