বারো মাসে তের পার্বনের মত এক বছরে কত রকমের দিবস যে আসে যায়, সবগুলো জানি না কিনবা জানা হয়না আসলে। বিগত বছরগুলোতে অনেক গতানুগতিক, গুরুগম্ভীর দিবসের পাশাপাশি আমরা বাঙালীরা একটু একটু করে পরিচিত হই ভালবাসা দিবস, মা দিবস, বাবা দিবস নামের কিছু মিষ্টি-মধুর বিশেষ দিনের সাথে। একেক দিবস আবির্ভাবের একেক কাহিনী। সবাই যে এসব ইতিহাস জানি তা কিন্তু নয়; কেউ জেনে-বুঝেই, আবার কেউ নিতান্তই কৌতুহলী হয়ে এরকম কিছু বিশেষ দিবসের শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশগ্রহণ করতে ভুলেননা । কেউ কেউ অবশ্য অনুযোগ করতে ছাড়েন না যে, এগুলো হাল-ফ্যাশনের ছেলে-মেয়েদের পাশ্চত্যধারার নির্লজ্জ অনুসরণ মাত্র। যুক্তি-তর্কের যে পাল্লাটাই ভারী হোক না কেন, এই একগুচ্ছ দিবসের ভিড়ে প্রতিবারের মত আরো একটি দিবস আজকে আমাদের মাঝে কিছু নির্মল উচ্ছ্বাস নিয়ে এলো - বন্ধু দিবস ।
চাইছি তোমার বন্ধুতা ...
মা দিবস, বাবা দিবস, ভালবাসা দিবস আর আজকের এই বন্ধু দিবস- এগুলোর জনপ্রিয়তার পেছনে গজিয়ে ওঠা পসারগুলোর ভূমিকাকে খাটো করে দেখলে তা উন্নাসিকতাই হবে। হলমার্কস, আর্চিস গ্যালারী’র রঙিন রঙিন কার্ড - ছেলে-মেয়েরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে বন্ধুর জন্য একটা শুভেচ্ছা কার্ড কিনতে। উপহারে ভিন্নতাও আছে; রঙ-বেরঙের ফ্রেন্ডশীপ ব্যান্ড, ইয়াম্মী ইয়াম্মী টাইপ চকোলেট, ছোট ছোট টেডি বেয়ার পুতুল, আরো কত্ত কি! তার উপর ই-শুভেচ্ছা তো আছে; ওদিকে এস.এম.এস শুভেচ্ছার চোটে সারাদিন হয়ত অনেকেরই মুঠোফোন ব্যস্ত থাকবে ভীষণ। আজকাল নানা ডিজাইনের মগগুলো ভাল লাগে খুব- কত রঙ, অনুভূতি মাখা শব্দ,কবিতা মগ-পৃষ্ঠে। পানীয়'র পাশাপাশি আবেগও ধারণ করছে যেন ওগুলো।
টেবিলের উপর রাখা বিশাল মগটায়
সর্পিক গতির উর্ধ্বমুখী ধোঁয়া
আবেগগুলো ব্যস্ত এখন কফি’র ঢেউকে আগলে রাখায় ।
বন্ধু, বন্ধু আমার ...
পরিচয় দিতে গিয়ে হয়ত আমরা অনেককেই বন্ধু হিসেবে বলে থাকি, তবে সবাই যে আদতে বন্ধুত্বের মাপকাঠিতে সমপর্যায়ে তা হয়ত নয়। স্কুল জীবনের সহপাঠি হয়ত জানিদোস্ত হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই বলে কলেজ জীবনে নাকি বন্ধুত্ব ব্যাপারটা জমে ওঠার সময় পায় না, যা কিনা আবার ইউনিভার্সিটি জীবনে গিয়ে নতুন করে উপভোগ করা যায়। অবশ্য বন্ধুত্বের পরিধিকে এতো সীমাবদ্ধ করলে কি চলে! এই অন্তর্জালের যুগে অচেনা-অজানা মানুষও বন্ধুর তালিকায় উঠে আসে। আপনার অফিসের সহকর্মীটিও আপনার বন্ধু হয়ে উঠতে পারে। আবার দূরদেশে গিয়ে নিতান্তই কাকতলীয়ভাবে পরিচিত হওয়া দু’টি মানুষও এক সময় চমৎকার বন্ধুত্বের বলয়ে প্রবেশ করতেই পারে।
বন্ধু, তিন দিন তোর বাড়িত গেলাম, দেখা পাইলাম না ...
সোস্যাল নেটওয়ার্কিং -অন্তর্জাল জগতে সাড়া ফেলেছে বেশ। ফেসবুক -এ ফ্রেন্ডলিস্ট একশত ছাড়িয়ে যেতে সময় নেয়না অনেকেরই। একদিন লগ-ইন না করলে ম্যাসেঞ্জারে দশটা অফলাইন ম্যাসেজ জমা হয়ে যায় । আজকাল বাড়ীর পাশের গলিতে থাকা বন্ধুটির দৈনন্দিন অবস্থা জানার আগেই ’স্ট্যাটাস ম্যাসেজ’ পড়ে জেনে যাই বিদেশে থাকা বন্ধুটি কেমন আছে । ’সিলেক্ট অল’ দিলে নিমিষে একই বার্তা পৌছে যায় সবার কাছে । আবার কারো বন্ধুত্ব পীড়াদায়ক হলে তাকে খুব সহজেই ’ব্লক’ করে দেয়া যায়। টেকনোলজি এখন বন্ধু বাছাই, বন্ধুত্বকে নিয়ন্ত্রণ কিনবা সহজলভ্য করার জন্য অনেক ট্যাক্টফুল টেকনিক বাতলে দিচ্ছে।
ও বন্ধু, তুমি শুনতে কি পাও ...
আদতে কি এইসব শত শত পরিচিত বন্ধুরা সবসময়ের বন্ধু ? শুভাকাংক্ষী, পরিচিত অনেকেই থাকতে পারে, কিন্তু প্রকৃত বন্ধু বাছাই করতে গেলে ব্যক্তিগত শর্ট লিস্টে কিনবা ফ্যাভরিট লিস্টে চোখ বুলাতেই হবে। কেমন হতে পারে সেই প্রকৃত বন্ধু ? বলে-কয়ে সবসময় বন্ধুত্ব হয়না আসলে । জোড়াজুড়ি নয়, এক অদ্ভুত স্বাচ্ছন্দতাই বন্ধু হিসেবে ভাবতে শেখায় আরেকজনকে। বন্ধু হতে পারে আয়নায় নিজের আরেকটি প্রতিচ্ছবি। তোষামোদিতা নয়, একজন বন্ধু বরং জীবনে উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠিন ’ক্রিটিসিজম’-ও ছুঁড়ে দিতে পারে।
কথায়-কথায়, খুঁনসুঁটি, ঝগড়া, হাসি-ঠাট্টায়
যখন দু’টিতে এক হলে সময় বয়ে যায়
আপনি-তুমি-তুই -এও বুঝি কমতি পড়ে যায়
কখনো অযথাই কথা, কখনো দু:খ-ব্যাথায়
অজান্তে জেগে ওঠা গাঢ় নির্ভরতায়
দেখে নেই নিজেদের স্ফটিক আয়নায়
তুমি-আমি বাঁধা পরি আমাদেরই বন্ধুতায় ।
বন্ধু, এসো স্বপ্ন আঁকি, চারটা দেয়াল জুড়ে ...
যে কোন সম্পর্ক খুব স্বত:র্স্ফূত হয়ে ওঠে যদি তা বন্ধুত্বের ডানায় চড়ে উড়ে বেড়ায়। বন্ধুত্ব বাবা-মা আর সন্তানের মাঝে হতে পারে, শিক্ষক-ছাত্রের মধ্যেও হতে পারে। তেমনিভাবে, জীবনসঙ্গীটিও যদি 'পতি' কিনবা 'পত্নী' হওয়ার চেয়ে একজন চমৎকার বন্ধু হতে পারে তবে তা সোনায় সোহাগা বৈকি । গতানুগতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন বড্ড বেশী । তখনই বোধহয়, রম্য-আক্ষেপে কেউ কেউ 'দিল্লী কা লাড্ডু'র স্বাদ খুঁজে পান। অথচ চিরাচরিত সম্পর্কের মাঝে এক চিমটি বন্ধুতা কিন্তু খুলে দিতে পারে দখিনের জানালাটা । জীবনসঙ্গীর মাঝে বন্ধু খুঁজে পাওয়া কিনবা বন্ধুকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া - দুটোই কিন্তু জীবন নামক হেঁশেলে নিত্য নতুন মুখোরচকতায় রসনা তৃপ্ত করার মুল রেসিপি।
উপসংহারে ...
বন্ধু দিবসটি যদি পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকেই আমদানী করা হয়ে থাকে তো তাতে কুন্ঠিত হওয়ার কিছু নেই আসলে । সম্পর্কের মত সংস্কৃতিকেও শুধুমাত্র চার প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ রাখতে নেই । আর সোজা-সাপ্টা কথা হলো, ভাল কিছু গ্রহণে, পালনে পিছপা হওয়ার কোনই কারণ নেই। আর তাই আজকে শুভেচ্ছা বৃষ্টিতে সিক্ত করুন কাছের-দূরের বন্ধুদের । তবে সেই সাথে যাচাই করে নিতে ভুলবেন না যেন, শত শত বন্ধুর মাঝে কে আপনার প্রকৃত বন্ধু । ভার্চ্যুয়াল জগতে আপনার বন্ধুটিও ভার্চ্যুয়্যাল কিনা সেই আশংকাটিকেও ঝালিয়ে নিন ।
বন্ধু দিবসকে নিয়ে এই লেখাটি কি কাউকে উৎসর্গ করা উচিৎ ? যদি উচিৎ হয় তো তবে কাকে ? বলার অপেক্ষা রাখেনা, বন্ধু দিবসে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়ে এ এক সামান্য উপহার হতে পারে প্রিয় বন্ধুরটিরই জন্য।
---------------------------------------------------------------------
সংযোজন : অফিসে এসে ভাবলাম গ্রুপ ইমেইলে কলিগদের শুভেচ্ছা জানাতে কিছু একটা লিখি । চট করে লিখলামও তারপর শুধু 'সেন্ড' বাটনে একটা ক্লিক (সকাল ১০:৪৭) --
You talk, argue and fight
may be from day to night
you frequently like to share
feelings that you can’t alone bear
say, who you found next to you?
may be not many but just a few
who inspires and criticizes your work ?
who hold your hand, when you scared in dark !
something heavenly; no wonder, the god’s gift
it’s the friendship makes the life to drift.
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


