আমার প্রিয় পোস্ট
- অসুখ নয়, ঘাড়ে আঘাত পেয়ে নজরুল বাকশক্তি হারিয়েছিলেন। (কপি+পেস্ট)। - অ্যামাটার
- :::: বনের নাম রাজকান্দি :::: - সৌম্য
- দেশের সবচেয়ে বড় আম গাছ ( ছবিব্লগ ) - অবিশ্বাসী
- ৪০০ না ঢাকার বয়স ৮০০ বছর!!! - নুরুজ্জামান লাবু
- রাজা আরবাজ খান ও শিল্পী ইভা রহমান - কাক নং ৭৯৯
- আর আমি শালা শুওরের বাচ্চা কগজে কলমে মানবতা আঁকছি। - মিছিল
- [ফিরে দেখা] শহীদ বুদ্ধিজীবী কন্যা রীমা হত্যা মামলা (১৯৮৯-১৯৯৩) - রাইসুল জুহালা
- আল জাজিরার রিপোর্ট - ইন্টারনেটের মাধ্যমে আদিবাসীরা প্রকাশ করল সত্য - সুদিনের বার্তা
- যদি খুন করতে হয় - কৌশিক
- ক্ষমা কর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল!! সীমাহীন জাতীয় অধঃপতনের অনন্য উদাহরণ হয়ে গেলে তুমি!! - বেঙ্গল মাসুদ
- বেগম খালেদা জিয়া: সাধারণ থেকে অসামান্য একজন হয়ে উঠা- (ফটোব্লগ-১) - রায়হান রাহী
- হিলসাইড রির্সোট-বান্দরবন, পাহাড়ের কোলে ঘুমালাম দু'রাত (ছবি ব্লগ) - মোঃ আমিন
- আমরা আবার প্রমাণ করলাম আমরা আসলেই পারি - আসিফ আহমেদ মামুন
- ক্রিকেট স্লেজিং! মজার মজার সেইসব বিখ্যাত উক্তি - নিস্প্রান আমি
- 'মেহেরজান' : ভুল পরিপ্রেক্ষিত ও ভুল ভালোবাসার গল্প - একরামুল হক শামীম
- সোমালিয়ান জলদস্যুর গল্প এবং ২৬ টি নাবিক পরিবারের পক্ষ হতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি খোলা চিঠি - জাহাজী পোলা
- ফটোগ্রাফিতে মুক্তিযুদ্ধ এবং একজন কিশোর পারেখ - কাঊসার রুশো
- শত দুঃসংবাদের ভীড়ে একটি মন ভাল করা খবর: বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম কিডনি তৈরি করলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী - shapnobilash_cu
- ভারতীয় জেনারেল অরোরার কাছে পাকিদের আত্মসমর্পণ এবং সে অনুষ্ঠানে ওসমানীর অনুপস্থিতি প্রসঙ্গ - নুরুজ্জামান মানিক
- বড় কোন পরিবর্তনই আপনাকে ভালো কিছু এনে দিতে পারে - অং সান সু চি - শেরিফ আল সায়ার
- নভেম্বর ৩ , ১৯৭৫ - নুরুজ্জামান মানিক
- রূপগঞ্জে সামরিক ভুমি আগ্রাসন:“দিনরাত লেফ-রাইট করলে ক’মণ শস্য ফলে এক গন্ডা জমিতে?” - দিনমজুর
- নৈতিকতার ভিত্তি এবং উৎস - পারভেজ আলম
- এই রমজানে ঢাকায় তৈরি হয়ে যাক আরো কিছু মন্দির - ফরিদ
- এবার থেকে বাংলায় লিখতে আর সমস্যা হবে না। এসে গেল শাব্দিক... - অমিত কুমার সরকার
- প্রিয় হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ, সবগুলি(২০০)প্রবচন একসাথে - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
- গুলশান-বনানী, ফ্যাশন-মডেলিং কিংবা একজন কাঁচা কিশোরীকে ঘষে-মেজে 'পণ্য' বানানো - রিজওয়ানুল ইসলাম রুদ্র
- আলব্দি গণহত্যার দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ - ক্যামেরাম্যান
- যারা উবুন্টু-লিনাক্সে মবিডাটা মডেম ব্যবহার করতে চান তাদের জন্য। - আজম মাহমুদ
- চৌধুরী মঈনূদ্দীন সহ তিন পলাতক যুদ্ধাপরাধী নিয়ে চ্যানেল ফোরের সেই বিখ্যাত ডকুমেন্টারিটি! - জিন্দা লাশ
- ৩৩টি বাংলা ফন্ট একসাথে ডাউনলোড করুন!!! - মুকুট
- পোড়া গলিতে, পোড়া চোখে, পোড়ো মনে - অন্যমনস্ক শরৎ
- ওরে পতাকা, নারে পতাকা, কিরে পতাকা, ক্যান?? - অন্যমনস্ক শরৎ
- কাজী নজরুল ইসলাম - মাহবুব মোর্শেদ
- প্রসঙ্গ বিজয় বনাম অভ্র :ডা. আব্দুন নূর তুষারের প্রতিক্রিয়া এবং প্রতু্যত্তর - 'লেনিন'
- অভ্রের বিরুদ্ধে শাব্দিক টিমের অভিযোগ এবং জব্বার কাগুর ইউনিবিজয়ের মিল প্রসঙ্গে - 'লেনিন'
- বাংলা কম্পিউটিং এর পুনর্জন্ম এবং এর খল নায়কেরা। কিছু বিষয়ে জবাব সংযুক্ত। - মু আ হাকিম নিউটন
- "রোকেয়া কিবোর্ড লেআউট": আমার তৈরী করা বাংলা কিবোর্ড লেআউট ও প্রোগ্রাম
......সবার কাছে রিভিউয়ের অনুরোধ - সিউল রায়হান
- কেসলারের ল'অব কোয়েন্সিডেন্ট: বাংলাদেশের বর্তমান নারী এবং সামাজিক অবক্ষয়! - শেরিফ আল সায়ার
- বৈশ্বিক উষ্ণতার অবদান-মুছে গেছে দক্ষিণ তালপট্রি দ্বীপ (নিউমুর আইল্যান্ডস) - সুমিন শাওন
- পাহাড়ের কান্না যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন শেখ মুজিব, তাতে ঘি ঢেলেছেন জিয়া, ফু দিচ্ছেন খালেদা, ষড়যন্ত্রে পাকা খেলোয়ার আছে একটি বাহিনী, আছে বাঙালি নামে একদল পরগাছা সেটেলার শিখন্ডি। শেখ হাসিনা কি তা নিভাতে পারবেন? আমার দুটো প্রস্তাব - মধুখোর
- আমেরিকান আদিবাসী নেতা 'চিফ সিয়াটল' এর একটা চিঠি - জাতিষ্মর
- কয়েকটি মজার ছবি ও একটি কৌতুক (১৮+) - কুঙ্গ থাঙ
- সাকরাইন!সাকরাইন!! ঐ ঘুড্ডি বাকাট্টা : এ ফটো স্টোরী - অন্যমনস্ক শরৎ
- নববর্ষের সম্ভাব্য উপাধি
- ক্যামেরাম্যান
- একাত্তরে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ - একরামুল হক শামীম
- সামহোয়ারইনব্লগের জন্মদিনে কিছু বর্ণিল মুহূর্তাচারণ - কৌশিক
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দালাল শিক্ষক - ক্যামেরাম্যান
- বুদ্ধিজীবীদের নিধন এবং বিচার প্রসঙ্গ - নুরুজ্জামান মানিক
- সামহয়ারের যে লেখাগুলো ড্রাফট্ থেকে এখনও পোষ্ট করা হয়নি। - অ্যামাটার
- আমার ভাইয়ের মৃত্যূ ও সৌদিদের ক্ষমার অযোগ্য বর্বর আইন ও হাহাকার - পারভেজ রবিন
- বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ কি ইসলাম বিরোধী চেতনা? - তাজা কলম
- গ্ল্যাডিয়েটর - মাহবুব লীলেন
- একান্ত ব্যক্তিগত শোকনামা "পিতা" তোমার জন্যে - কারো অতিপ্রচার বা অপপ্রচারের ধার না ধেরে - মেঘ
- ভাগীরথীকে নিয়ে লিখা আমার ছোটগল্প - মেঘ
- লিনাক্স :: একটি বিশ্বস্ত, শক্তিশালী এবং স্বপ্নের অপারেটিং সিস্টেম (ইতিহাস, ইন্সটল, ব্যবহার) - পাপী
- আর্কাইভ : আমার কিছু খুচরো লেখালেখি - আইরিন সুলতানা
- চির উন্নত শির(আজ আমাদের জাতীয় কবির ১০৯তম জন্মবার্ষিকী,বাংলা ১১ই জৈষ্ঠ হিসেবে আগামী কাল-ও){ছবি ব্লগ} . - অ্যামাটার
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- মুক্তি পেয়েও আরিফের ফেরারী যাপন - অমি রহমান পিয়াল
- আমার নিরন্তর মুসলমান হয়ে ওঠা - সামী মিয়াদাদ
- ওরা সবাই বাই সাইকেল বালিকা......./ ভাস্কর চৌধুরী - ভাস্কর চৌধুরী
- ব্লগারদের সঙ্গে আমার স্মৃতি এবং আমার কথোপকথন - একরামুল হক শামীম
- চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়.... - আব্দুন নূর তুষার
- সব কিছু তোমার জন্য নয় - মানুষ
- চলুন,প্রাপ্তিকে আবারো ভালবাসা দিয়ে প্রমাণ করি মানবতা শেষ হয়ে যায়নি - মোসতফা মনির সৌরভ
- জীবনটাকে উপভোগ করে চলে গেল বন্ধু সঞ্জীব চৌধুরী - নিজেরআয়না
- রম্য ছড়াঃ নারী নিকের ব্লগার যারা - কালপুরুষ
- কেন যাব - কালপুরুষ
- disgusting attack on blog moderator - আরিল
- সাড়ে সাত হাজারের ভেলরি, আড়াই লাখের শফি সামি, আর দুই পয়সার আমরা.. - আরিফ জেবতিক
আবারো মালয়শিয়া !!! (শেষ পর্ব) : হাত ধরেছি হাঁটছি পথে কড়া দুপুর, জোছনা রোদে, ভিজে বিকেল, চুল উড়ে যায়, মন ভিজে যায় দূর্বা ঘাসে... ....ভাসছি আহা...খুঁজছি আহা...ভাবছি আহা...
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:১২
আমার এবারের যাত্রাটা নিতান্তই অকস্মাৎ পরিকল্পনা ; কারণ বছর দু’য়েকের মাথাতেই আবারো এতোটা পথ উড়াল দিব এটা সত্যিই চমক ছিল আমার নিজের কাছে তা আগেও বলেছি। সেজন্যই এতোসব ঘোরাঘুরির ফাঁকে পুরোন পরিচিতদের সাথেও দেখা-সাক্ষাৎ অথবা ফোনালাপ সেড়ে নেয়াটা বেশ উপভোগ্য ছিল । কেউ কেউ চেষ্টাও করছিল নিজ নিজ কাজের মাঝে আমাকে যতটা সম্ভব সময় দিতে ।
প্রায় চার কি পাঁচ বছর পর দেখা হলো এক পুরোন সহকর্মীর সাথে তাও আবার KL -এ । বেচারীর গল্প করার মত দেশী মানুষ নেই তেমন তাই কথার ঝাঁপি খুলতে সময় লাগে না । দু’জনে মিলে অনেক রান্না-বান্নাও হলো ।
সারাভানান, (মালয় তবে অরিজিন তামিল ইন্ডিয়ান, পেশায় উকিল, যুক্তিতর্কে পেরে ওঠা দায়) একদিন লাঞ্চের দাওয়াত দিলো । ওর কাছে আব্দার জুড়ে দিলাম আমার পুরোন হোস্টেলের সামনে দিয়ে এক চক্কর ঘুরিয়ে আনতে হবে । আব্দার রক্ষার বিনিময়ে লাঞ্চে আমি চমৎকার শ্রোতার ভুমিকা পালন করলাম; সারাভানান বকর বকর করে গেল মালয়শিয়ার কিছু রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে, নিজের পেশা নিয়ে, পরিবার নিয়ে ।
দেশে ফিরে মায়ের হাতের রান্না খেয়ে আমার রোগা স্বাস্থ্যের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এ মন্তব্য ছিল লী’র (চাইনিজ মালয়) । চশমার বদলে কণ্টাক্ট লেন্স - ব্যাপারটা চোখ এড়ালো না স্যাম (চাইনিজ মালয়) –এর ।
এক সন্ধ্যে বেলা চট করে ঘুরে আসলাম ইসলামিক ইউনিভার্সিটি । Suria KLCC –র সামনের লেকটার একটা অংশই দেখেছিলাম আগেরবার , এবার ঘুরে ফিরে আশপাশটাও দেখে নেয়া গেল ।
অনেকদিন পর মোসাদ্দেকের সাথে দেখা হয়ে ভাল লাগল । শুরুর দিকে KL এসে খুবই বিষন্ন থাকত ছেলেটা । প্রায়ই তার এক কথা ছিল, ”আপু, কি করব ?” , সেই মোসাদ্দেকের চকচকে চেহারা, ফিটফাট পোষাক বলে দিল এখানকার মানুষ, পরিবেশ, খাওয়া-দাওয়া সব কিছুর সাথেই এখন সে অনেক বেশী স্বাভাবিক।
আমার কারণেই বেশ দেরী হয়ে গেল, তবু মোসাদ্দেক সময় দিতে চাইলেও একটা ফোন আসায় ওকে যেতেই হলো। এ জায়গা আমার অপরিচিত কিছু নয়; একাই কিছুক্ষণ ঘুরব-ফিরব ঠিক করলাম। KLCC -র সামনে ঘুরে-ফিরে ভিডিও করছি, হঠাৎ মাথায় খেলে গেল, কেননা এখান থেকে হেঁটে হেঁটে মাসজিদ জামেক পর্যন্ত যাই! একটা সময় নব্বই সেন্ট বাঁচাতে প্রায় তিরিশ মিনিট হাঁটতাম এই রাস্তায়। হাঁটা শুরু করতেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। রাস্তা পার হয়ে আরেকটা বাস স্টপেজ, বৃষ্টি কমার অপেক্ষায় ওখানে বসে ঝুম বৃষ্টি, পথচারী, গাড়ী, উঁচু উঁচু অফিস বিল্ডিংগুলো দেখতে লাগলাম। বৃষ্টি কমতেই হাঁটা শুরু , অবশ্য মাঝে মাঝে থেমে টুকটাক ভিডিও করে নিলাম । এবারও সেই তিরিশ মিনিটের খুব বেশী লাগেনি । আগের মতই স্ট্যান্ডার্ট চার্টার্ড ব্যাংকের একটু সামনে থেকে বাস নিয়ে ফিরে গেলাম। এগুলো পরে বলতেই কেউ কেউ মৃদু হাসল ; জয় তো বলেই বসল, ”আপু, আপনি পারেনও !” ।
![]()
একদিন মাসজিদ জামেক এলাকার একটু ভেতরের রাস্তায় হাঁটছি কোন একটা রেস্টুরেন্টে বসে কিছু খাবো বলে । চোখে পড়ল কয়েকজন মিলে রাস্তায় বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে । হানিফ সংকেতের ইত্যাদি অনুষ্ঠানে দেখেছিলাম এইরকম কিছু অভিনব পন্থায় বিদেশে ভিক্ষাবৃত্তি হয়ে থাকে । নিজেই একটা বিচার-বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করলাম । এরা তো নিজেদের মেধা দেখিয়েই রোজগার করছে, হোক না রাস্তায় । রাস্তায় তো বিশাল আয়োজন করে কনসার্টও হয়, অনেক টাকা দিয়ে হৈ-হু্ল্লোড় করে সেই কনসার্ট দেখা হয় । নামীদামী শিল্পীদের বেলায় অর্থপ্রাপ্তি হয়ে ওঠে সন্মানী। একটা সুস্থ উপায়ে রোজগার করাটাকে ভিক্ষাবৃত্তি নাম দেয়াটা আমাদের এক ধরনের উন্নাসিকতাই কি !
পঞ্চাশ রিংগিতের নোট নিয়ে বেজায় মুশকিলে পরলাম । একখানে দিতে গেলে ফেরত দিয়ে বলল, নোটের গায়ে লেখা তাই এটা চালানো যাবে না ! লেখা বলতে কলম দিয়ে সংখ্যা লেখা, মনে পড়ল দেশে মানি এক্সচ্যাজারের লোকটাই রিংগিত গুনে গুনে কোন কোন নোটের উপর সংখ্যা লিখে রাখছিল । মালয়দের টাকার যত্ন নিতে দেখেছি, এদের এখানে একদম পুরোন, ভাঁজ পরা, ছেঁড়া নোট দেখাই যায় না! সেন্ট্রাল মার্কেটের কাছেই আরেকটা মার্কেটে (চায়না টাউন না কি জানি, মনে পড়ছে না ঠিক তবে এখানে সস্তায় কেনাকাটা করা যায় নাকি) একটা টি-শার্ট কিনে নোটটা চালানোর চেষ্টা করলাম আবার । নোটটা দেখে এই দোকানিও ফেরৎ দিয়ে দিল । এরপর আরেকটা দোকান থেকে সুভ্যেনির হিসেবে ছোট্ট টুইন টাওয়ার কিনলাম। দোকানি বাংলাদেশী ছিল, তাকে নোটটা দেখিয়ে অবস্থাটা খুলে বললাম। দোকানি বলল, দেখি কি করা যায় । দোকানের মালিক চাইনিজ মালয়, সে কাছেই ঘোরাফেরা করছিল । দাম কেটে বাকী রিংগিত ফেরতের জন্য দোকানি মালিকের কাছে নোটটা দিল , মালিক তাড়াহুড়ায় তেমন খেয়াল না করেই বোধহয় বাকী রিংগিত ফেরৎ দিল । দোকানি আমার দিকে তাকিয়ে হাসি দেয় আমিও ধন্যবাদ দিয়ে চলে আসি ।
এদিকেই একটা রেস্টুরেন্টে খেতে বসেছি । বাংলা আলাপ-চারিতাতেই রেস্টুরেন্টে যারা কাজ করছে তাদের অনেকেই বুঝে গিয়ে কথা বলতে এগিয়ে আসল । দেখা গেল বেশীর ভাগই বাঙালী এবং অনেকেই খুব বেশী দিন হয়নি এসেছে। বিশেষত যারা নতুন, তারা খুবই মন খারাপ করল দেশের জন্য । কেউ কেউ বলল, এর চেয়ে দেশেই ভাল ছিল; এখানকার মত দিনরাত রেস্টুরেন্টের মেঝে পরিস্কার করা, বড় বড় গামলা টানাটানি করতে হতোনা অন্তত ।
- তাহলে কি বুঝে আসলেন ?
কেউ কেউ বলল, যা বুঝে-শুনে এতো টাকা খরচ করে এসেছে, সে ভাবে পায় নি । নতুন জায়গায় আসলে স্বভাবতই চট জলদি মানিয়ে নিতে কষ্ট হয় সবারই। তারপরও কেউ কেউ কষ্ট করে, একটু বুদ্ধির জোরে এক সময় মানিয়ে নেয়; তবে ভাগ্য সব সময় তো সবার সহায় হয়না। এই সব শ্রমিক শ্রেণীর সাথে কিছু প্রতারক দালালদের কারণে তথ্য সংক্রান্ত লুকোচুরি হয় বেশী । কি দেশে , কি বিদেশে, বাঙালীরাই বাঙালীদের লুটে-পুটে খাচ্ছি- এসব লুকোচুরিতে যে সব দালালরা থাকে তারা যে বেশীর ভাগই বাংলাদেশী তাতো বলার অপেক্ষা রাখে না !
এখানকার অনেক রাস্তাঘাট যেমন চিনি, আবহাওয়াকে জানি, খাবারের স্বাদের সাথেও পরিচিত তেমনি কিছু কম-বেশী পরিচিত বন্ধু-বান্ধব তো আছেই। তাই খুব স্বাভাবিক চলাফেরা, ঘোরাফেরা, গল্পগুজব, কাজ- কর্মে আমার তো মনে হচ্ছিলই সেই সাথে কেউ কেউ তো বলেই ফেলল যে বছর দু’য়েক পরে মাত্র ক’দিনের জন্য নয়, মনে হচ্ছে আমি যেন অ-নে-ক দিন থেকেই আছি (এবং শুধু আছি নয় বরং ফিরে যাওয়ার নামই নিচ্ছিনা এই টিপ্পন্নীও ছিল সাথে ; বলা বাহুল্য আমি সহাস্যে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করেছিলাম ভাবনার এই অন্ত:মিলের সাথে) ।
রিটার্ন টিকেট ছিলই ; মাঝে এক দিন KL Central গিয়ে তারিখটা একটু পিছিয়েও নিয়েছিলাম কিন্তু সময় কখনও থেমে থাকে না । পঞ্জিকার পাতায় ঠিকই বিদায়ী দিন-ক্ষণ জ্বলজ্বল করে উঠল ।
চতুর্থবারের মত KLIA -তে পা দিয়ে আবিস্কার করলাম, মিলন আর বিচ্ছেদের এক অদ্ভূত জায়গা হলো বিমানবন্দর ! এখানে যে মুখকে অনেক উচ্ছ্বাসে ভিড়ের মাঝ থেকে খুঁজে নেয়া হয়, তাকেই আবার এক সময় ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যেতে দেখতে হয়; অথবা নিজেকেই ।
উইন্ডো সিট আবারো, পাশের সিটটা ফাঁকা । মন খারাপের ছাপ চেহারায় বেশ পড়েছিল বোধহয়, এটা-ওটা দিতে আসা এক ক্রু জিগেষ করল, ”ম্যাম, আর ইউ ওকে ?” । ওদিকে বিমান ছুটলো, উড়লো তারপর ভাসল - ফিরে যাচ্ছি দেশে ।
... ... ...
মধ্য রাতের ঘন্টা পরার একটু আগেই ZIA -র মেঝেতে পা দিলাম । কাস্টমসের কি সিস্টেম নাকি কাজ করছিল না, তাই ম্যানুয়ালি, কাগজে লিখে লিখে সবাইকে চেক আউট হতে হচ্ছিল । এতে অযথা সময় বেশী লাগছিল বলে, বেশ কয়েকজন যাত্রী একটু উচ্চবাচ্যও করল ।
লাগেজ বুঝে নিতে সময় লাগেনি । দিক নির্দেশনা দেখে এগিয়ে গেলাম, অটোমেটেড বেল্টে সবার লাগেজ ঘুরে ঘুরে আসছে - ZIA -তে এই পদ্ধতি আগে খেয়াল করিনি মনে হয়।
বাইরে পা দিয়ে ভাইয়াকে দেখেই বললাম, ”তুই তো শুকিয়ে গেছিস!” । মাঝ রাতের ঢাকা শহর পুরো ফাঁকা, ক্যাব এক টানে বাড়ি পৌঁছে দিল । আম্মা এটা-ওটা খেতে এমন ভাবে সাধতে লাগল যেন আমি এক যুগ পরে দেশে ফিরলাম। টুকটাক , চটজলদি গল্প সেড়ে চোখে রাজ্যের ঘুম কিনবা ক্লান্তি নিয়ে ঘুমুতে গেলাম । সকালেই অফিস, দু’সপ্তাহ পর আবার সেই প্রতিদিনের ছকে বাঁধা ব্যস্ততা শুরু হতে যাচ্ছে ... ।
**************************
ভিডিও পরিচিতি : দু'টো ভিডিও -ই আমার ধারণকৃত । সেদিন একা একা ঘুরে-ফিরে, হেঁটে-ভিজে এই কাজই করলাম । প্রথমটি Twin Tower, KLCC আর দ্বিতীয়টি KLCC থেকে মাসজিদ জামেকের দিকে যেতে প্রায় মিনিট দশেক হাঁটলেই একটা মনোরেল স্টেশন । লম্বা, বাঁকানো কংক্রীটের ট্র্যাকের সাথে গুবরে পোকার মত আটকে থাকা এই ইলেকট্রনিক বাহনটা (মনোরেল) আমাদের দেশে থাকলে রাস্তায় জ্যামে আটকে পরা গাড়ীগুলোকে উপহাস করে কত দ্রুতই না গন্তব্যে পৌঁছে যেতাম !
**************************
প্রথম পর্ব : Click This Link
দ্বিতীয় পর্ব : Click This Link
তৃতীয় পর্ব : Click This Link
চতুর্থ পর্ব : Click This Link
পঞ্চম পর্ব : Click This Link
প্রকাশ করা হয়েছে: ভ্রমণ কথা বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৩৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মুহিব বলেছেন:
ইনশাল্লাহ
কৌশিক বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: নাই তো !!!!
কৌশিক বলেছেন:
লিংকগুলা লেখার শেষে এবং শুরুর ভিডিওটা যদি দুই-তিন প্যারার পরে দিতেন তবে প্রথম পৃষ্ঠায় পোস্টটি ভাল দেখাতো।
লেখক বলেছেন:
আপনার আদেশ শিরোধার্য বসসস ...
লেখক বলেছেন: আমার ভিডিও নিয়ে কেউ কিছু বলে না ![]()
মীতু বলেছেন:
চমৎকার !
লেখক বলেছেন: কমলাপুরের পাশেই
চইলা আসো ...
বিবর্ণ বলেছেন:
কিছু মনে করবেন না..... ভালো লিখেছেন, তবু কেন যেন একটু ম্যাড়মেড়ে মনে হয়েছে। হয়তো পাঠক হিসাবে এটা আমার অযোগ্যতা।
লেখক বলেছেন: ভাল লিখলে ম্যাড়ম্যাড়ে কেমন হয় ! আর ম্যাড়ম্যাড়ে লিখলে ভাল কেমনে হয় !!!
এখানে টুকরো টুকরো কিছু বর্ননা আছে শুধু , শেষ পর্বটাই ঝুলে ছিল, শেষ করে দিলাম আজকে ...
খুব আহামরি না হওয়াটা লেখক হিসেবে আমার ব্যর্থতা ...
![]()
আবু সালেহ বলেছেন:
আহা কি আনন্দ...
ঘুরছ বেশ..
কি সকাল আর কি দুপুর
কি রোদ্র আর কি বৃষ্টি
সব কিছুই আজ উপেক্ষিত।
লেখক বলেছেন:
ঘোরাঘুরি শেষ ![]()
ইহা স্মৃতি রোমন্থন ছিল শুধু
বিবেক সত্যি বলেছেন:
ভালো লাগলো আপনার ঘোরাঘুরির কথা । ভিডিও পরে দেখবো...
লেখক বলেছেন:
ওরেরে ....![]()
সময় দেয়া হচ্ছে না ঠিক মত ওটাতে আসলে ...
লেখক বলেছেন: যাক, প্রসংগ আসার কারণেই আজকে একটু কাজ করলাম, সাইটের চেহারা-সুরতে পরিবর্তন আনলাম একটু ... ![]()
র্যাভেন বলেছেন:
ইউটিউব একাউন্ট থাইকা ওই লিংকা পাইলাম তাই ভিজিট কর্লাম আর ওয়ার্ডপ্রেসে আমার আইপি দেইখা লাব নাই কারন কারো পারসোনাল ব্লগ আমি প্রক্সি ব্রাউজার দিয়া ভিজিট করি ।
লেখক বলেছেন: ওয়ার্ডপ্রেসে আজকের হিট লিষ্টে সামহোয়্যারের লিংক ট্রেস করেছে শুধু ... সো নো চিন্তা ... ![]()
পারভেজ বলেছেন:
শেষ পর্ব থেকেই শুরু করলাম! ডাউনলোড লিংক এতো স্লো, যে ভিডিওতে ক্লিক করতে ভয় হয়! ভাল থাকবেন!
লেখক বলেছেন:
আমি প্রথমবার গিয়েছিলাম ২০০৫ এর নভেম্বরে ...
চাচামিঞা বলেছেন:
পুরানো কথা মনে করায় দিলেন। অন্যান্য সিরিজ গুলো পরা হয় নাই। তাই আপাতত প্রিয়তে রেখে দিলাম। সময় নিয়ে রসিয়ে রসিয়ে পরতে হবে। আর না পরেই + কারন আপনার লেখার স্টাইল আমি জানি.....লেখক বলেছেন: অন্ধভক্তি বিপদজনক প্রমাণিত হতে পারে কিন্তুক ![]()
চাচামিঞা বলেছেন:
মালয়শিয়া বেড়ানো অবস্হায় আইরিন সুলতানার একটা ছবি দেখতে চাই।
লেখক বলেছেন: হা হা হা .... ক্যামেরায় কেনো জানি আমার ছবিটাই উঠে না...আশেপাশের বাদবাকী সব থাকে ...
চাচামিঞা বলেছেন:
খাইসে, আপনি দেখে আমার মতো? আমার ছবি তুললেও ঐ জায়গাটা ব্ল্যাংক উঠে..........বড়ই চিন্তা যুক্ত .......।
নুশেরা বলেছেন:
আপনার লেখায় মালয়েশিয়ার উষ্ঞ-আর্দ্র হাওয়ার ছোঁওয়াটা পাওয়া গেল। আগের পর্বগুলো আগ্রহ নিয়ে পড়ব।
লেখক বলেছেন: খুশী হলাম .... থ্যাংকসসস
লেখক বলেছেন: মনে চাইলে বসে থাকা কেন ! দৌড় দেন নাইলে প্লেন ছুটে যাবে ...
লেখক বলেছেন: কুন ঘটনাটা জানি !
লেখক বলেছেন: ছুটির দিনে আইসক্রিমওয়ালা আসত হোস্টেলের সামনে, ওখানে ১-২ রিংগিত শেষ...
অবশ্য তারপরও কিন্তু জমেছিল বেশ ... একটা কম দামী ল্যাপটপ কিনব কিনা এই চিন্তা করেছিলাম সেই সময়
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
পড়বোনা....পড়লে যেতে ইচ্ছে করেসরকারী চাকুরী করলে ...অনেক ইচ্ছে সাধ্য থাকলেও ( যদিও আমার নেই) পূরণ হবার নয়....
সরকার ভ্রমনের জন্য ওয়ার্ডার সাধারণত দেবেই না
তাই মনের দুঃখে পড়বনা............
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
পড়বোনা....পড়লে যেতে ইচ্ছে করেসরকারী চাকুরী করলে ...অনেক ইচ্ছে সাধ্য থাকলেও ( যদিও আমার নেই) পূরণ হবার নয়....
সরকার ভ্রমনের জন্য ওয়ার্ডার সাধারণত দেবেই না
তাই মনের দুঃখে পড়বনা............
তবে একটু বলি...বাংলাদেশের লোক তো সকল জায়গাতেই খারাপ কাজ করে বেড়ায়....আর বইলো না.....মজ্জা গত সমস্যা আছে....ভাল হবার উপায় যেহেতু আমাদের সামনে নেই...
সবই তো ভং ....
লাউ আর কদু.....কিছু হবেনা।
লেখক বলেছেন: কথা সত্য ....
লেখক বলেছেন: এডি তো শ্যাষ হইলো আজকা ... ![]()
ইউনুস খান বলেছেন:
ভালো লাগলো।
কালপুরুষ বলেছেন:
এই লেখাটা কখন পোস্ট হলো দেখিনি। পড়াও হয়নি। এখন পড়ছি। কদিন ব্লগে অনিয়মিত ছিলাম। ভাল থাকিস।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
ভালো লাগলো.........।ভালোই তো ঘুরলা..........মালয়েশিয়া তোমার সাথেই ঘোরা হলো....
ব্যাংকক এ গেছিলাম ২ বার .......।খুব ভালো লাগছিলো। জিনিসপত্রের দাম এত সস্তা মনে হইছিলো। দেশ থেকে আসার পঠে তো তেমন কেনাকাটা করি নাই। ঘুরছি শুধু.....।একখনো স্বপ্নে দেখি।
মনেহয় কেনাকাটা করতে যাই।
ভালো থেকো।শুভকামনা........
দূরন্ত বলেছেন:
কবে যে মালয়েশিয়ার পেট্রনাস টাওয়ার দেখতে যাবো...আপনার লেখাটা ভালো লাগলো। ভিডিওগুলিও ভালো হয়েছে। তবে ভিডিওর সময় আবহাওয়া মনেহয় ভালো ছিল না। এইজন্য একটু অনুজ্জ্বল লাগছে। ছেড়া টাকার ঝামেলাটা মালয়েশিয়াতেও আছে দেখছি....
শুভেচ্ছা রইলো..
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
আমার ভ্রমন কাহিনী পড়তে ইচ্ছে হয়না। তবে আপনার লেখাগুলো আগ্রহ নিয়ে পড়ি বলেই ভ্রমন কাহিনীও বাদ যায়না। বলাই বাহুল্য টুকরো ঘটনাগুলোকে লেখার ফ্রেমে বন্দি করার বিদ্যেটা আপনার ভালোই জানা আছে।ভিডিও এবং লেখা দুটোই ভালো লেগেছে।
মানুষ বলেছেন:
পড়িলাম। একটা কবিতা মনে পড়িল মালয় দিপে এক যে বোকা শেয়ালে
লাগলে খিদে মুরগী এঁকে দেয়ালে
চাটতে থাকে আপন মনে খেয়ালে
লেখক বলেছেন:
ওহে,
ইদানীং থাকো তুমি কোন গোয়ালে ?
মানুষ বলেছেন:
আমি ব্লগেই থাকি। ব্লগটাকে গোয়াল বলিও না। জনগন খেপলে নিউজ আছে।
লেখক বলেছেন:
আমি কি ডরাই মানু
ভিখিড়ি রাখবে !!!
(সামান্য ডরাই...
আমি খালি তোমার খোঁজখবর করলাম আরকি এট্টু)
মানুষ বলেছেন:
এখন আবার ব্লগের সব্বাইকে ভিখিরী বলছো? তোমার জন্য অগ্রীম সমবেদনা।
লেখক বলেছেন: ওহ! এইটা ভুল হইসে.... টাইপো মিসটেক ....আমি ব্লগারদের কিচ্চু বলি নাই কিনতুক ....
ব্রহ্মপুত্র বলেছেন:
পড়তাছি
ম. রহমান বলেছেন:
স্টেশনের নাম বুকিট নানাস...ভিডিও দেখে তাই তো মনে হলো...
লেখক বলেছেন: হতে পারে ... MTC পার হয়ে আসতে হয়, এরপর একটু হাঁটলেই LRT station dang wangi ....
ডাসট ইন দা উইনড বলেছেন:
অদ্ভুত সুন্দর উপস্থাপন, লেখনী......মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম গত জুনে....সব আবার মনে পড়ে যাচ্ছে.....কে এল...বুকিট বিনটাং.....গেনটিং হাই....লানকাঐ...অনেক ভালো লাগলো লেখা টা....
ডাসট ইন দা উইনড বলেছেন:
আবারো যাইবার মুন্চায়....
রিয়াল ফেরদৌস বলেছেন:
চলে আসেন , কে নিষেধ করছে ??
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...





















