আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হবেই, এতো মশাই জানা কথা,
অথচ ওই আক্কাস আলী, বর্ষা যে তার মাথাব্যাথা!
মেঘের ঘনঘটা দেখেই, তার মুখেতে আঁধার নামে,
হুড়োহুড়ি যায় বেড়ে তার- পথে-ঘাটে, কাজে-কামে।
আক্কাস আলী ভীষণ ক্ষ্যাপে, বৃষ্টি নিয়ে আদিখ্যেতায়,
বৃষ্টি মানেই বন্দী জীবন, কাটবে সময় অলসতায়!
এইতো সেদিন, সকাল সকাল গুড়িগুড়ি বৃষ্টি,
চশমার কাঁচ ভিজে-নেয়ে ঝাপসা হলো দৃষ্টি।
সাদা পিরাণ নোংরা হলো পথের কাদার ছিটে,
কেতাদুরস্ত আক্কাস আলী’র মেজাজ খিটমিটে।
সঙ্গে ছিল আদ্দি কালের- কাঠের ছড়ির ছাতা,
মেলতে গিয়ে ভাঙল শিক- এক্কেবারে যা-তা!
আক্কাস আলী অফিস যাবেন, হাতে সময় কম,
বস বোঝে না ওজোর কোন - সাক্ষাৎ এক যম!
আক্কাস আলী বাসের লাইনে ইতিউতি চায়,
হুমড়ি খেয়ে যাত্রীরা সব বাসের পিছু ধায়।
ধাক্কা খেয়ে আক্কাস আলী পিছলে চিৎপটাং!
কাদায় মাখা মুখখানা তার লাগছে ওরাংওটাং!
কোন মতে হাঁচড়েপাঁচড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান,
রুমাল দিয়ে মুখটি মুছে আবার পা বাড়ান।
টিফিন বাক্স পথে পড়ে খাচ্ছে গড়াগড়ি,
তুলতে গিয়ে বাক্স খুলে খাবার ছড়াছড়ি।
ঘড়ি তখন দিচ্ছে তাড়া -অফিসে লেট মার্ক!
ট্যাক্সি নিতে আক্কাস আলী ছাড়েন এবার হাঁক।
থামলো গিয়ে ট্যাক্সিখানা রাস্তার ওই মোড়ে,
রাস্তা পার হতে হাঁটেন আক্কাস আলী জোরে।
কাদার মাঝে পা দেবে আটকে গেল জুতো,
খালি পায়ে পথের মাঝে- মেজাজ পুরোই তেতো।
বৃষ্টি তখন ভীষণ তোড়ে, ক্যাটস এন্ড ডগস সাজে,
কাক ভেজা আক্কাস আলীর দশা বেহাল, বাজে!
রোজ বরষায় এমন করেই হন যে তিনি নাকাল,
বর্ষা নিয়ে অভিযোগের লিস্টিটা তাই বিশাল।
বর্ষা নিয়ে সবাই কেন এত্তো ভাবুক হয়!
এমনতর বিড়ম্বনা কেউ কেমনে সয়!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

