আজ দুপুরে আমি যে টিয়াটির ছবি তুললাম তার রং তেমন সবুজ ছিল না। ঠঁোটে ছিল না আদো কোন লালের ছোঁয়া। লেজে ছিল না তেমন কোন পালক প্রাচুর্য্য। ধুসর পাখিটি আমার মোটেও ভালো লাগল না। ছবি তুলে তৃপ্ত আর হতে পারিনি। হাট দিলাম স্টেডিয়ামের পাশ ঘেষে।
এক বুড়ি মা ফুট পাথে একগাদা শিকড় বাকরের ভেষজ পসরা নিয়ে বসে আছেন,
ছবি তুলি আমি: ক্লিক।
এক বাবাজী বসেছেন হরেক রঙের পাথরের আংটি নিয়ে,
ছবি তুলি আমি: ক্লিক।
পথচারীরা ছোট্ট একটা প্রশ্নে শুধু জানতে চায়: ভাই আপনি চ্যানেলের লোক! কোন চ্যানেল?
আমি তাদের নিরাশ করতে চাই না, তারা নিশ্চই নিরাশ হন। আমিত ফ্রীল্যান্সার। আমার ত কোন বেইল নাই! নিজের খেয়ে পথে পথে ঘুরি।
হাটতে হাটতে মনে হল মতিঝিলের শাপলা'র একটা শট দরকার ছিল নিয়ে আসি। হাটি আমি ব্যাস্ত নগরের বানিয্যিক ফুট পাথে। হঠাৎ মনে হলো পথেইত পড়বে, বক পক্ষী গুলোরে একটু দেখে যাই...
প্রিয় পাঠক, আজ থেকে এক বছরের কিছু বেশী সময় আগে আমি একটা ব্লগ লিখে ছিলাম যার শিরোনাম ছিল
আমাদের শহরে অন্ধকার নামছে, আলো কমে আসছে দ্রুত কেউ কেউ লেখাটি পড়েও ছিলেন হয়ত। আজ মনে হচ্ছে সে দিন মনের উত্তেজনায় অনেক ব্লা ব্লা করে ছিলাম অনর্থক।
তথাকথিত মৌলবাদিরা ১ বছর ১ মাস ১৩ দিন আগে মতিঝিল বিমান অফিসের সামনে মৃনাল হকের বলাকা ভাষ্কর্য্যটিকে ভেঙ্গে গলায় দড়ি ঝুলিয়ে দেয়। সে দিন বলাকার গলায় ঝুলে থাকা রজ্জুটি দেখে লিখে ছিলাম, দড়িটা একক ভাবে ঐ বলাকার গলায় নয় ওটা ঝুলছে বাংলাদেশের গলায়! নির্মম পরিহাস হলো এই যে ১ বছর ১ মাস ১৩ দিন পর আজো দড়িটা ঝুলে আছে অই বলাকার গলায়। আর আমাদের প্রাণ প্রিয় বাংলাদেশ অদ্ভুত এক রজ্জু গলায় নিয়ে মহাকাশে পাঠাচ্ছে তার নিজস্ব স্যাটেলাইট।
সে দিন আমরা সকলে বক ধার্মিকরা বক ভেঙ্গেছে শুনে হাতি ঘোড়া কত কি ব্লা ব্লা করে ছিলাম! সমগ্র বাংলাদেশে আমাদের ক্ষোভের ওজন ছিল সহস্র মেট্রিক টন।! আজ পাথরের ওই পাখি গুলোর সামনে যেয়ে দাড়াতে ভীষন লজ্জা হচ্ছিল। তবুও নির্লজ্জ হাতে ফোকাস ঠিক করে এঙ্গেল নির্ণয় করে শাটার স্পিড বাড়িয়ে/ কমিয়ে ক'খানা ছবি তুলেছি: ক্লিক। ক্লিক। ক্লিক।
পাঠক, আমি আমার লজ্জা আজ কেন যেন লুকিয়ে রাখতে পারিনি, বেশ্যার মত সকলের কাছে উন্মুক্ত করেছি।
আমাকে ক্ষমা করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


