আগামীকাল ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই কোপা আমেরিকা। যে প্রতিযোগিতার তিন দল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-উরুগুয়ে—সব মিলিয়ে জিতেছে ৯টি বিশ্বকাপ। সুতরাং এই টুর্নামেন্টের আকর্ষণ কতটা, সেটি না বললেও চলে।
কে জিতবে এবারের কোপা আমেরিকা? সর্বোচ্চ ১৪ বার করে শিরোপা জয়ের রেকর্ড দেখলে হয় আর্জেন্টিনা, না হয় উরুগুয়ে। নিজের মাটির জোরটা যোগ করলে আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা এবং আর্জেন্টিনা। আর যদি মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতায় কোনো দলের সাম্প্রতিক দাপট আপনাকে দ্বিধায় দোলায়, তাহলে বলুন ব্রাজিল। দুবার করে শিরোপাজয়ী প্যারাগুয়ে-পেরু কিংবা একবার করে বিজয়ী বলিভিয়া-কলম্বিয়া সম্ভাবনায় সুদূরের বাসিন্দা। কিন্তু সম্ভাবনার বিচার পরিসংখ্যানের অঙ্কে কে কবে মাপতে পেরেছে?
বৃহৎ প্রতিবেশী যে দেশটি ফুটবলের মাঠে আর্জেন্টিনার ঘোষিত শত্রু, সেই ব্রাজিলের কোচ মানো মেনেজেস যখন আর্জেন্টিনার গলায় ফেবারিটের মালা পরিয়ে দেন, তখন কথাই চলে না। মেসির সঙ্গে তেভেজ, গঞ্জালো হিগুয়েইন, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, সার্জিও আগুয়েরো, হাভিয়ের পাস্তোরে, ইজেকুয়েল লাভেজ্জি, ডিয়েগো মিলিতোদের মিলিত শক্তি আসলে অনেক শক্তিশালীও করে তুলেছে আর্জেন্টিনাকে। ১৯৯৩ সালে কোপা আমেরিকা জয়ই তাদের সর্বশেষ বড় কোনো সাফল্যের স্মারক। সুদীর্ঘ ১৮টি বছর বৃহত্তর ফুটবল ক্যানভাসে কোনো দাগ রাখতে পারেনি দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার স্বদেশে এই টুর্নামেন্টে ব্যর্থতা মানে ‘ফুটবলের ডাইনোসর’ হওয়ার পথে আরেক পা এগিয়ে যাওয়া হবে। অর্জনের আকাঙ্ক্ষা তাই সার্জিও বাতিস্তার দলকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। মেসিদের বুকের মধ্যে অপ্রাপ্তির আগুন জ্বলাই স্বাভাবিক।
তবে ব্রাজিলকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষকে কুর্নিশ করাটা মেনেজেসের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হতেই পারে। যাতে আরও একটু বেশিই চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা! আসল কথা হলো, ব্রাজিলও দুর্দান্ত। তারুণ্যদীপ্ত এই ব্রাজিলের মধ্যে হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার বাসনাটা উদগ্র। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার ‘প্রতিদান’ হিসেবে দুঙ্গা বিদায় নেওয়ার পর মেনেজেস কোচের তপ্ত আসনে বসে এই কদিনেই সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ২০০৬, ২০১০—টানা দুটি বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কিছুটা জ্বালা জুড়ানোর তাড়না খেলোয়াড়েরাই বোধ করছেন বেশি। হুলিও সিজার, লুসিও, রবিনহো, মাইকন, রামিরেস, এলানোদের মনের তত্ত্ব-তালাশ করলেই বোঝা যাবে। পাতো, নেইমার, গানসোদের মতো তরুণ তুর্কিরাও একই অনুভবে এককাট্টা।
গ্রুপিং ও ফিকশ্চার
গ্রুপ ‘এ’: আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, কলম্বিয়া ও কোস্টারিকা
গ্রুপ ‘বি’: ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, ভেনেজুয়েলা ও ইকুয়েডর
গ্রুপ ‘সি’: চিলি, মেক্সিকো, পেরু ও উরুগুয়ে
প্রথম পর্ব
ম্যাচ সময়
২ জুলাই আর্জেন্টিনা-বলিভিয়া ভোর ৬-৪৫ মি.
২ জুলাই কলম্বিয়া-কোস্টারিকা রাত ১২-৩০ মি.
৩ জুলাই ব্রাজিল-ভেনেজুয়েলা রাত ১টা
৩ জুলাই প্যারাগুয়ে-ইকুয়েডর রাত ৩-৩০ মি.
৫ জুলাই উরুগুয়ে-পেরু ভোর ৪-১৫ মি.
৫ জুলাই চিলি-মেক্সিকো ভোর ৬.৪৫ মি.
৭ জুলাই আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া ভোর ৬-৪৫ মি.
৮ জুলাই বলিভিয়া-কোস্টারিকা ভোর ৪-১৫ মি.
৯ জুলাই উরুগুয়ে-চিলি ভোর ৪-১৫ মি.
৯ জুলাই পেরু-মেক্সিকো ভোর ৬-৪৫ মি.
৯ জুলাই ব্রাজিল-প্যারাগুয়ে রাত ১টা
৯ জুলাই ভেনেজুয়েলা-ইকুয়েডর রাত ৩-৩০ মি.
১০ জুলাই কলম্বিয়া-বলিভিয়া রাত ১ টা
১২ জুলাই আর্জেন্টিনা-কোস্টারিকা ভোর ৬-৪৫ মি.
১৩ জুলাই চিলি-পেরু ভোর ৪-১৫ মি.
১৩ জুলাই উরুগুয়ে-মেক্সিকো ভোর ৬-৪৫ মি.
১৪ জুলাই প্যারাগুয়ে-ভেনেজুয়েলা ভোর ৪-১৫ মি.
১৪ জুলাই ব্রাজিল-ইকুয়েডর ভোর ৬-৪৫ মি.
কোয়ার্টার ফাইনাল
১৬ জুলাই ১: ‘এ’ ১ -সেরা ৩য়-১ রাত ১ টা
১৭ জুলাই ২: ‘এ’ ২-‘সি’২ ভোর ৪-১৫ মি.
১৭ জুলাই ৩: ‘বি’ ১-সেরা ৩য়-২ রাত ১ টা
১৮ জুলাই ৪: ‘সি’ ১-‘বি’২ ভোর ৪-১৫ মি.
সেমিফাইনাল
২০ জুলাই ১ জয়ী-২ জয়ী ভোর ৬.৪৫ মি.
২১ জুলাই ৩ জয়ী-৪ জয়ী ভোর ৬-৪৫ মি.
৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ
২৩ জুলাই রাত ১ টা
ফাইনাল
২৪ জুলাই রাত ১ টা
আয়োজক আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের সময়গত পার্থক্যের কারণে ভোর ৪-১৫ ও ৬-৪৫ মিনিটের ম্যাচগুলোর দিন টুর্নামেন্টের মূল সূচিতে থাকা তারিখের পরের দিন দেখানো হয়েছে ।
লেখাটি প্রথম আলো থেকে অংশ বিষেশ নেয়া হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



