somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যোগ ব্যায়াম : সুপারমাইন্ডের সন্ধানে

১১ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অন্ধকার একটা ঘরের কথা কল্পনা করুন। দেখুন ঘরটির মধ্যে একটা আলোর উৎসকে কোনো কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ঢাকনাটি সরিয়ে দিন এবার। কি দেখছেন? অন্ধকার ঘরের আনাচে কানাচে আলোয় ভরে গেছে? ঠিক একইভাবে সুস্থিত ও দৃঢ় মেডিটেশনের মাধ্যমে দেহ নামক ঢাকনাটিকে সরিয়ে মনের আলোয় আলোকিত হতে পারেন আপনি, আপনার সমগ্র অস্তিত্ব। আর এটাই হলো আপনার সুপারমাইন্ডকে আবিষ্কারের প্রথম ধাপ।

প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যেই বিভিন্ন সম্ভাবনা ও যোগ্যতা আছে। সে হলো শক্তি আর জ্ঞানের এক আধার। যতোই সে উন্মোচিত হয় তার মধ্যে বিকশিত হতে থাকে নতুন শক্তি, মানসিক গুণাবলী। মেডিটেশন করা হয় একাগ্রতে অনুসরণ করে। সংস্কৃতে এটাকে বলা হয় ধ্যান। সে হিসেবে বলা যায়, একাগ্রমগ্নতা আসে ধ্যানের মধ্য দিয়ে। একাগ্রতা বা মনোযোগ হলো কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর মনকে ধরে রাখা। ওই বিষয়ের ওপর জ্ঞানের অবিচ্ছিন্ন ধারাকেই আমরা মেডিটেশন বলতে পারি। মেডিটেশন আপনার মনের দরজাকে খুলে দিয়ে স্বজ্ঞাত জ্ঞান (ইনটুইটিভ নলেজ) সহ আরো অনেক ক্ষমতাকে বের করে আনে। সে ক্ষমতাকে ব্যবহার করে আপনি যা চান পেতে পারেন।

ট্রান্সেডেন্টাল মেডিটেশন (বা অতিন্দ্রীয় ধ্যান) হলো মেডিটেশনের এমন একটি টেকনিক যাতে আপনি একটি বিশেষ শব্দ বা বাক্যাংশ মনের মধ্যে ঘুরেফিরে বলতে থাকেন। দেখা গেছে এ ধরনের মেডিটেশন আপনাকে স্ট্রেস থেকে মুক্তি দেয়, ভালো লাগার এক অনুভূতি তৈরি হয় আর শিথিলতা আসে। পশ্চিমি বিশ্বে ইনডিয়ান ট্রান্সেডেন্টাল মেডিটেশনকে পরিচিত করেন মহর্ষি মহেশ যোগী। কিন্তু ১৯৬০ সালের শেষ দিকে এ স্টাইলটিকে জনপ্রিয়তার পর্যায়ে নিয়ে যায় ব্যান্ড গ্রুপ বিটলস। আর আমাদের দেশে এর প্র্যাকটিসকে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপকভাবে প্রসার ঘটিয়েছেন মহাজাতক শহীদ আল বোখারী তার কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে মেডিটেশনের সাফল্যজনক ব্যাবহারের কথা এখন উন্নত বিশ্বে সবারই জানা। বস্তুত অনেক লোকই মেডিটেশন ও রিল্যাক্সেশন থেরাপিগুলোর মাধ্যমে মেডিকাল ও সাইকোলজিকাল কন্ডিশনের ক্ষেত্রে ব্যাপকমাত্রায় সাহায্য পেয়েছে এমন বহু সায়েন্টিফিক রেকর্ড আছে। অন্য যে কোনো কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিনের চেয়ে মেডিটেশন অনেক বেশি কার্যকর, রেকর্ডগুলো সে কথাই বলছে। কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিন হলো পরিপূরক ও বিকল্প ওষুধ।

কেনেথ আর পেলিটিয়ার একজন ক্লিনিকাল প্রফেসর। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুল অফ মেডিসিন, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। কেনেথ বলেন, মেডিটেশনের প্রাথমিক সুবিধা হলো রিলাক্সেশন ও পেইন ম্যানেজমেন্ট। একই সঙ্গে এটা আপনার একাগ্রতা ও মনোযোগ বাড়ায়, ঘুমের উদ্দীপনা তৈরি করে ও ব্লাড প্রেশার কমায়। তিনি আরো বলেন, ধ্যানের সময় স্বল্প সময়ের জন্য হলেও আপনার মধ্যে রোগ সংক্রমণ থেকে নিরাপত্তার অভিজ্ঞতা হয়। ধ্যানস্থ ব্যক্তি সোরায়াসিস (এক ধরনের স্কিন ডিজিজ) রোগের আলট্রা ভায়োলেট ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রেও বাড়তি সাড়া দেয়। সেই সঙ্গে ব্যথাযুক্ত ঋতুস্রাব, মাথাব্যথা এমনি আরো অনেক লক্ষণ সমৃদ্ধ রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধ্যান আপনার নিরাময়কে ত্বরান্বিত করে, বলেন কেনেথ।

আপনার দেহ, মন ও স্নায়ুর জন্য ধ্যান হলো সবচেয়ে শক্তিশালী টনিক। যখন মেডিটেশন করেন স্বর্গীয় এক স্পন্দন আপনার শরীরের কোষে কোষে প্রবেশ করে রক্তমাংশে গড়া দেহের বিভিন্ন রোগের নিরাময় করে। নিয়মিত মেডিটেশন যারা করেন তারা নিঃসন্দেহে ডাক্তারের খরচ বাচান। আর এর মাধ্যমে কেবল দৈহিক সুস্থতাই তরান্বিত হয়না, আপনি খুলে দিতে পারেন আপনার সহজাত জ্ঞানের পথ, তৈরি করতে পারেন একটা ধীরস্থির মন।

সাফল্যের জন্যে দরকার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আর বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে তেমন লক্ষ্যে পৌছানো কঠিন। আপনি যা অর্জন করতে বা পেতে চান তার জন্য নিশ্চয়ই ভারসাম্যপূর্ণ সুস্থ দেহ আর স্ট্রেস মুক্ত মন দরকার। আপনার মধ্যে রয়েছে ভয়ানক এক অপরিস্ফুট শক্তি যার ক্ষমতা সম্পর্কে আসলে হয়তো আপনার কোনো ধারণা নেই। যোগ ব্যায়াম আর ধ্যানের অভ্যাস করে আপনার সেই সুপ্ত ক্ষমতা আর মানসিক গুণকে জাগিয়ে তুলতে পারেন অনায়াসে। এ জন্য আপনার ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগান। আপনার অনুভূতি আর মনের নিয়ন্ত্রণ নিন। নিজেকে পরিশুদ্ধ করে তুলুন নিয়মিত মেডিটেশনের মাধ্যমে। এভাবেই আপনি হতে পারেন এক সুপারমাইন্ডের অধিকারী।

সুপারমাইন্ডের সন্ধানে আপনার যাত্রা হোক সাফল্যমন্ডিত।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×